Song Lyrics & Music Lyrics

Latest Blog Posts

সহীহ হাদিসের আলোকে তারাবীহর নামাজ ২০ রাকাআত

তারাবীহর নামায সুন্নাত। গোটা ইসলামী দুনিয়ায় রাসূল স. সাহাবাদের স্বর্ণযুগ থেকে চলে আসা নীতি অনুযায়ী সব জায়গায় সর্ব যুগে সকল মসজিদে তারাবীহ ২০ রাকাত এবং বিতর তিন রাকাতই পড়া হয়েছে। মাঝখানে ইমাম মালেক র. এর যুগে এবং তার ভক্তদের কিছু যুগ পর্যন্ত ৩৬ রাকাত বা ৩৮ রাকাত পড়া হয়েছিল। তবে ২০ রাকাতের কম তারাবীহর নামায কখনো কোথাও পড়া হয়নি। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে ১২৮৪ হিজরীতে ভারতের আকবরবাদ থেকে একজন লা-মাযহাবী আলেম ২০ রাকাত তারাবীহকে বিদআত ও ৮ রাকাতকে সুন্নাত বলে ফতোয়া জারী করেন। ওলামাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেই ফতোয়া অকার্যকর হয়ে গেলে তার এক বছর পর তাদের আরেকজন মাও. মুহাম্মদ হুসাইন বাটালবী পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে উক্ত ফতোয়ার পুনরাবৃত্তি করেন। তার এ ফতোয়ার বিরুদ্ধে অন্যান্য আলেমদের পাশাপাশি লা-মাযহাবীদের বিখ্যাত আলেম মাও. গোলাম রাসূল ‘রিসালাতুত তারাবীহ’ (رسالة التراويح) নামক গ্রন্থ লিখে ফতোয়াটির দাঁতভাঙ্গা জবাবের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ গ্রন্থটি ১২৯০ হি. তে প্রকাশিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের কয়েকজন প্রসিদ্ধ আলেম মাও. মুবারকপুরী, হাফেজ আব্দুল্লাহ প্রমুখ উক্ত ফতোয়াটিকে পূনরায় প্রচার ও প্রসার করতে গেলে লোকদের মধ্যে তারাবীহর রাকাতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ও মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। এদের প্রচারিত ফতোয়ার দলিল ভিত্তিক জবাব দিয়ে সব চক্রান্তের মুখোশ উন্মোচন করেছেন ওলামায়ে দেওবন্দের অভিভাবকগণ। যথাক্রমে- আল্লামা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী, আল্লামা কাসেম নানুতুবীসহ আরো অনেকে। এ বিষয়ে সর্বশেষ কলম ধরেন ভারতের যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা হাবীবুর রহমান আযমী র.।
কিন্তু চক্রান্তকারীরা থেমে নেই, স্বয়ং আরবের মাটিতেও কিছু আলেম এ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। যেখানে সমগ্র পৃথিবীর প্রাণকেন্দ্র হারামাইন শরীফাইনে ১৪ শত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ২০ রাকাত তারাবীহ চলে আসছে। সে পবিত্র ভূমিতে সম্ভবত সর্বপ্রথম তারাবীহ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির জন্যে আট রাকাতের ফতোয়া জারি করেন ‘শেখ নসীব রেফায়ী’। তারাবীহ ৮ রাকাত প্রমাণ করার জন্য তিনি একটি গ্রন্থও প্রকাশ করেন। কিন্তু ওলামায়ে আরবের প্রতিবাদের মুখে সে ফতোয়াটিও টিকেনি। তাই উক্ত ফতোয়ার পক্ষে সমর্থনসহ জোরালো ভূমিকা রাখেন আরবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা নাসীরুদ্দিন আলবানী র.। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ফতোয়া ও তার সমর্থনকারী আলবানী সাহেবদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে আরব জাহানের কয়েক জন আলেম “আল ইসাবা ফিল ইনতেসার লিল খুলাফা-য়ির রাশিদীন ওয়াস সাহাবা” (الإصابة فى الانتصار للخلفاء الراشدين و الصحابة) নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব রচনা করেন। যেখানে উক্ত ফতোয়ার সকল দিক আলোচনা পূর্বক দলিল ভিত্তিক খণ্ডন করে ২০ রাকাত তারাবীহ সুন্নাত হওয়ার দালীলিক প্রমাণ পেশ করা হয় । এই কিতাবের ৬১নং পৃষ্ঠায় তারা লিখেছেন :
(ولم يشذ أحدهم عنها غير هذه الشرذمة القليلة التى ظهرت فى زماننا كاالشيخ ناصر و إخوانه.)
অর্থাৎ আমাদের যামানায় আত্মপ্রকাশ কারী নাসীরুদ্দিন আলবানী ও তার অনুসারীদের ক্ষুদ্র একটি দল ছাড়া আর কেউ অনুরূপ ফতোয়া দিয়ে (তারাবীহ ৮ রাকাত) উম্মত থেকে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করেন নি। অর্থাৎ এর পূর্বে কেউ ৮ রাকাতের মত ব্যক্ত করেননি; বরং সকল আলেম ফকীহ ২০রাকাতের উপর একমত ছিলেন। এরপর ১৩৭৭ ইং সালে আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব আল ইসাবা কিতাবটির জবাবে تسديد الإصابة)) ‘তাসদীদুল ইসাবাহ’ নামে একটি বই রচনা করেন। এ বইতে তিনি ইনসাফ ভিত্তিক দলিল পেশ না করে উসূলে হাদীস, উসূলে ফিকাহ, রিজাল শাস্ত্র এবং জরাহ্ তা’দীল সম্পর্কিত সর্ব স্বীকৃত মূলনীতির ব্যাপারে স¤পূর্ণ অপরিপক্কতা ও দৈন্যতার আশ্রয় নিয়ে ২০ রাকাত তারাবীহর বিপক্ষে এবং আট রাকাতের পক্ষে যেভাবে কলম ধরেছেন তা তার মতো হাদীস বিশারদের পক্ষে কল্পনা করাও মুশকিল। এমন পক্ষপাতপুষ্ট হয়েও তিনি ইসলামের প্রায় সাড়ে বার শত বছরের ইতিহাস থেকে সাহাবা, তাবেয়ী ও সালাফে সালেহীনের ৮ রাকাত তারাবীহ পড়ার উপর একটি প্রমাণও পেশ করতে পারেননি। তেমনিভাবে এ দীর্ঘ ইতিহাসে একটি মসজিদও দেখাতে পারেননি যেখানে ৮ রাকাত তারাবীহ পড়া হতো বা হয়েছিল। তবে তিনি ওই পুস্তিকায় হযরত ইমাম মালেক র. এর দিকে ৮ রাকাতের বিষয়টি সম্পৃক্ত করে বসেন। অথচ মালেকী মাযহাবের মৌলিক গ্রন্থ (المدونة) ‘আল মুদাওয়ানা’ কিতাবটি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যেতো যে, তিনি বিতরসহ ৩৯ রাকাতের তারাবীহ পড়তেন এবং তৎকালিন মদীনার গভর্নর তারাবীহর রাকাত সংখ্যা কমাতে চাইলে ইমাম মালেক তার অনুমতি প্রদান করেননি বরং নিষেধ করেছেন। (আল মুদাওয়ানা : ১/২০৮-১০)
আমার ধারণা, তিনি ইমাম মালেকের দিকে কথাটি সম্বোধন করার সময় জানতেন যে কথাটি গবেষণার কষ্টিপাথরে মোটেও টিকবেনা; কিন্তু নিজের পক্ষপাতিত্ব রক্ষার জন্য গায়ের জোরেই কথাটি চালিয়ে দিলেন। আর দলিল স্বরূপ ‘জুরী’ নামক এক শাফেঈ লোকের বরাত দিয়ে এ ভিত্তিহীন কথাটি উল্লেখ করলেন। যার সূত্রের ধারাবহিকতা ও কোন পরিচিতি নেই। বরং লোকটি মাজহুল (مجهول) এবং সনদ মুনকাতি’ (منقطع) যা অন্তত আলবানী সাহেব থেকে কল্পনা করা যায় না।
মোট কথা: ৮ রাকাত বিশিষ্ট তারাবীহ এর নামায নব আবিষ্কৃত সাহাবী, তাবেঈ, তাবে-তাবেয়ী যুগ এবং পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত কোন মুহাদ্দিস ও ফকীহ থেকে প্রমাণিত নয় যে আট রাকাতই যথেষ্ঠ, বিশ রাকাত বিদআত। বরং বর্তমান শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাবীবুর রহমান আযমী যিনি আরব জাহানের শীর্ষ আলেম ও শাইখদেরও উস্তাদ তিনি ‘রাকাআতুত তারাবীহ’ (ركعات التراويح) নামক একটি গ্রন্থ রচনা করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন যে, ভারতবর্ষে ১২৮০ হি. এবং আরবের নসীব রেফায়ির পূর্ব পর্যন্ত প্রায় সাড়ে বারশ বছরের ইতিহাসে আট রাকাত তারাবীহর উপর একটি প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবেনা। তিনি তার কিতাবে প্রত্যেক শতাব্দীর উম্মার সম্মিলিত ও অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা (الأعمال المتوارثة) দেখিয়েছেন যে সব যুগে তারাবীহ বিশ রাকাতই ছিল। বিশ রাকাতকে বিদআত বা আপত্তি করার মতবাদ কোনো শতাব্দীতে ছিলনা। কিতাবটি প্রকাশ হয়েছে প্রায় অর্ধ শতবছর হয়ে গেলেও এ চ্যালেঞ্জের জবাব স্বয়ং আলবানীও দিতে পারেননি। আলবানী সাহেব তার বইতে যা কিছু লিখেছেন তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন সৌদি আরবের সুপ্রসিদ্ধ গবেষক শাইখ ইসমাঈল আন্সারী। তিনি বড় মূল্যবান একটি কিতাব রচনা করেন। যার নামই তার পরিচয়।
تصحيح أحاديث صلاة التراويح عشرين ركعة و الردعلى الألبانى فى تضعيفه
এ কিতাবে আলবানী সাহেব বিশ রাকাতের হাদীসকে অমূলকভাবে কলমের জোরে ‘যয়ীফ’ আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার যে অপচেষ্টা চালিয়েছেন তার দলিল ভিত্তিক জবার দিয়ে দৃঢ়ভাবে হাদীস সহীহ বলে প্রমাণ করেছেন। উপরন্তু আমার সরাসরি উস্তাদ মসজিদে নববীর প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস মাদীনার শরয়ী আদালতের কাজী শায়খ আতিয়্যা সালেম التراويح أكثر من ألف عام নামে একটি গ্রন্থ লিখে প্রমাণ করেছেন যে, হারামাইন শরীফাইনের ইতিহাসে কখনো বিশরাকাতের কম তারাবীহ পড়া হয়নি।
অন্য একজন বিখ্যাত আলেম আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আলী সাবুনীও এবিষয়ে التراويح عشرون ركعة নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এসব গ্রন্থের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে, উম্মতের সম্মিলিত অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা হতে প্রমাণিত বিশ রাকাত তারাবীহই সুন্নাত। এর উপরই সকলের “আমলে মোতাওয়ারাছাহ” প্রতিষ্ঠিত। আট রাকাতের বিষয়টি সাড়ে বারশত বৎসর পরে ভারতে উদ্ভব হয়। অতপর রেফায়ী ও আলবানীদের মাধ্যমে আরবেও এর প্রকাশ ও প্রচার ঘটে ।
লা-মাযহাবী বন্ধুরা ভেবে দেখুন! আপনারা কার অনুসরণে আজ মুসলিম উম্মার মাঝে এ নিয়ে ফিৎনা সৃষ্টি করছেন। উম্মতের ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করা কার উকালতি ?
দু’টি মৌলিক কথা
আলোচ্য বিষয়টি বুঝার জন্য দুটি কথা আলোচনা খুবই প্রয়োজন।
ক) প্রথম কথা: কুরআনুল কারীমের পর শরীয়তের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হচ্ছে সুন্নাহ। আর রাসূল স. এর শিক্ষা ও নির্দেশনাবলীকেই সুন্নাহ বলা হয়। এই সুন্নাহ কয়েক প্রকার –
১. রাসূল স. এর শিক্ষা ও নির্দেশনা অনেক সময় মৌখিকভাবে বর্ণনা হয় এবং পরষ্পরার মাধ্যমে আমাদের নিকট তা পৌঁছে থাকে। তখন এইসব মৌখিক বর্ণনাসূত্রে পাওয়া রেওয়ায়েতগুলোকে সুন্নাহর পাশাপাশি হাদীস বলা হয়। এর নাম- الحديث القولى কাওলি তথা মৌখিক হাদিস।
২. রাসূল স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনার মৌখিক বর্ণনাস্থলে অনেক সময় শুধু কর্মের ধারাবাহিকতায় আমাদের কাছে পৌঁছে থাকে অর্থাৎ রাসূল থেকে কর্মের মাধ্যমে সাহাবা রা. গ্রহণ করেছেন তাদের থেকে তাবেঈন এবং তাদের থেকে তাবে-তাবেঈন গ্রহণ করেছেন এভাবে প্রত্যেক উত্তরসূরী তার পূর্বসূরী থেকে কর্মের মধ্য দিয়ে রাসূলর সে শিক্ষা ও নির্দেশনাকে গ্রহণ করেছেন। এটাকে আমলী হাদিস (الحديث العملى) বা সুন্নাতে মুতাওয়ারিছা বলা হয়।
উল্লেখ্য, যেসব বিষয় কর্মের মাধ্যমে পৌঁছেছে, তা অনেক সময় রাসূলর মৌখিক বর্ণনাসমূহে হয়তো পাওয়া নাও যেতে পারে বা পাওয়া গেলেও সে মৌখিক বর্ণনাটি সূত্রের দিক দিয়ে ‘যয়ীফ’ও হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে উক্ত নবীজির শিক্ষার এধারাটি সাধারণ মৌখিক বর্ণনা ধারার তুলনায় অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে থাকে এ কারণে মৌখিক বর্ণনায় তা পাওয়া না গেলে বা যয়ীফ সূত্রে পাওয়া গেলে তা কখনো অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
৩. সুন্নাহ তথা নবীর শিক্ষা ও নির্দেশনার একটি অংশ এমনও আছে যা আমাদের নিকট সাহাবাদের রা. শিক্ষা নির্দেশনার মাধ্যমে সংরক্ষিত তবে বিষয়টির ভিত্তি কিয়াস ও ইজতিহাদের উপর নয় বরং রাসূল স.-এর কোনো মৌখিক বর্ণনা বা কর্মধারাই তার ভিত্তি। সাহাবাগণ তার এধারা থেকেই তা গ্রহণ করেছেন কিন্তু অন্যকে তা শিখানোর সময় সাহাবাগণ এর উদ্ধৃতি দেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। কারণ প্রেক্ষাপট থেকেই একথা স্পষ্ট ছিল যে তারা রাসূলর শিক্ষা নির্দেশনার (সুন্নাহ) ভিত্তিতেই এ বিষয়টি অন্যকে শিক্ষা দিয়েছেন। এমন সুন্নাহকে مرفوع حكمي ‘মারফুয়ে হুকমী’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য এ মারফুয়ে হুকমীর ভিত্তি যেহেতু কোন কিয়াস বা ইজতিহাদ নয় বরং মারফুয়ে হাকীকী তথা স্পষ্ট মারফু হাদীসই তার ভিত্তি, কিন্তু এটা জরুরী নয় যে সে স্পষ্ট মারফু হাদীসটি সহীহ সনদে বিদ্যমান থাকবে। বরং হতে পারে তা যয়ীফ সনদে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এ জাতীয় মারফুয়ে হুকমী হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করা স্পষ্ট মারফু দ্বারা দলিল পেশ করার নামান্তর। সুতরাং এর সনদ সহীহ হলে তার পিছনে কোনো সহীহ স্পষ্ট মারফু হাদীস আছে কি না তা দেখার প্রয়োজন নেই। মারফুয়ে হুকমী সহীহসূত্রে প্রমাণিত হওয়াই শরয়ী দলিল হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
৪. নবীর শিক্ষা ও নির্দেশনার আরেকটি অংশ হচ্ছে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ (سنة الخلفاء) যার ব্যাখ্যা হচ্ছে, রাসূল স. ওহীর মাধ্যমে জেনে ছিলেন যে, খুলাফায়ে রাশেদার জারীকৃত সুন্নাহসমূহ অবশ্যই নবীর শিক্ষা ও নির্দেশনারই অনুগামী হবে। এবং এর উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বিদ্ব্যমান থাকবে। তাই রাসূল স. স্বীয় উম্মতকে ব্যাপক ও স্পষ্টভাবে এ ঘোষণা দিয়ে যান যে –
عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين . عضوا عليها بالنواجذ
“তোমরা আমার সুন্নাত ও আমার হেদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাদের সুন্নাতকে আঁকড়ে রাখবে। একে অবলম্বন করবে এবং প্রাণপণ শক্ত করে ধরবে”। (ইবনে মাজা : পৃ.৫ নং ৪২)
সুতরাং যখন উম্মতের সামনে চার খলীফার যে কোনো খলীফার একটি সুন্নাত প্রমাণিত হয়ে যাবে, তখন তার অনুসরণের জন্য রাসূল উপরোক্ত ঘোষণাই যথেষ্ট। এর জন্য রাসূল স. থেকে স্বতন্ত্র কোনো দলিল/হাদীসের প্রয়োজন নেই। তাই খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত নবীজীর শিক্ষা ও নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষ।
এটাকে দলিলস্বরূপ গ্রহণ করতে এ কথা ভাবার প্রয়োজন নেই যে তাদের এই সুন্নাতের ভিত্তি কী ? তারা এটা নবীজীর কোন শিক্ষা থেকে গ্রহণ করেছেন ?
খ. দ্বিতীয় কথা : শরীয়তের একটি বিশেষ উৎসের নাম ইজমা। এর বিভিন্ন প্রকার ও ধরণ আছে। তন্মধ্যে সর্বাধিক সহীহ ও শক্তিশালী প্রকার হচ্ছে ‘ইজমায়ে সাহাবা’ (إجماع (الصحابة। এই ইজমা যদি ব্যাপকভাবে অবিচ্ছিন্ন এবং সম্মিলিতরূপে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে তবে তা শরীয়তের অনেক শক্তিশালী ও অকাট্য দলিল হিসেবে গন্য করা হবে। কোন বিষয়ে এধরণের দলিল বিদ্যমান থাকলে তা অনুসরণ ও পালনের ক্ষেত্রে অন্য কোন দলিলের প্রয়োজনই পড়েনা।
উল্লেখ্য, ইজমা শরীয়তের এমন দলিল যার ভিত্তি অবশ্যই রাসূল স. এর শিক্ষা নির্দেশনার উপর প্রতিষ্ঠিত। তবে তা অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। কেননা শরীয়ত নিজেই ইজমাকে দলিল বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং বর্ণিত হয়েছে যে যাদের মাধ্যমে ইজমা সম্পন্ন হয় এরা কখনো গোমরাহীর উপর একমত হতে পারে না। বিশেষ করে তারা যদি আনসার মুহাজির সাহাবা বা আশারায়ে মুবাশ্শারা হন।
স্বয়ং কুরআনে তাদের অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে, যারা তাদের পথ থেকে বিমুখ হবে তারা জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত হবে।
প্রিয় পাঠক, আমাদের আলো”্য বিষয় (তারাবীহর রাকাত সংখ্যা) উপরোক্ত সকল শরয়ী দলিল দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। তারাবীহর রাকাত সংখ্যা বিশ এর পক্ষে প্রমাণিত দলিল সমূহ-
১. মারফুয়ে হাকীকী তথা স্পষ্ট মারফু হাদীস।
২. মারফুয়ে হুকমী। ৩. খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত। ৪. মুহাজিরীন ও আনসার সাহাবীগনের ইজমা। ৫. সুন্নাত মুতাওয়ারাসাসহ সব প্রকারের দলিল দ্বারা তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। যারা তা অমান্য করবে, বিদআত বা ভিত্তিহীন মনগড়া বলে মন্তব্য করবে তারা যে শরীয়ত, কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা সবই অমান্য করলো তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আল্লাহ তায়ালা সকলকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। আমীন ॥
প্রথম অধ্যায় :
২০ রাকাত তারাবীহর দলিলসমূহ
মারফু হাদীস-
ইমাম আবু বকর ইবনে আবী শাইবা স্বীয় কিতাব ‘মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা’তে উল্লেখ করেন:
حدثنا يزيد ابن هارون قال آخبرنا ابراهيم بن عثمان ، عن ابن عباس رضي الله عنه أن رسول الله صلي الله عليه وسلم كان يصلي في رمضان عشرين ركعة و الوتر ،، (مصنف لابن أبي شيبة ২৮৮/২)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে বর্ণিত রাসূল স. রমযান মাসে বিশ রাকাত তারাবীহ ও বিতর পড়তেন।
এ হাদীসটি বায়হাকী (খ. ২ প.৪৯৬)। ইমাম তাবরানীর আল-মুজামুল কাবীর (খ:১১ পৃ:৩১)। আল-আওসাত তাবরানী (খ:১ পৃ:৪৪৪)। আল ইসতিযকার (খ:৫ পৃ: ১৫৬) ইত্যাদি সহ হাদীসের নির্ভরযোগ্য বহু কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।
এ হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে রাসূল স. এর তারাবীহর নামায বিশ রাকাত ছিল।
হাদীসটির মান ঃ একদল মুহাদ্দিস এ হাদীসের সনদকে ‘যয়ীফ’ বলেছেন। কেননা, এর সনদে إبراهيم بن عثمان ‘ইব্রাহীম বিন উসমান’ নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি দুর্বল। তবে তিনি চরম দুর্বল বা মাতরুক (পরিত্যাজ্য) নন।
কিন্তু আমাদের জানা মতে সাড়ে বারশত বছর যাবত হাদীসটিকে কেউ মাউযু (জাল) বলেননি। বর্তমানে লা-মাযহাবী বন্ধুরা এ হাদীসটি দেখা মাত্র মাওযু বা জাল আখ্যা দিয়ে থাকেন। আর অনুসন্ধানে দেখা গেছে এ বন্ধুরা তাদের মত-পথের বিপরীত হাদীস সহীহ হলেও বলবেন যয়ীফ। তাই তাদের কথা মানা যায় না। আর হাদীসটি আসলে যয়ীফ হলেও জাল/মাওযু বলতে তারা দ্বিধা করে না। এটাই তাদের হাদীস নিয়ে চাতুরী। অথচ যয়ীফ ও জালের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। কেননা জালতো হাদীসই না বরং চক্রান্তকারীরা বিভিন্ন কারণে নিজেরা বানিয়ে হাদীসের নামে চালিয়ে দিয়েছে। আর যয়ীফ মানে হলো হাদীসটি বানানো না। তবে বর্ণনা সূত্রে দুর্বলতা পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে- যয়ীফ হাদীস ২০ রাকাত তারাবীহর ক্ষেত্রে দলিল হয় কী করে ?
উত্তর ঃ সহীহ যয়ীফ এগুলো হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা। মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি বুঝা ছাড়া এগুলোর মাহাত্ব বুঝা বড় কঠিন। দেখুন, যে মুহাদ্দিসগণ এটাকে যয়ীফ বলেছেন তাদেরই মূলনীতিতে যয়ীফ হাদীস দু’প্রকার।
ক) হাদীসটি সনদের দিক থেকে দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সারমর্ম ও বক্তব্য শরীয়তের দৃষ্টিতেও আপত্তিকর। কারণ এ বক্তব্যের অনুকুলে শরয়ী কোন দলীলের সমর্থন তো নেই-ই বরং এর বিপরীতের দলিল পাওয়া যায়।
খ) হাদীসটি যয়ীফ সনদে বর্ণিত হলেও তার বক্তব্যের সমর্থনে অন্যান্য দলিল প্রমাণ বিদ্যমান। বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ও সকল ফকীহর সিদ্ধান্ত হলো এ ধরণের হাদীস সনদ ও সূত্রের দিক থেকে যয়ীফ হলেও বক্তব্য ও মর্মের বিচারে কিন্তু সহীহ ও সঠিক। অতএব, আমাদের আলোচ্য হাদীসটিকে একদল মুহাদ্দিস যয়ীফ তো বলেছেন। কিন্তু কোন্ প্রকারের যয়ীফ তার উল্লেখ নেই। আমরা সামনে আলোচনা করবো (ইনশাআল্লাহ)। উক্ত হাদীসের সমর্থনে মারফুয়ে হুকমী, খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত, ইজমায়ে সাহাবা এবং সুন্নাতে মুতাওয়ারাছার মত বহু শক্তিশালী প্রমাণাদি বিদ্যমান রয়েছে। তাই শাস্ত্রীয় পরিভাষায় এ ধরণের যয়ীফকে الضعيف المتلقى بالقبول অর্থাৎ সনদের বিবেচনায় যয়ীফ তবে এর বক্তব্য ও মর্ম সাহাবা যুগ থেকে নিয়ে সকল উম্মতের আমলের মাধ্যমে অনুসৃত। এ পর্যায়ের হাদীসের ব্যাপারে হাদীস শাস্ত্রের অভিজ্ঞজনের সিদ্ধান্ত হচ্ছে- আমলের ক্ষেত্রে তা সর্বাধিক শক্তিশালী সহীহ হাদীস। যা সাধারণ মৌখিক সহীহ হাদীসের তুলনায় অনেক মর্যাদাবান।
একারণেই হানাফী ফকীহগণ হাদীসটিকে ২০ রাকাত তারাবীহর স্বপক্ষে দলিল স্বরূপ পেশ করেন।
লা-মাযহাবী বন্ধুগণ! আমাদের উপরোক্ত পর্যালোচনায় হয়তো নাক চিটকাতে শুরু করবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, উপরোক্ত নীতিমালাটি আমরা আবিষ্কার করিনি; বরং এটি সকল হাদীস বিশারদ, ফকীহ ও উসুলীদের একটি সর্বস্বীকৃত নীতির উপর ভিত্তিশীল। আপনারা তা অমান্য করলে নিরেট অজ্ঞতার বহি:প্রকাশ ঘটবে। প্রমাণ স্বরূপ কয়েকটি উক্তি উসূলে হাদীসের কিতাব থেকে তুলে ধরছি।
১. লা-মাযহাবীদের মান্যবর ইমাম হাফেজ ইবনুল কায়্যিম র. ‘কিতাবুর রুহ’ গ্রন্থে এক যয়ীফ হাদীসের উপর মন্তব্য করেন:
فهذا الحديث وإن لم يثبت فاتصال العمل به فى سائر الامصار و الاعصار من غير نكير كاف فى العمل به-
এ হাদীসটি (সনদের দিক থেকে) সহীহ প্রমাণিত না হলে অর্থাৎ যয়ীফ হলেও বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন শহরে কোনরূপ আপত্তি ছাড়াই এর উপর (সকলের ) আমল প্রতিষ্ঠিত থাকায় হাদীসটি আমলযোগ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (দ্র:পৃ:১৬)
২. মুহাদ্দিস ইমাম যারকাশী র. হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক কিতাব ‘আন্নুকাত’-এ লিখেছেন-
إن الحديث الضعيف إذا تلقته الأمة بالقبول عمل به على الصحيح حتى ينزل منزلة المتواتر (৩৯০:১)
‘যয়ীফ’ হাদীস যখন ব্যাপকভাবে মুসলিম উম্মার নিকট সমাদৃত হয়, তখন হাদীসটি আমলযোগ্য হবে এটাই মুহাদ্দিসগণের বিশুদ্ধ মত। এমনকি তখন যয়ীফ হাদীসটি হাদীসে মুতাওয়াতির (বিপুল সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত) এর পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়ে যায়।
৩. হাফেজুদ্দুনিয়া আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী র. লিখেন-
ومن جملة صفات القبول أن يتفق العلماء على العمل بمدلول الحديث ، فإنه يقبل حتى يجب العمل به وقد صرح بذلك جماعة من أئمة الأصول- ( الإفصاح على نكت إبن الصلاح .( ৪৯৪:১)
হাদীস গ্রহণগোগ্য হওয়ার নিদর্শন সমূহের একটি নিদর্শন হলো, ফুকাহা বা ইমামগণ তার মর্মার্থের উপর আমল করার ক্ষেত্রে একমত পোষণ করা। এমতাবস্থায় হাদীসটি গ্রহণ যোগ্য হবে; বরং তার উপর আমল অপরিহার্য বলে গণ্য হবে। উসূলের অনেক ইমামগণের এবিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে।
৪. আল্লামা শামছুদ্দিন আস সাখাবী র. ‘ফাতহুল মুগীছ’ কিতাবে লিখেছেন-
وكذا إذا تلقت الأمة الضعيف بالقبول بعمل يعمل به على الصحيح حتى ينزل منزلة المتواتر فى أنة ينسخ المقطوع به، ولهذا قال الشافعى رح فى حديث “لا وصية لوارث” إنه لا يثبته أهل الحديث ولكن العامة تلقته بالقبول و عملوا به حتى جعلوه ناسخا لأية الوصية –( فتح المغيث ৩২৩:১)
উম্মাহ যখন ‘যয়ীফ’ হাদীসকে আমলীভাবে ব্যাপকহারে গ্রহণ করে নেয় তখন সঠিক মতানুসারে তা আমলযোগ্য হয়ে যায়। এমনকি এমন হাদীস অকাট্য বিধান রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে মুতাওয়াতির দলিলের মানোত্তীর্ণ হয়। একারণেই ইমাম শাফেয়ী র. “لا وصية لوارث” হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেন: হাদীস বিশারদগণ এটাকে (সনদের দিক দিয়ে সহীহ প্রমাণিত মনে না করলেও ব্যাপকহারে আলেমগণ এটাকে গ্রহণ করে নিয়েছেন ও তদানুযায়ী আমল করেছেন। এমনকি তারা এটিকে ওসিয়তের আয়াতের বিধান রহিতকারী আখ্যা দিয়েছেন। ( দ্র: খন্ড:১/পৃ:৩৩৩)
৫. হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ূতী র. তার ‘তাদবীর’ কিতাবে লিখেছেন-
يحكم للحديث بالصحة إذا تلقاه الناس بالقبول وان لم يكن له اسناد صحيح.
সনদের বিবেচনায় সহীহ না হলেও যে হাদীস মানুষ গ্রহণ করে নিয়েছে তাকে সহীহ বলা হবে।
৬. আল্লামা আনোয়ার শাহ্ কাশ্মীরী র. বলেছেন-
كان الاسناد لئلا يدخل فى الدين ما ليس منه ، لا ليخرج من الدين ما ثبت منه من عمل أهل الإسناد-
অর্থাৎ সনদের কাজ হচ্ছে যাতে দীনের বহির্ভূত কোন কাজ দীনের মধ্যে অনুপ্রবেশ না ঘটে। দীনের অধীন বিষয়কে বহির্ভূত করার জন্য নয়। (আল-আজবিবাতুল ফাযেলা পৃ : ২৩৮)
সারকথাা : আলোচ্য হাদীসটি যঈফের দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভূক্ত। যা সহীহ এর মানোত্তীর্ণ হয়েছে। কারণ, সাহাবাদের রা. যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সকল উম্মাহর ধারাবাহিক ও অবিচ্ছিন্ন আমল অনুযায়ী চলে আসছে। তাই উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে এটি অবশ্যই শক্তিশালী সহীহ ও আমলযোগ্য হাদিস। এটাকে যারা ‘জাল’ আখ্যা দিয়ে আমল অযোগ্য বলে মন্তব্য করবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।
তথাকথিত আহলে হাদীসদের হাদীসের ব্যাপারে অবিচার
আহলে হাদীসের বর্তমান শতাব্দীর বরেণ্য মনীষী আল্লামা নাসীরুদ্দিন আলবাণী সাহেব ২০ রাকাত তারাবীহর ব্যাপারে ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণিত হাদীসটিকে ‘যয়ীফ’ আখ্যা দিয়ে ৮ রাকাতের পক্ষের উকালতী করেছেন। অথচ ১৩’শ বছর যাবত কোনো মুহাদ্দিস হাদীসটিকে ‘‘যয়ীফ তবে আমলযোগ্য” এর অতিরিক্ত কিছুই বলেন নি।
তিনি ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীসটি মনগড়া ভাবে ‘যয়ীফ’ আখ্যা দিয়ে দাবির স্বপক্ষে কয়েকটি যুক্তি দিয়েছেন। যা নিম্নরূপ-
১. উক্ত হাদীসটি হযরত আয়েশা রা. ও হযরত জাবের রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসদ্বয়ের সাথে সাংঘর্ষিক। অথচ হযরত আয়েশা রা. এর হাদীসটি সহীহ হলেও তা তাহাজ্জুদের বিবরণ সম্বলিত। যার সাথে তারাবীহর কোন সম্পর্ক নেই। বিস্তারিত আলোচনা আমরা পরে করবো। (ইনশাআল্লাহ)
সুতরাং উভয় হাদীসের সাথে আলোচ্য হাদীসের সংঘর্ষ কোথায়?
দ্বিতীয়ত: আয়েশা রা. এর বর্ণিত হাদীসে এগার রাকাতের কথা উল্লেখ থাকলেও আয়েশা রা. থেকে আরেকটি সহীহ হাদীসে তের রাকাত উল্লেখ আছে।
হযরত আয়েশা রা. কর্তৃক এদুটি বর্ণনার মাঝে যে বৈপরীত্য আছে তার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যাখ্যা ২০ রাকাতের হাদীসের ব্যাপারে একই ব্যাখ্যা দেয়া হলে সংঘর্ষ থাকলো কোথায় ? আসল কথা আয়েশা রা.এর হাদীসের মধ্যে তাহাজ্জুদের বিবরণ। ইবনে আব্বাস রা.এর হাদীসে তারাবীহর বিবরণ। অথবা বলুন, তারাবীহর নামায এগার, তের, বিশ রাকাত সবধরনের আমল রাসূলের ছিল। সাহাবগণ বিশ রাকাতের উপর (ইজমা) ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় উম্মাহ এর উপর আমল করেছেন। তাহলে এটা বিদআত বা মনগড়া হয় কী ভাবে ?
থেকে যায়, আলবানী সাহেবের উক্তি। হাদীসে জাবের রা. উক্ত হাদীসের বিপরীত হওয়া আলবানী সাহেব ভাল করেই জানেন বহুবিদ কারণে হাদীসে জাবের যয়ীফ বলে সর্ব স্বীকৃত (যার বিশ্লেষণ পরে আসবে)। এরপরও এমন যয়ীফ হাদীসকে ইবনে আব্বাসের হাদীসের বিপরীত দাড় করানো কমপক্ষে আলবানীর মত লোকের পক্ষে সম্ভব ছিলনা। এটা একমাত্র অন্যায়ভাবে পক্ষপাতের মানষিকতায় তিনি তা বলেছেন বলে আমাদের ধারণা।
২. দ্বিতীয় কারণ হিসেবে আলবাণী সাহেব বলেন যে, উক্ত হাদীসের সনদে (أبو شيبة إبراهيم بن عثمان) আবু শায়বা ইব্রাহীম বিন উসমান রয়েছেন। ইমাম শা’বী র. তাকে মিথ্যুক বলেছেন। কোন হাদীসের বর্ণনাকারী মিথ্যুক হলে হাদীসটি জাল হয়ে যায়।
অথচ আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে এবর্ণনাকারীর কারণেই মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে ‘যয়ীফ’ বলেছেন ‘মউজু’ বা ‘জাল’ নয়। ‘যয়ীফ’ ও এমন যা হালকা ‘যয়ীফ’ (ضعيف خفيف) একারণে হাদীসটি আমলযোগ্য। ইজমায়ে সাহাবা ও খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত উম্মতের ধারাবাহিক আমলের কারণে হাদীসটি শক্তিশালী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শু’বা কি তাকে মিথ্যুক বলেছেন ? জবাব হলো না, তিনি মিথ্যুক বলেননি। তিনি বা যারা বলেছেন এখানে তার অর্থ হচ্ছে ভুল করেন। কেননা, শু’বা ছাড়া বিজ্ঞ হাদীস বিশারদগণ তার ব্যাপারে কোন কঠিন মন্তব্য করেন নি; বরং অনেকে তার প্রশংসা করেছেন।
যেমন-
* ইমাম বুখারী র. তার ব্যাপারে বলেন- سكتوا عنه অর্থাৎ তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ নীরবতা অবলম্বন করেছেন।
* আল্লামা ইবনে আদী র. তার ‘কামিল’ গ্রন্থে বলেন যে, له أحاديث صالحة وهو خير من إبراهيم بن عثمان أبو حية অর্থাৎ ইব্রাহীম বিন উসমানের কিছু গ্রহণযোগ্য হাদীস রয়েছে। তিনি ইব্রাহীম ইবনে আবু হাইয়্যার চেয়ে অধিক উত্তম। (তাহযীব দ্র:খ:১/পৃ:১৪৫)
* ইমাম বুখারী র. এর উস্তাদেরও উস্তাদ এবং স্বয়ং আবু শাইবা (ইব্রাহীম বিন উসমান) এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ইয়াযীদ ইবনে হারুন র. বলেন-ما قضى على الناس رجل يعنى فى زمانه أعدل قضاء منه অর্থাৎ আমাদের যুগে তাঁর (ইব্রাহীম বিন উসমান আবু শাইবা) চেয়ে বড় ন্যায়পরায়ণ বিচারক কেউ ছিলেন না। (তাহযীব:খ:১/পৃ:১৪৫)
এসব বিজ্ঞজনের মন্তব্যের কারণেই ইমাম (শু’বা র. যে كذب বলেছেন তার অর্থ ‘মিথ্যুক’ বলেননি বরং ‘ভুল করেন’ এ অর্থই স্বর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। একারণেই হাদীস বিশারদদের শ্রেষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ ইমাম আল্লামা যাহাবী র. ميزان الاعتدال গ্রন্থে শু’বার মন্তব্যকে অগ্রাহ্য বলেছেন। (খ:১/পৃ:৪৭)
সার কথাঃ ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীসের সনদে আবু শাইবা নামক যে বর্ণনকারী আছেন তিনি মিথ্যুক বলে কেউ মন্তব্য করেননি। শু’বা করে থাকলেও তা ইমাম যাহাবী অগ্রাহ্য করেছেন অথবা তিনি ‘কাযাবা’ বলে ক্ষ্যান্ত করেছেন। যার অর্থ ভুল করা, মিথ্যা বলা নয়।
কিন্তু পরিতাপের বিষয়! জনাব আলবানী সাহেব হাদীসটি ‘জাল’ আখ্যা দেয়ার জন্য আবু শাইবার ব্যাপারে শু’বার মন্তব্যটি ‘মিথ্যুক’ অর্থে চালিয়ে দেন। যারা তার ব্যাপারে ভাল মন্তব্য করেছেন তাদের কথা যেমন: ইমাম ইবনে আদী ইয়াযীদ ইবনে হারুন ও আল্লামা যাহাবী। এদের কথাগুলো উল্লেখ করেননি। এতেই তার মনগড়া উক্তির রহস্য উদ্ঘাটন হয়ে গেছে এবং এরকম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মন্তব্য করে একটি গ্রহণযোগ্য মজবুত হাদীস কে জাল বানিয়ে দিলেন فأين المشتكى؟ অথচ এ যাবতকাল পর্যন্ত কেউ হাদীসটি ‘জাল’ বলেননি বরং ইমাম বায়হাকী ও তাবরানী স্ব স্ব গ্রন্থে বিশ রাকাত তারাবীহর অনুচ্ছেদে উক্ত হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
৩. জনাব আলবানী সাহেব ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীসটি কে ‘জাল’ প্রমাণ করার তৃতীয় কারণ হিসেবে বলেন যে, আবু শাইবা তথা ইবনে আব্বাসের রা. হাদীসে নাকি বিশ রাকাত তারাবীহ রাসূল সা. রমজান মাসে জামাত ছাড়া আদায় করার বিবরণ রয়েছে। যা হযরত আয়েশা ও জাবের রা. এর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী। তাই উক্ত হাদীসটি ‘জাল’ নাউযুবিল্লাহ এমন কথা আমরা আলবানী সাহেব থেকে আশা করিনি।
প্রথম কারণ, উক্ত হাদীসটি আবু শাইবা থেকে তিনজন রাবী বর্ণনা করেছেন।
(ক) ইয়াযীদ বিন হারুন।
(খ) আলী ইবনুল জাদ।
(গ) মানসুর বিন আবু মুযাহীর।
এ তিনজনের মধ্যে প্রথম দুজন রাবী মানসুরের তুলনায় অত্যন্ত শক্তিশালী। মানসুর তাদের তুলনায় দুর্বল। বায়হাকী শরীফে মানসুরের বর্ণনায় ‘জামাত ছাড়া পড়তেন’ কথাটি উল্লেখ আছে। হাদীসটির ভাষ্য এ রকম-
عن إبن عباس قال :كان النبى ص فى شهر رمضان فى غير جماعة بعشرين ركعة والوتر( بيهقى : رقم ৪৬১৫)
তবে আবু শাইবার শীষ্যদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দুজন রাবী হাদীসটির বর্ণনা অনুসারে প্রাধান্য পাবে। তাহলে এবর্ণনাটি আয়েশা রা. ও জাবের রা. হাদীসের বিরোধী হলো কোথায়? বিষয়টি আলবানী সাহেবের অজানা নয় বরং শুধু পক্ষপাতিত্ব রক্ষা হচ্ছে এ সবের মূল কারণ।
দ্বিতীয়তঃ তাছাড়া ‘জামাত ছাড়া’ কথাটি ধরে নিলেও তা বিরোধী বলার প্রয়োজন কী ? রাসূল স. জামাতের সাথেও কয়েক রাকাত তারাবীহ পড়েছেন জামাত ছাড়াও পড়েছেন। আবার এক হাদীসের বর্ণনায় দেখা যায় কিছু নামায জামাতের সাথে পড়ার পর যখন দেখলেন মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, মাঝখানে জামাত ছেড়ে ঘরে প্রবেশ করলেন অবশিষ্ট তারাবীহ ঘরেই পড়লেন। সুতরাং সব হাদীসে একই ঘটনার বিবরণ থাকতে হবে তা না আয়েশা ও জাবের এর বর্ণনায় (আলবানীর কথা মত) জামাতের তারাবীহর বিবরণ এসেছে। আর না ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় জামাত ছাড়া যে তারাবীহ পড়েছেন সে তারাবীহ এর বিবরণ বিবৃত হয়েছে। এমতাবস্থায় পরষ্পর হাদীসগুলো বিরোধপূর্ণ হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
উপরোক্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ একথাটি মনগড়া নয়। হাফেজুল হাদীস আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী র. বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন: والظاهر إن هذا فى قصة أخرى (فتح البارى ৮:৩)
অর্থাৎ বাহ্যত এটা ভিন্ন কোন ঘটনা হয়ে থাকবে। হাদীসে আয়েশা ও হাদীসে ইবনে আব্বাসের ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন।
তৃতীয়তঃ অধিকন্তু জাবের রা.এর হাদীস যা আলবানী সাহেব বার বার ইবনে আব্বাসের হাদীসের সাথে বিরোধী বলে পেশ করেছেন, এটি ‘যয়ীফ’ হাদীস। যা ইবনে আব্বাসের হাদীসের সাথে বিরোধীতা করার শক্তি রাখেনা। আর হযরত আয়েশার হাদীসটি তাহাজ্জুদ সংক্রান্ত, তারাবীহর ব্যাপারে নয়।
চতুর্থঃ হাদীসটিতে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়ার কথা বিষয়টি উল্লেখ নেই বরং হাদীসটির মধ্যে বহু প্রমাণ বিদ্যমান যে তা হযরত আয়েশার ঘরের নামায ছিল, মসজিদের নয়। (এব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি) তাহলে দুই হাদীসে বিরোধ কোথায় ? বিরোধ না হলে আলোচ্য ২০ রাকাতের হাদীসটি ‘জাল’ হলো কোথায় আর বিরোধ হলেও সামাঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা হাদীস বিশারদের থেকে পাওয়ার পরও আমলযোগ্য মজবুত হাদীসটি ‘জাল’ হবে কিভাবে ? আসলে আলবানী সহেব যা বললেন অন্তত তাঁর মুখে এটা কখনো শোভা পায়না।
দ্বিতীয় দলিল খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত
প্রথমত ঃ খুলাফায়ে রাশেদীন তথা চার খলীফা আবুবকর, ওমর, উসমান, ও আলী রা.এবং সাহাবায়ে কিরামের আমল ও কর্মধারা অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরা হচ্ছেন নবী স. ও তার পরবর্তী উম্মতের মাঝে সেতুবন্ধন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এবং রাসূল স. তাঁর হাদীসের মাধ্যমে সাহাবায়ে কিরামকে সত্যের মাপকাঠি ঘোষণা করে তাদের মত ও পথের অনুসরণ অনুকরনের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- أمنو كما امن الناسতোমরা ঈমান আনয়ণ কর লোকেরা (সাহাবারা) যেভাবে ঈমান এনেছে। (সুরা বাকারা:১৩)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- فان أمنو بمثل ما أمنتم به فقد اهتدوا তোমরা (সাহাবারা) যেভাবে ঈমান এনেছো তারা যদি সেরূপে ঈমান আনে নিশ্চিত তারা হেদায়াত পাবে।(সুরা বাকারা)
রাসূল স. ইরশাদ করেন-
تفرق أمتي علي ثلاث و ستون ملة كلهم في النار الا ملة واحدة قالوا من هي يا رسول الله قال ما انا عليه واصحابي ( ترمذي:২/৯৩)
অর্থাৎ আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। প্রতিটি দলই জাহান্নামে যাবে শুধু একটি দল নাজাত পাবে। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, কারা সেই নাজাত প্রাপ্ত দল ? রাসূল স. বললেন ‘আমি এবং আমার সাহাবাগণ যে পথ ও মতাদর্শের উপর ছিল ওই আদর্শের অনুসারীরাই নাজাতপ্রাপ্ত দল। (তিরমিযী খ:২/পৃ:৯৩)
বিশেষ করে সাহাবাদের মধ্যে রাসূলের চার খলীফার সুন্নাত আদর্শ ও আমল এবং আকীদাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার প্রতি রাসূল স. জোর তাকিদ দিয়ে বলেন-
فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌগ্ধ(سنن ابي داود: ৪/২০০،رقم: ৪৬০৭)
অর্থাৎ আমারপরে তোমাদের মধ্যে যে জীবিত থাকবে সে অচিরেই বিভিন্ন মত বিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার ও আমার খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত এবং আদর্শের অনুসরণ করবে। তা কঠোর ভাবে আঁকড়ে ধরবে। (আবুদাউদ:৪/২০০(৪৬০৭) তিরমিযী,ইবনে মাজাহ)
দেখুন, উপরোক্ত পবিত্র কুরআন ও হাদীসে সকল সাহাবা র. কে সত্যের মানদণ্ড এবং শরীয়তের বিধি নিষেধের ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণকে অপরিহার্য এবং তাঁদের সুন্নাত বিশেষত খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে নবীজী নিজের সুন্নাতের সমপর্যায়ের ঘোষণা দিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত ঃ আমরা ভূমিকায় বলেছি যে, খুলাফায়ে রাশেদীনের ব্যাপারে ওহীর মাধ্যমে রাসূল সা. এটা জেনেছিলেন যে, তাদের জারীকৃত যেকোন আমল বা সুন্নাত নবীজী স. এর বাণী সুন্নাতেরই অনুগামী হবে। একারণে নবীজী স. খুলাফাদের সুন্নাতকে মজবুতভাবে আকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। কাজেই উম্মতের সামনে যে কোন একজন খলীফায়ে রাশেদের সুন্নাত সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়ে গেলে তা অনুসরণের ক্ষেত্রে ভিন্ন কোন দলীলের প্রয়োজন হবে না; বরং নবীজীর উপরোক্ত নির্দেশমূলক হাদীসই যথেষ্ট হবে। এ ব্যাপারে খলীফায়ে রাশেদের সুন্নাতটি নবী স. এর শিক্ষা বা সুন্নাতের কোন্ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত তাও দেখার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে রাসূল স. এর এক হাদীসে আছে-
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الخِلاَفَةُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ سَنَةً، ثُمَّ مُلْكٌ بَعْدَ ذَلِكَ. (ترمذي: ২২২৬)
অর্থাৎ খেলাফতের মেয়াদ আমার ইন্তেকালের পর ত্রিশ বৎসর চলবে। (তিরমিযী ২২২৬)
এ ভবিষ্যদ্বানী হিসেবে খুলাফায়ে রাশেদীন চারজন তথা আবুবকর রা. ওমর রা. উসমান রা. এবং আলী রা.
উল্লেখ্য আলীর রা. শাহাদাত হয়েছে রাসূলের ত্রিশ বৎসর পর অর্থাৎ ৪০ হিজরীতে।
খলীফায়ে রাশেদ হযরত ওমর রা. এর মর্যাদা
এ চারজনের মধ্যে হযরত আবু বকর রা. এর পরেই হযরত ওমর রা. এর স্থান। নবীজী স. বিভিন্ন হাদীসে হযরত ওমর রা. এর মান ও মর্যাদা এভাবে বর্ণনা করেছেন-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ جَعَلَ الحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ وَقَلْبِهِ.
অর্থাৎ রাসূল স. বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হক ও সত্যকে ওমরের মুখ ও অন্তরে বদ্ধমূল করে দিয়েছেন। তিরমীযী-৩৬৮২
অপর হাদীসে রাসূল স. বলেন,
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ্রإِنَّ اللَّهَ وَضَعَ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ يَقُولُ بِهِ. (ابوداود: ২৯৬২) باب في تدوين العطاء.
অর্থ: আল্লাহ তাআলা সত্যকে ওমরের মুখে বদ্ধমূল করে দিয়েছেন। তিনি সর্বদা সত্যই বলে থাকেন। (আবু দাউদ-২৯৬২)
অন্য হাদীসে রয়েছে-
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ كَانَ نَبِيٌّ بَعْدِي لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ. (سنن الترمذي: ৩৬৮৬، باب في منافب ابي حفص عمر)
নবীজী স. বলেন, যদি আমার পরে কেউ নবী হতো তাহলে উমরই হতো। (তিরমিযী-নং ৩৬৮৬)
এসকল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা সাহাবাদের রা. মধ্যে বিশেষভাবে হযরত উমর রা. কে হক ও সত্য বলার বিশেষ যোগ্যতা প্রদান করেছিলেন। তাই সভাবগতভাবেই তিনি সর্বদা সত্য বলতেন এবং তার সকল কাজ ও সিদ্ধান্ত সঠিক ও আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অনুপাতেই হতো। একারণে প্রায় সতেরটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হযরত উমর রা. এর মতকে স্বয়ং ওহীর মাধ্যমে সত্যতার সনদ দিয়েছেন। হযরত উমরের প্রশংসা এখানে সামান্য আলোচনা এজন্য করলাম যে, বিশ রাকাত বিশিষ্ট তারাবীহর নামাযে একই ইমামের ইক্তিদায় জামাতের সহিত মসজিদে নববীতে ধারাবাহিক হযরত উমরই রা. চালু করেছেলেন। সকল সাহাবা রা. তার এই পদ্ধতিকে সমর্থন দেয়ায় এর উপর সাহাবা রা. দের (ইজমা) ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর উসমান ও আলী রা. এ ধারাবাহিকতা বহাল রেখে বিশ্বের সকল উম্মতের মধ্যে অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিক আমল(سنة متوارثة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
সুতরাং উমর রা. থেকে আরম্ভ করে খুলাফায়ে রাশেদার ধারাবাহিক সুন্নাত ইজমায়ে সাহাবা দ্বারা প্রমাণিত সকল উম্মতের ধারাবাহিক অবিচ্ছিন্ন আমলের মাধ্যমে তারাবীহ বিশ রাকাত সুন্নাহ হিসেবে গৃহীত। আমাদের জন্যও বিশ রাকাতের উপর আমল করা অপরিহার্য। একে যারা বিদআত বা মনগড়া আমল বলবে এবং বিশ রাকাতের কম পড়বে তারাই পথভ্রষ্ট এবং তাদের এ আমল সুন্নাত পরিপন্থি বলেই সাব্যস্ত হবে।
রাসূল সা. এর যুগে এবং খলীফা হযরত আবু বকর রা. এর যুগে তারাবীহর নামাযের অবস্থা ও তার ইতিকথা
সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীস এবং অন্যান্য হাদীসের কিতাবে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল স. কখনো কখনো তারাবীহর নামায জামাতে পড়িয়েছেন, আবার কখনো কখনো এমন হয়েছে যে কয়েক রাকাত জামাতের সাথে পড়ে রুমে চলে গেছেন এবং একাকী নামায আদায় করেছেন।(দ্র:মুসলিম:১১০৪)
আবুদাউদ শরীফসহ বিভিন্ন কিতাবের হাদীস দ্বারা বুঝাযায় এক রমযানে রাসূল স. শুধু ২০,২৩,২৫ এবং ২৭ রমজান এ তিন রাত্র জামাতের সাথে তারাবীহ পড়িয়েছেন। প্রথম রাত্রে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত, দ্বিতীয় রাত্রে অর্ধরাত পর্যন্ত এবং তৃতীয় রাত্রে সাহরী পর্যন্ত তারাবীহ পড়িয়েছিলেন। অবশিষ্ট রাত্রগুলোতে একাকী-ই পড়েছেন এবং অধিকাংশ সময় জামাতে না পড়ার কারণটিও বলে দিয়েছেন خشية أن تفترض عليكم. অর্থাৎ জামাতের সাথে নিয়মিত তারাবীহ পড়লে এ নামাযটিও উম্মতের উপর ফরয হয়ে যাওয়ার আশংকা ছিল। এতে বুঝা যায় জামাতের সহীত পড়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু উপরোক্ত কারণে পড়েননি।
আল্লামা হাবীবুর রহমান আযমী র. বলেন- তারাবীহর নামায রাসূল স. এর কখনো জামাতের সাথে বা কখনো এককীভাবে গুরুত্ব সহকারে পড়া এবং রাসূলের মৌখিক হাদীস “سننت لكم قيامه” “আমি কিয়াম তথা তারাবীহকে সুন্নাত করেছি” দ্বারাই তারাবীহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হওয়ার প্রমাণবহন করে।
আর তারাবীহ জামাতের সাথে পড়া সুন্নাত কি না এ ব্যাপারে ফকীহদের দুটি মত রয়েছে-
ক) সুন্নাতে মুআক্কাদা। খ) সুন্নাতে যায়েদা।
যারা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলেন তাদের দলিল হচ্ছে- নবীজী স. যদিও প্রায় সময় একাকীই পড়েছেন, জামাতে পড়েননি। তবে জামাতে পড়ার অধিক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তা পড়তে পারেননি। জামাতে পড়ার আগ্রহটি আমলীভাবে জামাতের গুরুত্ব বুঝায়। বিধায় তা আমলে দায়েমীর অন্তর্ভূক্ত। (حكمي عمل دائمي) তাই জামাতে তারাবীহ পড়াও সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। পক্ষান্তরে অনেক ফকীহ গবেষকগণ জামাতে পড়াকে সুন্নাতে মুআক্কাদা বলেন না; বরং সুন্নাতে যায়েদাহ বলেন। কেননা, নবীজী স. এর পক্ষ থেকে জামাতে পড়ার ধারাবাহিকতা পাওয়া যায় না। সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ হলে রাসূল স. কখনো জামাত ত্যাগ করতেন না।
এ কারণে দেখা যায় রাসূল স. এর যুগে সাহাবায়ে কেরাম রা. এক ইমামের পিছনে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়ার গুরুত্ব দিতেন না। তারাবীহ ব্যক্তিগত পর্যায়ের আমল ছিল। কখনো একাকী, কখনো জামাতে পড়লেও পুরা নামায জামাতে পড়তেন না। কখনো পুরা পড়লেও জামাতের গুরুত্ব বা বাধ্যবাধকতা ছিলনা। এসব কারণে তারাবীহ রাসূল স. এবং তাঁর যুগে সাহাবা রা. কত রাকাত পড়তেন এ ব্যাপারে আলোচনা গবেষণা করার প্রেক্ষাপট তৈরী হয়নি। একারণেই মূলত সরাসরি রাসূল স.এর পক্ষ থেকে মারফু হাদীস (মৌখিক বা আমলী) ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়নি। হযরত ইবনে আব্বাস রা. সহ মাত্র কয়েকজন সাহাবী থেকে যে কয়টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে তা আলোচনায় না আসায় প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। এমতাবস্থায় হযরত আবু বকর রা. ও উমর রা. এর খেলাফতের প্রথম কয়টি বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। সকলেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে তারাবীহ আদায় করতেন। এক ইমামের ইক্তিদায় জামাতে পড়ার কোন পাবন্দী করতেন না। উমরের খেলাফতকালে যখন এক ইমামের পিছনে মসজিদে নববীতে জামাতের সাথে তারাবীহ গুরুত্বসহকারে আরম্ভ হলো তখনই রাকাতের বিষয়টি আলোচনায় আসলো এবং সাহাবীগণ ইবনে আব্বাসের হাদীসটির ভিত্তিতে বিশ (২০) রাকাতের উপর একমত হয়ে তারাবীহ পড়া আরম্ভ করলেন।
খলীফায়ে রাশেদ হযরত উমর রা. এর যুগে তারাবীহ
রাসূল সা. এর দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা. এর খেলাফতের প্রথম ছয় বছর ছিল ইসলামী বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ভভ সকল ফিতনা দমনের কাল। পুরা ইসলামী জগত রোম ও ইরানের আক্রমণ থেকে নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল করে শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে মনযোগ দেন।
রমযানের একরাতে তিনি মসজিদে নববীতে গিয়ে দেখতে পান যে, মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় জামাতের সাথে তারাবীহ পড়া হচ্ছে। তিনি সকলকে একত্রিত করে এক ইমামের পিছনে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়ার নির্দেশ দিলেন এবং উবাই বিন কা’ব রা. কে ইমামতির দায়িত্ব দিলেন। ‘আদ্দুরুল মানছুর’ (الدر المنثور) কিতাবে সূরা কদর এর তাফসীরে উল্লেখ আছে যে, হযরত উমর রা.তারাবীহর এ নিয়ম চালু করার ক্ষেত্রে হযরত আলী রা. এর সাথে পরামর্শ করেছেন।
প্রথম দিকে হযরত ওমর রা. লম্বা কেরাত তিলাওয়াতের মাধ্যমে সাহরীর পূর্ব পর্যন্ত নামাজের জামাত চালাতে নির্দেশ দিয়েছেলেন এবং ইমামকে এগার (১১) রাকাত পড়ানোরও পরামর্শ দেন। যা ‘মুয়াত্তা মালেক’ গ্রন্থের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। (দ্র: পৃ:৪০) ধারণা এই ছিল যে, রাসূল স. রমযানের রাতে যে নামায জামাতের সাথে মাঝে মধ্যে পড়েছেন বা একাকী পড়েছেন তা তাহাজ্জুদই ছিল। এতএব, তাহাজ্জুদ ভিন্নভাবে পড়ার দরকার নেই। অতপর এহাদীসে পরিলক্ষিত হলো যে, নবীজী স. রমযানের রাতে ২/৩ দিন যে নামাযটি জামাতের সাথে পড়িয়েছিলেন তাতে তিনি বিশ রাকাত পড়িয়েছিলেন। যেমন ‘আল-তালখীসুল হাবীর’ ও ‘বায়হাকী শরীফে’র হাদীসে এসেছে। তাই হযরত উমর কেরাতকে সংক্ষিপ্ত করে রাকাতের সংখ্যা বৃদ্ধি করে বিশ রাকাত পড়ানোর নির্দেশ দিলেন। এবং রাতের প্রথম অংশেই নামায শেষ করে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ ভিন্নভাবে পড়ার নির্দেশও প্রদান করলেন। সহীহ বুখারী হাদীস নং ২০১০ এ পাওয়া যায় যে, সর্বশেষ নামাযের নিয়ম চালুর নির্দেশ প্রদানের পর একদা হযরত উমর রা. মসজিদে নববীতে আসেন এবং দেখেন যে উবাই বিন কা’বের ইক্তিদায় সমস্ত মুসলমান জামাতের সাথে তারাবীহ পড়ছেন। তা দেখে তিনি অতি মূল্যবান অর্থবহ বাক্য উচ্চারণ করলেন-
قَالَ عُمَرُ: ্রنِعْمَ البِدْعَةُ هَذِهِ، وَالَّتِي يَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي يَقُومُونَগ্ধ يُرِيدُ آخِرَ اللَّيْلِ وَكَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ أَوَّلَهُ (صحيح البخاري: ২০১০) باب فضل من قام رمضان.
অর্থাৎ তারাবীহর এ নতুন নিয়মটি কতই না চমৎকার। মূলত হযরত উমর রা. এই বাক্য দ্বারা দুটি সংশয়ের জবাব দিয়েছেন।
১. হযরত উমর রা. এক ইমামের পিছনে জামাতের সাথে পুরা রমযান তারাবীহর নামায চালু করলেন। ইতোপূর্বে কেউ জামাতের প্রতি এমন গুরুত্ব প্রদান করেন নি। তাহলে এ নতুন নিয়মটি বিদআত হচ্ছে কি না?
২. এ নামাযটি রাতের প্রথম অংশেই শেষ হয়ে যায় এটা হয়তো তাহাজ্জুদের নামায।
আর তাহাজ্জুদই যদি হয় তাহলে তার সময় তো রাতের শেষাংশে অথচ প্রথমাংশে
পড়া হচ্ছে এ নিয়মটি বিদআত নয় তো ?
এসব নিয়ে কিছু গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছিল। হযরত উমর রা. উপরোক্ত বাক্য দ্বারা উভয় সংশয়ের জবাব এ ভাবে দিলেন যে, যদি কেউ মনে করে জামাতে এক ইমামের সাথে তারাবীহর নিয়ম চালু করা বিদআত। হ্যাঁ আমি এটি জেনে শুনেই করেছি কারণ, এটি নতুন নিয়ম হলেও রাসূল স. এর শিক্ষাই তার ভিত্তি বা আসল। আর তা হচ্ছে, ২/৩ দিন যাই হোক রাসূল স. সকলকে নিয়ে তারাবীহর জামাত করেছেন। যদিও ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার ধারাবাহিকতা রাখেন নি। এখন ওহীর পথ খোলা নেই, আসবেনা নতুন কোনো শরীয়ত। তাই যে আশঙ্কা রাসূল স. এর জীবনে বিদ্ব্যমান ছিল তা এখন আর নেই। এ কারণে এটা আভিধানিক অর্থে বিদআত তথা নতুন কাজ হতে পারে; কিন্তু শরয়ী পারিভাষিক অর্থে বিদআত নয় বরং খুবই ভাল ও চমৎকার কাজ। (نِعْمَ البِدْعَةُ هَذِه) তেমনিভাবে যারা বলছেন তাহাজ্জুদকে সময়ের পূর্বে রাতের প্রথমাংশে পড়ার নতুন নিয়ম চালু হয়েছে যা রাসূলের যুগে ছিল না। তাদের সংশয়ের জবাবে উমর রা. বলেন- وَالَّتِي يَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي يَقُومُونَ অর্থাৎ তাহাজ্জুদকে প্রথমাংশে আনা হয়নি। কেননা, এটা তাহাজ্জুদ নয় এটা (قيام الليل) তারাবীহ। শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে হবে যা (صلوة الليل). সালাতুল লাইল। এদুটি ভিন্ন ভিন্ন নামায এক নয়। তাই আপনারা এখন জামাতের সাথে যে নামায পড়ছেন তার থেকে অধিক ফযীলতপূর্ণ ঐ নামায যা আদায় না করে শেষরাতে অনেকে সাহরী খেয়ে ঘুমিয়ে যান। বুখারী শরীফের এক বর্ণনায় উমর রা. এর বক্তব্যে সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে তারাবীহ আর তাহাজ্জুদ এক নয় স¤পূর্ণ ভিন্ন নামায। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে আব্দিল বার র. মুয়াত্তা মালেকের সু-খ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘আল-তামহীদে’ উল্লেখ করেন যে, উমর রা. এখানে নতুন কিছুই করেন নি বরং তিনি তা-ই করেছেন যা স্বয়ং রাসূল স. পছন্দ করতেন। রাসূল স. উম্মতের উপর তারাবীহ ফরয হওয়ার আশঙ্কায় অধিক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জামাতে ধারাবাহিকভাবে করতে পারেন নি। সে পছন্দের কাজটি উমর রা. করেছেন (কেননা রাসূল স. এর ওফাতের পর আর ঐ আশঙ্কা বিদ্যমান নেই) দ্র: খ:৮/পৃ:১০৮
হাফেজ ইবনে আব্দিল বার র. উপরোক্ত ঘটনা (উমর প্রথমে এগার (১১) রাকাত চালু করেছিলেন পরে বিশ রাকাত চালু করলেন এবং কেরাত সংক্ষিপ্ত করতে বললেন) এর সমর্থনে বলেন:
قال ابن عبد الله روي مالك في هذا الحديث احدي وعشرين وهو صحيح ولا اعلم احدا قال فيه احدي عشرة الا مالكا ويحتمل أن يكون ذلك اولا ثم خفف عنه طول القيام ونقلهم الي احدي وعشرين.
তারাবীহ একুশ (২১) রাকাতের কথাই সহীহ ও সঠিক। কারণ এগার রাকাতের কথা ইমাম মালেক ছাড়া অন্য কেউ বলেছেন বলে আমার জানা নেই। তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, প্রথমে এগার (১১) রাকাত চালু করেছিলেন (খুব দীর্ঘ কেরাতের সাথে) পরে দীর্ঘ কেরাত সংক্ষেপ করে এগার (১১) রাকাতকে বিশ (২০) রাকাতে পরিণত করা হয়েছে। (ফাতহুল মূলহিম:২/৩০)
অবশেষে হযরত উমর রা. এর বিশ (২০) রাকাত বিশিষ্ট তারাবীহর জামাত চালু করার নির্দেশের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা র. এর মন্তব্য-
وَرَوَى أَسَدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي يُوسُفَ قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا حَنِيفَةَ عَنِ التَّرَاوِيحِ وَمَا فَعَلَهُ عُمَرُ؟ فَقَالَ: التَّرَاوِيحُ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ وَلَمْ يَتَخَرَّصْهُ عُمَرُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِهِ وَلَمْ يَكُنْ فِيهِ مُبْتَدِعًا، وَلَمْ يَأْمُرْ بِهِ إِلَّا عَنْ أَصْلٍ لَدَيْهِ وَعَهْدٍ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -، وَلَقَدْ سَنَّ عُمَرُ هَذَا وَجَمَعَ النَّاسَ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ فَصَلَّاهَا جَمَاعَةً وَالصَّحَابَةُ مُتَوَافِرُونَ (الاختيار للموصلي: ১/৭৪، باب صلاة التراويح)
ইমাম আবু ইউসুফ বলেন- আমি ইমাম আবু হানীফা র. কে তারাবীহ এবং উমর রা. এর নিয়ম চালুর নির্দেশ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তারাবীহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং উমর রা. তা নিজের পক্ষ থেকে অনুমান করে নির্ধারণ করেন নি। নতুন কিছু আবিষ্কারও করেননি; বরং তার কাছে এর দলিল ছিল এবং রাসূল স. থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার ভিত্তিতেই এ আদেশ দিয়েছেন। (আল ইখতিয়ার: খ:১ পৃ:৭৪)
সার কথা: হযরত উমর রা. যে নতুন কাজের সূচনা করছিলেন তথা জামাতের ইহতিমাম করা, বিশ রাকাত পড়তে বলা, রাতের প্রথমাংশে তারাবীহ শেষ করা, সবগুলো রাসূলের হাদীস ও তার নির্দেশনার ভিত্তিতেই করেছেন।
খলীফা উমর রা. এর যুগে বিশ রাকাত তারাবীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত
প্রথম হাদীস :
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: ” كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً ” (السنن الكبري للبيهقي: ২/৮৯৬، رقم: ৪২৮৮)
অর্থাৎ: সায়েব বিন্ ইয়াযীদ রা. বলেন, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর আমলে সাহাবায়ে কেরাম রা. রমযান মাসে বিশ রাকাত (তারাবীহ) পড়তেন। (বায়হাকী, সুনানে কুবরা: খ:২ পৃ:৮৯৬)
পর্যালোচনা: এ হাদীসটিতে ইয়াযীদ ইবনে খুসায়ফা নামে একজন রাবী রয়েছেন। ইমাম বায়হাকী থেকে রাবী ইয়াযীদ বিন খুসায়ফা পর্যন্ত দুটি সনদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এক সনদে হাদীসটি সুনানে কুবরায় উল্লেখ করেছেন যা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। অপর সনদটি তিনি আসসুনানুল কুবরাসহ আল-মা’রিফা গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন। যার ইবারত-
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: ্রكُنَّا نَقُومُ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً وَالْوِتْرِগ্ধ (معرفة السنن: ৫৪০৯)
সুনানে কুবরার উপরোক্ত সনদের হাদীসটিকে যারা সহীহ বলেছেন তারা হচ্ছেন ইমাম নববী র., আল্লামা ইরাকী র., হাফেজ আইনী র., হাফেজ জালাল সুয়ুতী র. এবং আল্লামা নিমাভী র. প্রমুখ। আর অপর সনদ তথা আল-মা’রিফা গ্রন্থের হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন- তাজুদ্দীন সুবকী র. এবং মোল্লা আলী আল-কারী র. প্রমুখ। সুতরাং হাদীসটি তার উভয় সনদের দিক দিয়ে বিশিষ্ট হাদীস বিশারদদের দৃষ্টিতে সহীহ এবং নির্ভরযোগ্য।
সহীহ হাদীস কে লা-মাযহাবীদের যয়ীফ বলার চক্রান্ত
লা-মাযহাবীরা মিযানুল ই’তেদাল ও তাহযিবুত তাহযীব গ্রন্থের বরাতে ভিত্তিহীন ভাবে মনগড়া মন্তব্য করে হাদীসটিকে যয়ীফ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বলেন যে, উক্ত হাদীসের সনদে ১নং রাবী (আবু উসমান বাসরী) ২নং রাবী (খালিদ বিন মাখলাদ) এবং ৩নং রাবী (ইয়াযীদ বিন খুসায়ফা) অস্বীকৃত, যয়ীফ ও প্রত্যাখ্যাত।
অথচ এদের মধ্যে খালেদ ও ইয়াযীদ দুজনই বুখারী ও মুসলিমের রাবী। তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হলে বুখারী মুসলিমে তাদের রেওয়ায়েতগুলো আসল কীভাবে ? তাহলে বুখারী ও মুসলিমের এ হাদীসগুলো কি প্রত্যাখ্যাত ? তদুপরী তারা যে দুটি কিতাবের বরাতে এদের সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন কিতাবগুলো খুলে দেখুন উক্ত রাবীর ব্যাপারে এধরণের কোনো সমালোচনা এসব কিতাবে পাওয়া যাবে না। এটাই লা-মাযহাবীদের আসল চেহারা। মনমতো না হলে বুখারীর হাদীসকেও যয়ীফ বা প্রত্যাখ্যাত বলতে দ্বিধা করেনা।
১. খালিদ বিন মাখলাদ র. সম্পর্কে বিশিষ্ট মুহাদ্দিস উসমান বিন আবী শাইবা র. সালেহ বিন মুহাম্মদ র. ইবনে হিব্বান র. ইবনে শাহীন র.সহ অনেকে বলেছেন তিনি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য। ইবনে মঈন বলেছেন তার ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই। আবু দাউদ এবং ইবনে হাজার বলেছেন তিনি সত্যবাদী। ইবনে আদী বলেছেন তার মধ্যে কোন রকম সমস্যা নেই, ইমাম বুখারী তার সরাসরি ছাত্র।
হ্যাঁ, শুধু ইমাম আহমদ একটি ব্যতিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, (له مناكير) তার কিছু কিছু বর্ণনা আপত্তিকর।
উল্লেখ্য, ইমাম আহমদের মন্তব্যে তার বর্ণনা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোন প্রভাব পড়বেনা। কারণ তিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ। বুখারী মুসলিমে তার হাদীস রয়েছে। তা ছাড়া হাদীসের বিজ্ঞ মণিষীগণ তার প্রশংসা করেছেন এদের মোকাবেলায় ইমাম আহমদ র. এর মন্তব্য ধর্তব্য নয়।
উপরন্তু তার কিছু বর্ণনা ইমাম আহমদের কথা অনুসারে আপত্তিকর হলেও আমাদের আলোচ্য হাদীসটি তার আওতাভূক্ত নয়।
কারণ, এ হাদীসটি বিভিন্ন সনদে তিনি ছাড়া আরো অনেক বিশ্বস্ত রাবীদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।
২. ইয়াযীদ ইবনে খুসায়ফা র. এর ব্যাপারে হাদীস বিশারদদের মন্তব্য নিম্নরূপ:
ইমাম আবু হাতিম আবরাজী র. ইমাম নাসায়ী র. ও ইমাম ইবনে সা’দ র. তাকে ‘সিকাহ’ নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইমাম ইবনে মাঈন র. বলেছেন (ثقة حجة) অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও দলিলযোগ্য। ইমাম আহমদ র. থেকে তার সম্পর্কে দু ধরণের মন্তব্য পাওয়া যায়। এক, তিনি ‘সিকাহ’ নির্ভরযোগ্য। দুই. তিনি ‘মুনকারুল হাদীস’ অর্থাৎ তার কিছু হাদীস আপত্তিকর। এটা বাক্যটির অনুবাদ; কিন্তু ইমাম আহমদের পরিভাষায় এর অর্থ হচ্ছে তিনি কোন হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে একক ও নিঃসঙ্গ। (দ্র: মুকাদ্দামায়ে ফাতহুল বারী)
৩. আবু উসমান র. তার নাম আমর ইবনে আব্দুল্লাহ। তিনি বিশিষ্ট মুহাদ্দিস আবু তাহির ও হাসান ইবনে আলী র. এর উস্তাদ। তারা বহু হাদীস তার থেকে গ্রহণ করেছেন। তার ব্যাপারে (متروك) প্রত্যাখ্যাত বা যয়ীফ বলে কোন মুহাদ্দিস মন্তব্য করেনি। লা-মাযহাবী বন্ধুরা তার ব্যাপারে যা বলেছেন সবই মনগড়া। এধরণের বহু রাবীর হাদীস বুখারীতেও আনা হয়েছে তাছাড়া আমাদের আলোচ্য হাদীসটি আবু উসমান ব্যতিত অন্যান্য নির্ভরযোগ্য রাবীদের সনদেও বর্ণিত হয়েছে। এ ছিল লা-মাযহাবীদের চক্রান্তের উপর সামান্য পর্যালোচনা।
সারকাথা: হযরত উমর রা. যে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়ার নিয়ম চালু করেছিলেন এবং সাহাবায়ে কিরাম যে ওই যুগে বিশ রাকাত তারবীহ পড়তেন এনিয়ে সায়েব বিন ইয়াযীদ র. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি সকল মুহাদ্দিসের দৃষ্টিতে সহীহ এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। তাই এ হাদীস ও তার সমর্থনে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসের ভিত্তিতে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হলো যে উমর রা. এর যুগেই আনসার ও মুহাজির সকল সাহাবা মসজিদে নববীতে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। এতে তাদের কেউ আপত্তি করেন নি। আম্মা আয়েশা রা. এর হুজরা মোবারকের সামনেই বিশ রাকাতের আমল যুগ যুগ ধরে চালু ছিল তিনি ও কোন আপত্তি করেন নি। কেননা তিনি জানতেন যে, বুখারীতে বর্ণিত “এগার (১১) রাকাতের বেশী পড়েন নি” মর্মে যে, হাদীস তিনি বর্ণনা করেছেন তা তাহাজ্জুদ সম্পকীয়। তারাবীহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। একেই সাহাবীগণের ইজমা বা সম্মিলিত কর্মধারা বলা হয়।
২নং হাদীস তাবেঈনদের বর্ণনা
ক. হযরত ইয়াযীদ ইবনে রূমান র. এর হাদীস-
عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ؛ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ (১) عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فِي رَمَضَانَ، بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً (موطأ لامام مالك: رقم: ৩৮০)
উমর রা. এর যুগে মানুষ (সাহাবা ও তাবেঈন) রমযানে তেইশ রাকাত (তারাবীহ ২০ রাকাতা বিতর ৩ রাকাত) পড়তেন। (মুয়াত্তা মালেক ৪০ নং ৩৮০, আসসুনানুল কুবরা বায়হাকী: ২/৪৯৬)
খ. তাবেয়ী হযরত ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী র. এর হাদীস :
عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، ্রأَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَمَرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِهِمْ عِشْرِينَ رَكْعَةًগ্ধ (مصنف ابن ابي شيبة:২/২৮৫،رقم: ৭৬৮২)
হযরত উমর রা. এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত (তারাবীহ) আদায় করেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা:খ:২/পৃ:২৮৫)
গ. তাবেয়ী হযরত আব্দুল আযীয ইবনে রুবাই র. এর হাদীস:
عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ قَالَ: ্রكَانَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فِي رَمَضَانَ بِالْمَدِينَةِ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَيُوتِرُ بِثَلَاثٍগ্ধ (مصنف ابن ابي شيبة: ২/২৮৫،رقم: ৭৭৬৬)
হযরত উমর রা. কর্তৃক নিয়োজিত ইমাম উবাই বিন কা’ব রা. সম্পর্কে ইবনে কা’ব র. বলেন যে, তিনি রমযানে মদীনা শরীফে লোকদেরকে(সাহাবা ও তাবেঈন) নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (দ্র: মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা : খ:২/ পৃ:২৮৫/ হা:৭৭৬৬)
ঘ. তাবেয়ী মুহাম্মদ বিন কা‘ব আল কুরাযী র. এর হাদীস :
্রكَانَ النَّاسُ يُصَلُّونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً يُطِيلُونَ فِيهَا الْقِرَاءَةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلَاثٍগ্ধ (قيام الليل للمروزي: ৯১)
মুহাম্মদ ইবনে কা‘ব আল কুরাযী র. বলেন, হযরত উমর এর যুগে রমযানে লোকেরা (সাহাবা ও তাবেয়ী) বিশ রাকাত পড়তেন। তাতে তারা দীর্ঘ কেরাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (কিয়ামূল লায়ল: পৃ:৯১)
এ হলো তাবেঈন কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের আলোকে হযরত উমর রা. এর যুগে বিশ রাকাত তারাবীহর প্রমাণ।
এ ধরণের আরো বহু হাদীস পাওয়া যায়। যেগুলোর সারমর্ম এক ও অভিন্ন। তাই এগুলোর মূল বক্তব্য সহীহ ও মুতাওয়াতিরের পর্যায়ের। সুতরাং হযরত উমর রা.-এর যুগ থেকে সাহাবা ও তাবেয়ীর ধারাবাহিক আমল যে বিশ রাকাত তারাবীহর উপর ছিলো তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। যাতে কোনো দ্বিধা দ্বন্দের অবকাশ নেই।
খলীফায়ে রাশেদ: হযরত উমর রা.-এর সুন্নাতের ব্যাপারে লা-মাযহাবীদের দ্বিমুখী বক্তব্য
লা-মাযহাবীরা এ ব্যাপারে স্ববিরোধী কথা বলে থাকেন। যেমন: এক সময় বলেন যে, বিশ রাকাত তারাবীহ হযরত উমর রা. থেকে প্রমাণিত নয়। এ ব্যাপারে যেসব হাদীস উপরে পেশ করা হলো এগুলো ‘যয়ীফ’ তথা আমল অযোগ্য। আবার কখনো বলেন, এটা হযরত উমরের কর্ম ও আমল যার পিছনে উমর রা.-এর অনুমোদন ছিলো না। আবার বলেন যে, হযরত উমর নিজেই উবাই ইবনে কা‘বকে এগার রাকাত পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইত্যাদি।
আমরা বলতে চাই, মেনে নিলাম তিনি এগার রাকাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার বলুনতো তার আদেশ লঙ্ঘন করে কারা বিশ রাকাত তারাবীহর নির্দেশ চালু করেছিলেন ? যার কারণে সাহাবা তাবেয়ী সকলেই যুগ যুগ ধরে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়ে আসছেন। আর হযরত উমর রা.-এর আমলের ভিত্তি যদি রাসূলের কোনো সমর্থনই না থেকে থাকে তাহলে বলুনতো (عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين) অর্থাৎ তোমরা আমার সুন্নাত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত শক্ত হাতে আকঁড়ে ধরো। এ হাদীসের উদ্দেশ্য কী ? দেখুন, আল্লামা ইবনুল হুমাম কী চমৎকার কথা বলেছেন:
وَكَوْنُهَا عِشْرِينَ سُنَّةُ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ وَقَوْلُهُ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – ্রعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَগ্ধ نَدْبٌ إلَى سُنَّتِهِمْ. (فتح القدير: ১/৪৮৬)
বিশ রাকাত তারাবীহ খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত। আর রাসূলের বাণী “তোমরা আমার সুন্নাত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে ভালোভাবে আঁকড়ে ধরো” দ্বারা তাদের সুন্নাতের প্রতি গুরুত্বারোপ ও উৎসাহিত করা হয়েছে। (দ্র: ফাতহুল কাদীর ১/৪৮৬)
থেকে যায় তাবেয়ীন কর্তৃক উপরোল্লিখিত বর্ণনা বা হাদীসগুলো ‘যয়ীফ’ তথা মান্য করার অযোগ্য হওয়ার বিষয়টি।
তাবেয়ীনদের বর্ণনাগুলো ‘যয়ীফ’ বা অগ্রহণযোগ্য নয় কেন ?
উপরে ক. থেকে ঘ. পর্যন্ত যে কয়টি তাবেয়ীদের বর্ণনা পেশ করা হয়েছে এদের অনেকেই হযরত উমর রা.-এর যুগ পাননি। আবার কার থেকে বর্ণনা করলেন তাও তারা বলেননি। এসব কারণে হাদীসগুলো মুনকাতি (منقطع) বা মুরসাল (مرسل) তথা সূত্র বিচ্ছিন্ন বলা হয়। কিন্তু এ ধরণের তাবেয়ীর উস্তাদ পর্যায়ে যেহেতু কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী ছিলো না বললেই চলে তাই তাদের মুরসাল হাদীসগুলো গ্রহণযোগ্য। তদুপরি হাদীসটি একাধিক তাবেয়ী থেকে বর্ণিত এবং একটি সহীহ হাদীসও এ বক্তব্যের সমর্থনে বিদ্যমান। তাই এগুলো অগ্রহণযোগ্য বলা হাদীস শাস্ত্রের বিধান লঙ্ঘন। তা ছাড়া মূল হাদীস তো সাহাবী ‘সায়েব ইবনে ইয়াযীদ’ কর্তৃক বর্ণিত। আর এগুলো ওই হাদীসের সমর্থক বা অতিরিক্ত সাক্ষী হিসেবে গণ্য। উপরন্তু তাবেয়ীদের এসব বর্ণনাগুলোর সমর্থনে (تعامل امت) তথা “উম্মাহর অবিচ্ছিন্ন সম্মিলিত কর্মধারা” বিদ্যমান থাকায় এগুলো প্রামাণ্য ও গ্রহণযোগ্য। হাদীস শাস্ত্রের নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরণের মুনকাতি বা মুরসাল হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়ার উপর কারো কোনো দ্বিমত নেই। এগুলোকে লা-মাযহাবীরা যয়ীফ বলে আখ্যা দেয়া তাদের মারাত্মক অজ্ঞতার বহি:প্রকাশ ও হাদীসের ব্যাপারে জালিয়াতি। তাছাড়া এসব হাদীসকে কোনো মুহাদ্দিস যয়ীফ বলেননি।
দেখুন- এব্যাপারে লা-মাযহাবীদেরই মান্যবর শীর্ষ আলেম শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া র. কী বলেছেন-
قال ابن التيمية: المرسل الذي ما يوافقه أو الذي عمل به السلف حجة باتفاق الفقهاء. (مجموع الفتاوي، منهاج السنة)
তিনি বলেন, যে মুরসালের (সূত্রবিচ্ছিন্ন) অনুকূলে অন্য কোনো প্রমাণ পাওযা যায় কিংবা পূর্বসূরীগণ যার অনুসরণ করে থাকেন। তাহলে তা ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে দলিল হিসেবে গৃহীত হবে। (মাজমূউল ফতোয়া খ.২৩ পৃ. ২৭১ মিনহাজুস সুন্নাহ খ.৪/১১৭)
‘মাজমুউল ফতোয়া’ গ্রন্থে তিনি উমর রা.-এর যুগে মসজিদে নববীতে যে বিশ রাকাত তারাবীহ হতো এ সম্পর্কে বলেন-
فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ. فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ؛لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ.(مجموع الفتاوي: ২৩/১১২-১৩)
এ বিষয়টি প্রমাণিত যে, উবাই বিন কা‘ব রা. (যিনি উমরের নিযুক্ত ইমাম ছিলেন) রমযানে তারাবীহতে মুসল্লিদের নিয়ে বিশ রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। তাই অসংখ্য আলেমের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, এটাই সুন্নাত। কেননা, তিনি মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের উপস্থিতিতেই তা আদায় করেছিলেন অথচ কেউ তাতে আপত্তি করেনি। (দ্র: মাজমাউল ফতোয়া Ñ ২৩/১১২-১১৩)
ইবনে তাইমিয়া আরো বলেন-
قال ابن التيمية: ثبت من سنة الخلفاء الراشدين وعمل المسلمين. (مجموع الفتاوي)
অর্থাৎ (বিশ রাকাত তারাবীহ ) খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত এবং মুসলিম জাতির সম্মিলিত কর্মধারায় এটি প্রমাণিত। (দ্র. খ.২৩/১১৩)
হযরত আবুল আলিয়া র. থেকে বর্ণিত-
عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ عُمَرَ أَمَرَ أُبَيًّا أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فِي رَمَضَانَ فَقَالَ إِنَّ النَّاسَ يَصُومُونَ النَّهَار وَلَا يحسنون أَن (يقرؤا) فَلَوْ قَرَأْتَ الْقُرْآنَ عَلَيْهِمْ بِاللَّيْلِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَذَا (شَيْءٌ) لَمْ يَكُنْ فَقَالَ قَدْ عَلِمْتُ وَلَكِنَّهُ أَحْسَنُ فَصَلَّى بِهِمْ عِشْرِينَ رَكْعَة (إِسْنَاده حسن) (مسند احمد بن منيع، المختارة لضياء المقدسي)
হযরত উমর রা. উবাই রা.কে রমযানে লোকদের নিয়ে নামায পড়তে আদেশ দিলেন এবং এ কথা বললেন যে, লোকরা দিনভর রোযা রাখে তারপর সুন্দরভাবে কুরআন পড়তে পারে না। তাই আপনি যদি রাতে তাদেরকে নিয়ে কুরআন পড়তেন। তিনি তখন বললেন, আমি জানি যে এটা অনেক ভালো কাজ। এরপর উবাই রা. লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়লেন। (দ্র. আল মুখতারা ১১৬১)
হাদিসটির মান: ‘হাসান’ এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে যে, জামাতে পড়ার ক্ষেত্রে তিনি আপত্তি করলেও কিন্তু বিশ রাকাতের ব্যাপারে কোনো আপত্তি উবাই রা. করেননি। অথচ বিশ রাকাতের বিষয়টি শরীয়তের বিষয়। যা কেউ নিজ থেকে নির্ধারণ করতে পারে না। বুঝা গেলো, হযরত উমর রা. কর্তৃক বিশ রাকাত তারাবীহ রাসূলের পরোক্ষ নির্দেশেই হয়েছে এবং বিশ রাকাত যে মসজিদে নববীর ইমাম উবাই পড়তেন তাও সর্বস্বীকৃত। এ হাদীস দ্বারা তাবেয়ীদের উপরোক্ত হাদীসগুলোর জোরালো সমর্থন পাওয়া গেলো। আর উমর রা.-এর যুগে যে বিশ রাকাত তারাবীহর নিয়ম চালু হয়েছিলো তাতে স্বয়ং উবাইও আপত্তি করেননি।
এসব দলিল প্রমাণ দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, বিশ রাকাত বিশিষ্ট তারাবীহ হযরত উমর রা-এর যুগে পড়া হতো। সাহাবাগণ ও তাবেয়ীগণ সকলেই পড়েছেন। একথা কিছু লা-মাযহাবি ছাড়া সারা পৃথিবীর সকল আলেম ও ফকীহ মুহাদ্দিস এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন।
হযরত উসমান রা. এর যুগ
১৪ হিজরি থেকে উমর রা. এর শাহাদাত বরণ পর্যন্ত দশ বছর উসমানের রা. উপস্থিতিতেই তারাবীহ বিশ রাকাত পড়া হয়েছে। তিনি তারাবীহর রাকাত সংখ্যা নিয়ে আপত্তি করেন নি। যা তার সম্মতির লক্ষণ। তাছাড়া তিনি যদি তার
খেলাফতকালে নতুন নির্দেশ জারি করতেন তাহলে তা অবশ্যই ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষিত থাকতো।
হযরত আলী রা. এর যুগ
হযরত আলী রা. বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন এবং লোকদেরকেও বিশ রাকাত পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দুটি বর্ণনা দ্বারা তা প্রমাণিত হয়।
ক.
عن أبي عبد الرحمن السلمي عن على رضي الله عنه قال : دعا القراء في رمضان فأمر منهم رجلا يصلي بالناس عشرين ركعة قال وكان علي رضي الله عنه يوتر بهم
অর্থ: আবু আব্দুর রহমান সুলামী র. হযরত আলী রা. সম্পর্কে বলেন, তিনি রমযানে হাফেজদেরকে ডাকলেন এবং তাদের একজনকে লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহর নামায পড়ার নির্দেশ দিলেন। আলী রা. নিজে তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়তেন। (বায়হাকী: ২/৪৯৬)
খ.
عن أبي الحسناء : أن عليا أمر رجلا يصلي بهم في رمضان عشرين ركعة.
আবুল হাসনা বলেন, আলী রা. একজনকে নির্দেশ দিয়েছেন রমযানে তাদেরকে নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহর নামায পড়তে। (ইবনে আবী শাইবা: ৫/২২৩-নং৭৭৬৩)
এসমস্ত হাদীস দ্বারা খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া প্রমাণিত হয়। আর তাদের আমল আমাদের জন্য অনুসরণীয়। কারণ রাসূল স. ইরশাদ করেছেন-
عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين. عضوا عليها بالنواجذ. وإياكم والأمور المحدثات. فان كل بدعة ضلالة
অর্থাৎ, তোমাদের জন্য আমার সুন্নাত ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অনুসরণ জরুরি। তোমরা তা পরিপূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরো। (ইবনে মাজা: পৃ:৫, আবু দাউদ)
এ হাদীসে রাসূল স. ও সাহাবাদের আদর্শকে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে যারা তা গ্রহণ করবেনা তাদেরকে বিদআতী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত আলী রা. এর যুগে বিশ রাকাত তারাবীহর উপরোক্ত দুটি হাদীস যথাত্রমে আব্দুর রহমান আস সুলামী র. ও আবুল হাসনা র. এর বর্ণনাকে লা-মাযহাবী বন্ধুরা ‘যয়ীফ’ অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।
মূলকথা: আবু আব্দুর রহমান সুলামীর হাদীসটি ইমাম বায়হাকী র. অন্য একটি হাদীসকে সমর্থন ও শক্তিশালী করার জন্য এনেছেন। এতে প্রমাণ বহণ করে যে, বায়হাকীর নিকট হাদীসটি সহীহ। নচেৎ অন্য হাদীসকে শক্তিশালী করবে কিভাবে? তাছাড়া আস সুলামীর হাদীসকে ইমাম ইবনে তাইমিয়া র. মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে এবং ইমাম যাহাবী র. আল মুনতাকাহ গ্রন্থে দলিলস্বরূপ পেশ করে প্রমাণ করেছেন যে, হযরত আলী রা. তারাবীহর জামাত এবং রাকাত সংখ্যার বিষয় হযরত উমর রা. এর নীতিই অনুকরণ করেছিলেন। এতে আবার প্রমাণিত হলো যে, হাদীসটি ইবনে তাইমিয়া ও আল্লামা হাফেজ যাহাবীর দৃষ্টিতেও সহীহ, আমলযোগ্য।
আর আবুল হাসনা র. এর হাদীসটি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবায় উদ্ধৃত। এ হাদীস সম্পর্কে আলবানী ও মুবারকপুরী র. এর বরাতে লা-মাযহাবীরা বহু কটুক্তি করে থাকেন। তারা বলেন আবুল হাসনা মাজহুল ও মাতরুক (পরিত্যক্ত)। তাই এ হাদীসটি প্রত্যাখ্যাত। অনুসন্ধানে দেখা গেছে ‘আবুল হাসনা’ নামক দুই জন রাবী ছিলেন।
একজন হলেন, হযরত আলী রা. এর সরাসরি ছাত্র এবং আমর ইবনে কাইস ও আবু সা’দ আল বাক্কালের উস্তাদ। তিনি ইবনে হাজারের মত মুহাদ্দিসদের শ্রেণী নির্ণয় অনুপাতে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর মুহাদ্দিস। পক্ষান্তরে অপর ‘আবুল হাসনা’ হলেন, আলী রা. এর ছাত্রের ছাত্র। হাকিম বিন উতায়বার শাগরেদ এবং শরীফ নাখায়ী নামক ব্যক্তির উস্তাদ। সুতরাং এটা প্রমাণিত যে উভয় আবুল হাসনা এক ব্যক্তি নন;বরং ভিন্ন ব্যক্তি। আলোচ্য হাদীসে যে আবুল হাসনা রয়েছেন তিনি (সিকাহ রাবী) গ্রহণযোগ্য ও আলী রা. এর ছাত্র। তার ব্যাপারে ইবনে হাজারসহ কেউ মাজহুল (অজ্ঞাত) মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেননি এবং তার বর্ণনাকৃত হাদীসকেও কেউ প্রত্যাখ্যাত বলেননি। এগুলো সবই লা-মাযহাবীদের অজ্ঞতা বা জালিয়াতির বহি:প্রকাশ। হ্যাঁ, আবুল হাসনার হাদীসকে অধিকন্তু মাসতুর (مستور) বলা যেতে পারে। কারণ যদিও তার শিষ্যদের মধ্যে একাধিক বর্ণনাকারী রয়েছে কেউ কিন্তু তার ব্যাপারে সূ-খ্যাতি বর্ণনা করেনি। আর মাসতুর রাবীর বর্ণনা হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি অনুসারে অধিকাংশ মুহাদ্দিসদের নিকট নি:শর্তে গ্রহণযোগ্য। কেউ কেউ একটি শর্ত জুড়িয়ে দিয়েছেন যে, উক্ত হাদীসের সমর্থনে অন্য হাদীস বর্ণিত থাকা চাই। আলোচ্য আবুল হাসানা র. এর হাদীস উভয় মতানুসারে গ্রহণযোগ্য।
কারণ এ বর্ণনার সমর্থনে আবু আব্দুর রহমান আস সুলামীর হাদীস বিদ্যমান।
উপরন্তু হযরত আলী রা. যে বিশ রাকাত তারাবীহর শিক্ষা/নির্দেশ দিয়েছেন তার আরো প্রমাণ হচ্ছে, হযরত আলী রা. এর বিশিষ্ট শাগরেদ শুতাইর ইবনে শাকল র. আব্দুর রহমান বিন আবু বকর র. সাঈদ বিন আবুল হাসানা র. সুয়াইদ ইবনে গাফালাহ র. এবং আলী ইবনে রাবীয়া র. প্রমুখ সকলেই বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন এবং পড়াতেন।
সারকথা- বিশ রাকাত তারাবীহ খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। হযরত ওমর রা. ও হযরত আলী রা. এর যুগে তাদের আদেশক্রমে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া হতো। হযরত উসমান রা. হযরত উমর রা. এর যুগে বিশ রাকাত পড়েছেন ও সমর্থন দিয়েছেন। আর নিজের খেলাফতকালেও তার ব্যতিক্রম করেননি। হযরত আবু বকর রা. থেকে বিশ রাকাতের বিরুদ্ধে কোন বর্ণনা পাওয়া যায়নি। যদিও সঠিক কত রাকাত পড়া হতো তার স্পষ্ট বর্ণনাও মিলে না।
শরীয়তের যে কোন বিষয় কোন এক খলীফার সুন্নাত হিসেবে প্রমাণিত হলে তা সকল উম্মতের জন্য নবী সা. এর হাদীসের আলোকেই অনুসরণীয় ও অনুকরনীয় সাব্যস্ত হয় এবং এর বিরোধীতা করা গুনাহ। বিশ রাকাত তারাবীহ তিন খলীফার সুন্নাত প্রমাণিত হওয়ায় এটা কেমন গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত সাব্যস্ত হলো তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। অতিরিক্ত বিশ রাকাতের বিষয়টি রাসূল সা. এর মারফু হাদীস দ্বারাও সমর্থিত। এর পরও যদি কেউ তা প্রত্যাখ্যান করে ভিত্তিহীন দলিল দ্বারা ৮ রাকাতকেই সুন্নাত বললে নি:সন্দেহে তা হবে নব আবি®কৃত বিদআত। যা সকল যুগের উম্মাহর জন্য গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।
৩য় দলিল : ইজমায়ে সাহাবা
মুহাজির আনসারসহ সকল সাহাবায়ে কিরামের ইজমা
সাহাবায়ে কিরামকে কুরআনুল কারীম হেদায়েতপ্রাপ্ত এবং অনুসরণযোগ্য সাব্যস্ত করেছে এবং মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের অনুসরণের আদেশ দিয়েছে। আর আল্লাহ তায়ালা সাহাবাদের পথকে “সাবীলুল মু’মিনীন” আখ্যা দিয়ে তাদের অনুকরণকে জান্নাতি হওয়ার মানদণ্ড সাব্যস্ত করেছেন। এ ব্যাপারে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অধ্যায় আমরা সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করেছি। এখানে মাত্র একটি আয়াত পেশ করছি-
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন –
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (১১৫)
যে কেউ রাসূল সা.-এর বিরুদ্ধাচরণ করে তার কাছে হেদায়েতের পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সকল মু’মিনের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ওই দিকেই ফিরিয়ে দেব। আর সে যে দিকটি অবলম্বন করবে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থল। (সুরা নিসা ১১৫)
এ আয়াতে মু’মিনের অনুসৃত পথ বলতে সাহাবায়ে কিরামের পথ বুঝানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাসুল সা. উম্মতকে জান্নাতী ও নাজাতপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য সাহাবাদেরকে মাপকাঠি এবং মানদণ্ড সাব্যস্ত করে বলেন,ماانا عليه واصحابى “আমার ও আমার সাহাবাদের আদর্শ অনুকরণকারী দলই হচ্ছে নাজাতপ্রাপ্ত দল। সুতরাং সাহাবাদের জামাত সত্যের মাপকাঠি, নাজাতপ্রাপ্ত জামাত। তাদের আদর্শ ও কর্মধারাই উম্মতের জন্য পালনীয় ও অনুসরণীয়।
অন্যদিকে ইসলামী শরীয়া যে চারটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত (কুরআন হাদীস ইজমা ও কিয়াস) তার তৃতীয়টি হচ্ছে ইজমা। শরীয়তে এ ইজমার যথেষ্ঠ গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামের বেশ কিছু বিধান এই ইজমার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। যেমন, আবু বকর রা. নবীর প্রথম খলীফা সাব্যস্ত হওয়ার বিধান, তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হওয়ার বিধান, জুমআর দুই আযানের বিধান ইত্যাদি। ইজমার অনেকগুলো প্রকার রয়েছে তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো মুহাজির, আনসার সাহাবাসহ অন্যান্য সাহাবাগণের ইজমা। সুতরাং ইজমা যদি ব্যাপকভাবে অবিচ্ছিন্ন ও সম্মিলিতরূপে উম্মাহর নিকট পৌঁছে তবে তা শরীয়তে অকাট্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এ দলিল বিদ্যমান থাকলে ঐ বিষয়ে অন্য কোনো দলীলের প্রয়োজন পড়ে না। কারণ ইসলামী শরীয়া ইজমাকে দলিল সাব্যস্ত করেছে। তাই ইজমা দ্বারা যে বিধান প্রমাণিত তা স্পষ্ট হাদীস না পাওয়া গেলেও বিধানটিকে অমান্য করার কোন সুযোগ বাকী থাকেনা। আমাদের আলোচ্য বিশ রাকাত তারাবীহর বিষয়টিও ইজমায়ে সাহাবা ও আনসার-মুহাজির দ্বারা প্রমানিত।
মসজিদে নববীতে প্রায় ১৪ হিজরী থেকে উমর রা. এর নির্দেশে উবাই বিন কা‘বের ইমামতিতে বিশ রাকাত তারাবীহ জামাতে পড়ার নিয়ম চালু হলো। ওই জামাতে শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কিরাম, আনসার ও মুহাজিরগণ রা. মুক্তাদী হয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন। এরা সকলেই নবী সা. এর অবর্তমানে পুরা উম্মতকে কুরআন, হাদীস, ও শরীয়া শিক্ষা দিতেন। যারা মদীনার বাহিরে মক্কা, কুফা, বসরা ইত্যাদিতে অবস্থান করছিলেন। সকলেই মদীনার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে খলীফায়ে রাশেদের কর্ম ও সিদ্ধান্ত অনুকরণ করেই চলতেন।
মদীনাসহ বিশ্বের যত শহরে ওই যুগে রাসূল স. এর সাহাবাদের পবিত্র জামাত ছিলো সকলেই তারাবীহ বিশ রাকাতই পড়েছেন। একজন সাহাবী সম্পর্কে কেউ দেখাতে পারবেনা যে বিশ রাকাত তারাবীহ নিয়ে কোন আপত্তি তুলেছিলেন। এটাই ইজমায়ে সাহাবা, ইজমায়ে আনসার ও মুহাজির। তার কিছু প্রমাণ এখানে তুলে ধরছি :
ক. বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম আতা ইবনে আবী রাবাহ মক্কী র. বলেন-
عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: ্রأَدْرَكْتُ النَّاسَ وَهُمْ يُصَلُّونَ ثَلَاثًا وَعِشْرِينَ رَكْعَةً بِالْوِتْرِগ্ধ(مصنف ابن ابي شيبة: ৭৬৮৮)
আমি লোকদেরকে (সাহাবী ও তাবেয়ী) দেখেছি তারা বিতরসহ তেইশ রাকাত (তারাবীহ) পড়তেন। ( মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা : খ:২, পৃ:২৮৫)
সুতরাং এটা ইজমায়ে সাহাবা।
খ. ইমাম আব্দুল বার র. ‘ইসতিযকার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
وَهُوَ الصَّحِيحُ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ (مِنْ غَيْرِ خِلَافٍ مِنَ الصَّحَابَةِ (الاستذكار: ৫/১৫৭)
এটিই (বিশ রাকাত তারাবীহ) উবাই ইবনে কা‘ব রা. থেকে বিশুদ্ধরূপে প্রমাণিত এবং এতে সাহাবীগণের কোন ভিন্নমত নেই। (ইসতিযকার: ৫/১৫৭)
এখানে কারো কোন ভিন্ন মত নেই এর অর্থ হচ্ছে সবাই একমত ছিলেন। এটাই ইজমায়ে সাহাবা।
গ. ইমাম আবু বকর কাসানী র. বলেন-
وَالصَّحِيحُ قَوْلُ الْعَامَّةِ لِمَا رُوِيَ أَنَّ عُمَرَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – جَمَعَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – فِي شَهْرِ رَمَضَانَ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ فَصَلَّى بِهِمْ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَلَمْ يُنْكِرْ أَحَدٌ عَلَيْهِ فَيَكُونُ إجْمَاعًا مِنْهُمْ عَلَى ذَلِكَ.(بدائع الصنائع: ১/৬৪৪)
অধিকাংশ ওলামায়ে কিরাম যা বলেছেন তা-ই সঠিক। (অর্থাৎ তারাবীহ বিশ রাকাত) কারণ হযরত উমর রা. রমযান মাসে সাহাবায়ে কিরাম রা.কে উবাই বিন কা‘ব রা. এর ইমামতিতে একত্র করেন এবং উবাই বিন কা‘ব রা. তাদের নিয়ে প্রতি রাতে বিশ রাকাত (তারাবীহ) পড়তেন এবং তাদের একজনও এ ব্যাপারে কোন আপত্তি তুলেননি। সুতরাং এ ব্যাপারে (বিশ রাকাতের ব্যাপারে) তাদের (সাহাবাগণ) সকলের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয় (দ্র: বাদায়েউস সানায়ে খ:১,পৃ:৬৪৪)
ঘ. ইমাম ইবনে কুদামা মাকদেসী হাম্বলী র. বলেন-
لَوْ ثَبَتَ أَنَّ أَهْلَ الْمَدِينَةِ كُلَّهُمْ فَعَلُوهُ لَكَانَ مَا فَعَلَهُ عُمَرُ، وَأَجْمَعَ عَلَيْهِ الصَّحَابَةُ فِي عَصْرِهِ، أَوْلَى بِالِاتِّبَاع. (المغني لابن قدامة: ২/৬০৪)
উমর রা. যা করেছেন (জামাতের সাথে বিশ রাকাত তারাবীহ) এবং তার খেলাফত কালে অন্যান্য সাহাবীগণ যে ব্যাপারে একমত হয়েছেন তাই অনুসরণের সর্বাধিক উপযুক্ত। (আলমুগনী :২/৬০৪)
ঙ. লা-মাযহাবীদের মান্যবর শীর্ষ আলেম শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া র. ইজমার কথাটি ভিন্ন ভাষায় এভাবে বলেন-
إِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ. فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ.(مجموع الفتاوي: ২৩/১১২-১৩)
অর্থাৎ এটা প্রমাণিত যে উবাই বিন কা‘ব রা. রমযানে তারাবীহতে লোকদের নিয়ে বিশ রাকাতই পড়তেন। তাই অধিকাংশ আলেম এই সিদ্ধান্তে পৌছেছেন যে, এটাই (বিশ রাকাত) সুন্নাত। কেননা উবাই বিন কা‘ব রা. মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের উপস্থিতিতেই বিশ রাকাত পড়িয়েছেন এবং কেউ তাতে আপত্তি উত্থাপন করেননি। (দ্র: মাজমুউল ফাতাওয়া: খ: ২৩,পৃ:১১২-১১৩)
সারকথা : সাহাবায়ে কিরামের পবিত্র যুগে তারাবীহ বিশ রাকাতের বিষয়টি সকলের ঐক্যমতেই সুপ্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কোন সাহাবীর এ ব্যাপারে দ্বিমত ছিলনা। কেউ এর উপর আপত্তিও তোলেনি। তাহলে এটাই নাজাতপ্রাপ্ত জামাতের মত-পথ। কুরআনের ভাষায় এটাই সাবিলুল মু‘মিনীন (سبيل المؤمنين) তথা মুমিনগণের মত। এরা কেউ বিশ রাকাতকে নাজায়েযও বলতেন না বিদআতও আখ্যা দিতেন না। কুরআন-সুন্নাহ বিরোধীও বলতেন না। এগুলো নাজাতপ্রাপ্ত জামাতের পরিচয়। আজ যারা ২০ রাকাত তারাবীহকে বিদআত বলছে, সুন্নাতের খেলাফ বলে প্রচার করছে তারা মুমিনগণের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
আর সূরা নিসার ১১৫ নং আয়াতের বরাতে পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মুমিনগণের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে যারা চলবে তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান। আল্লাহ সকলকে হেদায়াত দান ও হিফাজত করুন। আমীন।
৪র্থ দলিল : মারফুয়ে হুকমী
‘মারফুয়ে হুকমী’ বলা হয়- সাহাবাদের এমন কথা বা কাজকে, যাতে ইজতিহাদ ও কিয়াসের সুযোগ নেই। উসূলে হাদীস ও উসূলে ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী ‘মারফুয়ে হুকমী’ মারফু হাদীস (নবীজীর কথা ও কাজ)-এরই একটি প্রকার। কারণ এটা তো স্পষ্ট যে, যেসব বিষয়ে যুক্তি ও ইজতিহাদ চলে না ঐ সব ক্ষেত্রে সাহাবারা রাসূল সা. থেকে না শুনে কোনো কাজ করতেন না। (মুকাদ্দামাতুশ শায়খ : পৃ: ১, মুকাদ্দামা ইবনে সালাহ : পৃ.৭৬-৭৭)
ইতোপূর্বে বিশ রাকাত তারাবীহর ব্যাপারে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত, মুহাজির-আনসারসহ অন্যান্য সাহবীদের ইজমা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো তো স্বতন্ত্র দলিল। পাশাপাশি মারফুয়ে হুকমীও আরেক দলিল। কারণ নামাযের রাকাত সংখ্যা কিয়াস দ্বারা নির্ধারণ করা যায় না। সাহাবা ও তাবেঈনরা যুগ যুগ ধরে বিশ রাকাত পড়েছেন। তারা নিশ্চয়ই ২০ রাকাত তারাবীহকে রাসূলের সা. আদর্শ হিসাবে জানতেন। তাই তারা এর উপরই আমল করেছেন।
এ বিষয়টি ইমাম আবু হানীফা র.-এর কথায চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে-
روى أسد بن عمرو عن أبي يوسف قال سألت أبا حنيفة عن التراويح وما فعله عمر رضي الله عنه فقال : التراويح سنة مؤكدة ولم يتخرصه عمر من تلقاء نفسه ولم يكن فيه مبتدعا ولم يأمر به إلا عن أصل لديه وعهد من رسول الله صلى الله عليه و سلم ،ولقد سن عمر هذا وجمع الناس علي ابي بن كعب فصلاها جماعة والصحابة متوافرون منهم عثمان وعلي وابن مسعود والعباس وابنه وطلحة والزبير ومعاذ وابي وعيرهم من المهاجرين والانصار ومارد عليه واحد منهم بل ساعدوه ووافقوه وامروا بذلك.
“আবু ইউসুফ র. বলেন, আমি আবু হানীফা র.কে তারাবীহ ও এব্যাপারে উমরের রা. কর্ম সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তারাবীহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। উমর রা. অনুমান করে নিজের পক্ষ থেকে এটা নির্ধারণ করেননি। এক্ষেত্রে তিনি নতুন কিছুও উদ্ভাবন করেননি। তিনি তাঁর নিকট বিদ্যমান ও রাসূল স. থেকে প্রাপ্ত কোনো নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই আদেশ দিয়েছেন। তাছাড়া উমর রা. যখন উবাই বিন কা‘বের রা. ইমামতিতে লোকদেরকে জমা করে এই প্রথা চালু করলেন, তখন বিপুল পরিমাণ সাহাবী বিদ্যমান ছিলেন। তাদের মধ্যে হযরত উসমান, আলী, ইবনে মাসউদ, আব্বাস, ইবনে আব্বাস, তালহা, যুবাইর, মুআয ও উবাই রা. প্রমুখ মুহাজির ও আনসার সাহাবা ছিলেন। তাদের কেউই এর উপর আপত্তি করেননি। বরং সকলেই তাকে সমর্থন করেছেন, তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন এবং অন্যদেরও এই আদেশ দিয়েছেন।” (আল ইখতিয়ার লি তা‘লীলিল মুখতার : ১/৯৪)
৫ম দলিল : সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা
সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা তথা তাআমুলে উম্মত
শরীয়তের একটি মৌলিক দলিল হচ্ছে- (تعامل امت) তথা মুসলিম উম্মার ব্যাপক ও অবিচ্ছিন্ন সম্মিলিত কর্মধারা। এটাকে সুন্নাতে মুতাওয়ারাসাও বলে। এটি হাদীস ও সুন্নাহর একটি উন্নত প্রকার। যার গ্রহণযোগ্যতা মৌখিক বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত হাদীস থেকেও অনেক শক্তিশালী । এ প্রসঙ্গে খতীব বাগদাদী র. الفقيه والمتفقه কিতাবে باب القول فيما يرد به الخبر الواحد অনুচ্ছেদে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আত তাব্বা মালেকীর কথা উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন যে,
كل حديث جائت عن النبي (ص) لم يبلغك احدا من اصحابه فعله فدعه. ০ج১/১৩২)
অর্থাৎ- তোমার নিকট নবীজীর কোনো সহীহ হাদীস পৌঁছলেও যদি তার উপর সাহাবীদের কাউকে আমল করতে না দেখ তাহলে তা ছেড়ে দাও। (১/১৩২)

* ইমাম যাহাবী র. হাদীস সহীহ সূত্রে বর্ণিত হলেও তা আমলযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে এক নীতির পর্যালোচনায় বলেন-
لَكِنْ بِشَرْطِ أَنْ يَكُونَ قَدْ قَالَ بِذَلِكَ الحَدِيْثِ إِمَامٌ مِنْ نُظَرَاءِ الإِمَامَيْنِ مِثْلُ مَالِكٍ، أَوْ سُفْيَانَ، ……….و أَمَّا مَنْ أَخَذَ بِحَدِيْثٍ صَحِيْحٍ وَقَدْ تنكَّبَهُ سَائِرُ أَئِمَّةِ الاِجتهَادِ، فَلاَ. (سير اعلام النبلاء: ১৬/৪০৪)
মর্মার্থ : হাদীসকে সহীহ পেলেও আমল করার জন্য মালেক ও সুফিয়ান র. এর মতো মুজতাহিদ ইমামগণ তা গ্রহণ করেন কিনা তা দেখতে হবে। যে ব্যক্তি হাদীস সহীহ পাওয়া মাত্র গ্রহণ করেন অথচ ইমামে মুজতাহিদগণের কেউ তা গ্রহণ করলো না তা মানা সঠিক হলো না। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৬/৪০৪)
* ইমাম আওযায়ী র. বলেন-
كنا نسمع الحديث فنعرضه علي اصحابنا كما يعرض الدرهم الزائف فما عرفوا منه اخذناه وما انكروا تركناه. (المحدث الفاضل للمروزي: ৩১৮)
মর্মার্থ : আমরা হাদীস শুনতাম অত:পর তা মুজতাহিদ ইমামগণের নিকট পেশ করতাম। যেমনিভাবে খাইটযুক্ত দিরহাম যাচাই করা হয়। তারা যদি তা মানার যোগ্য বলতেন তাহলে তা মেনে নিতাম। অন্যথায় তার উপর আমল করা থেকে বিরত থাকতাম। (আল মুহাদ্দিসুল ফাযিল পৃ:৩১৮)
* ইমাম মালেক র. কাজী মুহাম্মাদ বিন হাযম কর্তৃক আদালতের ফয়সালা বাহ্যিকভাবে সহীহ হাদীস এর বিপরীত হলে তার ব্যাখ্যার ব্যাপারে মন্তব্য করেন:
ما اجمع عليه العلماء المدينة يريد بأن العمل بها اقوي من الحديث. (الاثر الحديث الشريف للعوام: ص৯২)
মর্মার্থ : মদীনার ওলামায়ে কিরাম যার উপর ঐক্যবদ্ধ তা সহীহ হাদীসের উপর আমল করা থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী। (আছরুল হাদীস আশশরীফ পৃ৯২)
* ইমাম ইবনে আবী যাইদ কাইরাওয়ানী র. আহলে সুন্নাত ওয়াল হকের আলামতস্বরূপ বলেন-
والتسليم للسنن لاتعارض برأي ولا تدافع بقياس وما تأوله منها السلف الصالح تأولناه وما عملوا به عملناه وما تركوه تركناه. (كتاب الجامع: ص১১৭)
অর্থাৎ সুন্নাত হাদীসকে মানতে হবে। কোনো রায় বা কিয়াস দ্বারা হাদীস অমান্য করা যাবে না। সালাফে সালেহীন হাদীসের যে ব্যাখ্যা প্রদান করেন সে ব্যাখ্যা অনুপাতেই আমল করবো। তারা যেভাবে আমল করেছেন আমরাও তার উপর আমল করবো। আর তারা যেটাকে আমলের ব্যাপারে বিরত রয়েছেন তার উপর আমরা আমল করবো না। (আল জামে ১১৭)
উপরোক্ত কয়েকজন বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের মন্তব্য পেশ করলাম যার সারমর্ম হচ্ছে, সাহাবা, তাবেয়ী এবং আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের ধারাবাহিক আমল যা ব্যাপক ও সম্মিলিত কর্মধারারূপে প্রমাণিত তা কোনো সহীহ হাদীসের বিপরীত মনে হলেও গ্রহণযোগ্য। কারণ হাদীসটির মর্ম উদ্ঘাটনে তারাই সর্বাধিক অভিজ্ঞ (وهو اعلم الناس بمعاني الحديث) কেননা এ সম্মিলিত নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রমাণিত ও বিদ্যমান কর্মধারা যাকে সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা বলে তা খবরে ওয়াহিদ (الخبر
الواحد) থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী।
আমাদের আলোচ্য বিষয় “বিশ রাকাত তারাবীহ”র ব্যাপারে ইতি মধ্যে উল্লেখ করেছি যে, এর ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরাম মুহাজির আনসারসহ সকলের আমলী ঐক্যমত রয়েছে। খুলাফায়ে রাশেদীনের (তিন খলীফা) ঐক্যবদ্ধ কর্মধারা বা আমল, বিভিন্ন শহরের ফকীহ ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা দ্বারা প্রমাণিত। তাই এটা যে সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা ও তাআমুলে উম্মত তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। মূলত বিশ রাকাত তারাবীহর ক্ষেত্রে এটাই মৌলিক দলিল যা সকল উম্মতের জন্য পালনীয়। এর বিপরীত কোনো সহীহ হাদীস নেই। যে কয়েকটি হাদীস পেশ করা হয় এগুলো অত্যন্ত দুর্বল (যা পরে আলোচনা করা হবে)। এমতাবস্থায় এমন শক্তিশালী দলিলকে উপেক্ষা করে আট রাকাত পড়াকে সুন্নাত আর ততোধিক পড়াকে নাজায়েয বা বিদআত বলার কোনো সুযোগ নেই। বরং এটা হবে নবীর সকল ঐক্যবদ্ধ উম্মাহর বিরুদ্ধাচরণ যা মারাত্মক গোমরাহী বৈ কী।
তারাবীর বিশ রাকাত যে, তাআমুলে উম্মত বা সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা দ্বারা প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত তার যথেষ্ঠ প্রমাণ ইতোপূর্বে দেয়া হয়েছে।এখানে কয়েকটি প্রমাণ পেশ করছি:
* সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকারক ইমাম নববী র. লিখেন-
الْأَفْضَلُ صَلَاتُهَا جَمَاعَةً كَمَا فَعَلَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَالصَّحَابَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَاسْتَمَرَّ عَمَلُ الْمُسْلِمِينَ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ مِنَ الشَّعَائِرِ الظَّاهِرَةِ. (شرح النووي علي مسلم: ৬/৩৯،رقم: ৭৫৯)
উত্তম হচ্ছে তারাবীহ জামাতের সাথেই আদায় করা। যেমনটি উমর রা. ও সাহাবায়ে কিরাম করেছিলেন (এবং তা বিশ রাকাতই ছিলো) আর মুসলিম উম্মার সর্ব যুগের আমল ও কর্মধারা এরূপই ছিলো। (শরহে মুসলিম- ৬/৩৯)
তিনি আরো লিখেন-
اعلم أن صلاة التراويح سُنّة باتفاق العلماء، وهي عشرون ركعة، يُسَلِّم من كل ركعتين. (الاذكار: ص৮৩)
তারাবীহর নামায সুন্নাত হওয়ার বিষয়ে সকল উলামা একমত। এ নামায বিশ রাকাত। যার প্রতি দু’রাকাতেই সালাম ফেরাতে হয়। (শরহুল মুসলিম, আল আযকার পৃ.৮৩)
ক. মক্কাবাসীর তাআমুল- تعامل اهل مكة
* ইমাম শাফেয়ী র. মক্কাবাসীর আমল বা তাআমুল সম্পর্কে বলেন:
وَأَحَبُّ إلَيَّ عِشْرُونَ؛ لِأَنَّهُ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلَاثٍ.(الأم للشافعي: ص১৪২)
তারাবীহ বিশ রাকাত পড়া আমার নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয়। কারণ উমর রা. থেকে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। মক্কাবাসীও তারাবীর নামায এভাবেই (বিশ রাকাত) আদায় করতেন। আর তারা বিতর নামায তিন রাকাত পড়ে থাকেন। (কিতাবুল উম্ম লিশ শাফেয়ী)
ইমাম তিরমিযী র. সকল মুজতাহিদ ইমামগণের মতামত ব্যক্ত করার পর ইমাম শাফেয়ী কর্তৃক মক্কাবাসীর আমল এভাবে তুলে ধরেন-
وَأَكْثَرُ أَهْلِ العِلْمِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ، وَعَلِيٍّ، وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ، وَابْنِ المُبَارَكِ، وَالشَّافِعِيِّ ” وقَالَ الشَّافِعِيُّ: ্রوَهَكَذَا أَدْرَكْتُ بِبَلَدِنَا بِمَكَّةَ يُصَلُّونَ عِشْرِينَ رَكْعَةًগ্ধ (سنن الترمذي: ১/১৬৬)
অধিকাংশ আহলে ইলম ওই মতই পোষণ করেন যা উমর রা. আলী রা. এবং অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে তথা তারাবীহ বিশ রাকাত ৩৬ রাকাত নয়। যেমন ইমাম মালেক পড়তেন। সুফিয়ান সাওরী, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক ও ইমাম শাফেয়ীর মতও তাই। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন, আমি মক্কাবাসীকে মক্কা শরীফে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তে দেখেছি। (জামে তিরমিযী ১/১১৬)
মক্কার অধিবাসী বিশিষ্ট তাবেয়ী আতা বিন আবি রাবাহ র. বলেন-
– حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: ্রأَدْرَكْتُ النَّاسَ وَهُمْ يُصَلُّونَ ثَلَاثًا وَعِشْرِينَ رَكْعَةً بِالْوِتْرِগ্ধ (مصنف ابن ابي شيبة: رقم: ৭৬৮৮)
আমি লোকদের (মক্কাবাসী) বিতরসহ তেইশ রাকাত পড়তে দেখেছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা : ৭৬৮৮)
মক্কার কাযী ও মুয়ায্যিন ইবনে আবী মুলাইকাহ র. সম্পর্কে হযরত নাফে বিন উমর র. বলেন-
كان ابن ابي مليكة يصلي بنا في رمضان عشرين ركعة. (اثار السنن : ص২৯২)
তিনি আমাদের নিয়ে রমযানে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। (আসারুস সুনান পৃ.২৯২)
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, মক্কাবাসীর তাআমুল تعامل اهل مكة বিশ রাকাত । আর এটাই সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা।
খ. মদীনাবাসীর তাআমুল- تعامل اهل مدينة
চৌদ্দশ’ বছরের ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, মদীনাবাসীও সর্বদা তারাবীহর নামায বিশ রাকাতই পড়েছেন; বর্তমানেও তাই। তবে কিছু উদ্যমী মানুষ মক্কাবাসীকে বিশ রাকাতের পাশাপাশি চারটি তাওয়াফ ও তাওয়াফ পরবর্তী আট রাকাত নামায আদায় করতে দেখে চার তাওয়াফের পরিবর্তে আট রাকাত এবং তাওয়াফের আট রাকাত এর বিনিময় আরো আট রাকাত মোট ষোল রাকাত বৃদ্ধি করে সর্বমোট ৩৬ রাকাত তারাবীহ পড়া আরম্ভ করেন। অত:পর তিন রাকাত বিতর পড়তেন। এতে ৩৯ রাকাত হয়ে যেতো। তবে এদেরও মূল তারাবীহ হতো বিশ রাকাত। অতিরিক্ত ১৬ রাকাত মুস্তাহাব বা ফযীলত অর্জন তথা মক্কাবাসীর সমান সওয়াব পাওয়ার লক্ষেই পড়া হতো । এ ব্যাপারে ইমাম সুয়ূতী র.-এর বিশ্লেষণ নিম্নরূপ-
وَذَكَرَ السُّيُوطِيُّ فِي رِسَالَتِهِ أَنَّهُ يُسْتَحَبُّ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ سِتًّا وَثَلَاثِينَ رَكْعَةً تَشْبِيهًا بِأَهْلِ مَكَّةَ، حَيْثُ كَانُوا يَطُوفُونَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ طَوَافًا وَيُصَلُّونَ رَكْعَتَيْهِ، وَلَا يَطُوفُونَ بَعْدَ الْخَامِسَةِ، فَأَرَادَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ مُسَاوَاتَهُمْ، فَجَعَلُوا مَكَانَ كُلِّ طَوَافٍ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَلَوْ ثَبَتَ عَدَدُهَا بِالنَّصِّ لَمْ تَجُزْ الزِّيَادَةُ عَلَيْهِ، وَلَأَهْلُ الْمَدِينَةِ وَالصَّدْرُ الْأَوَّلُ كَانُوا أَوْرَعَ مِنْ ذَلِكَ.(مرقاة المفاتيح: ৩/১৯৩، باب قيام شهر رمضان)
অর্থাৎ মক্কাবাসী তারাবীহর প্রতি চার রাকাত পর (বিশ্রামের সময়) তাওয়াফ করে নিতেন এবং দুই রাকাত নামাযও পড়তেন। তবে শেষ বৈঠকে এমনটি করতেন না। মদীনাবাসী এটা দেখে তাদের সামঞ্জস্যতার লক্ষে প্রতি তারবীহর পরিবর্তে (তাওয়াফ ও নামাযসহ) চার রাকাত নফল পড়তেন। এভাবে ৪দ্ধ৪=১৬ রাকাত বৃদ্ধি হয়ে যায়।
কিন্তু সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ আলেম মসজিদে নববীর সুখ্যাত মুদাররিস ও শরীয়া আদালতের কাযী (আমার সরাসরি উস্তাদ) শায়খ আতিয়্যাহ সালিম ‘মসজিদে নববীর হাজার বছরের তারাবীহর ইতিহাস’ নামক আরবীতে তার লেখা একটি কিতাবে প্রমাণ করেছেন যে, বিশ রাকাত তারাবীহই ছিলো মসজিদে নববীর ধারাবহিক তাআমুল।
তিনি তার কিতাব (التراويح اكثرمن الف عام) এ স্ববিস্তারে তা পেশ করেছেন।
প্রথম শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ
উপরোক্ত আলোচনায় সুন্নাতে খুলাফায়ে রাশেদীন অনুচ্ছেদে দেখেছেন যে হযরত উমর রা. এর যুগ থেকে শুরু করে খিলাফতে রাশেদার পূর্ণ যুগ এবং তারপরও সাহাবাদের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তারাবীহ বিশ রাকাতই পড়া হতো।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ
শায়খ আতিয়্যাহ বলেন,
مضت المائة الثانية والتراويح ست وثلاثون وثلاث وتر ودخلت السنة الثالثة وكانت المظنون أن فظل علي ماهي عليه تسع وثلاثون بما فيه الوتر. (التراويح اكثر من الف عام: ص৪১)
দ্বিতীয় শতাব্দিতে তারাবীহ ছত্রিশ রাকাত পড়া হতো এবং বিতর পড়া হতো তিন রাকাত। তৃতীয় শতাব্দীতেও তদরূপ বিতরসহ উনচল্লিশ রাকাতই পড়া হতো।
চতুর্থ ,পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে মসজিদে তারাবীহ
তিনি লিখেন,
عادت التراويح في تلك الفطرة كلها الي عشرين ركعة فقط بدلا من ست وثلاثني في السابق. ص৪২
এই তিন শতাব্দীতে ছত্রিশ এর পরিবর্তে পূনরায় বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া আরম্ভ হয়।
অষ্টম, নবম, দশম, ও একাদশ শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ
তিনি লিখেন,
فكان يصلي التراويح أول الليل بعشرين ركعة على المعتاد. ثم يقوم آخر الليل في المسجد بست عشرة ركعة. (ص৪৭)
প্রথম রাতে যথারীতি তারাবীহর নামায বিশ রাকাতই পড়া হতো। তবে শেষ রাতে ষোল রাকাত নামাজ মসজিদেই পড়া হতো।
দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতেও অনুরূপ ছিলো (আত তারাবীহ পৃ.৪৭)
চতুর্দশ শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ
তিনি লিখেন:
دخل القرن الرابع عشر والتراويح في المسجد النبوي على ما هي عليه من قبل وظلت إلى قرابة منتصفه.(ص৫৮)
চৌদ্দতম শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত মসজিদে নববীতে তারাবীহর নামায পূর্বের মতোই অব্যাহত ছিলো। (বিশ রাকাত প্রথম রাতে শেষ রাতে ষোল রাকাত)
এ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের ব্যাপারে তিনি লিখেন :
ثم جاء العهد السعودي فتوحدت فيه الجماعة في المسجد النبوي وفي المسجد الحرام للصلوات الخمس وللتراويح. أما عدد الركعات وكيفية الصلاة فكانت عشرين ركعة بعد العشاء وثلاثا وترا، وذلك طيلة الشهر……… وعليه فتكون التراويح قد استقرت على عشرين ركعة على ما عليه العمل في جميع البلاد وعليه المذاهب الثلاثة. (التراويح اكثر من الف عام: ص৬৫)
অর্থাৎ এ সময় সৌদি শাসনামলের সূচনা হয় এবং মক্কা মদীনার পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও তারাবীহর ব্যবস্থাপনা অধিক সুসংহত করা হয়। এ সময় পুরো রমযানে এশার পর বিশ রাকাত তারাবীহ ও তিন রাকাত বিতর পড়া হতো। এতে প্রতীয়মান হয়, বিশ রাকাত তারাবীহ-ই ছিলো মসজিদে নববীর সর্বযুগের আমল। মদীনা ছাড়া অন্যান্য ভূখণ্ডেও এ নিয়ম জারী ছিলো। (আত তারাবীহ আকসার মিন আলফে আম পৃ.৬৫)
(অধম লিখক) বলছে, ১৯৮৩ সাল তথা চতুর্দশ হিজরীর শেষ দিকে আমি ইমাম মোহাম্মদ বিন সাউদ ভার্সিটিতে অধ্যায়নকালে বিতর সম্পর্কে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করি। বিশ রাকাত তারাবীহর পর বিতর পড়া হতো। আবার শেষ রাতে ১০রাকাত পড়া হতো এবং এরপর পুনরায় বিতর পড়া হতো তিন রাকাত। সর্বমোট তের রাকাত। বিতর একাধিকবার পড়ার ওপর কিছু আলেম আপত্তি করলে প্রথমে ইমাম পরিবর্তন করা হয়। যিনি প্রথম রাতে বিতর পড়াতেন তিনি শেষ রাতে পড়াতেন না। অবশেষে যা বর্তমান সময়েও জারি আছে তা হলো- এশার পর বিশ রাকাত তারাবীহ পড়িয়ে বিতর পড়া থেকে বিরত থাকতেন এবং শেষ রাতে ১০রাকাতের পর তিন রাকাত বিতির পড়াতেন। মক্কা ও মদীনাতে একই নিয়ম এখনো চালু রয়েছে।
গ. কুফাবাসীর তাআমুল- تعامل اهل كوفة
কুফাবাসীর আমলও মক্কা মদীনাবাসী সাহাবা ও তাবেয়ীগণের আমল থেকে ব্যতিক্রম ছিলো না। কুফা ছিলো হযরত আলী রা.-এর রাজধানী। তিনি বিশ রাকাত তারাবীহ পড়ার নির্দেশ দিয়ে তারাবীহর নিয়ম চালু করার কথা পূর্বেই আলোচনা হয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.ও কুফাতেই বসবাস করতেন,হাদীস ও ফিকহের দরস দিতেন। তিনিও বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতেন (দ্র. কিয়ামুল লাইল পৃ.৯১)
আরো যেসব প্রসিদ্ধ তাবেয়ী কুফাতে ছিলেন এবং বিশ রাকাত তারাবীহ পড়িয়েছেন তাদের মধ্যে আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ র. সুয়াইদ ইবনে গাফালাহ র. আলী ইবনে রাবীআ র. সাঈদ ইবনে যুবাইর র. সুফিয়ান ছাওরী র. ইমাম আবু হানীফা র. প্রমুখ ছিলেন অন্যতম।
ঘ. বসরাবাসীর তাআমুল
সাহাবা ও তাবেয়ীর যুগে ইরাকের বসরা নগরী ইলম ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে খুবই অগ্রগামী ছিলো। বহু সাহাবা ও তাবেয়ী এ শহর আবাদ করেছিলেন। হাদীসের দরসের পাশাপাশি ফিকহের দরসও অবিরাম চালু ছিলো। মুহাদ্দিস ও ফুকাহায়ে তাবেয়ীর সকলেই বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। এর কমে পড়ার কোনো প্রমাণ ইতিহাসের পাতায় পাওয়া যায় না। এ শহরের বিশিষ্ট তাবেয়ী যারা বিশ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- আব্দুর রহমান বিন আবু বকর র. সাঈদ বিন আবুল হাসান র. ইরান আবদী র. যুরারা ইবনে আবু আওফা র. প্রমুখ।
ঙ. বাগদাদবাসীর তাআমুল
বাগদাদ শহরে জন্ম নিয়েছেন ইসলামের যুগশ্রেষ্ঠ মনিষীগণ। তাদের ইমাম আহমদ বিন হাম্বল র. প্রথম সারির ফকীহ ছিলেন। যিনি হাম্বলী মাযহাবের ইমাম। তিনি বিশ রাকাত তারাবীহ আদায় করতেন, এটাই তার মাযহাব ছিলো। দেখুন এই মাযহাবের কিতাবসমূহ।
এরপর যাহেরী মাযহাবের ইমাম দাউদ যাহেরী র. ও বাগদাদের অধিবাসী। তিনিও তারাবীহ বিশ রাকাতের পক্ষে ছিলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক র. তিনিও বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। ইসহাক বিন রাহ্ওয়াই র. তিনিতো ৪১রাকাত পর্যন্ত পড়তেন। (দ্র. কিয়ামুল লাইল পৃ.৯২)
পরিশিষ্ট
একটি প্রশ্ন ও তার খণ্ডন
সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা বা তাআমুলে সাহাবা ও তাবেয়ীন এবং আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনায় প্রমাণিত হলো যে, বিশ রাকাত তারাবীহ সারা বিশ্বে সাহাবাযুগ থেকে সর্বকালের উলামা ও উম্মতের এক অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিক আমল। এটি সাধারণ সহীহ হাদীস থেকেও অনেক বেশী শক্তিশালী।
কিন্তু প্রশ্ন হলো- হাদীস থেকেও বেশী শক্তিশালী হয় কীভাবে ?
এর সংক্ষিপ্ত জবাব-
এ ধরণের ব্যাপক সম্মিলিত কর্মধারার পেছনে মূলত রাসূল সা.-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা অবশ্যই বিদ্যমান যা অনেকের হয়তো জানার বাইরে। কেননা নবী স.-এর সকল সাহাবা, তাবেয়ী নবীর স্পষ্ট সহীহ হাদীস ও শিক্ষার বিপরীতে তার অন্য কোনো নির্দেশনা ছাড়া মন মতো শরীয়তের বিষয়ে আমলী সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন তা কল্পনাতীত।
দেখুন, আমাদের আলোচ্য বিষয়টিতে যদি তারাবীহর নামায আট রাকাত এ ব্যাপারে রাসূল সা.-এর থেকে সুস্পষ্ট সহীহ হাদীস বিদ্যমান থাকতো, এর বিপরীতে বিশ রাকাতের ব্যাপারে নবীজীর কোনো দিকনির্দেশনা না থাকতো, তাহলে হযরত উমরের যুগ থেকে নিয়ে সর্বকালের সাহাবা তাবেয়ী ও আইম্মায়ে মুজতাহিদ এমনিতে বিশ রাকাত তারাবীহর উপর একমত হয়ে তা আমলীভাবে গ্রহণ করে শরীয়তের বিধানটি চালু করে নিয়েছেন এ কথা কোনো বিবেকহীন বিশ্বাস করতে পারে না।
বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করার জন্য হযরত উবাই বিন কা‘বের বর্ণনাটি পড়ে দেখুন- (যা পূর্বেও পেশ করা হয়েছে)
عن أبي بن كعب أن عمر بن الخطاب أمره أن يصلي بالليل في رمضان فقال: إن الناس يصومون النهار ولا يحسنون أن يقرأوا فلو قرأت عليهم بالليل، فقال: يا أمير المؤمنين هذا شيء لم يكن، فقال: قد علمت ولكنه حسن فصلى بهم عشرين ركعة.(كنز العمال: ৮/৪০৯،رقم: ২৩৪৭০)
অর্থাৎ হযরত উমর রা. উবাই বিন কা‘বকে রমযানে লোকদের নিয়ে নামায পড়ার আদেশ দিতে গিয়ে বলেন, তারা দিনে রোযা রাখে কিন্তু রাতের বেলায় সুন্দরভাবে কোরআন পড়তে পারে না। আপনি যদি তাদের নিয়ে কুরআন পড়েন (অর্থাৎ জামাতে নামায আদায় করতেন) উত্তরে উবাই বলেন, আমীরুল মুমিনীন এ বিষয়টি (জামাতে তারাবীহ) আগে করা হতো না। উত্তরে উমর রা. বলেন, তা আমি ভালো করে জানি;তবে এটা ভালো কাজ। এরপরই উবাই রা. তাদের নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া আরম্ভ করেন। (হাদীসটির মান হাসান)
এ হাদিসে দেখার বিষয় হচ্ছে- কয়েকটি ছোট ছোট দলকে নিয়ে জামাতের সাথে একত্রিত করে এক ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করার নিয়ম বানানো একটি ব্যবস্থাপনাগত বিষয় ছিল। আর তিন বার হলেও রাসূল স. তা নিজেই আমল করেছিলেন তথাপি উবাই রা. এ ব্যাপারে নিজের সংশয়ের কথা প্রকাশ করলেন (هذا شيئ لم يكن) কিন্তু তিনি তারাবীহ যে বিশ রাকাত পড়তে আরম্ভ করলেন এ ব্যাপারে তো কোনো সংশয় পেশ করলেন না ?
অথচ তারাবীহর রাকাত সংখ্যা তো কোনো ব্যবস্থাপনাগত বিষয় ছিলো না; বরং শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো। যা কিয়াস করে নিজে নিজেই নির্ধারণ করার বিষয় নয়। এরপরও কেন তিনি আপত্তি বা সংশয় প্রকাশ না করে বিশ রাকাত পড়ে দিলেন? আচ্ছা তার সাথে যারা নামাজ আদায় করেছেন- আশারায়ে মুবাশশারাহ (আবু বকর ছাড়া) ও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম তারাও কি কোনো আপত্তি তুলেছিলেন ?
সবাই এমন একটি শরয়ী বিধানকে একবাক্যে মেনে নেয়া বিশেষ করে হযরত উবাইয়ের তাতে প্রশ্ন না তোলা প্রমাণ করে, বিশ রাকাতের উপর সকলের আমল ও তাআমুল এর পিছনে রাসূল সা.-এর অবশ্যই কোনো দিকনির্দেশনা ছিলো। যা হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে মারফু দ্বারা প্রমাণিত। তা না হলে প্রাণ যেতেও সাহাবারা শুধু হযরত উমরের কথায় বিশ রাকাতের উপর একমত হতেন না। কিংবা হযরত উমর রা. এর মত বিদআত বিরোধী শক্ত মেজাযের মানুষ আট রাকাতের শিক্ষা বিদ্যমান থাকতে বিশ রাকাত পড়ার কথা বলতেন না।
এ বিষয়টিই ইমাম আবু হানীফা র. এর ভাষায়-
فَقَالَ: التَّرَاوِيحُ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ وَلَمْ يَتَخَرَّصْهُ عُمَرُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِهِ وَلَمْ يَكُنْ فِيهِ مُبْتَدِعًا، وَلَمْ يَأْمُرْ بِهِ إِلَّا عَنْ أَصْلٍ لَدَيْهِ وَعَهْدٍ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ. (الاختيار لتعليل المختار للموصلي: ১/৭০)
“তারাবীহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং উমর রা.তা নিজের পক্ষ থেকে অনুমান করে নির্ধারণ করেননি; বরং তিনি দলীলের ভিত্তিতে এবং নবীজী থেকে প্রাপ্ত কোনো নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই আদেশ প্রদান করেছেন।”
ষষ্ট দলিল : ইজমায়ে উম্মত
বিশ রাকাত তারাবীহর ব্যাপারে সাহাবা, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীসহ পুরো উম্মতের ইজমা সংগঠিত হয়েছে। এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য আলেম-ফকীহদের মত এবং গ্রহণযোগ্য কিতাবসমূহের ইবারত তুলে ধরা হলো-
(১) মোল্লা আলী আল-কারী র. বলেন- أجمع الصحابة علي أن التراويح عشرون ركعة.
অর্থাৎ ‘সাহাবারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, তারাবীহ ২০ রাকাত।’ (মিরকাত ৩/৩৪৬-মাকতাবা আশরাফিয়া)
(২) আল্লামা আইনী র. ইবনে আব্দুল বার র.-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন-
وهو قول جمهور العلماء وبه قال الكوفيون و الشافعى وأكثر الفقهاء ، وهو الصحيح عن أبى بن كعب من غير خلاف من الصحابة –
“এ মত পোষণ করেন কুফাবাসী, ইমাম শাফেয়ী র. ও অধিকাংশ ফুকাহা। আর
সাহাবাদের থেকে মতানৈক্য ছাড়া ২০ রাকাত প্রমাণিত। (উমদাতুল কারী : ৮/২৪৬-মাকতাবা যাকারিয়া)
(৩) কাযীখান র. তার স্বীয় ফাতওয়া গ্রন্থে লিখেন-
وهو المشهور من الصحابة والتابعين-
“সাহাবা ও তাবেয়ী থেকে এটাই (২০ রাকাত পড়া) প্রসিদ্ধ।”(ফাতাওয়া কাযীখান : ১/২০৬)
(৪) ইবনে হাজার মাক্কী র. বলেন, ২০ রাকাতের উপর সাহাবাদের ইজমা রয়েছে। (ইনারাতুল মাসাবীহ : পৃ.১৮)
(৫) আব্দুল হাই লাখনবী র. লিখেন-
ثبت اهتمام الصحابة على عشرين فى عهد عمر و عثمان وعلى فمن بعدهم-
“হযরত উমর, উসমান, আলী রা.-এর যুগে এবং পরবর্তীতে সাহাবাদের ২০ রাকাতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রমাণিত।”(হাশিয়ায়ে শরহে বেকায়া : ১/১৭৫- আশরাফী বুক ডিপো)
(৬) ‘ইতহাফু সাদাতিল মুত্তাকীন’ নামক কিতাবে আছে-
وبالإجماع الذى وقع فى زمن عمر أخذ أبو حنيفة و الشافعى وأحمد و الجمهور.
‘উমর রা.-এর যুগে যে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা-ই গ্রহণ করেছেন আবু হানীফা, শাফেয়ী, আহমাদ র. ও অধিকাংশ আলেম-ফকীহ।’ (৩/৪২২)
ইবনে কুদামা র. মুগনীতে (২/৩৬৪), শামসুদ্দীন র. শরহে মুকান্নাতে (১/৮৫২), আ. হাই লাখনবী র. আত তা‘লীকুল মুমাজ্জাদে (পৃ:৫৩), মোল্লা আলী আল-কারী র. শরহে নেকায়াতে (পৃ.১০৪) এবং নবাব সিদ্দীক হাসান খান (যিনি গায়রে মুকাল্লিদদের গুরু) আওনুল বারীতে (২/৩০৭)। ২০ রাকাত তারাবীহর উপর ইজমা উল্লেখ করেছেন।
উপরন্তু (১২-১৩) ইমাম নববী র. “باتفاق المسلمين” শব্দ দ্বারা (আল আযকার পৃ. ৮৩) আর ইবনে তাইমিয়া র. فلما “جمعهم” عمر علي ابي بن كعب. বাক্য দ্বারা (মাজমুআতুল ফাতাওয়া : ১১/৫২০) ইজমা নকল করেছেন।
(১৪-১৫) তাহতাবী র. হাশিয়ায়ে তাহতাবীতে (১/২৯৬-মাকতাবা রশীদিয়া,কোয়েটা) আর শারাম্বুলালী র. মারাকীউল ফালাহতে (পৃ.৮১) “متوارث” শব্দ দ্বারা ইজমা উল্লেখ করেছেন।
(১৬-২৪) ইবনে হুমাম র. ফাতহুল কাদীরে (১/৪৮৫), আন্ওয়ার শাহ্ কাশ্মীরী র. আল আরফুশ শাযীতে (হাশিয়ায়ে তিরমিযী : ১/১৬৬), ইবনে নুজাইম র. বাহরুর রায়েকে (২/১১৭-যাকারিয়া), আল্লামা শামী র. রদ্দুল মুহতারে (২/৪৫-সাঈদ), কাসানী র. বাদায়েতে (২/২৭২-দারুল হাদীস), আ. হক মুহাদ্দিসে দেহলবী র. ‘মা সাবাতা বিস সুন্নাহ’ গ্রন্থে (পৃ.২১৭), হালাবী র. শরহে মুন্য়াতে (পৃ.৪০৬), সুয়ূতী র. মাসাবীহ গ্রন্থে (পৃ.১৬) এবং সুবকী র. মাসাবীহতে (পৃ.১৬) “ثم استقر الامر علي هذا” ইত্যাদি বাক্য দ্বারা ইজমা উল্লেখ করেছেন। কোনো আলেম বা ফকীহ এগুলোর উপর আপত্তি করেননি। উপর্যুক্ত দলিল-প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত হলো, বিশ রাকাত তারাবীহর উপর পুরো উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া র.-এর অভিমত
২০ রাকাত তারাবীহর ব্যাপারে গায়রে মুকাল্লিদদের মান্যবর ইমাম আরববিশ্বের অন্যতম গবেষক ইবনে তাইমিয়া র.-এর মতামত তুলে ধরা হলো। তিনি লিখেন-
قد ثبت ان ابي بن كعب رضي الله عنه كان يقوم بالناس عشرين ركعة في قيام رمضان ويوتر بثلاث فرأي كثيرمن العلماء ان ذلك هو السنة لانه اقامه بين المهاجرين والانصار ولم ينكره منكر.
অর্থ : একথা প্রমাণিত যে, উবাই বিন কা‘ব রা. রমযানে তারাবীহতে লোকদের নিয়ে ২০ রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। তাই বহু আলেমের সিদ্ধান্ত এটাই সুন্নত। কেননা তিনি মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের উপস্থিতিতেই তা আদায় করেছিলেন। কেউ তাতে আপত্তি করেননি। (মাজমুআতুল ফাতাওয়া : ১২/৬৮-মাকতাবা আবীকান; ২৩/৬৫-দারুল হাদীস)
তিনি আরো লিখেন-
ثبت (التراويح عشرون ركعة) من سنة الخلفاء الراشدين وعمل المسلمين.
অর্থাৎ, খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত ও মুসলিম জাতির আমল দ্বারা ২০ রাকাত তারাবীহ প্রমাণিত । (মাজমুআতুল ফাতাওয়া : ২৩/৬৬-দারুল হাদীস)
অন্যত্রে তিনি বলেন-
كما أن نفس قيام رمضان لم يوقت النبى صلى الله عليه وسلم فيه عددا معينا….. فلما جمعهم عمر علي ابي بن كعب ، كان يصلي بهم عشرين ركعة ويوتر بثلاث …. ثم كانت طائفة من السلف يقومون باربعين ركعة ويوترون بثلاث وآخرون قاموا بست وثلاثين واوتروا بثلاث، وهذا كله سائغ. فكيفما قام فى رمضان من هذه الوجوه فقد أحسن-
অর্থ: “তারাবীহর ব্যাপারে রাসূলের সা. পক্ষ থেকে কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি। হযরত উমর রা. যখন সাহাবাদেরকে উবাই বিন কা‘ব রা.-এর পিছনে তারাবীহর জন্য একত্রিত করেন তখন উবাই রা. তাদেরকে ২০ রাকাত তারাবীহ ও ৩ রাকাত বিতর পড়ান। পরবর্তীতে অনেকে ৩৯ রাকাত, অনেকে ৩৬ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। এর প্রত্যেকটিই বৈধ। এর যে কোনো একটি পড়লেই তারাবীহ আদায় হবে। (মাজমুআতুল ফাতাওয়া : ২২/৪৯৫-দারুল হাদীস)
সুতরাং বুঝা যায় যে, ইবনে তাইমিয়া র.-এর মতে তারাবীহর নামায বিশ রাকাতের অধিক বৈধ হলেও বিশের কমে ৮ রাকাত তারাবীর কোনো নযীর নেই।
হারামাইনের চৌদ্দ শ’ বছরের তারাবীহর ইতিহাস
আরববিশ্বের প্রখ্যাত আলেম মদীনার শরয়ী আদালতের বিচারপতি, মসজিদে নববীর দীর্ঘকালের স্বনামধন্য উস্তাদ শাইখ আতিয়্যা সালেম র. এ বিষয়ে “التروايح من اكثر الف عام” নামে একটি তথ্যবহুল বই লিখেছেন। এতে তিনি মসজিদে নববীর তারাবীহর ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, সুদীর্ঘ (প্রায়) দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে মসজিদে নববীতে ২০ রাকাতের কম তারাবীহ পড়া হয়নি। সাহাবা ও তাবেয়ী ২০ রাকাত পড়েছেন। ২য় ও ৩য় শতাব্দীতে কিছু অতি উৎসাহী লোক ৩৬ রাকাত পড়েছেন। এরপর চতুর্থ শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত মদীনাতে ২০ রাকাত তারাবীহর নামায পড়া হচ্ছে।
قال الشيخ عطية سالم رح: مضت المائة الثانية والتراويح ست وثلاثون وثلاث وتر ودخلت المائة الثالثة وكان المظنون أن تظل ما هي عليه تسع وثلاثون بما فيه الوتر.
উপসংহারে তিনি বলেন, যখন এ দীর্ঘকালে উল্লেখযোগ্য এমন একজনও পাওয়া যায় না যিনি বলেছেন তারাবীহর নামাজ আট রাকাতের বেশি পড়া জায়েয নেই বা রাসূল সা.-এর মসজিদে কোনো এক দিন জামাতের সাথে আট রাকাত পড়া হয়েছে। তারপরও যারা আট রাকাতের উপর অটল আছেন এবং অন্যদের সেদিকে দাওয়াত দিচ্ছেন তাদেরকে শুধু এটুকু বলার আছে যে, ইসলামের প্রথম যুগ থেকে আজ পর্যন্ত পুরো মুসলিম উম্মাহর ধারাবাহিক আমলের বিরোধীতা করার চেয়ে অনুসরণ করাই অধিক শ্রেয়। (আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আম :পৃ.৪১-৪২-৪৭-৪৮-৬৫-১০৮-১০৯)

দ্বিতীয় অধ্যায়
তারাবীহ ৮ রাকাতের পক্ষের দলিল ও তার খণ্ডন
আমরা এ পর্যন্ত বিশ রাকাত তারাবীহর পক্ষে সবধরণের অত্যন্ত শক্তিশালী দলিল পেশ করলাম। অথচ লা-মাযহাবী বন্ধুরা এসব দলীলের বিরোধীতা করে বর্তমানে পুরো মুসলিম উম্মাহকে এক কঠিন পরিস্থিতিতে নিমজ্জিত করে রেখেছেন। আর তাদের মত মুমিনগণের অনুসৃত পথ থেকে যে সম্পূর্ণ বিচ্যুত তা পূর্বের আলোচনাতেই পরিষ্কার হয়ে গেছে।
আমরা এ অধ্যায়ে তাদের দাবীর পক্ষে দলিলগুলো যাচাই করে দেখবো। তবে তারপূর্বে ভূমিকা স্বরূপ একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন, তা হলো-
নবীজী স. কত রাকাত তারাবীহ পড়েছেন ?
রাসূল স. রমযানের রাতসমূহে কী পরিমাণ নামায আদায় করতেন এ নিয়ে হযরত আয়েশা রা. হতে দু’ধরণের বিবরণ পাওয়া যায়।
ক. রাসূল স. সারা বৎসরের তুলনায় রমযান মাসে খুব বেশী ইবাদত করতেন এবং অধিক পরিমাণে রাতে নামায পড়তেন। যেমন:
* মুসলিম শরীফের বর্ণনা-
قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: ্রكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ. (صحيح مسلم: رقم: ১১৭৫، باب الاجتهاد في العشر)
“নবী স. রমযানের শেষ দশকে ইবাদত বন্দেগীতে এত অধিক সময় মনোনিবেশ করতেন, যা বছরের অন্য কোনো সময়ে করতেন না।” (মুসলিম শরীফ: ১/৩৭২)
* বুখারী ও মুসলিম শরীফে আছে-
عن عائشة رضي الله تعالي عنها قالت كان رسول الله صلي الله عليه وسلم اذا دخل رمضان احي الليل وايقظ اهله وشد المئزر. (صحيح البخاري)
“আয়েশা রা. বলেন, রমযানের শেষ দশকে রাসূল স. নিজেও রাত জাগতেন আপন পরিবারকেও জাগাতেন এবং ইবাদত বন্দেগীর জন্য কোমর বেঁধে নিতেন।”
* হযরত আয়েশা বর্ণনা করেন-
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: ” كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ تَغَيَّرَ لَوْنُهُ، وَكَثُرَتْ صَلَاتُهُ، وَابْتَهَلَ فِي الدُّعَاءِ، وَأَشْفَقَ مِنْهُ. (شعب الايمان: رقم ৩৩৫৩، فضائل شهر رمضان)
“রমযান মাস আসলে নবী স. এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেতো, তিনি অধিক পরিমাণে নামায আদায় করতেন এবং কাকুতি-মিনতি ও অনুনয়-বিনয়ের সাথে খুব বেশী দোয়া করতেন এবং তাঁর তরে খোদাভীতিও বেড়ে যেতো” (শুয়াবুল ঈমান-নং৩৩৫৩)
এসব হাদীস দ্বারা বোঝা যায়, রমযানের রাত্রীকালিন নামায বছরের অন্যান্য রাত্রের তূলনায় অনেক বেশী ছিল। যদিও কত রাকাত তার কোন সংখ্যা এতে উল্লেখ নেই।
খ. পক্ষান্তরে হযরত আয়েশা রা. থেকেই অপর এক বর্ণনায় এর বিপরীত বক্তব্য পাওয়া যায়। যেমন-
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ؟ فَقَالَتْ: ্রمَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًاগ্ধ (صحيح البخاري: ১/১৫৪،২০১৩)
অর্থাৎ হযরত আবু সালামা র. আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞেস করলেন রমজান মাসে নবী স. এর নামাজ কী রূপ ছিল ? উত্তরে হযরত আয়েশা বলেন নবী স. রমযানে এবং রমযানের বাইরে কখনো ১১ রাকাতের বেশী পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত (এক নিয়তে) পড়তেন এতো দীর্ঘ ও সুন্দর নামায পড়তেন যার বিবরণ দেয়া প্রায় অসম্ভব। পূনরায় একইভাবে অতি দীর্ঘ ও সুন্দর করে চার রাকাত পড়তেন। অতপর তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (সহীহুল বুখারী:১/১৫৪)
এ হাদীস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, রমযানের রাতেও বছরের অন্যান্য রাতের মত ১১ এগার রাকাতই পড়তেন, এর বেশী পড়তেন না।
গ: মুসলিম শরীফে রয়েছে, আবু সালামা র. আয়েশা রা. কে রাসূল সা. এর নামায সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন-
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ، عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: ্রكَانَ يُصَلِّي ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي ثَمَانَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ يُوتِرُ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَرَكَعَ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَالْإِقَامَةِ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِগ্ধ.(صحيح مسلم: ১/২৫৪، رقم: ১২৬)
অর্থাৎ তিনি তের রাকাত নামাজ পড়তেন। (প্রথমে) আট রাকাত পড়তেন এরপর (তিন রাকাত) বিতর পড়তেন। এরপর দুই রাকাত নামায বসে পড়তেন। (মুসলিম:১/২৫৪)
এই হাদীসগুলো দ্বারা বুঝা গেল:
ক. নবী স. রমযানে অনেক বেশী নামাজ পড়তেন।
খ. সারা বছরও একই রকম নামায পড়তেন এবং তা এগার রাকাতই ছিল এর বেশী কখনো পড়তেন না।
গ. তের রাকাত পর্যন্ত পড়তেন।
এসব হাদীসকে বাহ্যিকভাবে পরষ্পরবিরোধী মনে হয়। অন্যদিকে উক্ত নামায তারাবীহ ছিল নাকি তাহাজ্জুদ ছিলো তার স্পষ্ট বিবরণ নেই। লা-মাযহাবীদের উক্তিমত যদি (খ) এর হাদীসটিকে তারাবীহই গণ্য করা হয় যদিও আসলে তা তাহাজ্জুদের নামায) তাহলে তারবীহর রাকাত সংখ্যা সহীহ হাদীসে আট রাকাতই প্রমাণ হবে। অথচ (ক) এর হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, রাকাতের কোন সংখ্যাই রাসূল স. থেকে নির্ধারিত ছিল না।
মোট কথা : হযরত আয়েশা রা. থেকে বিভিন্ন প্রকারের বর্ণনা পাওয়া যায়। এক বর্ণনানুযায়ী রাকাতের সংখ্যা অনির্ধারিত। অপর বর্ণনা মতে রাকাত সংখ্যা আট বা দশ (এগার বা তিন)। এসব কারণে রাসূল স. এর তারাবীহ সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উলামা থেকেও দু’ধরণের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। এক শ্রেণীর আলেম মনে করেন, নবী স. কত রাকাত তারাবীহ পড়েছেন এটা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। এদের মধ্যে রায়েছেন- ১. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, ২. আল্লামা তাজুদ্দিন সুবকী, ৩. জালালুদ্দীন সূয়ুতী, ৪. ইমাম শাফেয়ী, ৫. আল্লামা শাওকানী, ৬. নবাব সিদ্দিক হাসান খান প্রমুখ।
অপর শ্রেণীর উলামায়ে কিরামের মন্তব্য হচ্ছে নবী স. বিশ রাকাতই তারাবীহ পড়েছেন যা ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণিত হাদীসে বিধিত রয়েছে। এদের মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছেন ১) আল্লামা রাফেয়ী আশশাফেয়ী। ২) ইমাম তাহাবী আলহানাফী। ৩) আল্লামা কাযী খান। ৪) ইমাম শাহ আব্দুল আযীয র. প্রমুখ
যারা বিশ রাকাত তারাবীহ রাসূল স. থেকে নির্ধারিত এবং তিনি পড়িয়েছেন বলে মনে করেন তাদের দলিল আমরা ইতোপূর্বে প্রথম দলিল হাদীসে মারফু অধ্যায়ে স্ব-বিস্তারে পেশ করেছি।
যারা রাকাতের সংখ্যা রাসূল স. থেকে নির্ধারিত নেই বলে মন্তব্য করেন তাদের কয়েকটি বিবরণ এখানে পেশ করছি :
১. আহলে হাদীসের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ পুরুষ নবাব সিদ্দিক হাসান খান বলেন-
{إن صلاة التراويح سنة بأصلها لما ثبت أنه (ص) صلاها في ليالي ثم ترك شفقة علي الامة أن لاتجب علي العامة أو يحسبوها واجبة ولم يأت تعين العدد في الروايات الصحيحة المرفوعة ولكن يعلم من حديث كان رسول الله (ص) يجتهد في رمضان مالا يجتهد في غيره أن عددها كان كثيرا.} رواه مسلم.
অর্থাৎ তারাবীহর নামায মৌলিকভাবে সুন্নাত। কেননা হাদীসে প্রমাণ আছে যে নবী স. কয়েক রাত তারাবীহ পড়েছেন। অতপর এ আশঙ্কায় ছেড়ে দেন যে, উম্মতের উপর হয়তো ফরয হয়ে যাবে। কিংবা উম্মত সেটাকে ফরয ধারণা করে বসবে। তবে কোনো মারফু সহীহ হাদীসে তারাবীহর নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা বর্ণিত নেই। হ্যাঁ, মুসলিম শরীফের এক হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, রাকাত সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।
উল্লেখ্য, বুখারীতে হযরত আয়েশা রা. কর্তৃক বর্ণিত এগার রাকাতের হাদীস যদি তারাবীহর সাথে সম্পৃক্ত হতো সেটা কি সহীহ মারফু নয় ? তাহলে কীভাবে এ মন্তব্য করা হবে ? হ্যাঁ, তিনিও জানেন আয়েশা রা. এর হাদীসটি তাহাজ্জুদের; তারাবীর নয়।
২. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া র. বলেন-
{من ظن ان قيام رمضان فيه عدد معين موقط عن النبي (ص) لا يزيد ولا ينقص فقد اخطأ. (الانتقاض الرجيح: ৬৩)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি এই ধারণা করে যে, নবী স. রমযানে নির্দিষ্ট সংখ্যায় তারাবীহ পড়েছেন। কখনো কম বেশি করেননি, তাদের ধারণা ভুল।
৩. আল্লামা শাওকানী র. বলেন-
وَالْحَاصِلُ أَنَّ الَّذِي دَلَّتْ عَلَيْهِ أَحَادِيثُ الْبَابِ وَمَا يُشَابِهُهَا هُوَ مَشْرُوعِيَّةُ الْقِيَامِ فِي رَمَضَانَ، وَالصَّلَاةُ فِيهِ جَمَاعَةً وَفُرَادَى، فَقَصْرُ الصَّلَاةِ الْمُسَمَّاةِ بِالتَّرَاوِيحِ عَلَى عَدَدٍ مُعَيَّنٍ، وَتَخْصِيصُهَا بِقِرَاءَةٍ مَخْصُوصَةٍ لَمْ يَرِدْ بِهِ سُنَّةٌ.(نيل الاوطار: ৩/৬৬)
অর্থাৎ এ সম্পর্কীয় সবগুলো হাদীস মিলিয়ে দেখলে বুঝা যায় যে, রমযানের রাত্রি জাগরণ এবং নামায পড়া প্রমাণিত। এই নামায জামাতেও পড়া যায়, একাকীও পড়া যায়। সুতরাং নামাযকে নির্দিষ্ট সংখ্যা এবং নির্দিষ্ট সূরা কেরাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার ব্যাপারে কোনো (সহীহ) হাদীস পাওয়া যায়না। (নাইলুল আওতার- ৩/৬৬)
এখানে লা-মাযহাবীদের তিনজন আদর্শ পুরুষের মন্তব্য তুলে ধরলাম। এরা সবাই দ্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, তারাবীহ সম্পর্কে রাসূল স. থেকে সুনির্দিষ্ট কোন সংখ্যাই সহীহ হাদীসে বর্ণিত নেই। অন্যদিকে উপরোল্লিখিত মুসলিম শরীফের হাদীস দ্বারা বুঝাযায় যে, রাকাত সংখ্যা অনেক বেশী ছিলো। আবার বেশ কিছু ফকীহ ও মুহাদ্দিসের মন্তব্য হচ্ছে, তারাবীহর সংখ্যা বিশ রাকাত ছিলো। কিন্তু তারাবীহর সংখ্যা আট রাকাত ছিলো’ এ মন্তব্য কোথাও কেউ করতে দেখা যায়নি। হাজার বছর পর এসে আলবানী ও তার অনুসারী লা-মাযহাবীরা তাদের আদর্শ পুরুষ ইবনে তাইমিয়া, নবাব সিদ্দিক হাসান ও ইমাম শাওকানীর স্পষ্ট ঘোষণার বিরুদ্ধে রাকাতের সংখ্যা আট বলে দাবী করে বসলেন। প্রমাণস্বরূপ বুখারীতে বর্ণিত হযরত আয়েশা রা. কর্তৃক তাহাজ্জুদের হাদীসটি পেশ করলেন। বিচারের ভার পাঠকদের কাছে ছেড়ে দিলাম। বলুন! এতে প্রতীয়মান হয়না যে, তারবীহ আট রাকাত বলার মতামতটি নব আবি®কৃত ফিতনা। হাজার বছর যাবত কেউ একথা বলেননি, বুখারীতে বর্ণিত আয়েশা রা. এর হাদীসকে কেউ তারাবীহর হাদীসও বুঝেন নি। আল্লাহ তাদের সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন॥
লা-মাযহাবীদের আট রাকাতের দলিল
বিশ রাকাত তারাবীহর সবগুলো দলিলকে উপেক্ষা করে লা-মাযহাবীরা আহলে সুন্নাতের অনুসৃত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে আট রাকাতকেই সুন্নাত এবং এর বেশী পড়াকে বিদআত আখ্যা দিয়ে ফিৎনার সৃষ্টি করছেন। তাঁরা আট রাকাতে তারাবীহ সীমাবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে নিম্নোক্ত দলিল গুলো পেশ করে থাকেন-
১ নং দলিল :
উ¤মূল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. এর বর্ণনা-
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ، كَيْفَ كَانَتْ صَلَاةُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ؟ قَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ، وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلَاثًا، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ، فَقَالَ: ্রيَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ، وَلَا يَنَامُ قَلْبِيগ্ধ (صحيح مسلم: ১/২৫৪،رقم: ১২৫، باب صلاة الليل والوتر)
অর্থাৎ আবু সালামা হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞেস করলেন, রমযানে রাসূল স. এর নামায কীরূপ হতো ? তিনি বললেন- রমযান ও অন্য সময়ে তিনি এগার রাকাতের বেশী আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে চার রাকাত আদায় করতেন। এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে তুমি জিজ্ঞাসা করোনা। অতপর চার রাকাত আদায় করতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যে বিতির পড়ার পূর্বেই ঘুমিয়ে পড়েন ? তিনি বললেন- আয়েশা! আমার চোখ ঘুমায় তবে আমার হৃদয় জাগ্রত থাকে। (সহীহ মুসলিম:২৫৪)
এ হাদীসটি তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল। অথচ এ হাদীস তাহাজ্জুদ নামাযের ব্যাপারে এসেছে। তারা এর অপব্যাখ্যা করে তারাবীহর ব্যাপারে প্রয়োগ করেছে। আর এ প্রয়োগকে বৈধতা দেয়ার জন্য তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই নামাযের দুই নাম বলে প্রচার চালিয়েছে এবং বলে, যে নামাযটি এগার মাস যাবত তাহাজ্জুদ থাকে তা-ই রমযানে এসে তারাবীহ হয়ে যায়। বাহ্ কী চমৎকার কথা ! কিন্তু এ পর্যন্ত তারা তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ যে এক নামাযের দুই নাম এবং তাহাজ্জুদ আট রাকাতের বেশী পড়া যায়না তা সহীহ তো দূরের কথা কোনো যয়ীফ হাদীস দ্বারাও প্রমাণ করতে পারেনি। বাংলাদেশে উত্তর বঙ্গের এক বিশাল সমাবেশে তারা দুই লক্ষ টাকার পুরষ্কার ঘোষণা করেছেন। আমি তাদেরকে দশ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ দিয়েছি। আজ পর্যন্ত এর জবাব মিলেনি।
দলিলটি খণ্ডন
মূলত অনেকগুলো দলিল দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, আলোচ্য হাদীসটি তারাবীহ বিষয়ক নয়; বরং তাহাজ্জুদের সাথে সম্পৃক্ত। এর মমার্থ হচ্ছে, বিভিন্ন সহীহ হাদীসে এসেছে যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি যে, রাসূল স. রমযান মাসে ইবাদত ও নামাযে বেশি নিমগ্ন থাকতেন তাই সম্ভাবনা ছিলো রমযানে তাহাজ্জুদ নামাযের রাকাত সংখ্যা অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি হবে। এ কারণেই আবু সালামা শুধু রমযানের তাহাজ্জুদের অবস্থা সম্পর্কে হযরত আয়েশা রা. থেকে জানতে চাইলেন। তাই হযরত আয়েশা রা. জানিয়ে দিলেন যে, তাহাজ্জুদের রাকাত সংখ্যা রমযান মাসেও অন্যান্য মাসের মতো অপরিবর্তিত থাকতো। প্রশ্ন শুধু রমযানের ব্যাপারে থাকলেও উপরোক্ত কারণেই জবাবে (لا في رمضان ولافي غيره) রমযান ও গাইরে রমযানের বাক্যটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং হাদীসটি যে তাহাজ্জুদ সম্পর্কে তা সুস্পষ্ট।
এর প্রমাণ স্বয়ং হাদীসটি বর্ণনার ধরণেই বিদ্যমান। যেমন-
১Ñ এ হাদীসে ওই নামাযের কথাই বলা হয়েছে, যা রমযান ও অন্যান্য মাসে পড়া হতো। সর্বস্বীকৃত কথা হচ্ছে তারাবীহ একমাত্র রমযান মাসেই পড়া হয়ে থাকে; সব মাসে নয়। বুঝা গেলো এ নামাযটি তারাবীহ নয়; বরং তাহাজ্জুদ।
২Ñ এ নামাযের বিবরণে স্পষ্ট আছে أربعا)) চার রাকাত চার রাকাত করে পড়েছেন। মাও. মুবারকপুরী আহলে হাদীসের ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তিরমিযীর ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, এর অর্থ হচ্ছে এক সালামে চার রাকাত পড়া হয়েছিলো। বিতরের তিন রাকাতও এক সালামে পড়া হয়েছে। সবারই জানা কথা, তাহাজ্জুদ চার রাকাত করে যেমন পড়া যায়, দুই রাকাত করেও পড়া যায়। কিন্তু তারাবীহর নামায এক সালামে চার রাকাত পড়ার পক্ষে স্বয়ং আলবানী সাহেবও নন। কেউ এটাকে জায়েযও মনে করেন না। তাহলে প্রতীয়মান হলো, এ হাদীস তাহাজ্জুদের ব্যাপারে বর্ণিত।
৩. এ হাদীসে যে নামাযের কথা বলা হয়েছে তাতে রাসূল স. নামায শেষে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতেন এবং পরে ঘুম থেকে উঠে বিতর পড়তেন। অথচ তারাবীহর ক্ষেত্রে নামায শেষে ঘুমের পূর্বেই বিতর পড়া হয়ে থাকে অথবা বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে গেলে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে তাহাজ্জুদ তারপর বিতর পড়ার নিয়ম ছিলো, এখনো আছে। সুতরাং যে নামাযের পর ঘুমিয়ে অত:পর উঠে শুধু বিতর পড়া হয় তা একমাত্র তাহাজ্জুদ নামায হওয়া সম্ভব; তারাবীহ হওয়ার কোনো অবকাশ থাকে না। একথা বলারও সুযোগ নেই যে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই নামায। একটু পরেই আমরা আলোচনা করবো যে, এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন নামায।
৪. এ হাদীসে যে নামাযের কথা বলা হয়েছে তা হযরত আয়েশা রা.এর ঘরে একাকী নামায ছিলো। যা হাদীসের শেষাংশে হযরত আয়েশা রা.এর প্রশ্ন ও রাসূল স. এর উত্তর থেকে স্পষ্ট। আর বলা বাহুল্য, তাহাজ্জুদই নির্জনে একাকী পড়া হয়ে থাকে পক্ষান্তরে তারাবীহ তো জামাতের সাথে পড়া হয়।
৫. এ স্পষ্ট সহীহ হাদীসে আট রাকাতের নামাযটি যদি তারাবীহ হতো, তাহলে সাহাবায়ে কিরামের পক্ষে তারাবীহ বিশ রাকাত পড়া আদৌ সম্ভব ছিলো না। কেননা, সাহাবারা ছিলেন রাসূলের সুন্নাত ও আদর্শের প্রতি সবচেয়ে বেশী আসক্ত। এক একটি সুন্নাতের জন্য যারা প্রাণ উৎসর্গ করতে সর্বদা প্রস্তুত, তাদের পক্ষে এমন অকাট্য সুস্পষ্ট আট রাকাতের হাদীস থাকতে বিশ রাকাত পড়ার মতো দুঃসাহস কল্পনাও করা যায় না।
৬. স্বয়ং হযরত আয়েশা রা. যিনি এ হাদীসের বর্ণনাকারী, তিনিও হাদীসটিকে তারাবীহ বিষয়ক মনে করতেন না। অন্যথায় তার চোখের সামনে তারই হুজরার পাশে মসজিদে নববীতে চল্লিশ বছর যাবত বিশ রাকাত তারাবীহ পড়ে স্পষ্ট রাসূলের আদর্শবহির্ভূত কাজ সাহাবারা করবেন, আর তিনি চুপ করে তা মেনে নিবেন- কল্পনাও করা যায় না। এমন ধারণা স্বয়ং হযরত আয়েশা রা.এর সম্মানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করার নামান্তর।
৭. মুহাদ্দিসগণও এই হাদীসকে তারাবীহ নয় বরং তাহাজ্জুদের ক্ষেত্রেই মনে করতেন। এ কারণে ইমাম মুসলিম র., আবু দাউদ র., তিরমিযী র., নাসায়ী র., ইমাম মালেক র., দারমী র., আবু আওয়ামা র. ও ইবনে খুযায়মা র. প্রমুখ এদের কেউই এ হাদীসটিকে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে উল্লেখ করেননি। শুধু ইমাম বুখারী র. ও ইমাম মুহাম্মদ র. এ হাদীসকে তারাবীহর নামায বিষয়ক মনে করতেন বরং যথা সম্ভব তারা উভয় অধ্যায়ে হাদীসটি এনেছেন তাহাজ্জুদের নামায হিসেবে। তাহাজ্জুদ এবং তারাবীহর অধ্যায় এনেছেন একথা বুঝানোর জন্য যে রাতের নামায যেনো তারাবীহর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তাহাজ্জুদও যেনো পড়া হয়।
এতে প্রমাণ হলো মুহাদ্দিসগণও এ হাদীসকে তারাবীহ সংক্রান্ত বলে মেনে নেননি।
৮. বিশ্বের কোনো ফকীহও এ হাদীস থেকে তারাবীর নামায বুঝেনি। নচেৎ কোনো না কোনো ফকীহ এমন সুস্পষ্ট হাদীস দ্বারা তারাবী আট রাকাত বলে মত ব্যক্ত করতেন। অথচ তাদের কেউ তারাবীহ আট রাকাতের মত পোষণ করেননি। ইমাম তিরমিযী র. তার হাদীস গ্রন্থে প্রত্যেক মাসআলাতে ফকীহগণের মত উল্লেখ করে থাকেন। এটা সুনানে তিরমিযীর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তিনি একইভাবে তারাবীহর অধ্যায়ে রাকাতের সংখ্যার বিষয়ে বহু মত পেশ করেছেন। বিশ রাকাত থেকে সর্বোচ্চ ৪১রাকাতের মতও পেশ করেছেন। কিন্তু কোনো ফকীহ তারাবীহর নামায আট রাকাত বলে মনে করেন- এমন কোনো মতামত তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি অন্যত্রে বলেছেন, (كذلك قال الفقهاء وهم أعلم بمعاني الحديث) “এব্যাপারে ফকীহগণ অনুরূপ বলেছেন, আর হাদীসের মর্ম সম্পর্কে তারাই সর্বাধিক অবগত ছিলেন।”
প্রমাণ হলো, হাদীস সম্পর্কে সব চেয়ে অভিজ্ঞ উলামায়ে কিরামও আলোচ্য হাদীসকে তারাবীহ সংক্রান্ত বলে মেনে নেননি।
৯. আলবানী সাহেবদের কথামতো আলোচ্য হাদীসটি তারাবীহ সম্পর্কে হলে তাদেরই মান্যবর উলামা ইবনে তায়মিয়া র. আল্লামা শাওকানী র. এবং নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান র. তারাবীহর রাকাতের সংখ্যা সম্পর্কে কেন বললেন যে,
لم يأت تعيين العدد في الروايات الصحيحة المرفوعة، ولم تردبه سنة، فقد أخطأ.
“এ ব্যাপারে কোনো সহীহ হাদীস নেই, এমন ধারণা যে করবে সে ভুল করবে।” বলুন ! এ হাদীসটি বুখারীতে এসেছে এটা কি সহীহ না ? আসলে এরাও হাদীসটিকে তারাবীহ সংক্রান্ত মনে করতেন না।
মোটকথা, এসব দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, হযরত আয়েশা রা.-এর হাদীসটি তাহাজ্জুদ সম্পর্কে , তারাবীহ সম্পর্কে নয়। যদি তারাবীহ সম্পর্কে হতো তাহলে সাহাবায়ে কিরামের পক্ষে বিশ রাকাত পড়ার উপর ঐক্যমত হওয়া কিছুতেই সম্ভব ছিলো না। অনুরূপভাবে রাসুল স. থেকে বিশ রাকাতের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা না থাকলে তাও তাদের পক্ষে সম্ভব হতো না।
তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ সম্পূর্ণ ভিন্ন নামায
তারা এমনও বলে থাকেন- তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই নামাযের দুই নাম। গাইরে রমযানে যাকে তাহাজ্জুদ বলে, রমযানে তা তারাবীহ হয়ে যায়। (قيام الليل)কিয়ামুল লাইল ও (قيام رمضان) কিয়ামে রমযান এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং আয়েশা রা.-এর হাদীস তাহাজ্জুদের সাথে সম্পৃক্ত। আর তাহাজ্জুদই তারাবীহ।
অতএব, এ হাদীসকে তারাবীহরও বলা চলে, পড়তে হবে আট রাকাত। এর বেশী পড়া হবে বিদআত। এ সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট। তা হচ্ছে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই নামায হলে তা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণ করুন? কষ্মিনকালেও সক্ষম হবেন না। আর তাহাজ্জুদ আট রাকাতের বেশী পড়লে বিদআত হবে এ কথাও হাদীস দ্বারা প্রমাণ করা কখনো সম্ভব হবে না। কারণ সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে তাহাজ্জুদের জন্য কোনো নির্ধারিত রাকাত সংখ্যা নেই। দুই দুই রাকাত চার চার রাকাত করে যতো ইচ্ছা পড়া যাবে।
আর রাসূল স. ইরশাদ করেন-
اوتروا بخمس أو بسبع أو بتسع أو باحدي عشرة أوباكثر من ذلك .
তোমরা রাতের নামায (তাহাজ্জুদবিতর সহকারে) পাঁচ রাকাত পড়, সাত রাকাত পড়, নয় রাকাত পড়, এগারো রাকাত পড় কিংবা তার চেয়ে বেশী পড় (সবই সঠিক)। (বি. দ্র. সহীহ ইবনে হিব্বান, ২৪২৯, মুস্তাদরাক ১১৭৮)
হাদীসটি মুহাদ্দিসগণের নিকট সহীহ। (দেখুন আততালযীম ২-১৪ নাইলুন আওতার ৩/৪৩)
উপরন্তু আলোচ্য হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূল স. রাতের নামায এগারো রাকাত থেকে বেশী পড়তেন না। অন্যদিকে স্বয়ং হযরত আয়েশা রা.-এর বর্ণনাতেই পাওয়া যায়, রাসূল স. তাহাজ্জুদের নামায (ফজরের সুন্নাত ছাড়া ) বিতরসহ তেরো রাকাতও পড়েছেন। (সহীহ বুখারী হাদীস নং১১৬৪)
পূর্বে আমরা হাদীসটি উল্লেখ করেছি। অন্যান্য সহীহ হাদীসে তাহাজ্জুদের নামাযের সংখ্যা বিতরসহ সতেরো রাকাত এবং তদাধিকও পাওয়া যায়। (নাইলুল আওতার, শাওকানী)
এখন লা-মাযহাবীদের প্রতি জিজ্ঞাসা হলো, একদিকে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদকে এক নামায সাব্যস্ত করবেন, অপরদিকে তারাবীহ আট রাকাতের চেয়ে বেশী পড়াকে বিদআতও বলবেন, অথচ উপরোক্ত আলোচনায় দেখলেন যে, সহীহ হাদীসেই তাহাজ্জুদ বেশী পড়ারও প্রমাণ রয়েছে। তাহলে অবস্থাটা কী দাঁড়ালো। আপনারা হাদীসকে অমান্য করেও আহলে হাদীস, স্ববিরোধী কথা বলেও বড় পণ্ডিত? আসলে حفظت شيأ وغابت عنك الاشياء অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্কর। বড়দের মানার মেজায থাকলে এমনটি হয়না। অজ্ঞ হয়েও মুজতাহিদ সাজলে এমনই হয়।
তাহাজ্জুদ ও তারাবীহর মাঝে পার্থক্য
তথাকথিত আহলে হাদীসগণ দাবি করেন যে, তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ একই নামায। তাদের এদাবি ভুল। তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ আলাদা নামায। কারণ:-
১. তাহাজ্জুদের মাঝে ডাকাডাকি জায়েয নেই,কিন্তু তারাবীহতে জায়েয আছে।
২. তারাবীহর সময় হলো ঘুমানোর পূর্বে আর তাহাজ্জুদের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে উত্তম সময় হলো ঘুম থেকে উঠার পর।
৩. মুহাদ্দিসগণ তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ কে পৃথক পৃথক অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
৪. তাহাজ্জুদের নামায প্রথমে ফরয ছিলো তারপর ফরযের বিধান রহিত হয়ে গেছে। ফলে দ্বিতীয়বার ফরয হওয়ার সম্ভাবনা ছিলোনা। অথচ রাসুল সা. কিয়ামে রমযানের জামা‘আত নিয়মিত করেননি তা ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। এর দ্বারা বুঝা গেলো,তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ এক নয়।
৫. তাহাজ্জুদের বিধান কুরআনে আছে- (ক) ومن الليل فتهجد به نافلة لك. (সূরা বনী ইসরাঈল:৭৯) (খ)ياايها المزمل قم الليل الا قليلا …الخ (সূরা মুয্যাম্মিল : ১-৪)। আর তারাবীহর বিধান আছে হাদীসে। রাসূল সা. ইরশাদ করেন- (গ) وسننت لكم قيامه (নাসায়ী:১/৩০৮;৪/১৫৮)
৬. তাহাজ্জুদের হুকুম মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, আর তারাবীহর বিধান মদীনায়।
৭. হাদীসে তারাবীহর আলোচনা ‘কিয়ামে রমাযান’ আর তাহাজ্জুদের আলোচনা ‘কিয়ামূল লাইল’ নামে এসেছে। এটাও একটা দলিল যে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ এক নয়। কারণ তাহাজ্জুদ রমযানের সাথে খাস নয়।
৮. তাহাজ্জুদের নির্দিষ্ট রাকাত রাসূল স. থেকে বর্ণিত আছে অর্থাৎ বিতরসহ সর্বোচ্চ ১৩ রকাত আর সর্বনিম্ন ৭ রাকাত। অপরদিকে তারাবীহর ব্যাপারে গাইরে মুকাল্লিদরাও বলে থাকেন যে, এব্যাপারে রাসূল স. থেকে নির্দিষ্ট কোনো রাকাত প্রমাণিত নেই। (আহসানুল ফাতাওয়া:৩/৫৩১-৩২)
দ্বিতীয় দলিল:
حدثنا عبد الأعلى حدثنا يعقوب عن عيسى بن جارية حدثنا جابر بن عبد الله قال : جاء أبي بن كعب إلى رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال : يا رسول الله إن كان مني الليلة شيء ـ يعني في رمضان ـ قال : وما ذاك يا أبي ؟ قال : نسوة في داري قلن : إنا لا نقرأ القرآن فنصلي بصلاتك قال : فصليت بهن ثمان ركعات ثم أوترت قال…. (قيام الليل: رقم: ১৮০১)
অর্থাৎ উবাই বিন কা‘ব রা. রমযানে রাসূল স.এর কাছে এসে বললেন, “গত রাতে আমাকে ঘরের নারীরা বললো, আমরা তো কুরআন পড়তে পারিনা । তাই আমরা তোমার পেছনে নামায পড়বো। আমি তাদের নিয়ে আট রাকাত ও বিতর নামায পড়লাম।” রাসূল স. কিছু বললেন না। (কিয়ামূল লাইল: হা: নং ১৮০১)
আট রাকাত তারাবীহর
দ্বিতীয় হাদীসের পর্যালোচনা
এ হাদীসটি নিম্নে বর্ণিত কিতাব সমূহে এসেছে-
১. মুসনাদে আবী ইয়া’লা। ২. কিয়ামূল লাইল লিল মারওয়াযী পৃ:৯০, মুজামুল আওসাত লিত তাবারানী (৩৭৩১), যাওয়ায়েদে মুসনাদে আহমদ (৫/১১৫ হাদীস নং ২১৪১৫), মাজমাউয যাওয়ায়িদ লিল হায়ছামী ২/১৭৯। এরা সকলেই একই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
১ নং জবাব:
হাদীস বিশারদদের বিবেচনায় এ হাদীসটি এতই দুর্বল যা কোনো শরয়ী মাসআলার ক্ষেত্রে প্রমাণ স্বরূপ পেশ করার অবকাশ নেই।
এর কারণ নিম্নরূপ-
* এহাদীসের সনদে “عيسي بن جارية”ঈসা বিন জারিয়া আছেন, তিনি মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে ‘যয়ীফ’। তার সূত্রে বর্ণিত হাদীস প্রমাণযোগ্য নয়।
* তার সম্পর্কে ইমাম ইবনে মাঈন র. বলেন “ليس حديثه بذات” তার হাদীস মজবুত নয়। অন্য বর্ণনায় বলেছেন “ليس شيئ” তিনি কোন বস্তুই নন। অপর বর্ণনায় আছে “عنده مناكير” তার নিকট অনেক আপত্তিকর হাদীস আছে।
* ইমাম নাসায়ী র. বলেন “منكر الحديث” তিনি আপত্তিকর হাদীস বর্ণনাকারী। অপর বর্ণনায় আছে “متروك الحديث” তার বর্ণিত হাদীস বর্জনীয়।
* ইমাম আবু দাউদ র. বলেছেন তিনি “منكر الحديث” তার বর্ণনা অগ্রহণযোগ্য।
* ইমাম আদী র. বলেছেন- “احاديثه غير محفوظة” তার হাদীস সঠিক ভাবে সংরক্ষিত নয়।
* ইমাম উকাইল র. তাকে যয়ীফ রাবীদের দলভূত করেছেন।
* ইমাম ইবনুল জাওযী র. তাকে ‘যয়ীফ’ আখ্যা দিয়েছেন (তাহযীবুল কামাল ১৪/৫৩৩,মিযানুল ইতিদাল;১/৩১১)
মোট কথা: ঈসা ইবনে জারিয়া একজন ‘যয়ীফ’ রাবী। যার বর্ণনা দলিল বা সমর্থক দলিল কোন ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুহাদ্দিসদের নিকট তিনি অনেক সময় ভুল ও আপত্তিকর কথাকে হাদীস স্বরূপ ভুলবশত: বা ইচ্ছাকৃতভাবে বর্ণনা করেন একারণে অনেকে তাকে “منكر الحديث” বলেছেন।
২ নং জবাব –
এহাদীসের মূলভাষ্য ভাল করে পড়ে দেখুন, কোথাও তারাবীহ শব্দ উল্লেখ নেই। হাদীসের ভাষা তারাবীর জন্য “কিয়ামূল লাইল” বা “কিয়ামে রমযান” ব্যবহৃত হয়েছে, এখানে এ জাতীয় কোন শব্দ নেই।
সুতরাং এহাদীস দ্বারা আট রাকাত তারাবীহর প্রমাণ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং এ বর্ণনায় বলা হয়েছে যে এটি রমযানের এক রাতের ঘটনা। তাহাজ্জুদের নামায জামাতের সাথে হতোনা, এক রাতে তিনি ঘরের মহিলাদের অনুরোধে আট রাকাত পড়িয়ে দিয়েছেন। তাই রাসূল স. এর নিকট তা প্রকাশ করেছেন। সব আলামত দ্বারা বুঝা যায় হযরত উবাই রা. মহিলাদের নিয়ে যে আট রাকাত পড়িয়েছেন তা তাহাজ্জুদ হওয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
৩ নং জবাব-
অনুসন্ধানে দেখা যায় উপরোক্ত হাদীসটি তারাবীহ সংক্রান্ত হওয়াতো দূরের কথা রমযানের ঘটনা সম্পর্কেও পরিস্কার নয়। কারণ হাদীসটি যাওয়ায়েদ, মুসনাদে আহমদ এবং আওসাতে তাবারানীতে বর্ণিত হাদীসে রমযান শব্দ থাকলেও মূল হাদীসে রমযান শব্দ নেই; বরং রাবীর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা স্বরূপ “يعني في رمضان” এসেছে। এটা মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় (مدرج) মুদ্রাজ। যা সম্ভবত ঈসা বিন জারিয়া যিনি অনেক সময় বর্ণনায় ভুল করেন তার বা অন্য কোন রাবীর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা স্বরূপ সংযোগ হয়েছে। কিয়ামূল লাইল কিতাবে সরাসরি রমযান থাকলেও উপরোক্ত কেউ তা মূল হাদীসের অংশ মনে করে বর্ণনা করেননি। সুতরাং যদি ঘটনাটা রমযানেরই না হয় (যা পূর্বে আলোচনায় অনুমান হলো) তাহলে তারাবীহর নামায আট রাকাতের দলিল স্বরূপ পেশ করা ব্যর্থ অপচেষ্টা বৈ কী।
৪. নং জবাব-
যদি ধরে নেয়া হয় যে, উক্ত হাদীসটি সহীহ। তাহলে বিরাট প্রশ্ন জাগে যে, উবাই রা. তারাবীহ আট রাকাত পড়ে রাসূল স. থেকে স্বীকৃতি নিলেন অথচ তিনি হযরত উমর রা. এর যুগে বিনা কথায় জামাতের সাথে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতে গেলেন কেন ? তিনি তো তখন এ হাদীস দ্বারা হযরত উমর রা.সহ সকল সাহাবীর সামনে আট রাকাত তারাবীহর পক্ষেই প্রমাণ পেশ করার কথা ছিল। হাদীসের ভাণ্ডার খুলে দেখুন, এমন কোনো ঘটনা কি কেউ দেখাতে পারবে ? তাছাড়া হাদীসটির বর্ণনা হযরত জাবের রা.ও করেছেন। তিনি হযরত উমর রা. যুগে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন কেন ? তিনিও তো এহাদীস দিয়ে আট রাকাতের স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে পারতেন; কিন্তু তিনি তা করলেন না কেন ?
আসল কথা : এহাদীসের রাবী ‘ঈসা বিন জারিয়া’ তিনি স্বরণশক্তি দুর্বলতার কারণেই বিকৃত বিবরণ বর্ণনা করে হযরত উবাই বিন কা‘ব এর দিকে সম্বোধন করে দিয়েছেন।
আলোচ্য হাদীসটি ‘কিয়ামূল লাইল’ কিতাবের সনদে আরেকজন রাবী আছেন (محمد بن حميد) মুহাম্মদ বিন হুমায়দ রাযী র.।
* ইমাম বুখারী র. তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, فيه نظر তার ব্যাপারে আপত্তি আছে।
* হাফেজ ইবনে হাজার র. বলেছেন- তিনি حافظ ضعيف দুর্বল হাফেজে হাদীস।
* ইমাম যাহাবী র. তার কাশেফ গ্রন্থে বলেছেন- اولي تركه তাকে বর্জন করাই শ্রেয়। সম্ভবত এ দুর্বল রাবীর কারণেই কিয়ামূল লাইল গ্রন্থে হাদীসটি মূল ভাষ্যে رمضان রমযান শব্দটিও যোগ হয়েছে। নচেৎ অন্যান্য বর্ণনায় রমযান শব্দটি হাদীসে নেই। থাকলেও ব্যাখ্যা স্বরূপ এসেছে।
এসব কারণে এধরণের একটি মুনকার এবং অতি দুর্বল হাদীস দ্বারা উপরোক্ত অকাট্য বহু দলিল দ্বারা প্রমাণিত বিশ রাকাত তারাবীহর বিরোধীতা করা এক মাত্র শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ লোকদের পক্ষেই সম্ভব।
আট রাকাত তারাবী হওয়ার
তৃতীয় দলিল
হযরত জাবের রা.এর বর্ণনা-
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ لَيْلَةً ثَمَانِ رَكَعَاتٍ وَالْوِتْرَ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْقَابِلَةِ اجْتَمَعْنَا فِي الْمَسْجِدِ وَرَجَوْنَا أَنْ يَخْرُجَ إِلَيْنَا فَلَمْ نَزَلْ فِيهِ حَتَّى أَصْبَحْنَا قَالَ: ্রإِنِّي كَرِهْتُ وَخَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيْكُمُ الْوِتْرُগ্ধ (مختصر قيام الليل: ص৯০)
রাসূল স. আমাদেরকে নিয়ে রমযানে আট রাকাত ও বিতর পড়েছেন। পরে রাতে আমরা মসজিদে সমবেত হলাম এবং আশা করলাম তিনি (স.) বের হয়ে আমাদের নিকট আসবেন; কিন্তু সকাল পর্যন্ত আমরা মসজিদে (অপেক্ষমান) থাকলাম (তিনি আর বের হলেন না)। (কিয়ামূল লাইল পৃ:৯০)
হাদীসটির জবাব-
এ হাদীসটিও পূর্বের হাদীসের ন্যায় নিতান্ত ‘যয়ীফ’ অপ্রমাণযোগ্য। কারণ:
১. এ হাদীসের সনদেও ওই পূর্বোক্ত সমালোচিত রাবী ‘ঈসা ইবনে জারিয়া’ আছেন। যার ব্যাপারে পূর্বের হাদীসে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি ‘মুনকারুল হাদীস’ ‘মাতরুক’ তার অধিক বর্ণনাই ‘যয়ীফ’।
২. হাদীসটি সহীহ বলে মেনে নেয়া হলেও এ সম্ভাবনা প্রবল যে, রাসূল স. আট রাকাত সকলকে নিয়ে পড়েছেন। মানুষের ভিড় লক্ষ করে ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘরে প্রবেশ করেন এবং অবশিষ্ট নামায ঘরেই একাকী আদায় করেন। এর স্বপক্ষে দলিল মুসলিম শরীফের সহীহ হাদীস।
মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে- একরাতে রাসূল স. সকলকে নিয়ে নামায পড়েছিলেন। মানুষের আগমনের অবস্থা দেখে জামাত ছেড়ে ঘরে চলে যান। অত:পর রাবী বলেন- ثم صلي صلاة لم يصلها عندنا. অর্থাৎ রাসূল স. এরপর হুজরায় গিয়ে একাকী নামায পড়েছেন। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং : ১১০৪)
সুতরাং এ রাতে সকলকে নিয়ে আট রাকাত পড়া এবং অবশিষ্ট নামায হুজরাতে গিয়ে একাকী আদায় করা প্রমাণ করেনা যে, তারাবীহ শুধু আট রাকাত।
৩. ঈসা বিন জারিয়া সূত্রে বর্ণিত হযরত জাবের রা. এর হাদীসটি রাসূল স. যে কয়েক রাতে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়িয়েছেন তারই বিবরণ। আর একাধিক সহীহ হাদীসে বিভিন্ন সাহাবী থেকে ওই রাতগুলোর তারাবীহর বিবরণ সংকলন হয়েছে। কোন একটি রেওয়ায়েতে নামাযের সংখ্যার উল্লেখ নেই। আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, ইমাম ইবনে তাইমিয়াসহ অনেকে একারণেই বলেছেন, যারা মনে করবে রাসূল স. থেকে নির্দিষ্ট কোন তারাবীহর সংখ্যা বর্ণিত হয়েছে তারা ভুল করবে।
সুতরাং কোন সহীহ হাদীসে রাকাত সংখ্যার উল্লেখ নেই। অথচ জাবের রা. এর এ হাদীসে আট রাকাতের কথা উল্লেখ আছে। আর হাদীসটি ঈসা বিন জারিয়ার কারণে মুনকার ও অধিক দুর্বল। এমন দুর্বল হাদীস সহীহ একাধিক হাদীসের বিপরীত হওয়ায় অগ্রহণযোগ্য ও প্রমাণযোগ্য নয়।
* এমর্মে যেসব সহীহ হাদীস একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নে দেয়া হলো-
ক. হযরত আয়েশা রা.এর হাদীস (দ্র: বুখারী:৯২৪ ও মুসলিম:৭৬১) খ. হযরত আনাস রা.এর হাদীস (মুসলিম:১১০৪) গ. হযরত যায়েদ বিন সাবিত রা.এর হাদীস (দ্র: বুখারী: ৭৩১ও মুসলিম:৭৮১) ঘ. হযরত আবু যর রা. এর হাদীস (দ্র: আবু দাউদ ১৩৭৫ ও তিরমিযী:৮০৬) ঙ. নুমান বিন বাশীর রা.এর হাদীস (দ্র: নাসায়ী:১৬০৬)।
চতুর্থ দলিল
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّهُ قَالَ أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً
অর্থ: সায়েব বিন ইয়াযীদ র. বলেন, উমর রা. উবাই ও তামিম দারী রা.কে লোকদেরকে নিয়ে এগার রাকাত নামায পড়তে আদেশ দিলেন । (মুওয়াত্তা মালেক: ৯৮ হা: নং ৩৭৯)
জবাব-১
এই হাদীসটি একটি ভুল বিবরণ। একজন রাবী হযরত উমর রা. এর যুগের তারাবীহর বিবরণ দিতে গিয়ে ভুলক্রমে বিশ রাকাতের স্থলে এগার রাকাত উল্লেখ করেছেন। অথচ হযরত উমরের যুগে যে তারাবীহ বিশ রাকাত হতো এতে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। পূর্বে আমরা বহু সহীহ হাদীস, ইজমা ও ব্যাপক কর্মধারার মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছি। ইমাম ইবনে আব্দিল বার র.সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, এটা বর্ণনাকারীর ভুল। ইবনে আব্দিল বারের মন্তব্য নিম্নরূপ-
قال ابن عبد البر: روي مالك في هذا الحديث احد وعشرون وهو صحيح ولا اعلم احدا قال فيه احدي عشرة الي مالكا ويحتمل ان يكون ذلك اولا ثم خفف عنه طول القيام ونقلهم الي احدي وعشرين الا ان الاغلب عندي ان قوله احدي عشرة وهم. (اعلاء السنن: ৭/৪৮)
অর্থাৎ- ইমাম মালেক র. এই হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে কখনো ১১ রাকাত কখনো ২১ রাকাতের কথা বলেছেন এবং ২১ রাকাতের কথাটিই সহীহ ও সঠিক। কারণ, এগার রাকাতের কথা ইমাম মালেক র. ছাড়া আমার জানামতে অন্য কেউ বলেন নি। তবে এসম্ভাবনা আছে যে, হযরত উমর রা. এর যুগে প্রথমে এগার রাকাত ছিলো, পরে দীর্ঘ কেরাত সংক্ষেপ করে রাকাত বৃদ্ধি করে একুশ রাকাত করা হয়েছে। তবে আমার প্রবল ধারণা এগার রাকাতের কথাটি বর্ণনাগত ভুল।
সুতরাং এ হাদীসের মতনে اضطرابরয়েছে। এর অন্য সনদে তের ও একুশ রাকাত বর্ণিত আছে। তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। (ইলাউস সুনান: ৭/৪৮)
জবাব-২
ইতোপূর্বে হযরত উমর রা.এর নির্দেশ সম্পর্কে অনেক সহীহ হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে বিশ রাকাতের কথা আছে। তাই এটি আমলযোগ্য নয়।
জবাব-৩
ইমাম মালেক র. নিজেও এর উপর আমল করেননি।
জবাব-৪
মুয়াত্তা মালেকেই বিশ রাকাতের রেওয়ায়েত আছে। (পৃ: ৪০)
জবাব-৫
রাবী সায়েব বিন ইয়াযিদ থেকেই বিশ রাকাতের বর্ণনা রয়েছে। (বায়হাকী: ১/২৬৭ও ২/৪৯৬)
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, লা-মাযহাবীদের পেশ করা দলিলগুলো অগ্রহণযোগ্য। তাই বিশ রাকাত তারাবীহই আদায় করতে হবে।
সর্বশেষ কথা
লা-মাযহাবীদের দলিলের সংখ্যা উপরোক্ত চারটি। তন্মধ্যে একটি হাদীস সহীহ যা মূলত তাহাজ্জুদের বর্ণনা সম্বলিত। আর এটাকে তারা তারাবীহর ক্ষেত্রে প্রমাণ করা ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। আর দু‘টি মুনকার ও অতি দুর্বল হাদীস, যা প্রমাণযোগ্যই নয়। মূল বিষয়েও অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে। আর সর্বশেষ হাদীসটি একজন রাবীর ভুল বিবরণ। এধরণের ভিত্তিহীন দুর্বল হাদীস এবং একটি সহীহ হাদীসের অপব্যাখ্যা দ্বারা অকাট্য বহু সহীহ হাদীস এবং সাহাবাদের ইজমা, সুন্নাতে খুলাফায়ে রাশেদাসহ তাওয়াতুরে আমলীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিশ রাকাতের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে তাদের এ কর্মকাণ্ড গোটা মুসলিম মিল্লাতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শামিল।
ক্স মাহে রমযানে আল্লাহ তা‘আলার অসীম রহমত ও বরকত বান্দার জন্য অবধারিত। এমাসে এক রাকাত সুন্নাতের গুরুত্ব ফরযের সমতুল্য। এক রাকাত ফরযের সাওয়াব কমপক্ষে সত্তর গুন হয়ে থাকে। অত:পর প্রত্যেকের ইখলাস ও খুশু-খুযু অনুযায়ী তার সাওয়াব সাত’শ গুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একারণে হাদীসে এসেছে, রমযান এলে রাসূল স.এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেতো। তিনি অধিক পরিমাণে নামায আদায় করতেন। (বায়হাকী) রমযানের শেষ দশকে নিজেও রাত জাগতেন, আপন পরিবারকেও জাগাতেন। অধিক পরিমাণে ইবাদত বন্দেগী করতেন। (বুখারী,মুসলিম) কোন মুসলমানের পক্ষে এ অমূল্য সময়ে দলগত বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়ে এ সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া মোটেই সমীচীন হবেনা।
ক্স পবিত্র মক্কা মদীনায় হারামাইন শরীফের হাজার বছরের ইতিহাসে কখনো কি বিশ রাকাতের কম তারাবীহ পড়া হয়েছিল? কোন সাহাবী, খলীফায়ে রাশেদ কি কখনো বিশ রাকাতের কম পড়েছিলেন ? তারা কি কেউ হযরত আয়েশা রা.কর্তৃক বর্ণিত তাহাজ্জুদের হাদীসটিকে তারাবীহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধারণা করেছিলেন ?
তাহলে ভিত্তিহীন কিংবা অপ্রাসঙ্গিক কয়েকটি বর্ণনা দ্বারা যারা মনগড়াভাবে উম্মতের অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিক কর্মধারার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, আট রাকাতের নামে এ পবিত্র মাসের সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করার জন্য মসজিদে মসজিদে ফিৎনা সৃষ্টি করছে, তাদের পাতানো ষড়যন্ত্রের জালে পড়া কি মুসলমানের জন্য সঠিক হবে ?
তারাবীহতে কুরআন খতম করার হুকুম
তারাবীহর নামাযে একবার কুরআন খতম করা সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা। তাই মানুষের অলসতার কারণে কুরআন খতম করা থেকে বিরত থাকা যাবে না মর্মেই অধিকাংশ ফুকাহার মত। (দুররে মুখতার ও শামী : ২/৪৯৭)
অনেক ফকীহর মতে (আমাদের যুগে) মুসল্লিদের অবস্থা বিবেচনা করে কেরাত পড়া উত্তম। তাই ইমাম ওই পরিমাণ কেরাত পড়বে, যাতে মুসল্লিরা বিরক্ত না হয়, এবং তাদের জন্য কষ্টকর না হয়। কারণ দীর্ঘ কেরাত থেকে জামাআতের লোকসংখ্যা বাড়ানো উত্তম। (বাদায়ে: ১/৬৪৬)
আল্লামা তাকী উসমানী দা.বা. লিখেছেন, এটা একদম অপারগ অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমাদের যুগে এমন অপারগতা নেই, যার ফলে এই সুন্নাত বর্জন করতে হবে। বরং বর্তমানে হাফেজের সংখ্যাও অনেক আর সব মসজিদেই কুরআন খতম করা হয়। মুসল্লীরাও আগ্রহ-উদ্দীপনার সাথে খতমে তারাবীহতে অংশগ্রহণ করে কুরআন শুনে থাকে। (ফাতাওয়ায়ে উসমানী: ১/৪৬৭)
অনেকে বলেন, ২৭তম রাতে খতম করা মুস্তাহাব । কারণ এতে শবে কদর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। (শামী: ২/৪৯৭) এমনিভাবে অন্য বেজোড় রাতেও খতম করা যাবে। আবু হানীফা র. থেকে বর্ণিত- প্রতি রাকাতে দশ আয়াত করে পড়বে। এতে কুরআনও খতম হবে যা সুন্নাত, আবার লোকদের জন্য কষ্টকরও হবে না। (শামী: ২/৪৯৭) খতম শেষ হওয়ার পর বাকি রাতগুলোতেও তারাবীহ পড়তে হবে। এতে যে কোনো কেরাত পড়া যাবে। (ফাতহুল কদীর : ১/৬৪৬, বাদায়ে: ১/৬৪৬)
তারাবীহর নামাযের সময়
অধিকাংশ ফকীহর মতে তারাবীহর সময় হলো ইশার পরে বিতরের আগে ফজর পর্যন্ত। এটা সাহাবাদের আমল দ্বারা প্রমাণিত। ইশা ও বিতরের পরে যদি তারাবীহ পড়া হয় তাহলে সহীহ মতানুসারে তারাবীহ হয়ে যাবে। যদি মাগরিবের পরে ইশার আগে তারাবীহ আদায় করা হয় তাহলে অধিকাংশ ফকীহর মতে তা যথেষ্ট হবে না। অবশ্য কিছু হানাফী আলেমের মতে তা যথেষ্ট হবে। হানাফীদের মতে তারাবীহ রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বা অর্ধেক পর্যন্ত বিলম্ব করা মুস্তাহাব। (শামী: ২/৪৯৩-৯৪ যাকারিয়া, মওসুআতুল ফিকহিয়্যা: ২৭/১৪৭-৪৮)
তারাবীহর কাযা
যদি কারো তারাবীহ ছুটে যায় তাহলে সহীহ মতানুসারে তা কাযা করতে হবে না। তবে কেউ যদি কাযা আদায় করে, তাহলে তা নফল হবে তারাবীহ হবে না। অনেকের মতে, কেউ যদি সময়ের মধ্যে তারাবীহ পড়তে না পারে তাহলে সে একাকী তা কাযা করবে, আরেক তারাবীহর সময় হওয়ার আগে। কেউ কেউ বলেন, রমযান মাস অতিবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কাযা করতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার: ২/৪৯৫, মওসুআ: ২৭/১৪৯)
তারবীহা (চার রাকাত পরপর বিশ্রাম)
তারবীহা তথা চার রাকাত পরপর বিশ্রাম করা মুস্তাহাব। অনেকে এটাকে সুন্নাতও বলেছেন। চার রাকাত পড়তে যতটুকু সময় লাগে ততক্ষণ বিশ্রাম করা উত্তম। চুপ থাকা, তেলাওয়াত করা, তাসবীহ পাঠ বা একাকী নামাযও পড়া যাবে। উচ্চস্বরে কিছু পড়া যাবে না। সম্মিলিতভাবে দুআ করা যাবে না। এ সময়ের জন্য কোনো দুআকে নির্দিষ্ট করা যাবে না। কোনো দুআর উপর বারংবার পড়তে বলা বা পীড়াপীড়ি করাও উচিত নয়। সবাই নিজের ইচ্ছামতো আমল বা দুআ করবে। (দুররে মুখতার ও শামী : ২/৪৯৬-৯৭, বাদায়ে: ১/৬৪৮, মওসুআ: ২৭/১৪৪)
নফল নামাযের জামাআত
তারাবীহ, ইস্তিসকা ও কুসুফের নামাযের জন্য জামাআত বৈধ। অন্যান্য নফল নামাযের জামাআত যদি تداعي ডাকাডাকির সাথে হয় তাহলে তা মাকরুহে তাহরীমী। চাই এনামায রমযানে পড়া হোক বা অন্য সময়ে হোক। এটাই ফুকাহাদের অভিমত। বাদায়েতে আছে-
اذا صلوا التراويح ثم ارادواأن يصلوها ثانيا يصلون فرادي لا بجماعة لان الثانية تطوع مطلق، والتطوع المطلق بجماعة مكروه.
অর্থাৎ তারাবীহর নামায পড়ার পর আবার পড়তে চাইলে একাকী পড়তে হবে। জামাআতের সাথে নয়। কারণ দ্বিতীয়টি নফল আর নফল নামায জামাআতের সাথে পড়া মাকরুহ। (খ.১ পৃ.২৪০) বাহরুর রায়েকে আছে-
ولوصلوا التراويح ثم ارادوا أن يصلوها ثانيا يصلون فرادي.
তারাবীহর নামায কেউ দ্বিতীয়বার পড়তে চাইলে সে যেন একাকী পড়ে।
‘কিয়ামে রমযান’-এর মিসদাক
অনেকের মতে, হাদীসে উল্লিখিত কিয়ামে রমযান দ্বারা তারাবীহ উদ্দেশ্য নয়; বরং যে কোনো নফল নামাযই কিয়ামে রমযান। সুতরাং রমযানে নফল নামাযের জামাআত করা যাবে। এই মতটি সঠিক নয়। ফুকাহা ও মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় কিয়ামে রমযান দ্বারা তারাবীহই উদ্দেশ্য।
খতম তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় গ্রহণ করা
বর্তমান যুগে তারাবীহতে কুরআন খতম করে বিনিময় নেওয়ার গর্হিত প্রথা চালু হয়েছে। হাফেজ সাহেবরা কুরআনকে উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে। নিজেদের এলাকা ছেড়ে যেখানে টাকা বেশি পাওয়া যায় সেখানে চলে যায়। যা অত্যন্ত দু:খজনক।
যারা কুরআনকে উপার্জনের মাধ্যম বানায় তাদের ব্যাপারে কুরআন-হাদীসে কঠোর নিন্দা ও কঠিন হুঁশিয়ারি এসেছে। এক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো- আল্লাহর আনুগত্য বা ইবাদতমূলক কোনো কাজের পারিশ্রমিক গ্রহণ করা যাবে না। তবে দীনী স্বার্থে পরবর্তী ফকীহগণ যে গুলোর উপর দীন টিকে থাকা নির্ভর করে এমন কয়েকটি বিষয়কে এর ব্যতিক্রম সাব্যস্ত করেছেন। যেমন-তা‘লীম তথা দীনী শিক্ষা প্রদান, ইমামতি,আযান দেওয়া প্রভৃতি। কারণ পারিশ্রমিক ছাড়া কারো পক্ষে বেশিদিন এসব কাজে লেগে থাকা সম্ভব নয়। ফলে সব সময় এসব কাজের জন্য লোক পাওয়া যাবে না। এতে দীনের অনেক বড় ক্ষতি হবে। তাই প্রয়োজনের ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক গ্রহণকে বৈধ বলা হয়েছে। (দুররে মুখতার:৯/৮৬)
কিন্তু যেখানে এমন শরয়ী প্রয়োজন নেই সেখানে পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ হবে না। যেমন কুরআন তেলাওয়াত করে এবং ঈসালে সওয়াব করে টাকা নেওয়াকে ফুকাহারা নাজায়েয বলেছেন। (শামী:৯/৭৭-৭৮)
তেমনি তারাবীহতে কুরআন খতম করা দীনী কোনো প্রয়োজন নয়। এটি সুন্নত মাত্র, তাই কোথাও যদি হাফেয পাওয়া না যায়, সেখানে সূরা তারাবীহ পড়ে নিলেই যথেষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং শুধু কুরআন খতমের জন্য কুরআন বিক্রি করার অনুমতি ও বৈধতা কীভাবে হতে পারে ?
أجرة علي الطاعة (ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ)-এ মাসআলার উপর ভিত্তি করে বর্তমান সময়ের মুফতীগণ খতম তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় গ্রহণ ও বিনিময় প্রদানকে নাজায়েয বলেছেন। চাই এটা চুক্তিভিত্তিক হোক বা প্রচলন হিসাবে হোক। উভয় অবস্থায় হারাম। তাই কোথাও ফী-সাবিলিল্লাহ পড়ানোর মতো হাফেজ পাওয়া না গেলে সূরা তারাবীহ পড়ে নিবে।
কোনো হাফেজ যদি স্বেচ্ছায় ফী-সাবিলিল্লাহ পড়ায় আর তার টাকা নেওয়ার ইচ্ছা না থাকে, তারপরও কোনো মুসল্লি হাদিয়াস্বরূপ তাকে কিছু দেয় তাহলে তা গ্রহণ করার অবকাশ আছে। তবে শর্ত হলো- সেখানে এধরণের কিছু দেওয়ার প্রথা না থাকতে হবে।
খতম তারাবীহর বিনিময় নাজায়েয হওয়ার দলিল
১. কুরআন:- ولاتشتروا بآياتي ثمنا قليلا.
‘তোমরা আমার আয়াতকে (পার্থিব) সামান্য বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি করো না। (সূরা বাকারা:৪১)
২. হাদীস:- اقرءوا القرآن ولا تأكلوابه
‘তোমরা কুরআন পড়ো; কিন্তু এর মাধ্যমে উপার্জন করো না’। (নাসবুর রায়া:৪/৩২৬)
ফিকহের বহু কিতাবে এ বিষয়টি উদ্বৃত হয়েছে। কয়েকটি সূত্র উল্লেখ করছি।
৩. রদ্দুল মুহতার:৯/৭৬-৭৭ যাকারিয়া।
৪. আলমগীরী:৪/৪৪৮-যাকারিয়া।
৫. আল ফিকহ আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ : ৩/১৮
৬. তাবয়ীনুল হাকায়েক: ৬/১১৭
৭. হাশিয়ায়ে তাহতবী: ৪/৩০
৮. ফাতহুল কাদীর: ৯/৯৮-৯৯
৯. ফাতওয়া উসমানী : ১/৫০৪-৫-৬
১০. ইমদাদুল ফাতাওয়া:১/৪৭৪
১১. ইমদাদুল আহকাম : ১/৬৫৪-৬৬৪
১২. ফাতাওয়া রহীমিয়্যা:৬/২৪৫
১৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:১১/৪০৪
১৪. কিফায়াতুল মুফতী:২/৪১-৩/৪০৯
১৫. আহসানুল ফাতাওয়অ: ৩/৫১৪
১৬. নেযামুল ফাতাওয়া : ৬/৮৩-৮৫
১৭. ফাতাওয়া রশীদিয়া: ৩৯১।
যাতায়াত ভাড়া ও খাওয়ার খরচ
কোনো হাফেজ সাহেব যদি আসা-যাওয়া করে পড়ায় তাহলে তার যাতায়াত খরচ দেওয়া যাবে। এমনিভাবে খাওয়া-দাওয়ার জন্যও কিছু দেয়া যাবে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই খরচটা যুক্তিসঙ্গত ও প্রয়োজনমাফিক হতে হবে। অন্যথায় (অতিরিক্ত দিলে) এটাও নাজায়েয হয়ে যাবে।
একটি হীলা বা কৌশল: নাজায়েয বিনিময় গ্রহণ থেকে বাঁচতে অনেক জায়গায় একটি হীলা অবলম্বন করা হয়। তা হলো, হাফেজ সাহেবকে নায়েবে ইমাম বানিয়ে তাকে ইমামতির বেতন দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে হাফেজ সাহেব ২/৩ ওয়াক্ত নামায পড়ান। এমন হীলা অবলম্বন বৈধ। তবে শর্ত হলো, শুরুতেই তার ইমামতির বেতন নির্ধারণ করতে হবে, আর তা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। অন্যথায় এটাও খতমের বিনিময় হয়ে যাবে। (রহীমিয়া: ৬/২৩৫, মাহমুদিয়া: ২৫/২০৯, নেযামূল ফাতাওয়া: ৬/৮২-৮৩, কিফায়াতুল মুফতী: ৩/৪১০-দারুল এশা‘আত,করাচী)

শেষ কথা- রমযান মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল তারাবীহর নামায। ছাওয়াব লাভ ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ হয় তারাবীহর নামায আদায়ের মাধ্যমে। তাই সবার উচিত যথাযথভাবে তারাবীহ আদায় করে এই সুযোগ কাজে লাগানো। তারাবীহ হতে হবে রাসূল স. ও সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণে এবং ফকীহদের নির্দেশিত পদ্ধতিতে। বিশেষ করে পুরো উম্মতের ঐক্যমতপূর্ণ আমল বিশ রাকাত তারাবীহকে আট রাকাত বলে অপপ্রচার করে নিজের ও অন্যদের আমল নষ্ট করা সম্পূর্ণ অনুচিত। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে সীরাতে মুস্তাকীম তথা সরল-সঠিক পথের উপর থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন ॥
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা বাংলাদেশ
-এর কেন্দ্রীয় ফাতওয়া বিভাগ কর্তৃক গবেষণালব্দ প্রবন্ধ সমাহার

তারাবীহর রাকাত সংখ্যা
তত্ত্বাবধানে
মুফতী মিযানুর রহমান সাঈদ
মারকাযুশ শাইখ যাকারিয়া লিল্ বুহুসিল ইসলামিয়া ঢাকা
(শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা)
িি.িসঁভঃরসরুধহ.পড়স, ঊসধরষ-সঁভঃরসরুধহ@মসধরষ.পড়স
সূচী
তারাবীহর রাকাত সংখ্যা নিয়ে মতানৈক্যের ইতিকথা …………………………….
দু’টি মৌলিক কথা ……………………………………………………………….
প্রথম অধ্যায়
২০ রাকাত তারাবীহর দলিলসমূহ ………………………………………………..
তথাকথিত আহলে হাদীসদের হাদীসের ব্যাপারে অবিচার ………………………..
দ্বিতীয় দলিল খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত ……………………………………….
খলীফায়ে রাশেদ হযরত ওমর রা. এর মর্যাদা ……………………………………
রাসূল স. এর যুগে এবং খলীফা হযরত আবু বকর রা. এর যুগে তারাবীহর নামাযের অবস্থা ও তার ইতিকথা …………………………………………………………..
খলীফায়ে রাশেদ হযরত উমর রা. এর যুগে তারাবীহ ……………………………
খলীফা উমর রা. এর যুগে বিশ রাকাত তারাবীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত …………..
সহীহ হাদীস কে লা-মাযহাবীদের যয়ীফ বলার চক্রান্ত ……………………………
খলীফায়ে রাশেদ: হযরত উমর রা.-এর সুন্নাতের ব্যাপারে লা-মাযহাবীদের দ্বিমুখী বক্তব্য …………………………………………………………………………..
তাবেয়ীনদের বর্ণনাগুলো ‘যয়ীফ’ বা অগ্রহণযোগ্য নয় কেন ? …………………..
হযরত উসমান রা. এর যুগ ………………………………. …………………..
হযরত আলী রা. এর যুগ ………………………………. ……………………..
৩য় দলিল : ইজমায়ে সাহাবা …………………………………………………..
মুহাজির আনসারসহ সকল সাহাবায়ে কিরামের ইজমা …………………………
৪র্থ দলিল : মারফুয়ে হুকমী ……………………………………………………
৫ম দলিল : সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা ……………………………………………..
সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা তথা তাআমুলে উম্মত ……………………………………
ক. মক্কাবাসীর তাআমুল- تعامل اهل مكة ………………………………………….
খ. মদীনাবাসীর তাআমুল- تعامل اهل مدينة ……………………………………….
প্রথম শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ …………………………………….
দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ …………………………
চতুর্থ ,পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে মসজিদে তারাবীহ ……………………………..
অষ্টম, নবম, দশম, ও একাদশ শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ …………
চতুর্দশ শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ ………………………………….
গ. কুফাবাসীর তাআমুল- تعامل اهل كوفة ……………………………………….
ঘ. বসরাবাসীর তাআমুল ……………………………………………………….
ঙ. বাগদাদবাসীর তাআমুল …………………………………………………….
পরিশিষ্ট ………………………………. ………………………………………
একটি প্রশ্ন ও তার খণ্ডন ……………………………………………………….
ষষ্ট দলিল : ইজমায়ে উম্মত ……………………………………………………
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া র.-এর অভিমত ……………………………………..
হারামাইনের চৌদ্দ‘শ বছরের তারাবীহর ইতিহাস ……………………………..
দ্বিতীয় অধ্যায়
তারাবীহ ৮ রাকাতের পক্ষের দলিল ও তার খণ্ডন ……………………………..
রাসূল স. কত রাকাত তারাবীহ পড়েছেন ? …………………………………..
লা-মাযহাবীদের আট রাকাতের দলিল …………………………………………
দলিলটি খণ্ডন ………………………………. ………………………………..
তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ সম্পূর্ণ ভিন্ন নামায ………………………………………
তাহাজ্জুদ ও তারাবীহর মাঝে পার্থক্য ………………………………………….
দ্বিতীয় দলিল: ……………………………… ………………………………..
আট রাকাত তারাবীহর দ্বিতীয় হাদীসের পর্যালোচনা ………………………….
আট রাকাত তারাবী হওয়ার তৃতীয় দলিল …………………………………….
হাদীসটির জবাব- ……………………………………………………………..
চতুর্থ দলিল ……………………………………………………………………
সর্বশেষ কথা …………………………………………………………………..
তারাবীহতে কুরআন খতম করার হুকুম ………………………………………..
তারাবীহর নামাযের সময় ………………………………………………………
তারাবীহর কাযা ……………………………………………………………….
তারবীহা (চার রাকাত পরপর বিশ্রাম) …………………………………………
নফল নামাযের জামাআত ……………………………………………………..
‘কিয়ামে রমযান’-এর মিসদাক ………………………………………………..
খতম তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় গ্রহণ করা …………………………………….
খতম তারাবীহর বিনিময় নাজায়েয হওয়ার দলিল …………………………….
যাতায়াত ভাড়া ও খাওয়ার খরচ ………………………………………………
একটি হীলা বা কৌশল: ……………………………………………………….
শেষ কথা: ………………………………. ………………………………….
ভূমিকা
তারাবীহর রাকাত সংখ্যা নিয়ে মতানৈক্যের ইতিকথা
তারাবীহর নামায সুন্নাত। গোটা ইসলামী দুনিয়ায় রাসূল স. সাহাবাদের স্বর্ণযুগ থেকে চলে আসা নীতি অনুযায়ী সব জায়গায় সর্ব যুগে সকল মসজিদে তারাবীহ ২০ রাকাত এবং বিতর তিন রাকাতই পড়া হয়েছে। মাঝখানে ইমাম মালেক র. এর যুগে এবং তার ভক্তদের কিছু যুগ পর্যন্ত ৩৬ রাকাত বা ৩৮ রাকাত পড়া হয়েছিল। তবে ২০ রাকাতের কম তারাবীহর নামায কখনো কোথাও পড়া হয়নি। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে ১২৮৪ হিজরীতে ভারতের আকবরবাদ থেকে একজন লা-মাযহাবী আলেম ২০ রাকাত তারাবীহকে বিদআত ও ৮ রাকাতকে সুন্নাত বলে ফতোয়া জারী করেন। ওলামাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেই ফতোয়া অকার্যকর হয়ে গেলে তার এক বছর পর তাদের আরেকজন মাও. মুহাম্মদ হুসাইন বাটালবী পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে উক্ত ফতোয়ার পুনরাবৃত্তি করেন। তার এ ফতোয়ার বিরুদ্ধে অন্যান্য আলেমদের পাশাপাশি লা-মাযহাবীদের বিখ্যাত আলেম মাও. গোলাম রাসূল ‘রিসালাতুত তারাবীহ’ (رسالة التراويح) নামক গ্রন্থ লিখে ফতোয়াটির দাঁতভাঙ্গা জবাবের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ গ্রন্থটি ১২৯০ হি. তে প্রকাশিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের কয়েকজন প্রসিদ্ধ আলেম মাও. মুবারকপুরী, হাফেজ আব্দুল্লাহ প্রমুখ উক্ত ফতোয়াটিকে পূনরায় প্রচার ও প্রসার করতে গেলে লোকদের মধ্যে তারাবীহর রাকাতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ও মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। এদের প্রচারিত ফতোয়ার দলিল ভিত্তিক জবাব দিয়ে সব চক্রান্তের মুখোশ উন্মোচন করেছেন ওলামায়ে দেওবন্দের অভিভাবকগণ। যথাক্রমে- আল্লামা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী, আল্লামা কাসেম নানুতুবীসহ আরো অনেকে। এ বিষয়ে সর্বশেষ কলম ধরেন ভারতের যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আল্লামা হাবীবুর রহমান আযমী র.।
কিন্তু চক্রান্তকারীরা থেমে নেই, স্বয়ং আরবের মাটিতেও কিছু আলেম এ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। যেখানে সমগ্র পৃথিবীর প্রাণকেন্দ্র হারামাইন শরীফাইনে ১৪ শত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ২০ রাকাত তারাবীহ চলে আসছে। সে পবিত্র ভূমিতে সম্ভবত সর্বপ্রথম তারাবীহ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির জন্যে আট রাকাতের ফতোয়া জারি করেন ‘শেখ নসীব রেফায়ী’। তারাবীহ ৮ রাকাত প্রমাণ করার জন্য তিনি একটি গ্রন্থও প্রকাশ করেন। কিন্তু ওলামায়ে আরবের প্রতিবাদের মুখে সে ফতোয়াটিও টিকেনি। তাই উক্ত ফতোয়ার পক্ষে সমর্থনসহ জোরালো ভূমিকা রাখেন আরবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা নাসীরুদ্দিন আলবানী র.। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ফতোয়া ও তার সমর্থনকারী আলবানী সাহেবদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে আরব জাহানের কয়েক জন আলেম “আল ইসাবা ফিল ইনতেসার লিল খুলাফা-য়ির রাশিদীন ওয়াস সাহাবা” (الإصابة فى الانتصار للخلفاء الراشدين و الصحابة) নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব রচনা করেন। যেখানে উক্ত ফতোয়ার সকল দিক আলোচনা পূর্বক দলিল ভিত্তিক খণ্ডন করে ২০ রাকাত তারাবীহ সুন্নাত হওয়ার দালীলিক প্রমাণ পেশ করা হয় । এই কিতাবের ৬১নং পৃষ্ঠায় তারা লিখেছেন :
(ولم يشذ أحدهم عنها غير هذه الشرذمة القليلة التى ظهرت فى زماننا كاالشيخ ناصر و إخوانه.)
অর্থাৎ আমাদের যামানায় আত্মপ্রকাশ কারী নাসীরুদ্দিন আলবানী ও তার অনুসারীদের ক্ষুদ্র একটি দল ছাড়া আর কেউ অনুরূপ ফতোয়া দিয়ে (তারাবীহ ৮ রাকাত) উম্মত থেকে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করেন নি। অর্থাৎ এর পূর্বে কেউ ৮ রাকাতের মত ব্যক্ত করেননি; বরং সকল আলেম ফকীহ ২০রাকাতের উপর একমত ছিলেন। এরপর ১৩৭৭ ইং সালে আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব আল ইসাবা কিতাবটির জবাবে تسديد الإصابة)) ‘তাসদীদুল ইসাবাহ’ নামে একটি বই রচনা করেন। এ বইতে তিনি ইনসাফ ভিত্তিক দলিল পেশ না করে উসূলে হাদীস, উসূলে ফিকাহ, রিজাল শাস্ত্র এবং জরাহ্ তা’দীল সম্পর্কিত সর্ব স্বীকৃত মূলনীতির ব্যাপারে স¤পূর্ণ অপরিপক্কতা ও দৈন্যতার আশ্রয় নিয়ে ২০ রাকাত তারাবীহর বিপক্ষে এবং আট রাকাতের পক্ষে যেভাবে কলম ধরেছেন তা তার মতো হাদীস বিশারদের পক্ষে কল্পনা করাও মুশকিল। এমন পক্ষপাতপুষ্ট হয়েও তিনি ইসলামের প্রায় সাড়ে বার শত বছরের ইতিহাস থেকে সাহাবা, তাবেয়ী ও সালাফে সালেহীনের ৮ রাকাত তারাবীহ পড়ার উপর একটি প্রমাণও পেশ করতে পারেননি। তেমনিভাবে এ দীর্ঘ ইতিহাসে একটি মসজিদও দেখাতে পারেননি যেখানে ৮ রাকাত তারাবীহ পড়া হতো বা হয়েছিল। তবে তিনি ওই পুস্তিকায় হযরত ইমাম মালেক র. এর দিকে ৮ রাকাতের বিষয়টি সম্পৃক্ত করে বসেন। অথচ মালেকী মাযহাবের মৌলিক গ্রন্থ (المدونة) ‘আল মুদাওয়ানা’ কিতাবটি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যেতো যে, তিনি বিতরসহ ৩৯ রাকাতের তারাবীহ পড়তেন এবং তৎকালিন মদীনার গভর্নর তারাবীহর রাকাত সংখ্যা কমাতে চাইলে ইমাম মালেক তার অনুমতি প্রদান করেননি বরং নিষেধ করেছেন। (আল মুদাওয়ানা : ১/২০৮-১০)
আমার ধারণা, তিনি ইমাম মালেকের দিকে কথাটি সম্বোধন করার সময় জানতেন যে কথাটি গবেষণার কষ্টিপাথরে মোটেও টিকবেনা; কিন্তু নিজের পক্ষপাতিত্ব রক্ষার জন্য গায়ের জোরেই কথাটি চালিয়ে দিলেন। আর দলিল স্বরূপ ‘জুরী’ নামক এক শাফেঈ লোকের বরাত দিয়ে এ ভিত্তিহীন কথাটি উল্লেখ করলেন। যার সূত্রের ধারাবহিকতা ও কোন পরিচিতি নেই। বরং লোকটি মাজহুল (مجهول) এবং সনদ মুনকাতি’ (منقطع) যা অন্তত আলবানী সাহেব থেকে কল্পনা করা যায় না।
মোট কথা: ৮ রাকাত বিশিষ্ট তারাবীহ এর নামায নব আবিষ্কৃত সাহাবী, তাবেঈ, তাবে-তাবেয়ী যুগ এবং পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত কোন মুহাদ্দিস ও ফকীহ থেকে প্রমাণিত নয় যে আট রাকাতই যথেষ্ঠ, বিশ রাকাত বিদআত। বরং বর্তমান শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাবীবুর রহমান আযমী যিনি আরব জাহানের শীর্ষ আলেম ও শাইখদেরও উস্তাদ তিনি ‘রাকাআতুত তারাবীহ’ (ركعات التراويح) নামক একটি গ্রন্থ রচনা করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন যে, ভারতবর্ষে ১২৮০ হি. এবং আরবের নসীব রেফায়ির পূর্ব পর্যন্ত প্রায় সাড়ে বারশ বছরের ইতিহাসে আট রাকাত তারাবীহর উপর একটি প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবেনা। তিনি তার কিতাবে প্রত্যেক শতাব্দীর উম্মার সম্মিলিত ও অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা (الأعمال المتوارثة) দেখিয়েছেন যে সব যুগে তারাবীহ বিশ রাকাতই ছিল। বিশ রাকাতকে বিদআত বা আপত্তি করার মতবাদ কোনো শতাব্দীতে ছিলনা। কিতাবটি প্রকাশ হয়েছে প্রায় অর্ধ শতবছর হয়ে গেলেও এ চ্যালেঞ্জের জবাব স্বয়ং আলবানীও দিতে পারেননি। আলবানী সাহেব তার বইতে যা কিছু লিখেছেন তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন সৌদি আরবের সুপ্রসিদ্ধ গবেষক শাইখ ইসমাঈল আন্সারী। তিনি বড় মূল্যবান একটি কিতাব রচনা করেন। যার নামই তার পরিচয়।
تصحيح أحاديث صلاة التراويح عشرين ركعة و الردعلى الألبانى فى تضعيفه
এ কিতাবে আলবানী সাহেব বিশ রাকাতের হাদীসকে অমূলকভাবে কলমের জোরে ‘যয়ীফ’ আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার যে অপচেষ্টা চালিয়েছেন তার দলিল ভিত্তিক জবার দিয়ে দৃঢ়ভাবে হাদীস সহীহ বলে প্রমাণ করেছেন। উপরন্তু আমার সরাসরি উস্তাদ মসজিদে নববীর প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস মাদীনার শরয়ী আদালতের কাজী শায়খ আতিয়্যা সালেম التراويح أكثر من ألف عام নামে একটি গ্রন্থ লিখে প্রমাণ করেছেন যে, হারামাইন শরীফাইনের ইতিহাসে কখনো বিশরাকাতের কম তারাবীহ পড়া হয়নি।
অন্য একজন বিখ্যাত আলেম আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আলী সাবুনীও এবিষয়ে التراويح عشرون ركعة নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এসব গ্রন্থের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে, উম্মতের সম্মিলিত অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা হতে প্রমাণিত বিশ রাকাত তারাবীহই সুন্নাত। এর উপরই সকলের “আমলে মোতাওয়ারাছাহ” প্রতিষ্ঠিত। আট রাকাতের বিষয়টি সাড়ে বারশত বৎসর পরে ভারতে উদ্ভব হয়। অতপর রেফায়ী ও আলবানীদের মাধ্যমে আরবেও এর প্রকাশ ও প্রচার ঘটে ।
লা-মাযহাবী বন্ধুরা ভেবে দেখুন! আপনারা কার অনুসরণে আজ মুসলিম উম্মার মাঝে এ নিয়ে ফিৎনা সৃষ্টি করছেন। উম্মতের ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করা কার উকালতি ?
দু’টি মৌলিক কথা
আলোচ্য বিষয়টি বুঝার জন্য দুটি কথা আলোচনা খুবই প্রয়োজন।
ক) প্রথম কথা: কুরআনুল কারীমের পর শরীয়তের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হচ্ছে সুন্নাহ। আর রাসূল স. এর শিক্ষা ও নির্দেশনাবলীকেই সুন্নাহ বলা হয়। এই সুন্নাহ কয়েক প্রকার –
১. রাসূল স. এর শিক্ষা ও নির্দেশনা অনেক সময় মৌখিকভাবে বর্ণনা হয় এবং পরষ্পরার মাধ্যমে আমাদের নিকট তা পৌঁছে থাকে। তখন এইসব মৌখিক বর্ণনাসূত্রে পাওয়া রেওয়ায়েতগুলোকে সুন্নাহর পাশাপাশি হাদীস বলা হয়। এর নাম- الحديث القولى কাওলি তথা মৌখিক হাদিস।
২. রাসূল স.-এর শিক্ষা ও নির্দেশনার মৌখিক বর্ণনাস্থলে অনেক সময় শুধু কর্মের ধারাবাহিকতায় আমাদের কাছে পৌঁছে থাকে অর্থাৎ রাসূল থেকে কর্মের মাধ্যমে সাহাবা রা. গ্রহণ করেছেন তাদের থেকে তাবেঈন এবং তাদের থেকে তাবে-তাবেঈন গ্রহণ করেছেন এভাবে প্রত্যেক উত্তরসূরী তার পূর্বসূরী থেকে কর্মের মধ্য দিয়ে রাসূলর সে শিক্ষা ও নির্দেশনাকে গ্রহণ করেছেন। এটাকে আমলী হাদিস (الحديث العملى) বা সুন্নাতে মুতাওয়ারিছা বলা হয়।
উল্লেখ্য, যেসব বিষয় কর্মের মাধ্যমে পৌঁছেছে, তা অনেক সময় রাসূলর মৌখিক বর্ণনাসমূহে হয়তো পাওয়া নাও যেতে পারে বা পাওয়া গেলেও সে মৌখিক বর্ণনাটি সূত্রের দিক দিয়ে ‘যয়ীফ’ও হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে উক্ত নবীজির শিক্ষার এধারাটি সাধারণ মৌখিক বর্ণনা ধারার তুলনায় অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে থাকে এ কারণে মৌখিক বর্ণনায় তা পাওয়া না গেলে বা যয়ীফ সূত্রে পাওয়া গেলে তা কখনো অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
৩. সুন্নাহ তথা নবীর শিক্ষা ও নির্দেশনার একটি অংশ এমনও আছে যা আমাদের নিকট সাহাবাদের রা. শিক্ষা নির্দেশনার মাধ্যমে সংরক্ষিত তবে বিষয়টির ভিত্তি কিয়াস ও ইজতিহাদের উপর নয় বরং রাসূল স.-এর কোনো মৌখিক বর্ণনা বা কর্মধারাই তার ভিত্তি। সাহাবাগণ তার এধারা থেকেই তা গ্রহণ করেছেন কিন্তু অন্যকে তা শিখানোর সময় সাহাবাগণ এর উদ্ধৃতি দেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। কারণ প্রেক্ষাপট থেকেই একথা স্পষ্ট ছিল যে তারা রাসূলর শিক্ষা নির্দেশনার (সুন্নাহ) ভিত্তিতেই এ বিষয়টি অন্যকে শিক্ষা দিয়েছেন। এমন সুন্নাহকে مرفوع حكمي ‘মারফুয়ে হুকমী’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য এ মারফুয়ে হুকমীর ভিত্তি যেহেতু কোন কিয়াস বা ইজতিহাদ নয় বরং মারফুয়ে হাকীকী তথা স্পষ্ট মারফু হাদীসই তার ভিত্তি, কিন্তু এটা জরুরী নয় যে সে স্পষ্ট মারফু হাদীসটি সহীহ সনদে বিদ্যমান থাকবে। বরং হতে পারে তা যয়ীফ সনদে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এ জাতীয় মারফুয়ে হুকমী হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করা স্পষ্ট মারফু দ্বারা দলিল পেশ করার নামান্তর। সুতরাং এর সনদ সহীহ হলে তার পিছনে কোনো সহীহ স্পষ্ট মারফু হাদীস আছে কি না তা দেখার প্রয়োজন নেই। মারফুয়ে হুকমী সহীহসূত্রে প্রমাণিত হওয়াই শরয়ী দলিল হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
৪. নবীর শিক্ষা ও নির্দেশনার আরেকটি অংশ হচ্ছে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ (سنة الخلفاء) যার ব্যাখ্যা হচ্ছে, রাসূল স. ওহীর মাধ্যমে জেনে ছিলেন যে, খুলাফায়ে রাশেদার জারীকৃত সুন্নাহসমূহ অবশ্যই নবীর শিক্ষা ও নির্দেশনারই অনুগামী হবে। এবং এর উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বিদ্ব্যমান থাকবে। তাই রাসূল স. স্বীয় উম্মতকে ব্যাপক ও স্পষ্টভাবে এ ঘোষণা দিয়ে যান যে –
عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين . عضوا عليها بالنواجذ
“তোমরা আমার সুন্নাত ও আমার হেদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাদের সুন্নাতকে আঁকড়ে রাখবে। একে অবলম্বন করবে এবং প্রাণপণ শক্ত করে ধরবে”। (ইবনে মাজা : পৃ.৫ নং ৪২)
সুতরাং যখন উম্মতের সামনে চার খলীফার যে কোনো খলীফার একটি সুন্নাত প্রমাণিত হয়ে যাবে, তখন তার অনুসরণের জন্য রাসূল উপরোক্ত ঘোষণাই যথেষ্ট। এর জন্য রাসূল স. থেকে স্বতন্ত্র কোনো দলিল/হাদীসের প্রয়োজন নেই। তাই খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত নবীজীর শিক্ষা ও নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষ।
এটাকে দলিলস্বরূপ গ্রহণ করতে এ কথা ভাবার প্রয়োজন নেই যে তাদের এই সুন্নাতের ভিত্তি কী ? তারা এটা নবীজীর কোন শিক্ষা থেকে গ্রহণ করেছেন ?
খ. দ্বিতীয় কথা : শরীয়তের একটি বিশেষ উৎসের নাম ইজমা। এর বিভিন্ন প্রকার ও ধরণ আছে। তন্মধ্যে সর্বাধিক সহীহ ও শক্তিশালী প্রকার হচ্ছে ‘ইজমায়ে সাহাবা’ (إجماع (الصحابة। এই ইজমা যদি ব্যাপকভাবে অবিচ্ছিন্ন এবং সম্মিলিতরূপে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে তবে তা শরীয়তের অনেক শক্তিশালী ও অকাট্য দলিল হিসেবে গন্য করা হবে। কোন বিষয়ে এধরণের দলিল বিদ্যমান থাকলে তা অনুসরণ ও পালনের ক্ষেত্রে অন্য কোন দলিলের প্রয়োজনই পড়েনা।
উল্লেখ্য, ইজমা শরীয়তের এমন দলিল যার ভিত্তি অবশ্যই রাসূল স. এর শিক্ষা নির্দেশনার উপর প্রতিষ্ঠিত। তবে তা অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। কেননা শরীয়ত নিজেই ইজমাকে দলিল বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং বর্ণিত হয়েছে যে যাদের মাধ্যমে ইজমা সম্পন্ন হয় এরা কখনো গোমরাহীর উপর একমত হতে পারে না। বিশেষ করে তারা যদি আনসার মুহাজির সাহাবা বা আশারায়ে মুবাশ্শারা হন।
স্বয়ং কুরআনে তাদের অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে, যারা তাদের পথ থেকে বিমুখ হবে তারা জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত হবে।
প্রিয় পাঠক, আমাদের আলো”্য বিষয় (তারাবীহর রাকাত সংখ্যা) উপরোক্ত সকল শরয়ী দলিল দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। তারাবীহর রাকাত সংখ্যা বিশ এর পক্ষে প্রমাণিত দলিল সমূহ-
১. মারফুয়ে হাকীকী তথা স্পষ্ট মারফু হাদীস।
২. মারফুয়ে হুকমী। ৩. খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত। ৪. মুহাজিরীন ও আনসার সাহাবীগনের ইজমা। ৫. সুন্নাত মুতাওয়ারাসাসহ সব প্রকারের দলিল দ্বারা তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। যারা তা অমান্য করবে, বিদআত বা ভিত্তিহীন মনগড়া বলে মন্তব্য করবে তারা যে শরীয়ত, কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা সবই অমান্য করলো তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আল্লাহ তায়ালা সকলকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। আমীন ॥
প্রথম অধ্যায় :
২০ রাকাত তারাবীহর দলিলসমূহ
মারফু হাদীস-
ইমাম আবু বকর ইবনে আবী শাইবা স্বীয় কিতাব ‘মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা’তে উল্লেখ করেন:
حدثنا يزيد ابن هارون قال آخبرنا ابراهيم بن عثمان ، عن ابن عباس رضي الله عنه أن رسول الله صلي الله عليه وسلم كان يصلي في رمضان عشرين ركعة و الوتر ،، (مصنف لابن أبي شيبة ২৮৮/২)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে বর্ণিত রাসূল স. রমযান মাসে বিশ রাকাত তারাবীহ ও বিতর পড়তেন।
এ হাদীসটি বায়হাকী (খ. ২ প.৪৯৬)। ইমাম তাবরানীর আল-মুজামুল কাবীর (খ:১১ পৃ:৩১)। আল-আওসাত তাবরানী (খ:১ পৃ:৪৪৪)। আল ইসতিযকার (খ:৫ পৃ: ১৫৬) ইত্যাদি সহ হাদীসের নির্ভরযোগ্য বহু কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।
এ হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে রাসূল স. এর তারাবীহর নামায বিশ রাকাত ছিল।
হাদীসটির মান ঃ একদল মুহাদ্দিস এ হাদীসের সনদকে ‘যয়ীফ’ বলেছেন। কেননা, এর সনদে إبراهيم بن عثمان ‘ইব্রাহীম বিন উসমান’ নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, যিনি দুর্বল। তবে তিনি চরম দুর্বল বা মাতরুক (পরিত্যাজ্য) নন।
কিন্তু আমাদের জানা মতে সাড়ে বারশত বছর যাবত হাদীসটিকে কেউ মাউযু (জাল) বলেননি। বর্তমানে লা-মাযহাবী বন্ধুরা এ হাদীসটি দেখা মাত্র মাওযু বা জাল আখ্যা দিয়ে থাকেন। আর অনুসন্ধানে দেখা গেছে এ বন্ধুরা তাদের মত-পথের বিপরীত হাদীস সহীহ হলেও বলবেন যয়ীফ। তাই তাদের কথা মানা যায় না। আর হাদীসটি আসলে যয়ীফ হলেও জাল/মাওযু বলতে তারা দ্বিধা করে না। এটাই তাদের হাদীস নিয়ে চাতুরী। অথচ যয়ীফ ও জালের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। কেননা জালতো হাদীসই না বরং চক্রান্তকারীরা বিভিন্ন কারণে নিজেরা বানিয়ে হাদীসের নামে চালিয়ে দিয়েছে। আর যয়ীফ মানে হলো হাদীসটি বানানো না। তবে বর্ণনা সূত্রে দুর্বলতা পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে- যয়ীফ হাদীস ২০ রাকাত তারাবীহর ক্ষেত্রে দলিল হয় কী করে ?
উত্তর ঃ সহীহ যয়ীফ এগুলো হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা। মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি বুঝা ছাড়া এগুলোর মাহাত্ব বুঝা বড় কঠিন। দেখুন, যে মুহাদ্দিসগণ এটাকে যয়ীফ বলেছেন তাদেরই মূলনীতিতে যয়ীফ হাদীস দু’প্রকার।
ক) হাদীসটি সনদের দিক থেকে দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সারমর্ম ও বক্তব্য শরীয়তের দৃষ্টিতেও আপত্তিকর। কারণ এ বক্তব্যের অনুকুলে শরয়ী কোন দলীলের সমর্থন তো নেই-ই বরং এর বিপরীতের দলিল পাওয়া যায়।
খ) হাদীসটি যয়ীফ সনদে বর্ণিত হলেও তার বক্তব্যের সমর্থনে অন্যান্য দলিল প্রমাণ বিদ্যমান। বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ও সকল ফকীহর সিদ্ধান্ত হলো এ ধরণের হাদীস সনদ ও সূত্রের দিক থেকে যয়ীফ হলেও বক্তব্য ও মর্মের বিচারে কিন্তু সহীহ ও সঠিক। অতএব, আমাদের আলোচ্য হাদীসটিকে একদল মুহাদ্দিস যয়ীফ তো বলেছেন। কিন্তু কোন্ প্রকারের যয়ীফ তার উল্লেখ নেই। আমরা সামনে আলোচনা করবো (ইনশাআল্লাহ)। উক্ত হাদীসের সমর্থনে মারফুয়ে হুকমী, খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত, ইজমায়ে সাহাবা এবং সুন্নাতে মুতাওয়ারাছার মত বহু শক্তিশালী প্রমাণাদি বিদ্যমান রয়েছে। তাই শাস্ত্রীয় পরিভাষায় এ ধরণের যয়ীফকে الضعيف المتلقى بالقبول অর্থাৎ সনদের বিবেচনায় যয়ীফ তবে এর বক্তব্য ও মর্ম সাহাবা যুগ থেকে নিয়ে সকল উম্মতের আমলের মাধ্যমে অনুসৃত। এ পর্যায়ের হাদীসের ব্যাপারে হাদীস শাস্ত্রের অভিজ্ঞজনের সিদ্ধান্ত হচ্ছে- আমলের ক্ষেত্রে তা সর্বাধিক শক্তিশালী সহীহ হাদীস। যা সাধারণ মৌখিক সহীহ হাদীসের তুলনায় অনেক মর্যাদাবান।
একারণেই হানাফী ফকীহগণ হাদীসটিকে ২০ রাকাত তারাবীহর স্বপক্ষে দলিল স্বরূপ পেশ করেন।
লা-মাযহাবী বন্ধুগণ! আমাদের উপরোক্ত পর্যালোচনায় হয়তো নাক চিটকাতে শুরু করবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, উপরোক্ত নীতিমালাটি আমরা আবিষ্কার করিনি; বরং এটি সকল হাদীস বিশারদ, ফকীহ ও উসুলীদের একটি সর্বস্বীকৃত নীতির উপর ভিত্তিশীল। আপনারা তা অমান্য করলে নিরেট অজ্ঞতার বহি:প্রকাশ ঘটবে। প্রমাণ স্বরূপ কয়েকটি উক্তি উসূলে হাদীসের কিতাব থেকে তুলে ধরছি।
১. লা-মাযহাবীদের মান্যবর ইমাম হাফেজ ইবনুল কায়্যিম র. ‘কিতাবুর রুহ’ গ্রন্থে এক যয়ীফ হাদীসের উপর মন্তব্য করেন:
فهذا الحديث وإن لم يثبت فاتصال العمل به فى سائر الامصار و الاعصار من غير نكير كاف فى العمل به-
এ হাদীসটি (সনদের দিক থেকে) সহীহ প্রমাণিত না হলে অর্থাৎ যয়ীফ হলেও বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন শহরে কোনরূপ আপত্তি ছাড়াই এর উপর (সকলের ) আমল প্রতিষ্ঠিত থাকায় হাদীসটি আমলযোগ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (দ্র:পৃ:১৬)
২. মুহাদ্দিস ইমাম যারকাশী র. হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক কিতাব ‘আন্নুকাত’-এ লিখেছেন-
إن الحديث الضعيف إذا تلقته الأمة بالقبول عمل به على الصحيح حتى ينزل منزلة المتواتر (৩৯০:১)
‘যয়ীফ’ হাদীস যখন ব্যাপকভাবে মুসলিম উম্মার নিকট সমাদৃত হয়, তখন হাদীসটি আমলযোগ্য হবে এটাই মুহাদ্দিসগণের বিশুদ্ধ মত। এমনকি তখন যয়ীফ হাদীসটি হাদীসে মুতাওয়াতির (বিপুল সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত) এর পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়ে যায়।
৩. হাফেজুদ্দুনিয়া আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী র. লিখেন-
ومن جملة صفات القبول أن يتفق العلماء على العمل بمدلول الحديث ، فإنه يقبل حتى يجب العمل به وقد صرح بذلك جماعة من أئمة الأصول- ( الإفصاح على نكت إبن الصلاح .( ৪৯৪:১)
হাদীস গ্রহণগোগ্য হওয়ার নিদর্শন সমূহের একটি নিদর্শন হলো, ফুকাহা বা ইমামগণ তার মর্মার্থের উপর আমল করার ক্ষেত্রে একমত পোষণ করা। এমতাবস্থায় হাদীসটি গ্রহণ যোগ্য হবে; বরং তার উপর আমল অপরিহার্য বলে গণ্য হবে। উসূলের অনেক ইমামগণের এবিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে।
৪. আল্লামা শামছুদ্দিন আস সাখাবী র. ‘ফাতহুল মুগীছ’ কিতাবে লিখেছেন-
وكذا إذا تلقت الأمة الضعيف بالقبول بعمل يعمل به على الصحيح حتى ينزل منزلة المتواتر فى أنة ينسخ المقطوع به، ولهذا قال الشافعى رح فى حديث “لا وصية لوارث” إنه لا يثبته أهل الحديث ولكن العامة تلقته بالقبول و عملوا به حتى جعلوه ناسخا لأية الوصية –( فتح المغيث ৩২৩:১)
উম্মাহ যখন ‘যয়ীফ’ হাদীসকে আমলীভাবে ব্যাপকহারে গ্রহণ করে নেয় তখন সঠিক মতানুসারে তা আমলযোগ্য হয়ে যায়। এমনকি এমন হাদীস অকাট্য বিধান রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে মুতাওয়াতির দলিলের মানোত্তীর্ণ হয়। একারণেই ইমাম শাফেয়ী র. “لا وصية لوارث” হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেন: হাদীস বিশারদগণ এটাকে (সনদের দিক দিয়ে সহীহ প্রমাণিত মনে না করলেও ব্যাপকহারে আলেমগণ এটাকে গ্রহণ করে নিয়েছেন ও তদানুযায়ী আমল করেছেন। এমনকি তারা এটিকে ওসিয়তের আয়াতের বিধান রহিতকারী আখ্যা দিয়েছেন। ( দ্র: খন্ড:১/পৃ:৩৩৩)
৫. হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ূতী র. তার ‘তাদবীর’ কিতাবে লিখেছেন-
يحكم للحديث بالصحة إذا تلقاه الناس بالقبول وان لم يكن له اسناد صحيح.
সনদের বিবেচনায় সহীহ না হলেও যে হাদীস মানুষ গ্রহণ করে নিয়েছে তাকে সহীহ বলা হবে।
৬. আল্লামা আনোয়ার শাহ্ কাশ্মীরী র. বলেছেন-
كان الاسناد لئلا يدخل فى الدين ما ليس منه ، لا ليخرج من الدين ما ثبت منه من عمل أهل الإسناد-
অর্থাৎ সনদের কাজ হচ্ছে যাতে দীনের বহির্ভূত কোন কাজ দীনের মধ্যে অনুপ্রবেশ না ঘটে। দীনের অধীন বিষয়কে বহির্ভূত করার জন্য নয়। (আল-আজবিবাতুল ফাযেলা পৃ : ২৩৮)
সারকথাা : আলোচ্য হাদীসটি যঈফের দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভূক্ত। যা সহীহ এর মানোত্তীর্ণ হয়েছে। কারণ, সাহাবাদের রা. যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সকল উম্মাহর ধারাবাহিক ও অবিচ্ছিন্ন আমল অনুযায়ী চলে আসছে। তাই উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে এটি অবশ্যই শক্তিশালী সহীহ ও আমলযোগ্য হাদিস। এটাকে যারা ‘জাল’ আখ্যা দিয়ে আমল অযোগ্য বলে মন্তব্য করবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।
তথাকথিত আহলে হাদীসদের হাদীসের ব্যাপারে অবিচার
আহলে হাদীসের বর্তমান শতাব্দীর বরেণ্য মনীষী আল্লামা নাসীরুদ্দিন আলবাণী সাহেব ২০ রাকাত তারাবীহর ব্যাপারে ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণিত হাদীসটিকে ‘যয়ীফ’ আখ্যা দিয়ে ৮ রাকাতের পক্ষের উকালতী করেছেন। অথচ ১৩’শ বছর যাবত কোনো মুহাদ্দিস হাদীসটিকে ‘‘যয়ীফ তবে আমলযোগ্য” এর অতিরিক্ত কিছুই বলেন নি।
তিনি ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীসটি মনগড়া ভাবে ‘যয়ীফ’ আখ্যা দিয়ে দাবির স্বপক্ষে কয়েকটি যুক্তি দিয়েছেন। যা নিম্নরূপ-
১. উক্ত হাদীসটি হযরত আয়েশা রা. ও হযরত জাবের রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসদ্বয়ের সাথে সাংঘর্ষিক। অথচ হযরত আয়েশা রা. এর হাদীসটি সহীহ হলেও তা তাহাজ্জুদের বিবরণ সম্বলিত। যার সাথে তারাবীহর কোন সম্পর্ক নেই। বিস্তারিত আলোচনা আমরা পরে করবো। (ইনশাআল্লাহ)
সুতরাং উভয় হাদীসের সাথে আলোচ্য হাদীসের সংঘর্ষ কোথায়?
দ্বিতীয়ত: আয়েশা রা. এর বর্ণিত হাদীসে এগার রাকাতের কথা উল্লেখ থাকলেও আয়েশা রা. থেকে আরেকটি সহীহ হাদীসে তের রাকাত উল্লেখ আছে।
হযরত আয়েশা রা. কর্তৃক এদুটি বর্ণনার মাঝে যে বৈপরীত্য আছে তার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যাখ্যা ২০ রাকাতের হাদীসের ব্যাপারে একই ব্যাখ্যা দেয়া হলে সংঘর্ষ থাকলো কোথায় ? আসল কথা আয়েশা রা.এর হাদীসের মধ্যে তাহাজ্জুদের বিবরণ। ইবনে আব্বাস রা.এর হাদীসে তারাবীহর বিবরণ। অথবা বলুন, তারাবীহর নামায এগার, তের, বিশ রাকাত সবধরনের আমল রাসূলের ছিল। সাহাবগণ বিশ রাকাতের উপর (ইজমা) ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় উম্মাহ এর উপর আমল করেছেন। তাহলে এটা বিদআত বা মনগড়া হয় কী ভাবে ?
থেকে যায়, আলবানী সাহেবের উক্তি। হাদীসে জাবের রা. উক্ত হাদীসের বিপরীত হওয়া আলবানী সাহেব ভাল করেই জানেন বহুবিদ কারণে হাদীসে জাবের যয়ীফ বলে সর্ব স্বীকৃত (যার বিশ্লেষণ পরে আসবে)। এরপরও এমন যয়ীফ হাদীসকে ইবনে আব্বাসের হাদীসের বিপরীত দাড় করানো কমপক্ষে আলবানীর মত লোকের পক্ষে সম্ভব ছিলনা। এটা একমাত্র অন্যায়ভাবে পক্ষপাতের মানষিকতায় তিনি তা বলেছেন বলে আমাদের ধারণা।
২. দ্বিতীয় কারণ হিসেবে আলবাণী সাহেব বলেন যে, উক্ত হাদীসের সনদে (أبو شيبة إبراهيم بن عثمان) আবু শায়বা ইব্রাহীম বিন উসমান রয়েছেন। ইমাম শা’বী র. তাকে মিথ্যুক বলেছেন। কোন হাদীসের বর্ণনাকারী মিথ্যুক হলে হাদীসটি জাল হয়ে যায়।
অথচ আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে এবর্ণনাকারীর কারণেই মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে ‘যয়ীফ’ বলেছেন ‘মউজু’ বা ‘জাল’ নয়। ‘যয়ীফ’ ও এমন যা হালকা ‘যয়ীফ’ (ضعيف خفيف) একারণে হাদীসটি আমলযোগ্য। ইজমায়ে সাহাবা ও খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত উম্মতের ধারাবাহিক আমলের কারণে হাদীসটি শক্তিশালী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শু’বা কি তাকে মিথ্যুক বলেছেন ? জবাব হলো না, তিনি মিথ্যুক বলেননি। তিনি বা যারা বলেছেন এখানে তার অর্থ হচ্ছে ভুল করেন। কেননা, শু’বা ছাড়া বিজ্ঞ হাদীস বিশারদগণ তার ব্যাপারে কোন কঠিন মন্তব্য করেন নি; বরং অনেকে তার প্রশংসা করেছেন।
যেমন-
* ইমাম বুখারী র. তার ব্যাপারে বলেন- سكتوا عنه অর্থাৎ তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ নীরবতা অবলম্বন করেছেন।
* আল্লামা ইবনে আদী র. তার ‘কামিল’ গ্রন্থে বলেন যে, له أحاديث صالحة وهو خير من إبراهيم بن عثمان أبو حية অর্থাৎ ইব্রাহীম বিন উসমানের কিছু গ্রহণযোগ্য হাদীস রয়েছে। তিনি ইব্রাহীম ইবনে আবু হাইয়্যার চেয়ে অধিক উত্তম। (তাহযীব দ্র:খ:১/পৃ:১৪৫)
* ইমাম বুখারী র. এর উস্তাদেরও উস্তাদ এবং স্বয়ং আবু শাইবা (ইব্রাহীম বিন উসমান) এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ইয়াযীদ ইবনে হারুন র. বলেন-ما قضى على الناس رجل يعنى فى زمانه أعدل قضاء منه অর্থাৎ আমাদের যুগে তাঁর (ইব্রাহীম বিন উসমান আবু শাইবা) চেয়ে বড় ন্যায়পরায়ণ বিচারক কেউ ছিলেন না। (তাহযীব:খ:১/পৃ:১৪৫)
এসব বিজ্ঞজনের মন্তব্যের কারণেই ইমাম (শু’বা র. যে كذب বলেছেন তার অর্থ ‘মিথ্যুক’ বলেননি বরং ‘ভুল করেন’ এ অর্থই স্বর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। একারণেই হাদীস বিশারদদের শ্রেষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ ইমাম আল্লামা যাহাবী র. ميزان الاعتدال গ্রন্থে শু’বার মন্তব্যকে অগ্রাহ্য বলেছেন। (খ:১/পৃ:৪৭)
সার কথাঃ ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীসের সনদে আবু শাইবা নামক যে বর্ণনকারী আছেন তিনি মিথ্যুক বলে কেউ মন্তব্য করেননি। শু’বা করে থাকলেও তা ইমাম যাহাবী অগ্রাহ্য করেছেন অথবা তিনি ‘কাযাবা’ বলে ক্ষ্যান্ত করেছেন। যার অর্থ ভুল করা, মিথ্যা বলা নয়।
কিন্তু পরিতাপের বিষয়! জনাব আলবানী সাহেব হাদীসটি ‘জাল’ আখ্যা দেয়ার জন্য আবু শাইবার ব্যাপারে শু’বার মন্তব্যটি ‘মিথ্যুক’ অর্থে চালিয়ে দেন। যারা তার ব্যাপারে ভাল মন্তব্য করেছেন তাদের কথা যেমন: ইমাম ইবনে আদী ইয়াযীদ ইবনে হারুন ও আল্লামা যাহাবী। এদের কথাগুলো উল্লেখ করেননি। এতেই তার মনগড়া উক্তির রহস্য উদ্ঘাটন হয়ে গেছে এবং এরকম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মন্তব্য করে একটি গ্রহণযোগ্য মজবুত হাদীস কে জাল বানিয়ে দিলেন فأين المشتكى؟ অথচ এ যাবতকাল পর্যন্ত কেউ হাদীসটি ‘জাল’ বলেননি বরং ইমাম বায়হাকী ও তাবরানী স্ব স্ব গ্রন্থে বিশ রাকাত তারাবীহর অনুচ্ছেদে উক্ত হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
৩. জনাব আলবানী সাহেব ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীসটি কে ‘জাল’ প্রমাণ করার তৃতীয় কারণ হিসেবে বলেন যে, আবু শাইবা তথা ইবনে আব্বাসের রা. হাদীসে নাকি বিশ রাকাত তারাবীহ রাসূল সা. রমজান মাসে জামাত ছাড়া আদায় করার বিবরণ রয়েছে। যা হযরত আয়েশা ও জাবের রা. এর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী। তাই উক্ত হাদীসটি ‘জাল’ নাউযুবিল্লাহ এমন কথা আমরা আলবানী সাহেব থেকে আশা করিনি।
প্রথম কারণ, উক্ত হাদীসটি আবু শাইবা থেকে তিনজন রাবী বর্ণনা করেছেন।
(ক) ইয়াযীদ বিন হারুন।
(খ) আলী ইবনুল জাদ।
(গ) মানসুর বিন আবু মুযাহীর।
এ তিনজনের মধ্যে প্রথম দুজন রাবী মানসুরের তুলনায় অত্যন্ত শক্তিশালী। মানসুর তাদের তুলনায় দুর্বল। বায়হাকী শরীফে মানসুরের বর্ণনায় ‘জামাত ছাড়া পড়তেন’ কথাটি উল্লেখ আছে। হাদীসটির ভাষ্য এ রকম-
عن إبن عباس قال :كان النبى ص فى شهر رمضان فى غير جماعة بعشرين ركعة والوتر( بيهقى : رقم ৪৬১৫)
তবে আবু শাইবার শীষ্যদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দুজন রাবী হাদীসটির বর্ণনা অনুসারে প্রাধান্য পাবে। তাহলে এবর্ণনাটি আয়েশা রা. ও জাবের রা. হাদীসের বিরোধী হলো কোথায়? বিষয়টি আলবানী সাহেবের অজানা নয় বরং শুধু পক্ষপাতিত্ব রক্ষা হচ্ছে এ সবের মূল কারণ।
দ্বিতীয়তঃ তাছাড়া ‘জামাত ছাড়া’ কথাটি ধরে নিলেও তা বিরোধী বলার প্রয়োজন কী ? রাসূল স. জামাতের সাথেও কয়েক রাকাত তারাবীহ পড়েছেন জামাত ছাড়াও পড়েছেন। আবার এক হাদীসের বর্ণনায় দেখা যায় কিছু নামায জামাতের সাথে পড়ার পর যখন দেখলেন মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, মাঝখানে জামাত ছেড়ে ঘরে প্রবেশ করলেন অবশিষ্ট তারাবীহ ঘরেই পড়লেন। সুতরাং সব হাদীসে একই ঘটনার বিবরণ থাকতে হবে তা না আয়েশা ও জাবের এর বর্ণনায় (আলবানীর কথা মত) জামাতের তারাবীহর বিবরণ এসেছে। আর না ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় জামাত ছাড়া যে তারাবীহ পড়েছেন সে তারাবীহ এর বিবরণ বিবৃত হয়েছে। এমতাবস্থায় পরষ্পর হাদীসগুলো বিরোধপূর্ণ হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
উপরোক্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ একথাটি মনগড়া নয়। হাফেজুল হাদীস আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী র. বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন: والظاهر إن هذا فى قصة أخرى (فتح البارى ৮:৩)
অর্থাৎ বাহ্যত এটা ভিন্ন কোন ঘটনা হয়ে থাকবে। হাদীসে আয়েশা ও হাদীসে ইবনে আব্বাসের ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন।
তৃতীয়তঃ অধিকন্তু জাবের রা.এর হাদীস যা আলবানী সাহেব বার বার ইবনে আব্বাসের হাদীসের সাথে বিরোধী বলে পেশ করেছেন, এটি ‘যয়ীফ’ হাদীস। যা ইবনে আব্বাসের হাদীসের সাথে বিরোধীতা করার শক্তি রাখেনা। আর হযরত আয়েশার হাদীসটি তাহাজ্জুদ সংক্রান্ত, তারাবীহর ব্যাপারে নয়।
চতুর্থঃ হাদীসটিতে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়ার কথা বিষয়টি উল্লেখ নেই বরং হাদীসটির মধ্যে বহু প্রমাণ বিদ্যমান যে তা হযরত আয়েশার ঘরের নামায ছিল, মসজিদের নয়। (এব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি) তাহলে দুই হাদীসে বিরোধ কোথায় ? বিরোধ না হলে আলোচ্য ২০ রাকাতের হাদীসটি ‘জাল’ হলো কোথায় আর বিরোধ হলেও সামাঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা হাদীস বিশারদের থেকে পাওয়ার পরও আমলযোগ্য মজবুত হাদীসটি ‘জাল’ হবে কিভাবে ? আসলে আলবানী সহেব যা বললেন অন্তত তাঁর মুখে এটা কখনো শোভা পায়না।
দ্বিতীয় দলিল খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত
প্রথমত ঃ খুলাফায়ে রাশেদীন তথা চার খলীফা আবুবকর, ওমর, উসমান, ও আলী রা.এবং সাহাবায়ে কিরামের আমল ও কর্মধারা অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরা হচ্ছেন নবী স. ও তার পরবর্তী উম্মতের মাঝে সেতুবন্ধন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এবং রাসূল স. তাঁর হাদীসের মাধ্যমে সাহাবায়ে কিরামকে সত্যের মাপকাঠি ঘোষণা করে তাদের মত ও পথের অনুসরণ অনুকরনের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- أمنو كما امن الناسতোমরা ঈমান আনয়ণ কর লোকেরা (সাহাবারা) যেভাবে ঈমান এনেছে। (সুরা বাকারা:১৩)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে- فان أمنو بمثل ما أمنتم به فقد اهتدوا তোমরা (সাহাবারা) যেভাবে ঈমান এনেছো তারা যদি সেরূপে ঈমান আনে নিশ্চিত তারা হেদায়াত পাবে।(সুরা বাকারা)
রাসূল স. ইরশাদ করেন-
تفرق أمتي علي ثلاث و ستون ملة كلهم في النار الا ملة واحدة قالوا من هي يا رسول الله قال ما انا عليه واصحابي ( ترمذي:২/৯৩)
অর্থাৎ আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। প্রতিটি দলই জাহান্নামে যাবে শুধু একটি দল নাজাত পাবে। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, কারা সেই নাজাত প্রাপ্ত দল ? রাসূল স. বললেন ‘আমি এবং আমার সাহাবাগণ যে পথ ও মতাদর্শের উপর ছিল ওই আদর্শের অনুসারীরাই নাজাতপ্রাপ্ত দল। (তিরমিযী খ:২/পৃ:৯৩)
বিশেষ করে সাহাবাদের মধ্যে রাসূলের চার খলীফার সুন্নাত আদর্শ ও আমল এবং আকীদাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার প্রতি রাসূল স. জোর তাকিদ দিয়ে বলেন-
فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌগ্ধ(سنن ابي داود: ৪/২০০،رقم: ৪৬০৭)
অর্থাৎ আমারপরে তোমাদের মধ্যে যে জীবিত থাকবে সে অচিরেই বিভিন্ন মত বিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার ও আমার খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত এবং আদর্শের অনুসরণ করবে। তা কঠোর ভাবে আঁকড়ে ধরবে। (আবুদাউদ:৪/২০০(৪৬০৭) তিরমিযী,ইবনে মাজাহ)
দেখুন, উপরোক্ত পবিত্র কুরআন ও হাদীসে সকল সাহাবা র. কে সত্যের মানদণ্ড এবং শরীয়তের বিধি নিষেধের ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণকে অপরিহার্য এবং তাঁদের সুন্নাত বিশেষত খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে নবীজী নিজের সুন্নাতের সমপর্যায়ের ঘোষণা দিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত ঃ আমরা ভূমিকায় বলেছি যে, খুলাফায়ে রাশেদীনের ব্যাপারে ওহীর মাধ্যমে রাসূল সা. এটা জেনেছিলেন যে, তাদের জারীকৃত যেকোন আমল বা সুন্নাত নবীজী স. এর বাণী সুন্নাতেরই অনুগামী হবে। একারণে নবীজী স. খুলাফাদের সুন্নাতকে মজবুতভাবে আকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। কাজেই উম্মতের সামনে যে কোন একজন খলীফায়ে রাশেদের সুন্নাত সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়ে গেলে তা অনুসরণের ক্ষেত্রে ভিন্ন কোন দলীলের প্রয়োজন হবে না; বরং নবীজীর উপরোক্ত নির্দেশমূলক হাদীসই যথেষ্ট হবে। এ ব্যাপারে খলীফায়ে রাশেদের সুন্নাতটি নবী স. এর শিক্ষা বা সুন্নাতের কোন্ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত তাও দেখার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে রাসূল স. এর এক হাদীসে আছে-
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الخِلاَفَةُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ سَنَةً، ثُمَّ مُلْكٌ بَعْدَ ذَلِكَ. (ترمذي: ২২২৬)
অর্থাৎ খেলাফতের মেয়াদ আমার ইন্তেকালের পর ত্রিশ বৎসর চলবে। (তিরমিযী ২২২৬)
এ ভবিষ্যদ্বানী হিসেবে খুলাফায়ে রাশেদীন চারজন তথা আবুবকর রা. ওমর রা. উসমান রা. এবং আলী রা.
উল্লেখ্য আলীর রা. শাহাদাত হয়েছে রাসূলের ত্রিশ বৎসর পর অর্থাৎ ৪০ হিজরীতে।
খলীফায়ে রাশেদ হযরত ওমর রা. এর মর্যাদা
এ চারজনের মধ্যে হযরত আবু বকর রা. এর পরেই হযরত ওমর রা. এর স্থান। নবীজী স. বিভিন্ন হাদীসে হযরত ওমর রা. এর মান ও মর্যাদা এভাবে বর্ণনা করেছেন-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ جَعَلَ الحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ وَقَلْبِهِ.
অর্থাৎ রাসূল স. বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হক ও সত্যকে ওমরের মুখ ও অন্তরে বদ্ধমূল করে দিয়েছেন। তিরমীযী-৩৬৮২
অপর হাদীসে রাসূল স. বলেন,
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ্রإِنَّ اللَّهَ وَضَعَ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ يَقُولُ بِهِ. (ابوداود: ২৯৬২) باب في تدوين العطاء.
অর্থ: আল্লাহ তাআলা সত্যকে ওমরের মুখে বদ্ধমূল করে দিয়েছেন। তিনি সর্বদা সত্যই বলে থাকেন। (আবু দাউদ-২৯৬২)
অন্য হাদীসে রয়েছে-
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ كَانَ نَبِيٌّ بَعْدِي لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ. (سنن الترمذي: ৩৬৮৬، باب في منافب ابي حفص عمر)
নবীজী স. বলেন, যদি আমার পরে কেউ নবী হতো তাহলে উমরই হতো। (তিরমিযী-নং ৩৬৮৬)
এসকল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা সাহাবাদের রা. মধ্যে বিশেষভাবে হযরত উমর রা. কে হক ও সত্য বলার বিশেষ যোগ্যতা প্রদান করেছিলেন। তাই সভাবগতভাবেই তিনি সর্বদা সত্য বলতেন এবং তার সকল কাজ ও সিদ্ধান্ত সঠিক ও আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অনুপাতেই হতো। একারণে প্রায় সতেরটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হযরত উমর রা. এর মতকে স্বয়ং ওহীর মাধ্যমে সত্যতার সনদ দিয়েছেন। হযরত উমরের প্রশংসা এখানে সামান্য আলোচনা এজন্য করলাম যে, বিশ রাকাত বিশিষ্ট তারাবীহর নামাযে একই ইমামের ইক্তিদায় জামাতের সহিত মসজিদে নববীতে ধারাবাহিক হযরত উমরই রা. চালু করেছেলেন। সকল সাহাবা রা. তার এই পদ্ধতিকে সমর্থন দেয়ায় এর উপর সাহাবা রা. দের (ইজমা) ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর উসমান ও আলী রা. এ ধারাবাহিকতা বহাল রেখে বিশ্বের সকল উম্মতের মধ্যে অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিক আমল(سنة متوارثة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
সুতরাং উমর রা. থেকে আরম্ভ করে খুলাফায়ে রাশেদার ধারাবাহিক সুন্নাত ইজমায়ে সাহাবা দ্বারা প্রমাণিত সকল উম্মতের ধারাবাহিক অবিচ্ছিন্ন আমলের মাধ্যমে তারাবীহ বিশ রাকাত সুন্নাহ হিসেবে গৃহীত। আমাদের জন্যও বিশ রাকাতের উপর আমল করা অপরিহার্য। একে যারা বিদআত বা মনগড়া আমল বলবে এবং বিশ রাকাতের কম পড়বে তারাই পথভ্রষ্ট এবং তাদের এ আমল সুন্নাত পরিপন্থি বলেই সাব্যস্ত হবে।
রাসূল সা. এর যুগে এবং খলীফা হযরত আবু বকর রা. এর যুগে তারাবীহর নামাযের অবস্থা ও তার ইতিকথা
সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদীস এবং অন্যান্য হাদীসের কিতাবে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল স. কখনো কখনো তারাবীহর নামায জামাতে পড়িয়েছেন, আবার কখনো কখনো এমন হয়েছে যে কয়েক রাকাত জামাতের সাথে পড়ে রুমে চলে গেছেন এবং একাকী নামায আদায় করেছেন।(দ্র:মুসলিম:১১০৪)
আবুদাউদ শরীফসহ বিভিন্ন কিতাবের হাদীস দ্বারা বুঝাযায় এক রমযানে রাসূল স. শুধু ২০,২৩,২৫ এবং ২৭ রমজান এ তিন রাত্র জামাতের সাথে তারাবীহ পড়িয়েছেন। প্রথম রাত্রে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত, দ্বিতীয় রাত্রে অর্ধরাত পর্যন্ত এবং তৃতীয় রাত্রে সাহরী পর্যন্ত তারাবীহ পড়িয়েছিলেন। অবশিষ্ট রাত্রগুলোতে একাকী-ই পড়েছেন এবং অধিকাংশ সময় জামাতে না পড়ার কারণটিও বলে দিয়েছেন خشية أن تفترض عليكم. অর্থাৎ জামাতের সাথে নিয়মিত তারাবীহ পড়লে এ নামাযটিও উম্মতের উপর ফরয হয়ে যাওয়ার আশংকা ছিল। এতে বুঝা যায় জামাতের সহীত পড়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু উপরোক্ত কারণে পড়েননি।
আল্লামা হাবীবুর রহমান আযমী র. বলেন- তারাবীহর নামায রাসূল স. এর কখনো জামাতের সাথে বা কখনো এককীভাবে গুরুত্ব সহকারে পড়া এবং রাসূলের মৌখিক হাদীস “سننت لكم قيامه” “আমি কিয়াম তথা তারাবীহকে সুন্নাত করেছি” দ্বারাই তারাবীহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হওয়ার প্রমাণবহন করে।
আর তারাবীহ জামাতের সাথে পড়া সুন্নাত কি না এ ব্যাপারে ফকীহদের দুটি মত রয়েছে-
ক) সুন্নাতে মুআক্কাদা। খ) সুন্নাতে যায়েদা।
যারা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলেন তাদের দলিল হচ্ছে- নবীজী স. যদিও প্রায় সময় একাকীই পড়েছেন, জামাতে পড়েননি। তবে জামাতে পড়ার অধিক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তা পড়তে পারেননি। জামাতে পড়ার আগ্রহটি আমলীভাবে জামাতের গুরুত্ব বুঝায়। বিধায় তা আমলে দায়েমীর অন্তর্ভূক্ত। (حكمي عمل دائمي) তাই জামাতে তারাবীহ পড়াও সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। পক্ষান্তরে অনেক ফকীহ গবেষকগণ জামাতে পড়াকে সুন্নাতে মুআক্কাদা বলেন না; বরং সুন্নাতে যায়েদাহ বলেন। কেননা, নবীজী স. এর পক্ষ থেকে জামাতে পড়ার ধারাবাহিকতা পাওয়া যায় না। সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ হলে রাসূল স. কখনো জামাত ত্যাগ করতেন না।
এ কারণে দেখা যায় রাসূল স. এর যুগে সাহাবায়ে কেরাম রা. এক ইমামের পিছনে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়ার গুরুত্ব দিতেন না। তারাবীহ ব্যক্তিগত পর্যায়ের আমল ছিল। কখনো একাকী, কখনো জামাতে পড়লেও পুরা নামায জামাতে পড়তেন না। কখনো পুরা পড়লেও জামাতের গুরুত্ব বা বাধ্যবাধকতা ছিলনা। এসব কারণে তারাবীহ রাসূল স. এবং তাঁর যুগে সাহাবা রা. কত রাকাত পড়তেন এ ব্যাপারে আলোচনা গবেষণা করার প্রেক্ষাপট তৈরী হয়নি। একারণেই মূলত সরাসরি রাসূল স.এর পক্ষ থেকে মারফু হাদীস (মৌখিক বা আমলী) ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়নি। হযরত ইবনে আব্বাস রা. সহ মাত্র কয়েকজন সাহাবী থেকে যে কয়টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে তা আলোচনায় না আসায় প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। এমতাবস্থায় হযরত আবু বকর রা. ও উমর রা. এর খেলাফতের প্রথম কয়টি বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। সকলেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে তারাবীহ আদায় করতেন। এক ইমামের ইক্তিদায় জামাতে পড়ার কোন পাবন্দী করতেন না। উমরের খেলাফতকালে যখন এক ইমামের পিছনে মসজিদে নববীতে জামাতের সাথে তারাবীহ গুরুত্বসহকারে আরম্ভ হলো তখনই রাকাতের বিষয়টি আলোচনায় আসলো এবং সাহাবীগণ ইবনে আব্বাসের হাদীসটির ভিত্তিতে বিশ (২০) রাকাতের উপর একমত হয়ে তারাবীহ পড়া আরম্ভ করলেন।
খলীফায়ে রাশেদ হযরত উমর রা. এর যুগে তারাবীহ
রাসূল সা. এর দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা. এর খেলাফতের প্রথম ছয় বছর ছিল ইসলামী বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ভভ সকল ফিতনা দমনের কাল। পুরা ইসলামী জগত রোম ও ইরানের আক্রমণ থেকে নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল করে শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে মনযোগ দেন।
রমযানের একরাতে তিনি মসজিদে নববীতে গিয়ে দেখতে পান যে, মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় জামাতের সাথে তারাবীহ পড়া হচ্ছে। তিনি সকলকে একত্রিত করে এক ইমামের পিছনে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়ার নির্দেশ দিলেন এবং উবাই বিন কা’ব রা. কে ইমামতির দায়িত্ব দিলেন। ‘আদ্দুরুল মানছুর’ (الدر المنثور) কিতাবে সূরা কদর এর তাফসীরে উল্লেখ আছে যে, হযরত উমর রা.তারাবীহর এ নিয়ম চালু করার ক্ষেত্রে হযরত আলী রা. এর সাথে পরামর্শ করেছেন।
প্রথম দিকে হযরত ওমর রা. লম্বা কেরাত তিলাওয়াতের মাধ্যমে সাহরীর পূর্ব পর্যন্ত নামাজের জামাত চালাতে নির্দেশ দিয়েছেলেন এবং ইমামকে এগার (১১) রাকাত পড়ানোরও পরামর্শ দেন। যা ‘মুয়াত্তা মালেক’ গ্রন্থের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। (দ্র: পৃ:৪০) ধারণা এই ছিল যে, রাসূল স. রমযানের রাতে যে নামায জামাতের সাথে মাঝে মধ্যে পড়েছেন বা একাকী পড়েছেন তা তাহাজ্জুদই ছিল। এতএব, তাহাজ্জুদ ভিন্নভাবে পড়ার দরকার নেই। অতপর এহাদীসে পরিলক্ষিত হলো যে, নবীজী স. রমযানের রাতে ২/৩ দিন যে নামাযটি জামাতের সাথে পড়িয়েছিলেন তাতে তিনি বিশ রাকাত পড়িয়েছিলেন। যেমন ‘আল-তালখীসুল হাবীর’ ও ‘বায়হাকী শরীফে’র হাদীসে এসেছে। তাই হযরত উমর কেরাতকে সংক্ষিপ্ত করে রাকাতের সংখ্যা বৃদ্ধি করে বিশ রাকাত পড়ানোর নির্দেশ দিলেন। এবং রাতের প্রথম অংশেই নামায শেষ করে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ ভিন্নভাবে পড়ার নির্দেশও প্রদান করলেন। সহীহ বুখারী হাদীস নং ২০১০ এ পাওয়া যায় যে, সর্বশেষ নামাযের নিয়ম চালুর নির্দেশ প্রদানের পর একদা হযরত উমর রা. মসজিদে নববীতে আসেন এবং দেখেন যে উবাই বিন কা’বের ইক্তিদায় সমস্ত মুসলমান জামাতের সাথে তারাবীহ পড়ছেন। তা দেখে তিনি অতি মূল্যবান অর্থবহ বাক্য উচ্চারণ করলেন-
قَالَ عُمَرُ: ্রنِعْمَ البِدْعَةُ هَذِهِ، وَالَّتِي يَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي يَقُومُونَগ্ধ يُرِيدُ آخِرَ اللَّيْلِ وَكَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ أَوَّلَهُ (صحيح البخاري: ২০১০) باب فضل من قام رمضان.
অর্থাৎ তারাবীহর এ নতুন নিয়মটি কতই না চমৎকার। মূলত হযরত উমর রা. এই বাক্য দ্বারা দুটি সংশয়ের জবাব দিয়েছেন।
১. হযরত উমর রা. এক ইমামের পিছনে জামাতের সাথে পুরা রমযান তারাবীহর নামায চালু করলেন। ইতোপূর্বে কেউ জামাতের প্রতি এমন গুরুত্ব প্রদান করেন নি। তাহলে এ নতুন নিয়মটি বিদআত হচ্ছে কি না?
২. এ নামাযটি রাতের প্রথম অংশেই শেষ হয়ে যায় এটা হয়তো তাহাজ্জুদের নামায।
আর তাহাজ্জুদই যদি হয় তাহলে তার সময় তো রাতের শেষাংশে অথচ প্রথমাংশে
পড়া হচ্ছে এ নিয়মটি বিদআত নয় তো ?
এসব নিয়ে কিছু গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছিল। হযরত উমর রা. উপরোক্ত বাক্য দ্বারা উভয় সংশয়ের জবাব এ ভাবে দিলেন যে, যদি কেউ মনে করে জামাতে এক ইমামের সাথে তারাবীহর নিয়ম চালু করা বিদআত। হ্যাঁ আমি এটি জেনে শুনেই করেছি কারণ, এটি নতুন নিয়ম হলেও রাসূল স. এর শিক্ষাই তার ভিত্তি বা আসল। আর তা হচ্ছে, ২/৩ দিন যাই হোক রাসূল স. সকলকে নিয়ে তারাবীহর জামাত করেছেন। যদিও ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার ধারাবাহিকতা রাখেন নি। এখন ওহীর পথ খোলা নেই, আসবেনা নতুন কোনো শরীয়ত। তাই যে আশঙ্কা রাসূল স. এর জীবনে বিদ্ব্যমান ছিল তা এখন আর নেই। এ কারণে এটা আভিধানিক অর্থে বিদআত তথা নতুন কাজ হতে পারে; কিন্তু শরয়ী পারিভাষিক অর্থে বিদআত নয় বরং খুবই ভাল ও চমৎকার কাজ। (نِعْمَ البِدْعَةُ هَذِه) তেমনিভাবে যারা বলছেন তাহাজ্জুদকে সময়ের পূর্বে রাতের প্রথমাংশে পড়ার নতুন নিয়ম চালু হয়েছে যা রাসূলের যুগে ছিল না। তাদের সংশয়ের জবাবে উমর রা. বলেন- وَالَّتِي يَنَامُونَ عَنْهَا أَفْضَلُ مِنَ الَّتِي يَقُومُونَ অর্থাৎ তাহাজ্জুদকে প্রথমাংশে আনা হয়নি। কেননা, এটা তাহাজ্জুদ নয় এটা (قيام الليل) তারাবীহ। শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে হবে যা (صلوة الليل). সালাতুল লাইল। এদুটি ভিন্ন ভিন্ন নামায এক নয়। তাই আপনারা এখন জামাতের সাথে যে নামায পড়ছেন তার থেকে অধিক ফযীলতপূর্ণ ঐ নামায যা আদায় না করে শেষরাতে অনেকে সাহরী খেয়ে ঘুমিয়ে যান। বুখারী শরীফের এক বর্ণনায় উমর রা. এর বক্তব্যে সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে তারাবীহ আর তাহাজ্জুদ এক নয় স¤পূর্ণ ভিন্ন নামায। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে আব্দিল বার র. মুয়াত্তা মালেকের সু-খ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘আল-তামহীদে’ উল্লেখ করেন যে, উমর রা. এখানে নতুন কিছুই করেন নি বরং তিনি তা-ই করেছেন যা স্বয়ং রাসূল স. পছন্দ করতেন। রাসূল স. উম্মতের উপর তারাবীহ ফরয হওয়ার আশঙ্কায় অধিক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জামাতে ধারাবাহিকভাবে করতে পারেন নি। সে পছন্দের কাজটি উমর রা. করেছেন (কেননা রাসূল স. এর ওফাতের পর আর ঐ আশঙ্কা বিদ্যমান নেই) দ্র: খ:৮/পৃ:১০৮
হাফেজ ইবনে আব্দিল বার র. উপরোক্ত ঘটনা (উমর প্রথমে এগার (১১) রাকাত চালু করেছিলেন পরে বিশ রাকাত চালু করলেন এবং কেরাত সংক্ষিপ্ত করতে বললেন) এর সমর্থনে বলেন:
قال ابن عبد الله روي مالك في هذا الحديث احدي وعشرين وهو صحيح ولا اعلم احدا قال فيه احدي عشرة الا مالكا ويحتمل أن يكون ذلك اولا ثم خفف عنه طول القيام ونقلهم الي احدي وعشرين.
তারাবীহ একুশ (২১) রাকাতের কথাই সহীহ ও সঠিক। কারণ এগার রাকাতের কথা ইমাম মালেক ছাড়া অন্য কেউ বলেছেন বলে আমার জানা নেই। তবে এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, প্রথমে এগার (১১) রাকাত চালু করেছিলেন (খুব দীর্ঘ কেরাতের সাথে) পরে দীর্ঘ কেরাত সংক্ষেপ করে এগার (১১) রাকাতকে বিশ (২০) রাকাতে পরিণত করা হয়েছে। (ফাতহুল মূলহিম:২/৩০)
অবশেষে হযরত উমর রা. এর বিশ (২০) রাকাত বিশিষ্ট তারাবীহর জামাত চালু করার নির্দেশের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা র. এর মন্তব্য-
وَرَوَى أَسَدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي يُوسُفَ قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا حَنِيفَةَ عَنِ التَّرَاوِيحِ وَمَا فَعَلَهُ عُمَرُ؟ فَقَالَ: التَّرَاوِيحُ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ وَلَمْ يَتَخَرَّصْهُ عُمَرُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِهِ وَلَمْ يَكُنْ فِيهِ مُبْتَدِعًا، وَلَمْ يَأْمُرْ بِهِ إِلَّا عَنْ أَصْلٍ لَدَيْهِ وَعَهْدٍ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -، وَلَقَدْ سَنَّ عُمَرُ هَذَا وَجَمَعَ النَّاسَ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ فَصَلَّاهَا جَمَاعَةً وَالصَّحَابَةُ مُتَوَافِرُونَ (الاختيار للموصلي: ১/৭৪، باب صلاة التراويح)
ইমাম আবু ইউসুফ বলেন- আমি ইমাম আবু হানীফা র. কে তারাবীহ এবং উমর রা. এর নিয়ম চালুর নির্দেশ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তারাবীহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং উমর রা. তা নিজের পক্ষ থেকে অনুমান করে নির্ধারণ করেন নি। নতুন কিছু আবিষ্কারও করেননি; বরং তার কাছে এর দলিল ছিল এবং রাসূল স. থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার ভিত্তিতেই এ আদেশ দিয়েছেন। (আল ইখতিয়ার: খ:১ পৃ:৭৪)
সার কথা: হযরত উমর রা. যে নতুন কাজের সূচনা করছিলেন তথা জামাতের ইহতিমাম করা, বিশ রাকাত পড়তে বলা, রাতের প্রথমাংশে তারাবীহ শেষ করা, সবগুলো রাসূলের হাদীস ও তার নির্দেশনার ভিত্তিতেই করেছেন।
খলীফা উমর রা. এর যুগে বিশ রাকাত তারাবীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত
প্রথম হাদীস :
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: ” كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً ” (السنن الكبري للبيهقي: ২/৮৯৬، رقم: ৪২৮৮)
অর্থাৎ: সায়েব বিন্ ইয়াযীদ রা. বলেন, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর আমলে সাহাবায়ে কেরাম রা. রমযান মাসে বিশ রাকাত (তারাবীহ) পড়তেন। (বায়হাকী, সুনানে কুবরা: খ:২ পৃ:৮৯৬)
পর্যালোচনা: এ হাদীসটিতে ইয়াযীদ ইবনে খুসায়ফা নামে একজন রাবী রয়েছেন। ইমাম বায়হাকী থেকে রাবী ইয়াযীদ বিন খুসায়ফা পর্যন্ত দুটি সনদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এক সনদে হাদীসটি সুনানে কুবরায় উল্লেখ করেছেন যা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। অপর সনদটি তিনি আসসুনানুল কুবরাসহ আল-মা’রিফা গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন। যার ইবারত-
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: ্রكُنَّا نَقُومُ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً وَالْوِتْرِগ্ধ (معرفة السنن: ৫৪০৯)
সুনানে কুবরার উপরোক্ত সনদের হাদীসটিকে যারা সহীহ বলেছেন তারা হচ্ছেন ইমাম নববী র., আল্লামা ইরাকী র., হাফেজ আইনী র., হাফেজ জালাল সুয়ুতী র. এবং আল্লামা নিমাভী র. প্রমুখ। আর অপর সনদ তথা আল-মা’রিফা গ্রন্থের হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন- তাজুদ্দীন সুবকী র. এবং মোল্লা আলী আল-কারী র. প্রমুখ। সুতরাং হাদীসটি তার উভয় সনদের দিক দিয়ে বিশিষ্ট হাদীস বিশারদদের দৃষ্টিতে সহীহ এবং নির্ভরযোগ্য।
সহীহ হাদীস কে লা-মাযহাবীদের যয়ীফ বলার চক্রান্ত
লা-মাযহাবীরা মিযানুল ই’তেদাল ও তাহযিবুত তাহযীব গ্রন্থের বরাতে ভিত্তিহীন ভাবে মনগড়া মন্তব্য করে হাদীসটিকে যয়ীফ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বলেন যে, উক্ত হাদীসের সনদে ১নং রাবী (আবু উসমান বাসরী) ২নং রাবী (খালিদ বিন মাখলাদ) এবং ৩নং রাবী (ইয়াযীদ বিন খুসায়ফা) অস্বীকৃত, যয়ীফ ও প্রত্যাখ্যাত।
অথচ এদের মধ্যে খালেদ ও ইয়াযীদ দুজনই বুখারী ও মুসলিমের রাবী। তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হলে বুখারী মুসলিমে তাদের রেওয়ায়েতগুলো আসল কীভাবে ? তাহলে বুখারী ও মুসলিমের এ হাদীসগুলো কি প্রত্যাখ্যাত ? তদুপরী তারা যে দুটি কিতাবের বরাতে এদের সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন কিতাবগুলো খুলে দেখুন উক্ত রাবীর ব্যাপারে এধরণের কোনো সমালোচনা এসব কিতাবে পাওয়া যাবে না। এটাই লা-মাযহাবীদের আসল চেহারা। মনমতো না হলে বুখারীর হাদীসকেও যয়ীফ বা প্রত্যাখ্যাত বলতে দ্বিধা করেনা।
১. খালিদ বিন মাখলাদ র. সম্পর্কে বিশিষ্ট মুহাদ্দিস উসমান বিন আবী শাইবা র. সালেহ বিন মুহাম্মদ র. ইবনে হিব্বান র. ইবনে শাহীন র.সহ অনেকে বলেছেন তিনি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য। ইবনে মঈন বলেছেন তার ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই। আবু দাউদ এবং ইবনে হাজার বলেছেন তিনি সত্যবাদী। ইবনে আদী বলেছেন তার মধ্যে কোন রকম সমস্যা নেই, ইমাম বুখারী তার সরাসরি ছাত্র।
হ্যাঁ, শুধু ইমাম আহমদ একটি ব্যতিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, (له مناكير) তার কিছু কিছু বর্ণনা আপত্তিকর।
উল্লেখ্য, ইমাম আহমদের মন্তব্যে তার বর্ণনা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোন প্রভাব পড়বেনা। কারণ তিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ। বুখারী মুসলিমে তার হাদীস রয়েছে। তা ছাড়া হাদীসের বিজ্ঞ মণিষীগণ তার প্রশংসা করেছেন এদের মোকাবেলায় ইমাম আহমদ র. এর মন্তব্য ধর্তব্য নয়।
উপরন্তু তার কিছু বর্ণনা ইমাম আহমদের কথা অনুসারে আপত্তিকর হলেও আমাদের আলোচ্য হাদীসটি তার আওতাভূক্ত নয়।
কারণ, এ হাদীসটি বিভিন্ন সনদে তিনি ছাড়া আরো অনেক বিশ্বস্ত রাবীদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।
২. ইয়াযীদ ইবনে খুসায়ফা র. এর ব্যাপারে হাদীস বিশারদদের মন্তব্য নিম্নরূপ:
ইমাম আবু হাতিম আবরাজী র. ইমাম নাসায়ী র. ও ইমাম ইবনে সা’দ র. তাকে ‘সিকাহ’ নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইমাম ইবনে মাঈন র. বলেছেন (ثقة حجة) অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও দলিলযোগ্য। ইমাম আহমদ র. থেকে তার সম্পর্কে দু ধরণের মন্তব্য পাওয়া যায়। এক, তিনি ‘সিকাহ’ নির্ভরযোগ্য। দুই. তিনি ‘মুনকারুল হাদীস’ অর্থাৎ তার কিছু হাদীস আপত্তিকর। এটা বাক্যটির অনুবাদ; কিন্তু ইমাম আহমদের পরিভাষায় এর অর্থ হচ্ছে তিনি কোন হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে একক ও নিঃসঙ্গ। (দ্র: মুকাদ্দামায়ে ফাতহুল বারী)
৩. আবু উসমান র. তার নাম আমর ইবনে আব্দুল্লাহ। তিনি বিশিষ্ট মুহাদ্দিস আবু তাহির ও হাসান ইবনে আলী র. এর উস্তাদ। তারা বহু হাদীস তার থেকে গ্রহণ করেছেন। তার ব্যাপারে (متروك) প্রত্যাখ্যাত বা যয়ীফ বলে কোন মুহাদ্দিস মন্তব্য করেনি। লা-মাযহাবী বন্ধুরা তার ব্যাপারে যা বলেছেন সবই মনগড়া। এধরণের বহু রাবীর হাদীস বুখারীতেও আনা হয়েছে তাছাড়া আমাদের আলোচ্য হাদীসটি আবু উসমান ব্যতিত অন্যান্য নির্ভরযোগ্য রাবীদের সনদেও বর্ণিত হয়েছে। এ ছিল লা-মাযহাবীদের চক্রান্তের উপর সামান্য পর্যালোচনা।
সারকাথা: হযরত উমর রা. যে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়ার নিয়ম চালু করেছিলেন এবং সাহাবায়ে কিরাম যে ওই যুগে বিশ রাকাত তারবীহ পড়তেন এনিয়ে সায়েব বিন ইয়াযীদ র. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি সকল মুহাদ্দিসের দৃষ্টিতে সহীহ এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। তাই এ হাদীস ও তার সমর্থনে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসের ভিত্তিতে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হলো যে উমর রা. এর যুগেই আনসার ও মুহাজির সকল সাহাবা মসজিদে নববীতে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। এতে তাদের কেউ আপত্তি করেন নি। আম্মা আয়েশা রা. এর হুজরা মোবারকের সামনেই বিশ রাকাতের আমল যুগ যুগ ধরে চালু ছিল তিনি ও কোন আপত্তি করেন নি। কেননা তিনি জানতেন যে, বুখারীতে বর্ণিত “এগার (১১) রাকাতের বেশী পড়েন নি” মর্মে যে, হাদীস তিনি বর্ণনা করেছেন তা তাহাজ্জুদ সম্পকীয়। তারাবীহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। একেই সাহাবীগণের ইজমা বা সম্মিলিত কর্মধারা বলা হয়।
২নং হাদীস তাবেঈনদের বর্ণনা
ক. হযরত ইয়াযীদ ইবনে রূমান র. এর হাদীস-
عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ؛ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ (১) عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فِي رَمَضَانَ، بِثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً (موطأ لامام مالك: رقم: ৩৮০)
উমর রা. এর যুগে মানুষ (সাহাবা ও তাবেঈন) রমযানে তেইশ রাকাত (তারাবীহ ২০ রাকাতা বিতর ৩ রাকাত) পড়তেন। (মুয়াত্তা মালেক ৪০ নং ৩৮০, আসসুনানুল কুবরা বায়হাকী: ২/৪৯৬)
খ. তাবেয়ী হযরত ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী র. এর হাদীস :
عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، ্রأَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَمَرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِهِمْ عِشْرِينَ رَكْعَةًগ্ধ (مصنف ابن ابي شيبة:২/২৮৫،رقم: ৭৬৮২)
হযরত উমর রা. এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত (তারাবীহ) আদায় করেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা:খ:২/পৃ:২৮৫)
গ. তাবেয়ী হযরত আব্দুল আযীয ইবনে রুবাই র. এর হাদীস:
عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ قَالَ: ্রكَانَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فِي رَمَضَانَ بِالْمَدِينَةِ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَيُوتِرُ بِثَلَاثٍগ্ধ (مصنف ابن ابي شيبة: ২/২৮৫،رقم: ৭৭৬৬)
হযরত উমর রা. কর্তৃক নিয়োজিত ইমাম উবাই বিন কা’ব রা. সম্পর্কে ইবনে কা’ব র. বলেন যে, তিনি রমযানে মদীনা শরীফে লোকদেরকে(সাহাবা ও তাবেঈন) নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (দ্র: মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা : খ:২/ পৃ:২৮৫/ হা:৭৭৬৬)
ঘ. তাবেয়ী মুহাম্মদ বিন কা‘ব আল কুরাযী র. এর হাদীস :
্রكَانَ النَّاسُ يُصَلُّونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً يُطِيلُونَ فِيهَا الْقِرَاءَةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلَاثٍগ্ধ (قيام الليل للمروزي: ৯১)
মুহাম্মদ ইবনে কা‘ব আল কুরাযী র. বলেন, হযরত উমর এর যুগে রমযানে লোকেরা (সাহাবা ও তাবেয়ী) বিশ রাকাত পড়তেন। তাতে তারা দীর্ঘ কেরাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (কিয়ামূল লায়ল: পৃ:৯১)
এ হলো তাবেঈন কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের আলোকে হযরত উমর রা. এর যুগে বিশ রাকাত তারাবীহর প্রমাণ।
এ ধরণের আরো বহু হাদীস পাওয়া যায়। যেগুলোর সারমর্ম এক ও অভিন্ন। তাই এগুলোর মূল বক্তব্য সহীহ ও মুতাওয়াতিরের পর্যায়ের। সুতরাং হযরত উমর রা.-এর যুগ থেকে সাহাবা ও তাবেয়ীর ধারাবাহিক আমল যে বিশ রাকাত তারাবীহর উপর ছিলো তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। যাতে কোনো দ্বিধা দ্বন্দের অবকাশ নেই।
খলীফায়ে রাশেদ: হযরত উমর রা.-এর সুন্নাতের ব্যাপারে লা-মাযহাবীদের দ্বিমুখী বক্তব্য
লা-মাযহাবীরা এ ব্যাপারে স্ববিরোধী কথা বলে থাকেন। যেমন: এক সময় বলেন যে, বিশ রাকাত তারাবীহ হযরত উমর রা. থেকে প্রমাণিত নয়। এ ব্যাপারে যেসব হাদীস উপরে পেশ করা হলো এগুলো ‘যয়ীফ’ তথা আমল অযোগ্য। আবার কখনো বলেন, এটা হযরত উমরের কর্ম ও আমল যার পিছনে উমর রা.-এর অনুমোদন ছিলো না। আবার বলেন যে, হযরত উমর নিজেই উবাই ইবনে কা‘বকে এগার রাকাত পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইত্যাদি।
আমরা বলতে চাই, মেনে নিলাম তিনি এগার রাকাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার বলুনতো তার আদেশ লঙ্ঘন করে কারা বিশ রাকাত তারাবীহর নির্দেশ চালু করেছিলেন ? যার কারণে সাহাবা তাবেয়ী সকলেই যুগ যুগ ধরে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়ে আসছেন। আর হযরত উমর রা.-এর আমলের ভিত্তি যদি রাসূলের কোনো সমর্থনই না থেকে থাকে তাহলে বলুনতো (عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين) অর্থাৎ তোমরা আমার সুন্নাত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত শক্ত হাতে আকঁড়ে ধরো। এ হাদীসের উদ্দেশ্য কী ? দেখুন, আল্লামা ইবনুল হুমাম কী চমৎকার কথা বলেছেন:
وَكَوْنُهَا عِشْرِينَ سُنَّةُ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ وَقَوْلُهُ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – ্রعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَগ্ধ نَدْبٌ إلَى سُنَّتِهِمْ. (فتح القدير: ১/৪৮৬)
বিশ রাকাত তারাবীহ খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত। আর রাসূলের বাণী “তোমরা আমার সুন্নাত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে ভালোভাবে আঁকড়ে ধরো” দ্বারা তাদের সুন্নাতের প্রতি গুরুত্বারোপ ও উৎসাহিত করা হয়েছে। (দ্র: ফাতহুল কাদীর ১/৪৮৬)
থেকে যায় তাবেয়ীন কর্তৃক উপরোল্লিখিত বর্ণনা বা হাদীসগুলো ‘যয়ীফ’ তথা মান্য করার অযোগ্য হওয়ার বিষয়টি।
তাবেয়ীনদের বর্ণনাগুলো ‘যয়ীফ’ বা অগ্রহণযোগ্য নয় কেন ?
উপরে ক. থেকে ঘ. পর্যন্ত যে কয়টি তাবেয়ীদের বর্ণনা পেশ করা হয়েছে এদের অনেকেই হযরত উমর রা.-এর যুগ পাননি। আবার কার থেকে বর্ণনা করলেন তাও তারা বলেননি। এসব কারণে হাদীসগুলো মুনকাতি (منقطع) বা মুরসাল (مرسل) তথা সূত্র বিচ্ছিন্ন বলা হয়। কিন্তু এ ধরণের তাবেয়ীর উস্তাদ পর্যায়ে যেহেতু কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী ছিলো না বললেই চলে তাই তাদের মুরসাল হাদীসগুলো গ্রহণযোগ্য। তদুপরি হাদীসটি একাধিক তাবেয়ী থেকে বর্ণিত এবং একটি সহীহ হাদীসও এ বক্তব্যের সমর্থনে বিদ্যমান। তাই এগুলো অগ্রহণযোগ্য বলা হাদীস শাস্ত্রের বিধান লঙ্ঘন। তা ছাড়া মূল হাদীস তো সাহাবী ‘সায়েব ইবনে ইয়াযীদ’ কর্তৃক বর্ণিত। আর এগুলো ওই হাদীসের সমর্থক বা অতিরিক্ত সাক্ষী হিসেবে গণ্য। উপরন্তু তাবেয়ীদের এসব বর্ণনাগুলোর সমর্থনে (تعامل امت) তথা “উম্মাহর অবিচ্ছিন্ন সম্মিলিত কর্মধারা” বিদ্যমান থাকায় এগুলো প্রামাণ্য ও গ্রহণযোগ্য। হাদীস শাস্ত্রের নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরণের মুনকাতি বা মুরসাল হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়ার উপর কারো কোনো দ্বিমত নেই। এগুলোকে লা-মাযহাবীরা যয়ীফ বলে আখ্যা দেয়া তাদের মারাত্মক অজ্ঞতার বহি:প্রকাশ ও হাদীসের ব্যাপারে জালিয়াতি। তাছাড়া এসব হাদীসকে কোনো মুহাদ্দিস যয়ীফ বলেননি।
দেখুন- এব্যাপারে লা-মাযহাবীদেরই মান্যবর শীর্ষ আলেম শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া র. কী বলেছেন-
قال ابن التيمية: المرسل الذي ما يوافقه أو الذي عمل به السلف حجة باتفاق الفقهاء. (مجموع الفتاوي، منهاج السنة)
তিনি বলেন, যে মুরসালের (সূত্রবিচ্ছিন্ন) অনুকূলে অন্য কোনো প্রমাণ পাওযা যায় কিংবা পূর্বসূরীগণ যার অনুসরণ করে থাকেন। তাহলে তা ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে দলিল হিসেবে গৃহীত হবে। (মাজমূউল ফতোয়া খ.২৩ পৃ. ২৭১ মিনহাজুস সুন্নাহ খ.৪/১১৭)
‘মাজমুউল ফতোয়া’ গ্রন্থে তিনি উমর রা.-এর যুগে মসজিদে নববীতে যে বিশ রাকাত তারাবীহ হতো এ সম্পর্কে বলেন-
فَإِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ. فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ؛لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ.(مجموع الفتاوي: ২৩/১১২-১৩)
এ বিষয়টি প্রমাণিত যে, উবাই বিন কা‘ব রা. (যিনি উমরের নিযুক্ত ইমাম ছিলেন) রমযানে তারাবীহতে মুসল্লিদের নিয়ে বিশ রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। তাই অসংখ্য আলেমের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, এটাই সুন্নাত। কেননা, তিনি মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের উপস্থিতিতেই তা আদায় করেছিলেন অথচ কেউ তাতে আপত্তি করেনি। (দ্র: মাজমাউল ফতোয়া Ñ ২৩/১১২-১১৩)
ইবনে তাইমিয়া আরো বলেন-
قال ابن التيمية: ثبت من سنة الخلفاء الراشدين وعمل المسلمين. (مجموع الفتاوي)
অর্থাৎ (বিশ রাকাত তারাবীহ ) খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত এবং মুসলিম জাতির সম্মিলিত কর্মধারায় এটি প্রমাণিত। (দ্র. খ.২৩/১১৩)
হযরত আবুল আলিয়া র. থেকে বর্ণিত-
عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ عُمَرَ أَمَرَ أُبَيًّا أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فِي رَمَضَانَ فَقَالَ إِنَّ النَّاسَ يَصُومُونَ النَّهَار وَلَا يحسنون أَن (يقرؤا) فَلَوْ قَرَأْتَ الْقُرْآنَ عَلَيْهِمْ بِاللَّيْلِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَذَا (شَيْءٌ) لَمْ يَكُنْ فَقَالَ قَدْ عَلِمْتُ وَلَكِنَّهُ أَحْسَنُ فَصَلَّى بِهِمْ عِشْرِينَ رَكْعَة (إِسْنَاده حسن) (مسند احمد بن منيع، المختارة لضياء المقدسي)
হযরত উমর রা. উবাই রা.কে রমযানে লোকদের নিয়ে নামায পড়তে আদেশ দিলেন এবং এ কথা বললেন যে, লোকরা দিনভর রোযা রাখে তারপর সুন্দরভাবে কুরআন পড়তে পারে না। তাই আপনি যদি রাতে তাদেরকে নিয়ে কুরআন পড়তেন। তিনি তখন বললেন, আমি জানি যে এটা অনেক ভালো কাজ। এরপর উবাই রা. লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়লেন। (দ্র. আল মুখতারা ১১৬১)
হাদিসটির মান: ‘হাসান’ এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে যে, জামাতে পড়ার ক্ষেত্রে তিনি আপত্তি করলেও কিন্তু বিশ রাকাতের ব্যাপারে কোনো আপত্তি উবাই রা. করেননি। অথচ বিশ রাকাতের বিষয়টি শরীয়তের বিষয়। যা কেউ নিজ থেকে নির্ধারণ করতে পারে না। বুঝা গেলো, হযরত উমর রা. কর্তৃক বিশ রাকাত তারাবীহ রাসূলের পরোক্ষ নির্দেশেই হয়েছে এবং বিশ রাকাত যে মসজিদে নববীর ইমাম উবাই পড়তেন তাও সর্বস্বীকৃত। এ হাদীস দ্বারা তাবেয়ীদের উপরোক্ত হাদীসগুলোর জোরালো সমর্থন পাওয়া গেলো। আর উমর রা.-এর যুগে যে বিশ রাকাত তারাবীহর নিয়ম চালু হয়েছিলো তাতে স্বয়ং উবাইও আপত্তি করেননি।
এসব দলিল প্রমাণ দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, বিশ রাকাত বিশিষ্ট তারাবীহ হযরত উমর রা-এর যুগে পড়া হতো। সাহাবাগণ ও তাবেয়ীগণ সকলেই পড়েছেন। একথা কিছু লা-মাযহাবি ছাড়া সারা পৃথিবীর সকল আলেম ও ফকীহ মুহাদ্দিস এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন।
হযরত উসমান রা. এর যুগ
১৪ হিজরি থেকে উমর রা. এর শাহাদাত বরণ পর্যন্ত দশ বছর উসমানের রা. উপস্থিতিতেই তারাবীহ বিশ রাকাত পড়া হয়েছে। তিনি তারাবীহর রাকাত সংখ্যা নিয়ে আপত্তি করেন নি। যা তার সম্মতির লক্ষণ। তাছাড়া তিনি যদি তার
খেলাফতকালে নতুন নির্দেশ জারি করতেন তাহলে তা অবশ্যই ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষিত থাকতো।
হযরত আলী রা. এর যুগ
হযরত আলী রা. বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন এবং লোকদেরকেও বিশ রাকাত পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দুটি বর্ণনা দ্বারা তা প্রমাণিত হয়।
ক.
عن أبي عبد الرحمن السلمي عن على رضي الله عنه قال : دعا القراء في رمضان فأمر منهم رجلا يصلي بالناس عشرين ركعة قال وكان علي رضي الله عنه يوتر بهم
অর্থ: আবু আব্দুর রহমান সুলামী র. হযরত আলী রা. সম্পর্কে বলেন, তিনি রমযানে হাফেজদেরকে ডাকলেন এবং তাদের একজনকে লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহর নামায পড়ার নির্দেশ দিলেন। আলী রা. নিজে তাদেরকে নিয়ে বিতর পড়তেন। (বায়হাকী: ২/৪৯৬)
খ.
عن أبي الحسناء : أن عليا أمر رجلا يصلي بهم في رمضان عشرين ركعة.
আবুল হাসনা বলেন, আলী রা. একজনকে নির্দেশ দিয়েছেন রমযানে তাদেরকে নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহর নামায পড়তে। (ইবনে আবী শাইবা: ৫/২২৩-নং৭৭৬৩)
এসমস্ত হাদীস দ্বারা খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া প্রমাণিত হয়। আর তাদের আমল আমাদের জন্য অনুসরণীয়। কারণ রাসূল স. ইরশাদ করেছেন-
عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين. عضوا عليها بالنواجذ. وإياكم والأمور المحدثات. فان كل بدعة ضلالة
অর্থাৎ, তোমাদের জন্য আমার সুন্নাত ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অনুসরণ জরুরি। তোমরা তা পরিপূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরো। (ইবনে মাজা: পৃ:৫, আবু দাউদ)
এ হাদীসে রাসূল স. ও সাহাবাদের আদর্শকে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে যারা তা গ্রহণ করবেনা তাদেরকে বিদআতী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত আলী রা. এর যুগে বিশ রাকাত তারাবীহর উপরোক্ত দুটি হাদীস যথাত্রমে আব্দুর রহমান আস সুলামী র. ও আবুল হাসনা র. এর বর্ণনাকে লা-মাযহাবী বন্ধুরা ‘যয়ীফ’ অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।
মূলকথা: আবু আব্দুর রহমান সুলামীর হাদীসটি ইমাম বায়হাকী র. অন্য একটি হাদীসকে সমর্থন ও শক্তিশালী করার জন্য এনেছেন। এতে প্রমাণ বহণ করে যে, বায়হাকীর নিকট হাদীসটি সহীহ। নচেৎ অন্য হাদীসকে শক্তিশালী করবে কিভাবে? তাছাড়া আস সুলামীর হাদীসকে ইমাম ইবনে তাইমিয়া র. মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে এবং ইমাম যাহাবী র. আল মুনতাকাহ গ্রন্থে দলিলস্বরূপ পেশ করে প্রমাণ করেছেন যে, হযরত আলী রা. তারাবীহর জামাত এবং রাকাত সংখ্যার বিষয় হযরত উমর রা. এর নীতিই অনুকরণ করেছিলেন। এতে আবার প্রমাণিত হলো যে, হাদীসটি ইবনে তাইমিয়া ও আল্লামা হাফেজ যাহাবীর দৃষ্টিতেও সহীহ, আমলযোগ্য।
আর আবুল হাসনা র. এর হাদীসটি মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবায় উদ্ধৃত। এ হাদীস সম্পর্কে আলবানী ও মুবারকপুরী র. এর বরাতে লা-মাযহাবীরা বহু কটুক্তি করে থাকেন। তারা বলেন আবুল হাসনা মাজহুল ও মাতরুক (পরিত্যক্ত)। তাই এ হাদীসটি প্রত্যাখ্যাত। অনুসন্ধানে দেখা গেছে ‘আবুল হাসনা’ নামক দুই জন রাবী ছিলেন।
একজন হলেন, হযরত আলী রা. এর সরাসরি ছাত্র এবং আমর ইবনে কাইস ও আবু সা’দ আল বাক্কালের উস্তাদ। তিনি ইবনে হাজারের মত মুহাদ্দিসদের শ্রেণী নির্ণয় অনুপাতে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর মুহাদ্দিস। পক্ষান্তরে অপর ‘আবুল হাসনা’ হলেন, আলী রা. এর ছাত্রের ছাত্র। হাকিম বিন উতায়বার শাগরেদ এবং শরীফ নাখায়ী নামক ব্যক্তির উস্তাদ। সুতরাং এটা প্রমাণিত যে উভয় আবুল হাসনা এক ব্যক্তি নন;বরং ভিন্ন ব্যক্তি। আলোচ্য হাদীসে যে আবুল হাসনা রয়েছেন তিনি (সিকাহ রাবী) গ্রহণযোগ্য ও আলী রা. এর ছাত্র। তার ব্যাপারে ইবনে হাজারসহ কেউ মাজহুল (অজ্ঞাত) মাতরুক (পরিত্যক্ত) বলেননি এবং তার বর্ণনাকৃত হাদীসকেও কেউ প্রত্যাখ্যাত বলেননি। এগুলো সবই লা-মাযহাবীদের অজ্ঞতা বা জালিয়াতির বহি:প্রকাশ। হ্যাঁ, আবুল হাসনার হাদীসকে অধিকন্তু মাসতুর (مستور) বলা যেতে পারে। কারণ যদিও তার শিষ্যদের মধ্যে একাধিক বর্ণনাকারী রয়েছে কেউ কিন্তু তার ব্যাপারে সূ-খ্যাতি বর্ণনা করেনি। আর মাসতুর রাবীর বর্ণনা হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি অনুসারে অধিকাংশ মুহাদ্দিসদের নিকট নি:শর্তে গ্রহণযোগ্য। কেউ কেউ একটি শর্ত জুড়িয়ে দিয়েছেন যে, উক্ত হাদীসের সমর্থনে অন্য হাদীস বর্ণিত থাকা চাই। আলোচ্য আবুল হাসানা র. এর হাদীস উভয় মতানুসারে গ্রহণযোগ্য।
কারণ এ বর্ণনার সমর্থনে আবু আব্দুর রহমান আস সুলামীর হাদীস বিদ্যমান।
উপরন্তু হযরত আলী রা. যে বিশ রাকাত তারাবীহর শিক্ষা/নির্দেশ দিয়েছেন তার আরো প্রমাণ হচ্ছে, হযরত আলী রা. এর বিশিষ্ট শাগরেদ শুতাইর ইবনে শাকল র. আব্দুর রহমান বিন আবু বকর র. সাঈদ বিন আবুল হাসানা র. সুয়াইদ ইবনে গাফালাহ র. এবং আলী ইবনে রাবীয়া র. প্রমুখ সকলেই বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন এবং পড়াতেন।
সারকথা- বিশ রাকাত তারাবীহ খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। হযরত ওমর রা. ও হযরত আলী রা. এর যুগে তাদের আদেশক্রমে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া হতো। হযরত উসমান রা. হযরত উমর রা. এর যুগে বিশ রাকাত পড়েছেন ও সমর্থন দিয়েছেন। আর নিজের খেলাফতকালেও তার ব্যতিক্রম করেননি। হযরত আবু বকর রা. থেকে বিশ রাকাতের বিরুদ্ধে কোন বর্ণনা পাওয়া যায়নি। যদিও সঠিক কত রাকাত পড়া হতো তার স্পষ্ট বর্ণনাও মিলে না।
শরীয়তের যে কোন বিষয় কোন এক খলীফার সুন্নাত হিসেবে প্রমাণিত হলে তা সকল উম্মতের জন্য নবী সা. এর হাদীসের আলোকেই অনুসরণীয় ও অনুকরনীয় সাব্যস্ত হয় এবং এর বিরোধীতা করা গুনাহ। বিশ রাকাত তারাবীহ তিন খলীফার সুন্নাত প্রমাণিত হওয়ায় এটা কেমন গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত সাব্যস্ত হলো তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। অতিরিক্ত বিশ রাকাতের বিষয়টি রাসূল সা. এর মারফু হাদীস দ্বারাও সমর্থিত। এর পরও যদি কেউ তা প্রত্যাখ্যান করে ভিত্তিহীন দলিল দ্বারা ৮ রাকাতকেই সুন্নাত বললে নি:সন্দেহে তা হবে নব আবি®কৃত বিদআত। যা সকল যুগের উম্মাহর জন্য গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।
৩য় দলিল : ইজমায়ে সাহাবা
মুহাজির আনসারসহ সকল সাহাবায়ে কিরামের ইজমা
সাহাবায়ে কিরামকে কুরআনুল কারীম হেদায়েতপ্রাপ্ত এবং অনুসরণযোগ্য সাব্যস্ত করেছে এবং মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের অনুসরণের আদেশ দিয়েছে। আর আল্লাহ তায়ালা সাহাবাদের পথকে “সাবীলুল মু’মিনীন” আখ্যা দিয়ে তাদের অনুকরণকে জান্নাতি হওয়ার মানদণ্ড সাব্যস্ত করেছেন। এ ব্যাপারে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অধ্যায় আমরা সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করেছি। এখানে মাত্র একটি আয়াত পেশ করছি-
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন –
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (১১৫)
যে কেউ রাসূল সা.-এর বিরুদ্ধাচরণ করে তার কাছে হেদায়েতের পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সকল মু’মিনের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ওই দিকেই ফিরিয়ে দেব। আর সে যে দিকটি অবলম্বন করবে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থল। (সুরা নিসা ১১৫)
এ আয়াতে মু’মিনের অনুসৃত পথ বলতে সাহাবায়ে কিরামের পথ বুঝানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাসুল সা. উম্মতকে জান্নাতী ও নাজাতপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য সাহাবাদেরকে মাপকাঠি এবং মানদণ্ড সাব্যস্ত করে বলেন,ماانا عليه واصحابى “আমার ও আমার সাহাবাদের আদর্শ অনুকরণকারী দলই হচ্ছে নাজাতপ্রাপ্ত দল। সুতরাং সাহাবাদের জামাত সত্যের মাপকাঠি, নাজাতপ্রাপ্ত জামাত। তাদের আদর্শ ও কর্মধারাই উম্মতের জন্য পালনীয় ও অনুসরণীয়।
অন্যদিকে ইসলামী শরীয়া যে চারটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত (কুরআন হাদীস ইজমা ও কিয়াস) তার তৃতীয়টি হচ্ছে ইজমা। শরীয়তে এ ইজমার যথেষ্ঠ গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামের বেশ কিছু বিধান এই ইজমার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। যেমন, আবু বকর রা. নবীর প্রথম খলীফা সাব্যস্ত হওয়ার বিধান, তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হওয়ার বিধান, জুমআর দুই আযানের বিধান ইত্যাদি। ইজমার অনেকগুলো প্রকার রয়েছে তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো মুহাজির, আনসার সাহাবাসহ অন্যান্য সাহাবাগণের ইজমা। সুতরাং ইজমা যদি ব্যাপকভাবে অবিচ্ছিন্ন ও সম্মিলিতরূপে উম্মাহর নিকট পৌঁছে তবে তা শরীয়তে অকাট্য দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এ দলিল বিদ্যমান থাকলে ঐ বিষয়ে অন্য কোনো দলীলের প্রয়োজন পড়ে না। কারণ ইসলামী শরীয়া ইজমাকে দলিল সাব্যস্ত করেছে। তাই ইজমা দ্বারা যে বিধান প্রমাণিত তা স্পষ্ট হাদীস না পাওয়া গেলেও বিধানটিকে অমান্য করার কোন সুযোগ বাকী থাকেনা। আমাদের আলোচ্য বিশ রাকাত তারাবীহর বিষয়টিও ইজমায়ে সাহাবা ও আনসার-মুহাজির দ্বারা প্রমানিত।
মসজিদে নববীতে প্রায় ১৪ হিজরী থেকে উমর রা. এর নির্দেশে উবাই বিন কা‘বের ইমামতিতে বিশ রাকাত তারাবীহ জামাতে পড়ার নিয়ম চালু হলো। ওই জামাতে শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কিরাম, আনসার ও মুহাজিরগণ রা. মুক্তাদী হয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন। এরা সকলেই নবী সা. এর অবর্তমানে পুরা উম্মতকে কুরআন, হাদীস, ও শরীয়া শিক্ষা দিতেন। যারা মদীনার বাহিরে মক্কা, কুফা, বসরা ইত্যাদিতে অবস্থান করছিলেন। সকলেই মদীনার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে খলীফায়ে রাশেদের কর্ম ও সিদ্ধান্ত অনুকরণ করেই চলতেন।
মদীনাসহ বিশ্বের যত শহরে ওই যুগে রাসূল স. এর সাহাবাদের পবিত্র জামাত ছিলো সকলেই তারাবীহ বিশ রাকাতই পড়েছেন। একজন সাহাবী সম্পর্কে কেউ দেখাতে পারবেনা যে বিশ রাকাত তারাবীহ নিয়ে কোন আপত্তি তুলেছিলেন। এটাই ইজমায়ে সাহাবা, ইজমায়ে আনসার ও মুহাজির। তার কিছু প্রমাণ এখানে তুলে ধরছি :
ক. বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম আতা ইবনে আবী রাবাহ মক্কী র. বলেন-
عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: ্রأَدْرَكْتُ النَّاسَ وَهُمْ يُصَلُّونَ ثَلَاثًا وَعِشْرِينَ رَكْعَةً بِالْوِتْرِগ্ধ(مصنف ابن ابي شيبة: ৭৬৮৮)
আমি লোকদেরকে (সাহাবী ও তাবেয়ী) দেখেছি তারা বিতরসহ তেইশ রাকাত (তারাবীহ) পড়তেন। ( মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা : খ:২, পৃ:২৮৫)
সুতরাং এটা ইজমায়ে সাহাবা।
খ. ইমাম আব্দুল বার র. ‘ইসতিযকার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
وَهُوَ الصَّحِيحُ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ (مِنْ غَيْرِ خِلَافٍ مِنَ الصَّحَابَةِ (الاستذكار: ৫/১৫৭)
এটিই (বিশ রাকাত তারাবীহ) উবাই ইবনে কা‘ব রা. থেকে বিশুদ্ধরূপে প্রমাণিত এবং এতে সাহাবীগণের কোন ভিন্নমত নেই। (ইসতিযকার: ৫/১৫৭)
এখানে কারো কোন ভিন্ন মত নেই এর অর্থ হচ্ছে সবাই একমত ছিলেন। এটাই ইজমায়ে সাহাবা।
গ. ইমাম আবু বকর কাসানী র. বলেন-
وَالصَّحِيحُ قَوْلُ الْعَامَّةِ لِمَا رُوِيَ أَنَّ عُمَرَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – جَمَعَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – فِي شَهْرِ رَمَضَانَ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ فَصَلَّى بِهِمْ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَلَمْ يُنْكِرْ أَحَدٌ عَلَيْهِ فَيَكُونُ إجْمَاعًا مِنْهُمْ عَلَى ذَلِكَ.(بدائع الصنائع: ১/৬৪৪)
অধিকাংশ ওলামায়ে কিরাম যা বলেছেন তা-ই সঠিক। (অর্থাৎ তারাবীহ বিশ রাকাত) কারণ হযরত উমর রা. রমযান মাসে সাহাবায়ে কিরাম রা.কে উবাই বিন কা‘ব রা. এর ইমামতিতে একত্র করেন এবং উবাই বিন কা‘ব রা. তাদের নিয়ে প্রতি রাতে বিশ রাকাত (তারাবীহ) পড়তেন এবং তাদের একজনও এ ব্যাপারে কোন আপত্তি তুলেননি। সুতরাং এ ব্যাপারে (বিশ রাকাতের ব্যাপারে) তাদের (সাহাবাগণ) সকলের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয় (দ্র: বাদায়েউস সানায়ে খ:১,পৃ:৬৪৪)
ঘ. ইমাম ইবনে কুদামা মাকদেসী হাম্বলী র. বলেন-
لَوْ ثَبَتَ أَنَّ أَهْلَ الْمَدِينَةِ كُلَّهُمْ فَعَلُوهُ لَكَانَ مَا فَعَلَهُ عُمَرُ، وَأَجْمَعَ عَلَيْهِ الصَّحَابَةُ فِي عَصْرِهِ، أَوْلَى بِالِاتِّبَاع. (المغني لابن قدامة: ২/৬০৪)
উমর রা. যা করেছেন (জামাতের সাথে বিশ রাকাত তারাবীহ) এবং তার খেলাফত কালে অন্যান্য সাহাবীগণ যে ব্যাপারে একমত হয়েছেন তাই অনুসরণের সর্বাধিক উপযুক্ত। (আলমুগনী :২/৬০৪)
ঙ. লা-মাযহাবীদের মান্যবর শীর্ষ আলেম শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া র. ইজমার কথাটি ভিন্ন ভাষায় এভাবে বলেন-
إِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ. فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ.(مجموع الفتاوي: ২৩/১১২-১৩)
অর্থাৎ এটা প্রমাণিত যে উবাই বিন কা‘ব রা. রমযানে তারাবীহতে লোকদের নিয়ে বিশ রাকাতই পড়তেন। তাই অধিকাংশ আলেম এই সিদ্ধান্তে পৌছেছেন যে, এটাই (বিশ রাকাত) সুন্নাত। কেননা উবাই বিন কা‘ব রা. মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের উপস্থিতিতেই বিশ রাকাত পড়িয়েছেন এবং কেউ তাতে আপত্তি উত্থাপন করেননি। (দ্র: মাজমুউল ফাতাওয়া: খ: ২৩,পৃ:১১২-১১৩)
সারকথা : সাহাবায়ে কিরামের পবিত্র যুগে তারাবীহ বিশ রাকাতের বিষয়টি সকলের ঐক্যমতেই সুপ্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কোন সাহাবীর এ ব্যাপারে দ্বিমত ছিলনা। কেউ এর উপর আপত্তিও তোলেনি। তাহলে এটাই নাজাতপ্রাপ্ত জামাতের মত-পথ। কুরআনের ভাষায় এটাই সাবিলুল মু‘মিনীন (سبيل المؤمنين) তথা মুমিনগণের মত। এরা কেউ বিশ রাকাতকে নাজায়েযও বলতেন না বিদআতও আখ্যা দিতেন না। কুরআন-সুন্নাহ বিরোধীও বলতেন না। এগুলো নাজাতপ্রাপ্ত জামাতের পরিচয়। আজ যারা ২০ রাকাত তারাবীহকে বিদআত বলছে, সুন্নাতের খেলাফ বলে প্রচার করছে তারা মুমিনগণের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
আর সূরা নিসার ১১৫ নং আয়াতের বরাতে পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মুমিনগণের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে যারা চলবে তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান। আল্লাহ সকলকে হেদায়াত দান ও হিফাজত করুন। আমীন।
৪র্থ দলিল : মারফুয়ে হুকমী
‘মারফুয়ে হুকমী’ বলা হয়- সাহাবাদের এমন কথা বা কাজকে, যাতে ইজতিহাদ ও কিয়াসের সুযোগ নেই। উসূলে হাদীস ও উসূলে ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী ‘মারফুয়ে হুকমী’ মারফু হাদীস (নবীজীর কথা ও কাজ)-এরই একটি প্রকার। কারণ এটা তো স্পষ্ট যে, যেসব বিষয়ে যুক্তি ও ইজতিহাদ চলে না ঐ সব ক্ষেত্রে সাহাবারা রাসূল সা. থেকে না শুনে কোনো কাজ করতেন না। (মুকাদ্দামাতুশ শায়খ : পৃ: ১, মুকাদ্দামা ইবনে সালাহ : পৃ.৭৬-৭৭)
ইতোপূর্বে বিশ রাকাত তারাবীহর ব্যাপারে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত, মুহাজির-আনসারসহ অন্যান্য সাহবীদের ইজমা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো তো স্বতন্ত্র দলিল। পাশাপাশি মারফুয়ে হুকমীও আরেক দলিল। কারণ নামাযের রাকাত সংখ্যা কিয়াস দ্বারা নির্ধারণ করা যায় না। সাহাবা ও তাবেঈনরা যুগ যুগ ধরে বিশ রাকাত পড়েছেন। তারা নিশ্চয়ই ২০ রাকাত তারাবীহকে রাসূলের সা. আদর্শ হিসাবে জানতেন। তাই তারা এর উপরই আমল করেছেন।
এ বিষয়টি ইমাম আবু হানীফা র.-এর কথায চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে-
روى أسد بن عمرو عن أبي يوسف قال سألت أبا حنيفة عن التراويح وما فعله عمر رضي الله عنه فقال : التراويح سنة مؤكدة ولم يتخرصه عمر من تلقاء نفسه ولم يكن فيه مبتدعا ولم يأمر به إلا عن أصل لديه وعهد من رسول الله صلى الله عليه و سلم ،ولقد سن عمر هذا وجمع الناس علي ابي بن كعب فصلاها جماعة والصحابة متوافرون منهم عثمان وعلي وابن مسعود والعباس وابنه وطلحة والزبير ومعاذ وابي وعيرهم من المهاجرين والانصار ومارد عليه واحد منهم بل ساعدوه ووافقوه وامروا بذلك.
“আবু ইউসুফ র. বলেন, আমি আবু হানীফা র.কে তারাবীহ ও এব্যাপারে উমরের রা. কর্ম সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তারাবীহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। উমর রা. অনুমান করে নিজের পক্ষ থেকে এটা নির্ধারণ করেননি। এক্ষেত্রে তিনি নতুন কিছুও উদ্ভাবন করেননি। তিনি তাঁর নিকট বিদ্যমান ও রাসূল স. থেকে প্রাপ্ত কোনো নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই আদেশ দিয়েছেন। তাছাড়া উমর রা. যখন উবাই বিন কা‘বের রা. ইমামতিতে লোকদেরকে জমা করে এই প্রথা চালু করলেন, তখন বিপুল পরিমাণ সাহাবী বিদ্যমান ছিলেন। তাদের মধ্যে হযরত উসমান, আলী, ইবনে মাসউদ, আব্বাস, ইবনে আব্বাস, তালহা, যুবাইর, মুআয ও উবাই রা. প্রমুখ মুহাজির ও আনসার সাহাবা ছিলেন। তাদের কেউই এর উপর আপত্তি করেননি। বরং সকলেই তাকে সমর্থন করেছেন, তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন এবং অন্যদেরও এই আদেশ দিয়েছেন।” (আল ইখতিয়ার লি তা‘লীলিল মুখতার : ১/৯৪)
৫ম দলিল : সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা
সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা তথা তাআমুলে উম্মত
শরীয়তের একটি মৌলিক দলিল হচ্ছে- (تعامل امت) তথা মুসলিম উম্মার ব্যাপক ও অবিচ্ছিন্ন সম্মিলিত কর্মধারা। এটাকে সুন্নাতে মুতাওয়ারাসাও বলে। এটি হাদীস ও সুন্নাহর একটি উন্নত প্রকার। যার গ্রহণযোগ্যতা মৌখিক বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত হাদীস থেকেও অনেক শক্তিশালী । এ প্রসঙ্গে খতীব বাগদাদী র. الفقيه والمتفقه কিতাবে باب القول فيما يرد به الخبر الواحد অনুচ্ছেদে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আত তাব্বা মালেকীর কথা উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন যে,
كل حديث جائت عن النبي (ص) لم يبلغك احدا من اصحابه فعله فدعه. ০ج১/১৩২)
অর্থাৎ- তোমার নিকট নবীজীর কোনো সহীহ হাদীস পৌঁছলেও যদি তার উপর সাহাবীদের কাউকে আমল করতে না দেখ তাহলে তা ছেড়ে দাও। (১/১৩২)

* ইমাম যাহাবী র. হাদীস সহীহ সূত্রে বর্ণিত হলেও তা আমলযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে এক নীতির পর্যালোচনায় বলেন-
لَكِنْ بِشَرْطِ أَنْ يَكُونَ قَدْ قَالَ بِذَلِكَ الحَدِيْثِ إِمَامٌ مِنْ نُظَرَاءِ الإِمَامَيْنِ مِثْلُ مَالِكٍ، أَوْ سُفْيَانَ، ……….و أَمَّا مَنْ أَخَذَ بِحَدِيْثٍ صَحِيْحٍ وَقَدْ تنكَّبَهُ سَائِرُ أَئِمَّةِ الاِجتهَادِ، فَلاَ. (سير اعلام النبلاء: ১৬/৪০৪)
মর্মার্থ : হাদীসকে সহীহ পেলেও আমল করার জন্য মালেক ও সুফিয়ান র. এর মতো মুজতাহিদ ইমামগণ তা গ্রহণ করেন কিনা তা দেখতে হবে। যে ব্যক্তি হাদীস সহীহ পাওয়া মাত্র গ্রহণ করেন অথচ ইমামে মুজতাহিদগণের কেউ তা গ্রহণ করলো না তা মানা সঠিক হলো না। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৬/৪০৪)
* ইমাম আওযায়ী র. বলেন-
كنا نسمع الحديث فنعرضه علي اصحابنا كما يعرض الدرهم الزائف فما عرفوا منه اخذناه وما انكروا تركناه. (المحدث الفاضل للمروزي: ৩১৮)
মর্মার্থ : আমরা হাদীস শুনতাম অত:পর তা মুজতাহিদ ইমামগণের নিকট পেশ করতাম। যেমনিভাবে খাইটযুক্ত দিরহাম যাচাই করা হয়। তারা যদি তা মানার যোগ্য বলতেন তাহলে তা মেনে নিতাম। অন্যথায় তার উপর আমল করা থেকে বিরত থাকতাম। (আল মুহাদ্দিসুল ফাযিল পৃ:৩১৮)
* ইমাম মালেক র. কাজী মুহাম্মাদ বিন হাযম কর্তৃক আদালতের ফয়সালা বাহ্যিকভাবে সহীহ হাদীস এর বিপরীত হলে তার ব্যাখ্যার ব্যাপারে মন্তব্য করেন:
ما اجمع عليه العلماء المدينة يريد بأن العمل بها اقوي من الحديث. (الاثر الحديث الشريف للعوام: ص৯২)
মর্মার্থ : মদীনার ওলামায়ে কিরাম যার উপর ঐক্যবদ্ধ তা সহীহ হাদীসের উপর আমল করা থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী। (আছরুল হাদীস আশশরীফ পৃ৯২)
* ইমাম ইবনে আবী যাইদ কাইরাওয়ানী র. আহলে সুন্নাত ওয়াল হকের আলামতস্বরূপ বলেন-
والتسليم للسنن لاتعارض برأي ولا تدافع بقياس وما تأوله منها السلف الصالح تأولناه وما عملوا به عملناه وما تركوه تركناه. (كتاب الجامع: ص১১৭)
অর্থাৎ সুন্নাত হাদীসকে মানতে হবে। কোনো রায় বা কিয়াস দ্বারা হাদীস অমান্য করা যাবে না। সালাফে সালেহীন হাদীসের যে ব্যাখ্যা প্রদান করেন সে ব্যাখ্যা অনুপাতেই আমল করবো। তারা যেভাবে আমল করেছেন আমরাও তার উপর আমল করবো। আর তারা যেটাকে আমলের ব্যাপারে বিরত রয়েছেন তার উপর আমরা আমল করবো না। (আল জামে ১১৭)
উপরোক্ত কয়েকজন বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের মন্তব্য পেশ করলাম যার সারমর্ম হচ্ছে, সাহাবা, তাবেয়ী এবং আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের ধারাবাহিক আমল যা ব্যাপক ও সম্মিলিত কর্মধারারূপে প্রমাণিত তা কোনো সহীহ হাদীসের বিপরীত মনে হলেও গ্রহণযোগ্য। কারণ হাদীসটির মর্ম উদ্ঘাটনে তারাই সর্বাধিক অভিজ্ঞ (وهو اعلم الناس بمعاني الحديث) কেননা এ সম্মিলিত নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রমাণিত ও বিদ্যমান কর্মধারা যাকে সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা বলে তা খবরে ওয়াহিদ (الخبر
الواحد) থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী।
আমাদের আলোচ্য বিষয় “বিশ রাকাত তারাবীহ”র ব্যাপারে ইতি মধ্যে উল্লেখ করেছি যে, এর ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরাম মুহাজির আনসারসহ সকলের আমলী ঐক্যমত রয়েছে। খুলাফায়ে রাশেদীনের (তিন খলীফা) ঐক্যবদ্ধ কর্মধারা বা আমল, বিভিন্ন শহরের ফকীহ ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা দ্বারা প্রমাণিত। তাই এটা যে সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা ও তাআমুলে উম্মত তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। মূলত বিশ রাকাত তারাবীহর ক্ষেত্রে এটাই মৌলিক দলিল যা সকল উম্মতের জন্য পালনীয়। এর বিপরীত কোনো সহীহ হাদীস নেই। যে কয়েকটি হাদীস পেশ করা হয় এগুলো অত্যন্ত দুর্বল (যা পরে আলোচনা করা হবে)। এমতাবস্থায় এমন শক্তিশালী দলিলকে উপেক্ষা করে আট রাকাত পড়াকে সুন্নাত আর ততোধিক পড়াকে নাজায়েয বা বিদআত বলার কোনো সুযোগ নেই। বরং এটা হবে নবীর সকল ঐক্যবদ্ধ উম্মাহর বিরুদ্ধাচরণ যা মারাত্মক গোমরাহী বৈ কী।
তারাবীর বিশ রাকাত যে, তাআমুলে উম্মত বা সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা দ্বারা প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত তার যথেষ্ঠ প্রমাণ ইতোপূর্বে দেয়া হয়েছে।এখানে কয়েকটি প্রমাণ পেশ করছি:
* সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকারক ইমাম নববী র. লিখেন-
الْأَفْضَلُ صَلَاتُهَا جَمَاعَةً كَمَا فَعَلَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَالصَّحَابَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَاسْتَمَرَّ عَمَلُ الْمُسْلِمِينَ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ مِنَ الشَّعَائِرِ الظَّاهِرَةِ. (شرح النووي علي مسلم: ৬/৩৯،رقم: ৭৫৯)
উত্তম হচ্ছে তারাবীহ জামাতের সাথেই আদায় করা। যেমনটি উমর রা. ও সাহাবায়ে কিরাম করেছিলেন (এবং তা বিশ রাকাতই ছিলো) আর মুসলিম উম্মার সর্ব যুগের আমল ও কর্মধারা এরূপই ছিলো। (শরহে মুসলিম- ৬/৩৯)
তিনি আরো লিখেন-
اعلم أن صلاة التراويح سُنّة باتفاق العلماء، وهي عشرون ركعة، يُسَلِّم من كل ركعتين. (الاذكار: ص৮৩)
তারাবীহর নামায সুন্নাত হওয়ার বিষয়ে সকল উলামা একমত। এ নামায বিশ রাকাত। যার প্রতি দু’রাকাতেই সালাম ফেরাতে হয়। (শরহুল মুসলিম, আল আযকার পৃ.৮৩)
ক. মক্কাবাসীর তাআমুল- تعامل اهل مكة
* ইমাম শাফেয়ী র. মক্কাবাসীর আমল বা তাআমুল সম্পর্কে বলেন:
وَأَحَبُّ إلَيَّ عِشْرُونَ؛ لِأَنَّهُ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ وَكَذَلِكَ يَقُومُونَ بِمَكَّةَ وَيُوتِرُونَ بِثَلَاثٍ.(الأم للشافعي: ص১৪২)
তারাবীহ বিশ রাকাত পড়া আমার নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয়। কারণ উমর রা. থেকে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। মক্কাবাসীও তারাবীর নামায এভাবেই (বিশ রাকাত) আদায় করতেন। আর তারা বিতর নামায তিন রাকাত পড়ে থাকেন। (কিতাবুল উম্ম লিশ শাফেয়ী)
ইমাম তিরমিযী র. সকল মুজতাহিদ ইমামগণের মতামত ব্যক্ত করার পর ইমাম শাফেয়ী কর্তৃক মক্কাবাসীর আমল এভাবে তুলে ধরেন-
وَأَكْثَرُ أَهْلِ العِلْمِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ، وَعَلِيٍّ، وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ، وَابْنِ المُبَارَكِ، وَالشَّافِعِيِّ ” وقَالَ الشَّافِعِيُّ: ্রوَهَكَذَا أَدْرَكْتُ بِبَلَدِنَا بِمَكَّةَ يُصَلُّونَ عِشْرِينَ رَكْعَةًগ্ধ (سنن الترمذي: ১/১৬৬)
অধিকাংশ আহলে ইলম ওই মতই পোষণ করেন যা উমর রা. আলী রা. এবং অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে তথা তারাবীহ বিশ রাকাত ৩৬ রাকাত নয়। যেমন ইমাম মালেক পড়তেন। সুফিয়ান সাওরী, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক ও ইমাম শাফেয়ীর মতও তাই। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন, আমি মক্কাবাসীকে মক্কা শরীফে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তে দেখেছি। (জামে তিরমিযী ১/১১৬)
মক্কার অধিবাসী বিশিষ্ট তাবেয়ী আতা বিন আবি রাবাহ র. বলেন-
– حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: ্রأَدْرَكْتُ النَّاسَ وَهُمْ يُصَلُّونَ ثَلَاثًا وَعِشْرِينَ رَكْعَةً بِالْوِتْرِগ্ধ (مصنف ابن ابي شيبة: رقم: ৭৬৮৮)
আমি লোকদের (মক্কাবাসী) বিতরসহ তেইশ রাকাত পড়তে দেখেছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা : ৭৬৮৮)
মক্কার কাযী ও মুয়ায্যিন ইবনে আবী মুলাইকাহ র. সম্পর্কে হযরত নাফে বিন উমর র. বলেন-
كان ابن ابي مليكة يصلي بنا في رمضان عشرين ركعة. (اثار السنن : ص২৯২)
তিনি আমাদের নিয়ে রমযানে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। (আসারুস সুনান পৃ.২৯২)
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, মক্কাবাসীর তাআমুল تعامل اهل مكة বিশ রাকাত । আর এটাই সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা।
খ. মদীনাবাসীর তাআমুল- تعامل اهل مدينة
চৌদ্দশ’ বছরের ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, মদীনাবাসীও সর্বদা তারাবীহর নামায বিশ রাকাতই পড়েছেন; বর্তমানেও তাই। তবে কিছু উদ্যমী মানুষ মক্কাবাসীকে বিশ রাকাতের পাশাপাশি চারটি তাওয়াফ ও তাওয়াফ পরবর্তী আট রাকাত নামায আদায় করতে দেখে চার তাওয়াফের পরিবর্তে আট রাকাত এবং তাওয়াফের আট রাকাত এর বিনিময় আরো আট রাকাত মোট ষোল রাকাত বৃদ্ধি করে সর্বমোট ৩৬ রাকাত তারাবীহ পড়া আরম্ভ করেন। অত:পর তিন রাকাত বিতর পড়তেন। এতে ৩৯ রাকাত হয়ে যেতো। তবে এদেরও মূল তারাবীহ হতো বিশ রাকাত। অতিরিক্ত ১৬ রাকাত মুস্তাহাব বা ফযীলত অর্জন তথা মক্কাবাসীর সমান সওয়াব পাওয়ার লক্ষেই পড়া হতো । এ ব্যাপারে ইমাম সুয়ূতী র.-এর বিশ্লেষণ নিম্নরূপ-
وَذَكَرَ السُّيُوطِيُّ فِي رِسَالَتِهِ أَنَّهُ يُسْتَحَبُّ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ سِتًّا وَثَلَاثِينَ رَكْعَةً تَشْبِيهًا بِأَهْلِ مَكَّةَ، حَيْثُ كَانُوا يَطُوفُونَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ طَوَافًا وَيُصَلُّونَ رَكْعَتَيْهِ، وَلَا يَطُوفُونَ بَعْدَ الْخَامِسَةِ، فَأَرَادَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ مُسَاوَاتَهُمْ، فَجَعَلُوا مَكَانَ كُلِّ طَوَافٍ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَلَوْ ثَبَتَ عَدَدُهَا بِالنَّصِّ لَمْ تَجُزْ الزِّيَادَةُ عَلَيْهِ، وَلَأَهْلُ الْمَدِينَةِ وَالصَّدْرُ الْأَوَّلُ كَانُوا أَوْرَعَ مِنْ ذَلِكَ.(مرقاة المفاتيح: ৩/১৯৩، باب قيام شهر رمضان)
অর্থাৎ মক্কাবাসী তারাবীহর প্রতি চার রাকাত পর (বিশ্রামের সময়) তাওয়াফ করে নিতেন এবং দুই রাকাত নামাযও পড়তেন। তবে শেষ বৈঠকে এমনটি করতেন না। মদীনাবাসী এটা দেখে তাদের সামঞ্জস্যতার লক্ষে প্রতি তারবীহর পরিবর্তে (তাওয়াফ ও নামাযসহ) চার রাকাত নফল পড়তেন। এভাবে ৪দ্ধ৪=১৬ রাকাত বৃদ্ধি হয়ে যায়।
কিন্তু সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ আলেম মসজিদে নববীর সুখ্যাত মুদাররিস ও শরীয়া আদালতের কাযী (আমার সরাসরি উস্তাদ) শায়খ আতিয়্যাহ সালিম ‘মসজিদে নববীর হাজার বছরের তারাবীহর ইতিহাস’ নামক আরবীতে তার লেখা একটি কিতাবে প্রমাণ করেছেন যে, বিশ রাকাত তারাবীহই ছিলো মসজিদে নববীর ধারাবহিক তাআমুল।
তিনি তার কিতাব (التراويح اكثرمن الف عام) এ স্ববিস্তারে তা পেশ করেছেন।
প্রথম শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ
উপরোক্ত আলোচনায় সুন্নাতে খুলাফায়ে রাশেদীন অনুচ্ছেদে দেখেছেন যে হযরত উমর রা. এর যুগ থেকে শুরু করে খিলাফতে রাশেদার পূর্ণ যুগ এবং তারপরও সাহাবাদের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তারাবীহ বিশ রাকাতই পড়া হতো।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ
শায়খ আতিয়্যাহ বলেন,
مضت المائة الثانية والتراويح ست وثلاثون وثلاث وتر ودخلت السنة الثالثة وكانت المظنون أن فظل علي ماهي عليه تسع وثلاثون بما فيه الوتر. (التراويح اكثر من الف عام: ص৪১)
দ্বিতীয় শতাব্দিতে তারাবীহ ছত্রিশ রাকাত পড়া হতো এবং বিতর পড়া হতো তিন রাকাত। তৃতীয় শতাব্দীতেও তদরূপ বিতরসহ উনচল্লিশ রাকাতই পড়া হতো।
চতুর্থ ,পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে মসজিদে তারাবীহ
তিনি লিখেন,
عادت التراويح في تلك الفطرة كلها الي عشرين ركعة فقط بدلا من ست وثلاثني في السابق. ص৪২
এই তিন শতাব্দীতে ছত্রিশ এর পরিবর্তে পূনরায় বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া আরম্ভ হয়।
অষ্টম, নবম, দশম, ও একাদশ শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ
তিনি লিখেন,
فكان يصلي التراويح أول الليل بعشرين ركعة على المعتاد. ثم يقوم آخر الليل في المسجد بست عشرة ركعة. (ص৪৭)
প্রথম রাতে যথারীতি তারাবীহর নামায বিশ রাকাতই পড়া হতো। তবে শেষ রাতে ষোল রাকাত নামাজ মসজিদেই পড়া হতো।
দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতেও অনুরূপ ছিলো (আত তারাবীহ পৃ.৪৭)
চতুর্দশ শতাব্দীতে মসজিদে নববীর তারাবীহ
তিনি লিখেন:
دخل القرن الرابع عشر والتراويح في المسجد النبوي على ما هي عليه من قبل وظلت إلى قرابة منتصفه.(ص৫৮)
চৌদ্দতম শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত মসজিদে নববীতে তারাবীহর নামায পূর্বের মতোই অব্যাহত ছিলো। (বিশ রাকাত প্রথম রাতে শেষ রাতে ষোল রাকাত)
এ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের ব্যাপারে তিনি লিখেন :
ثم جاء العهد السعودي فتوحدت فيه الجماعة في المسجد النبوي وفي المسجد الحرام للصلوات الخمس وللتراويح. أما عدد الركعات وكيفية الصلاة فكانت عشرين ركعة بعد العشاء وثلاثا وترا، وذلك طيلة الشهر……… وعليه فتكون التراويح قد استقرت على عشرين ركعة على ما عليه العمل في جميع البلاد وعليه المذاهب الثلاثة. (التراويح اكثر من الف عام: ص৬৫)
অর্থাৎ এ সময় সৌদি শাসনামলের সূচনা হয় এবং মক্কা মদীনার পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও তারাবীহর ব্যবস্থাপনা অধিক সুসংহত করা হয়। এ সময় পুরো রমযানে এশার পর বিশ রাকাত তারাবীহ ও তিন রাকাত বিতর পড়া হতো। এতে প্রতীয়মান হয়, বিশ রাকাত তারাবীহ-ই ছিলো মসজিদে নববীর সর্বযুগের আমল। মদীনা ছাড়া অন্যান্য ভূখণ্ডেও এ নিয়ম জারী ছিলো। (আত তারাবীহ আকসার মিন আলফে আম পৃ.৬৫)
(অধম লিখক) বলছে, ১৯৮৩ সাল তথা চতুর্দশ হিজরীর শেষ দিকে আমি ইমাম মোহাম্মদ বিন সাউদ ভার্সিটিতে অধ্যায়নকালে বিতর সম্পর্কে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করি। বিশ রাকাত তারাবীহর পর বিতর পড়া হতো। আবার শেষ রাতে ১০রাকাত পড়া হতো এবং এরপর পুনরায় বিতর পড়া হতো তিন রাকাত। সর্বমোট তের রাকাত। বিতর একাধিকবার পড়ার ওপর কিছু আলেম আপত্তি করলে প্রথমে ইমাম পরিবর্তন করা হয়। যিনি প্রথম রাতে বিতর পড়াতেন তিনি শেষ রাতে পড়াতেন না। অবশেষে যা বর্তমান সময়েও জারি আছে তা হলো- এশার পর বিশ রাকাত তারাবীহ পড়িয়ে বিতর পড়া থেকে বিরত থাকতেন এবং শেষ রাতে ১০রাকাতের পর তিন রাকাত বিতির পড়াতেন। মক্কা ও মদীনাতে একই নিয়ম এখনো চালু রয়েছে।
গ. কুফাবাসীর তাআমুল- تعامل اهل كوفة
কুফাবাসীর আমলও মক্কা মদীনাবাসী সাহাবা ও তাবেয়ীগণের আমল থেকে ব্যতিক্রম ছিলো না। কুফা ছিলো হযরত আলী রা.-এর রাজধানী। তিনি বিশ রাকাত তারাবীহ পড়ার নির্দেশ দিয়ে তারাবীহর নিয়ম চালু করার কথা পূর্বেই আলোচনা হয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.ও কুফাতেই বসবাস করতেন,হাদীস ও ফিকহের দরস দিতেন। তিনিও বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতেন (দ্র. কিয়ামুল লাইল পৃ.৯১)
আরো যেসব প্রসিদ্ধ তাবেয়ী কুফাতে ছিলেন এবং বিশ রাকাত তারাবীহ পড়িয়েছেন তাদের মধ্যে আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ র. সুয়াইদ ইবনে গাফালাহ র. আলী ইবনে রাবীআ র. সাঈদ ইবনে যুবাইর র. সুফিয়ান ছাওরী র. ইমাম আবু হানীফা র. প্রমুখ ছিলেন অন্যতম।
ঘ. বসরাবাসীর তাআমুল
সাহাবা ও তাবেয়ীর যুগে ইরাকের বসরা নগরী ইলম ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে খুবই অগ্রগামী ছিলো। বহু সাহাবা ও তাবেয়ী এ শহর আবাদ করেছিলেন। হাদীসের দরসের পাশাপাশি ফিকহের দরসও অবিরাম চালু ছিলো। মুহাদ্দিস ও ফুকাহায়ে তাবেয়ীর সকলেই বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। এর কমে পড়ার কোনো প্রমাণ ইতিহাসের পাতায় পাওয়া যায় না। এ শহরের বিশিষ্ট তাবেয়ী যারা বিশ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- আব্দুর রহমান বিন আবু বকর র. সাঈদ বিন আবুল হাসান র. ইরান আবদী র. যুরারা ইবনে আবু আওফা র. প্রমুখ।
ঙ. বাগদাদবাসীর তাআমুল
বাগদাদ শহরে জন্ম নিয়েছেন ইসলামের যুগশ্রেষ্ঠ মনিষীগণ। তাদের ইমাম আহমদ বিন হাম্বল র. প্রথম সারির ফকীহ ছিলেন। যিনি হাম্বলী মাযহাবের ইমাম। তিনি বিশ রাকাত তারাবীহ আদায় করতেন, এটাই তার মাযহাব ছিলো। দেখুন এই মাযহাবের কিতাবসমূহ।
এরপর যাহেরী মাযহাবের ইমাম দাউদ যাহেরী র. ও বাগদাদের অধিবাসী। তিনিও তারাবীহ বিশ রাকাতের পক্ষে ছিলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক র. তিনিও বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। ইসহাক বিন রাহ্ওয়াই র. তিনিতো ৪১রাকাত পর্যন্ত পড়তেন। (দ্র. কিয়ামুল লাইল পৃ.৯২)
পরিশিষ্ট
একটি প্রশ্ন ও তার খণ্ডন
সুন্নাতে মুতাওয়ারাসা বা তাআমুলে সাহাবা ও তাবেয়ীন এবং আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনায় প্রমাণিত হলো যে, বিশ রাকাত তারাবীহ সারা বিশ্বে সাহাবাযুগ থেকে সর্বকালের উলামা ও উম্মতের এক অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিক আমল। এটি সাধারণ সহীহ হাদীস থেকেও অনেক বেশী শক্তিশালী।
কিন্তু প্রশ্ন হলো- হাদীস থেকেও বেশী শক্তিশালী হয় কীভাবে ?
এর সংক্ষিপ্ত জবাব-
এ ধরণের ব্যাপক সম্মিলিত কর্মধারার পেছনে মূলত রাসূল সা.-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা অবশ্যই বিদ্যমান যা অনেকের হয়তো জানার বাইরে। কেননা নবী স.-এর সকল সাহাবা, তাবেয়ী নবীর স্পষ্ট সহীহ হাদীস ও শিক্ষার বিপরীতে তার অন্য কোনো নির্দেশনা ছাড়া মন মতো শরীয়তের বিষয়ে আমলী সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন তা কল্পনাতীত।
দেখুন, আমাদের আলোচ্য বিষয়টিতে যদি তারাবীহর নামায আট রাকাত এ ব্যাপারে রাসূল সা.-এর থেকে সুস্পষ্ট সহীহ হাদীস বিদ্যমান থাকতো, এর বিপরীতে বিশ রাকাতের ব্যাপারে নবীজীর কোনো দিকনির্দেশনা না থাকতো, তাহলে হযরত উমরের যুগ থেকে নিয়ে সর্বকালের সাহাবা তাবেয়ী ও আইম্মায়ে মুজতাহিদ এমনিতে বিশ রাকাত তারাবীহর উপর একমত হয়ে তা আমলীভাবে গ্রহণ করে শরীয়তের বিধানটি চালু করে নিয়েছেন এ কথা কোনো বিবেকহীন বিশ্বাস করতে পারে না।
বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করার জন্য হযরত উবাই বিন কা‘বের বর্ণনাটি পড়ে দেখুন- (যা পূর্বেও পেশ করা হয়েছে)
عن أبي بن كعب أن عمر بن الخطاب أمره أن يصلي بالليل في رمضان فقال: إن الناس يصومون النهار ولا يحسنون أن يقرأوا فلو قرأت عليهم بالليل، فقال: يا أمير المؤمنين هذا شيء لم يكن، فقال: قد علمت ولكنه حسن فصلى بهم عشرين ركعة.(كنز العمال: ৮/৪০৯،رقم: ২৩৪৭০)
অর্থাৎ হযরত উমর রা. উবাই বিন কা‘বকে রমযানে লোকদের নিয়ে নামায পড়ার আদেশ দিতে গিয়ে বলেন, তারা দিনে রোযা রাখে কিন্তু রাতের বেলায় সুন্দরভাবে কোরআন পড়তে পারে না। আপনি যদি তাদের নিয়ে কুরআন পড়েন (অর্থাৎ জামাতে নামায আদায় করতেন) উত্তরে উবাই বলেন, আমীরুল মুমিনীন এ বিষয়টি (জামাতে তারাবীহ) আগে করা হতো না। উত্তরে উমর রা. বলেন, তা আমি ভালো করে জানি;তবে এটা ভালো কাজ। এরপরই উবাই রা. তাদের নিয়ে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়া আরম্ভ করেন। (হাদীসটির মান হাসান)
এ হাদিসে দেখার বিষয় হচ্ছে- কয়েকটি ছোট ছোট দলকে নিয়ে জামাতের সাথে একত্রিত করে এক ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করার নিয়ম বানানো একটি ব্যবস্থাপনাগত বিষয় ছিল। আর তিন বার হলেও রাসূল স. তা নিজেই আমল করেছিলেন তথাপি উবাই রা. এ ব্যাপারে নিজের সংশয়ের কথা প্রকাশ করলেন (هذا شيئ لم يكن) কিন্তু তিনি তারাবীহ যে বিশ রাকাত পড়তে আরম্ভ করলেন এ ব্যাপারে তো কোনো সংশয় পেশ করলেন না ?
অথচ তারাবীহর রাকাত সংখ্যা তো কোনো ব্যবস্থাপনাগত বিষয় ছিলো না; বরং শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো। যা কিয়াস করে নিজে নিজেই নির্ধারণ করার বিষয় নয়। এরপরও কেন তিনি আপত্তি বা সংশয় প্রকাশ না করে বিশ রাকাত পড়ে দিলেন? আচ্ছা তার সাথে যারা নামাজ আদায় করেছেন- আশারায়ে মুবাশশারাহ (আবু বকর ছাড়া) ও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম তারাও কি কোনো আপত্তি তুলেছিলেন ?
সবাই এমন একটি শরয়ী বিধানকে একবাক্যে মেনে নেয়া বিশেষ করে হযরত উবাইয়ের তাতে প্রশ্ন না তোলা প্রমাণ করে, বিশ রাকাতের উপর সকলের আমল ও তাআমুল এর পিছনে রাসূল সা.-এর অবশ্যই কোনো দিকনির্দেশনা ছিলো। যা হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে মারফু দ্বারা প্রমাণিত। তা না হলে প্রাণ যেতেও সাহাবারা শুধু হযরত উমরের কথায় বিশ রাকাতের উপর একমত হতেন না। কিংবা হযরত উমর রা. এর মত বিদআত বিরোধী শক্ত মেজাযের মানুষ আট রাকাতের শিক্ষা বিদ্যমান থাকতে বিশ রাকাত পড়ার কথা বলতেন না।
এ বিষয়টিই ইমাম আবু হানীফা র. এর ভাষায়-
فَقَالَ: التَّرَاوِيحُ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ وَلَمْ يَتَخَرَّصْهُ عُمَرُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِهِ وَلَمْ يَكُنْ فِيهِ مُبْتَدِعًا، وَلَمْ يَأْمُرْ بِهِ إِلَّا عَنْ أَصْلٍ لَدَيْهِ وَعَهْدٍ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ. (الاختيار لتعليل المختار للموصلي: ১/৭০)
“তারাবীহ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং উমর রা.তা নিজের পক্ষ থেকে অনুমান করে নির্ধারণ করেননি; বরং তিনি দলীলের ভিত্তিতে এবং নবীজী থেকে প্রাপ্ত কোনো নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই আদেশ প্রদান করেছেন।”
ষষ্ট দলিল : ইজমায়ে উম্মত
বিশ রাকাত তারাবীহর ব্যাপারে সাহাবা, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীসহ পুরো উম্মতের ইজমা সংগঠিত হয়েছে। এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য আলেম-ফকীহদের মত এবং গ্রহণযোগ্য কিতাবসমূহের ইবারত তুলে ধরা হলো-
(১) মোল্লা আলী আল-কারী র. বলেন- أجمع الصحابة علي أن التراويح عشرون ركعة.
অর্থাৎ ‘সাহাবারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, তারাবীহ ২০ রাকাত।’ (মিরকাত ৩/৩৪৬-মাকতাবা আশরাফিয়া)
(২) আল্লামা আইনী র. ইবনে আব্দুল বার র.-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন-
وهو قول جمهور العلماء وبه قال الكوفيون و الشافعى وأكثر الفقهاء ، وهو الصحيح عن أبى بن كعب من غير خلاف من الصحابة –
“এ মত পোষণ করেন কুফাবাসী, ইমাম শাফেয়ী র. ও অধিকাংশ ফুকাহা। আর
সাহাবাদের থেকে মতানৈক্য ছাড়া ২০ রাকাত প্রমাণিত। (উমদাতুল কারী : ৮/২৪৬-মাকতাবা যাকারিয়া)
(৩) কাযীখান র. তার স্বীয় ফাতওয়া গ্রন্থে লিখেন-
وهو المشهور من الصحابة والتابعين-
“সাহাবা ও তাবেয়ী থেকে এটাই (২০ রাকাত পড়া) প্রসিদ্ধ।”(ফাতাওয়া কাযীখান : ১/২০৬)
(৪) ইবনে হাজার মাক্কী র. বলেন, ২০ রাকাতের উপর সাহাবাদের ইজমা রয়েছে। (ইনারাতুল মাসাবীহ : পৃ.১৮)
(৫) আব্দুল হাই লাখনবী র. লিখেন-
ثبت اهتمام الصحابة على عشرين فى عهد عمر و عثمان وعلى فمن بعدهم-
“হযরত উমর, উসমান, আলী রা.-এর যুগে এবং পরবর্তীতে সাহাবাদের ২০ রাকাতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রমাণিত।”(হাশিয়ায়ে শরহে বেকায়া : ১/১৭৫- আশরাফী বুক ডিপো)
(৬) ‘ইতহাফু সাদাতিল মুত্তাকীন’ নামক কিতাবে আছে-
وبالإجماع الذى وقع فى زمن عمر أخذ أبو حنيفة و الشافعى وأحمد و الجمهور.
‘উমর রা.-এর যুগে যে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা-ই গ্রহণ করেছেন আবু হানীফা, শাফেয়ী, আহমাদ র. ও অধিকাংশ আলেম-ফকীহ।’ (৩/৪২২)
ইবনে কুদামা র. মুগনীতে (২/৩৬৪), শামসুদ্দীন র. শরহে মুকান্নাতে (১/৮৫২), আ. হাই লাখনবী র. আত তা‘লীকুল মুমাজ্জাদে (পৃ:৫৩), মোল্লা আলী আল-কারী র. শরহে নেকায়াতে (পৃ.১০৪) এবং নবাব সিদ্দীক হাসান খান (যিনি গায়রে মুকাল্লিদদের গুরু) আওনুল বারীতে (২/৩০৭)। ২০ রাকাত তারাবীহর উপর ইজমা উল্লেখ করেছেন।
উপরন্তু (১২-১৩) ইমাম নববী র. “باتفاق المسلمين” শব্দ দ্বারা (আল আযকার পৃ. ৮৩) আর ইবনে তাইমিয়া র. فلما “جمعهم” عمر علي ابي بن كعب. বাক্য দ্বারা (মাজমুআতুল ফাতাওয়া : ১১/৫২০) ইজমা নকল করেছেন।
(১৪-১৫) তাহতাবী র. হাশিয়ায়ে তাহতাবীতে (১/২৯৬-মাকতাবা রশীদিয়া,কোয়েটা) আর শারাম্বুলালী র. মারাকীউল ফালাহতে (পৃ.৮১) “متوارث” শব্দ দ্বারা ইজমা উল্লেখ করেছেন।
(১৬-২৪) ইবনে হুমাম র. ফাতহুল কাদীরে (১/৪৮৫), আন্ওয়ার শাহ্ কাশ্মীরী র. আল আরফুশ শাযীতে (হাশিয়ায়ে তিরমিযী : ১/১৬৬), ইবনে নুজাইম র. বাহরুর রায়েকে (২/১১৭-যাকারিয়া), আল্লামা শামী র. রদ্দুল মুহতারে (২/৪৫-সাঈদ), কাসানী র. বাদায়েতে (২/২৭২-দারুল হাদীস), আ. হক মুহাদ্দিসে দেহলবী র. ‘মা সাবাতা বিস সুন্নাহ’ গ্রন্থে (পৃ.২১৭), হালাবী র. শরহে মুন্য়াতে (পৃ.৪০৬), সুয়ূতী র. মাসাবীহ গ্রন্থে (পৃ.১৬) এবং সুবকী র. মাসাবীহতে (পৃ.১৬) “ثم استقر الامر علي هذا” ইত্যাদি বাক্য দ্বারা ইজমা উল্লেখ করেছেন। কোনো আলেম বা ফকীহ এগুলোর উপর আপত্তি করেননি। উপর্যুক্ত দলিল-প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত হলো, বিশ রাকাত তারাবীহর উপর পুরো উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া র.-এর অভিমত
২০ রাকাত তারাবীহর ব্যাপারে গায়রে মুকাল্লিদদের মান্যবর ইমাম আরববিশ্বের অন্যতম গবেষক ইবনে তাইমিয়া র.-এর মতামত তুলে ধরা হলো। তিনি লিখেন-
قد ثبت ان ابي بن كعب رضي الله عنه كان يقوم بالناس عشرين ركعة في قيام رمضان ويوتر بثلاث فرأي كثيرمن العلماء ان ذلك هو السنة لانه اقامه بين المهاجرين والانصار ولم ينكره منكر.
অর্থ : একথা প্রমাণিত যে, উবাই বিন কা‘ব রা. রমযানে তারাবীহতে লোকদের নিয়ে ২০ রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। তাই বহু আলেমের সিদ্ধান্ত এটাই সুন্নত। কেননা তিনি মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের উপস্থিতিতেই তা আদায় করেছিলেন। কেউ তাতে আপত্তি করেননি। (মাজমুআতুল ফাতাওয়া : ১২/৬৮-মাকতাবা আবীকান; ২৩/৬৫-দারুল হাদীস)
তিনি আরো লিখেন-
ثبت (التراويح عشرون ركعة) من سنة الخلفاء الراشدين وعمل المسلمين.
অর্থাৎ, খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত ও মুসলিম জাতির আমল দ্বারা ২০ রাকাত তারাবীহ প্রমাণিত । (মাজমুআতুল ফাতাওয়া : ২৩/৬৬-দারুল হাদীস)
অন্যত্রে তিনি বলেন-
كما أن نفس قيام رمضان لم يوقت النبى صلى الله عليه وسلم فيه عددا معينا….. فلما جمعهم عمر علي ابي بن كعب ، كان يصلي بهم عشرين ركعة ويوتر بثلاث …. ثم كانت طائفة من السلف يقومون باربعين ركعة ويوترون بثلاث وآخرون قاموا بست وثلاثين واوتروا بثلاث، وهذا كله سائغ. فكيفما قام فى رمضان من هذه الوجوه فقد أحسن-
অর্থ: “তারাবীহর ব্যাপারে রাসূলের সা. পক্ষ থেকে কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি। হযরত উমর রা. যখন সাহাবাদেরকে উবাই বিন কা‘ব রা.-এর পিছনে তারাবীহর জন্য একত্রিত করেন তখন উবাই রা. তাদেরকে ২০ রাকাত তারাবীহ ও ৩ রাকাত বিতর পড়ান। পরবর্তীতে অনেকে ৩৯ রাকাত, অনেকে ৩৬ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। এর প্রত্যেকটিই বৈধ। এর যে কোনো একটি পড়লেই তারাবীহ আদায় হবে। (মাজমুআতুল ফাতাওয়া : ২২/৪৯৫-দারুল হাদীস)
সুতরাং বুঝা যায় যে, ইবনে তাইমিয়া র.-এর মতে তারাবীহর নামায বিশ রাকাতের অধিক বৈধ হলেও বিশের কমে ৮ রাকাত তারাবীর কোনো নযীর নেই।
হারামাইনের চৌদ্দ শ’ বছরের তারাবীহর ইতিহাস
আরববিশ্বের প্রখ্যাত আলেম মদীনার শরয়ী আদালতের বিচারপতি, মসজিদে নববীর দীর্ঘকালের স্বনামধন্য উস্তাদ শাইখ আতিয়্যা সালেম র. এ বিষয়ে “التروايح من اكثر الف عام” নামে একটি তথ্যবহুল বই লিখেছেন। এতে তিনি মসজিদে নববীর তারাবীহর ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, সুদীর্ঘ (প্রায়) দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে মসজিদে নববীতে ২০ রাকাতের কম তারাবীহ পড়া হয়নি। সাহাবা ও তাবেয়ী ২০ রাকাত পড়েছেন। ২য় ও ৩য় শতাব্দীতে কিছু অতি উৎসাহী লোক ৩৬ রাকাত পড়েছেন। এরপর চতুর্থ শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত মদীনাতে ২০ রাকাত তারাবীহর নামায পড়া হচ্ছে।
قال الشيخ عطية سالم رح: مضت المائة الثانية والتراويح ست وثلاثون وثلاث وتر ودخلت المائة الثالثة وكان المظنون أن تظل ما هي عليه تسع وثلاثون بما فيه الوتر.
উপসংহারে তিনি বলেন, যখন এ দীর্ঘকালে উল্লেখযোগ্য এমন একজনও পাওয়া যায় না যিনি বলেছেন তারাবীহর নামাজ আট রাকাতের বেশি পড়া জায়েয নেই বা রাসূল সা.-এর মসজিদে কোনো এক দিন জামাতের সাথে আট রাকাত পড়া হয়েছে। তারপরও যারা আট রাকাতের উপর অটল আছেন এবং অন্যদের সেদিকে দাওয়াত দিচ্ছেন তাদেরকে শুধু এটুকু বলার আছে যে, ইসলামের প্রথম যুগ থেকে আজ পর্যন্ত পুরো মুসলিম উম্মাহর ধারাবাহিক আমলের বিরোধীতা করার চেয়ে অনুসরণ করাই অধিক শ্রেয়। (আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আম :পৃ.৪১-৪২-৪৭-৪৮-৬৫-১০৮-১০৯)

দ্বিতীয় অধ্যায়
তারাবীহ ৮ রাকাতের পক্ষের দলিল ও তার খণ্ডন
আমরা এ পর্যন্ত বিশ রাকাত তারাবীহর পক্ষে সবধরণের অত্যন্ত শক্তিশালী দলিল পেশ করলাম। অথচ লা-মাযহাবী বন্ধুরা এসব দলীলের বিরোধীতা করে বর্তমানে পুরো মুসলিম উম্মাহকে এক কঠিন পরিস্থিতিতে নিমজ্জিত করে রেখেছেন। আর তাদের মত মুমিনগণের অনুসৃত পথ থেকে যে সম্পূর্ণ বিচ্যুত তা পূর্বের আলোচনাতেই পরিষ্কার হয়ে গেছে।
আমরা এ অধ্যায়ে তাদের দাবীর পক্ষে দলিলগুলো যাচাই করে দেখবো। তবে তারপূর্বে ভূমিকা স্বরূপ একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন, তা হলো-
নবীজী স. কত রাকাত তারাবীহ পড়েছেন ?
রাসূল স. রমযানের রাতসমূহে কী পরিমাণ নামায আদায় করতেন এ নিয়ে হযরত আয়েশা রা. হতে দু’ধরণের বিবরণ পাওয়া যায়।
ক. রাসূল স. সারা বৎসরের তুলনায় রমযান মাসে খুব বেশী ইবাদত করতেন এবং অধিক পরিমাণে রাতে নামায পড়তেন। যেমন:
* মুসলিম শরীফের বর্ণনা-
قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: ্রكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ. (صحيح مسلم: رقم: ১১৭৫، باب الاجتهاد في العشر)
“নবী স. রমযানের শেষ দশকে ইবাদত বন্দেগীতে এত অধিক সময় মনোনিবেশ করতেন, যা বছরের অন্য কোনো সময়ে করতেন না।” (মুসলিম শরীফ: ১/৩৭২)
* বুখারী ও মুসলিম শরীফে আছে-
عن عائشة رضي الله تعالي عنها قالت كان رسول الله صلي الله عليه وسلم اذا دخل رمضان احي الليل وايقظ اهله وشد المئزر. (صحيح البخاري)
“আয়েশা রা. বলেন, রমযানের শেষ দশকে রাসূল স. নিজেও রাত জাগতেন আপন পরিবারকেও জাগাতেন এবং ইবাদত বন্দেগীর জন্য কোমর বেঁধে নিতেন।”
* হযরত আয়েশা বর্ণনা করেন-
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: ” كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ تَغَيَّرَ لَوْنُهُ، وَكَثُرَتْ صَلَاتُهُ، وَابْتَهَلَ فِي الدُّعَاءِ، وَأَشْفَقَ مِنْهُ. (شعب الايمان: رقم ৩৩৫৩، فضائل شهر رمضان)
“রমযান মাস আসলে নবী স. এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেতো, তিনি অধিক পরিমাণে নামায আদায় করতেন এবং কাকুতি-মিনতি ও অনুনয়-বিনয়ের সাথে খুব বেশী দোয়া করতেন এবং তাঁর তরে খোদাভীতিও বেড়ে যেতো” (শুয়াবুল ঈমান-নং৩৩৫৩)
এসব হাদীস দ্বারা বোঝা যায়, রমযানের রাত্রীকালিন নামায বছরের অন্যান্য রাত্রের তূলনায় অনেক বেশী ছিল। যদিও কত রাকাত তার কোন সংখ্যা এতে উল্লেখ নেই।
খ. পক্ষান্তরে হযরত আয়েশা রা. থেকেই অপর এক বর্ণনায় এর বিপরীত বক্তব্য পাওয়া যায়। যেমন-
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ؟ فَقَالَتْ: ্রمَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًاগ্ধ (صحيح البخاري: ১/১৫৪،২০১৩)
অর্থাৎ হযরত আবু সালামা র. আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞেস করলেন রমজান মাসে নবী স. এর নামাজ কী রূপ ছিল ? উত্তরে হযরত আয়েশা বলেন নবী স. রমযানে এবং রমযানের বাইরে কখনো ১১ রাকাতের বেশী পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত (এক নিয়তে) পড়তেন এতো দীর্ঘ ও সুন্দর নামায পড়তেন যার বিবরণ দেয়া প্রায় অসম্ভব। পূনরায় একইভাবে অতি দীর্ঘ ও সুন্দর করে চার রাকাত পড়তেন। অতপর তিন রাকাত বিতর পড়তেন। (সহীহুল বুখারী:১/১৫৪)
এ হাদীস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, রমযানের রাতেও বছরের অন্যান্য রাতের মত ১১ এগার রাকাতই পড়তেন, এর বেশী পড়তেন না।
গ: মুসলিম শরীফে রয়েছে, আবু সালামা র. আয়েশা রা. কে রাসূল সা. এর নামায সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন-
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ، عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: ্রكَانَ يُصَلِّي ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي ثَمَانَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ يُوتِرُ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَرَكَعَ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَالْإِقَامَةِ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِগ্ধ.(صحيح مسلم: ১/২৫৪، رقم: ১২৬)
অর্থাৎ তিনি তের রাকাত নামাজ পড়তেন। (প্রথমে) আট রাকাত পড়তেন এরপর (তিন রাকাত) বিতর পড়তেন। এরপর দুই রাকাত নামায বসে পড়তেন। (মুসলিম:১/২৫৪)
এই হাদীসগুলো দ্বারা বুঝা গেল:
ক. নবী স. রমযানে অনেক বেশী নামাজ পড়তেন।
খ. সারা বছরও একই রকম নামায পড়তেন এবং তা এগার রাকাতই ছিল এর বেশী কখনো পড়তেন না।
গ. তের রাকাত পর্যন্ত পড়তেন।
এসব হাদীসকে বাহ্যিকভাবে পরষ্পরবিরোধী মনে হয়। অন্যদিকে উক্ত নামায তারাবীহ ছিল নাকি তাহাজ্জুদ ছিলো তার স্পষ্ট বিবরণ নেই। লা-মাযহাবীদের উক্তিমত যদি (খ) এর হাদীসটিকে তারাবীহই গণ্য করা হয় যদিও আসলে তা তাহাজ্জুদের নামায) তাহলে তারবীহর রাকাত সংখ্যা সহীহ হাদীসে আট রাকাতই প্রমাণ হবে। অথচ (ক) এর হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, রাকাতের কোন সংখ্যাই রাসূল স. থেকে নির্ধারিত ছিল না।
মোট কথা : হযরত আয়েশা রা. থেকে বিভিন্ন প্রকারের বর্ণনা পাওয়া যায়। এক বর্ণনানুযায়ী রাকাতের সংখ্যা অনির্ধারিত। অপর বর্ণনা মতে রাকাত সংখ্যা আট বা দশ (এগার বা তিন)। এসব কারণে রাসূল স. এর তারাবীহ সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উলামা থেকেও দু’ধরণের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। এক শ্রেণীর আলেম মনে করেন, নবী স. কত রাকাত তারাবীহ পড়েছেন এটা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। এদের মধ্যে রায়েছেন- ১. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, ২. আল্লামা তাজুদ্দিন সুবকী, ৩. জালালুদ্দীন সূয়ুতী, ৪. ইমাম শাফেয়ী, ৫. আল্লামা শাওকানী, ৬. নবাব সিদ্দিক হাসান খান প্রমুখ।
অপর শ্রেণীর উলামায়ে কিরামের মন্তব্য হচ্ছে নবী স. বিশ রাকাতই তারাবীহ পড়েছেন যা ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণিত হাদীসে বিধিত রয়েছে। এদের মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছেন ১) আল্লামা রাফেয়ী আশশাফেয়ী। ২) ইমাম তাহাবী আলহানাফী। ৩) আল্লামা কাযী খান। ৪) ইমাম শাহ আব্দুল আযীয র. প্রমুখ
যারা বিশ রাকাত তারাবীহ রাসূল স. থেকে নির্ধারিত এবং তিনি পড়িয়েছেন বলে মনে করেন তাদের দলিল আমরা ইতোপূর্বে প্রথম দলিল হাদীসে মারফু অধ্যায়ে স্ব-বিস্তারে পেশ করেছি।
যারা রাকাতের সংখ্যা রাসূল স. থেকে নির্ধারিত নেই বলে মন্তব্য করেন তাদের কয়েকটি বিবরণ এখানে পেশ করছি :
১. আহলে হাদীসের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ পুরুষ নবাব সিদ্দিক হাসান খান বলেন-
{إن صلاة التراويح سنة بأصلها لما ثبت أنه (ص) صلاها في ليالي ثم ترك شفقة علي الامة أن لاتجب علي العامة أو يحسبوها واجبة ولم يأت تعين العدد في الروايات الصحيحة المرفوعة ولكن يعلم من حديث كان رسول الله (ص) يجتهد في رمضان مالا يجتهد في غيره أن عددها كان كثيرا.} رواه مسلم.
অর্থাৎ তারাবীহর নামায মৌলিকভাবে সুন্নাত। কেননা হাদীসে প্রমাণ আছে যে নবী স. কয়েক রাত তারাবীহ পড়েছেন। অতপর এ আশঙ্কায় ছেড়ে দেন যে, উম্মতের উপর হয়তো ফরয হয়ে যাবে। কিংবা উম্মত সেটাকে ফরয ধারণা করে বসবে। তবে কোনো মারফু সহীহ হাদীসে তারাবীহর নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা বর্ণিত নেই। হ্যাঁ, মুসলিম শরীফের এক হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, রাকাত সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।
উল্লেখ্য, বুখারীতে হযরত আয়েশা রা. কর্তৃক বর্ণিত এগার রাকাতের হাদীস যদি তারাবীহর সাথে সম্পৃক্ত হতো সেটা কি সহীহ মারফু নয় ? তাহলে কীভাবে এ মন্তব্য করা হবে ? হ্যাঁ, তিনিও জানেন আয়েশা রা. এর হাদীসটি তাহাজ্জুদের; তারাবীর নয়।
২. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া র. বলেন-
{من ظن ان قيام رمضان فيه عدد معين موقط عن النبي (ص) لا يزيد ولا ينقص فقد اخطأ. (الانتقاض الرجيح: ৬৩)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি এই ধারণা করে যে, নবী স. রমযানে নির্দিষ্ট সংখ্যায় তারাবীহ পড়েছেন। কখনো কম বেশি করেননি, তাদের ধারণা ভুল।
৩. আল্লামা শাওকানী র. বলেন-
وَالْحَاصِلُ أَنَّ الَّذِي دَلَّتْ عَلَيْهِ أَحَادِيثُ الْبَابِ وَمَا يُشَابِهُهَا هُوَ مَشْرُوعِيَّةُ الْقِيَامِ فِي رَمَضَانَ، وَالصَّلَاةُ فِيهِ جَمَاعَةً وَفُرَادَى، فَقَصْرُ الصَّلَاةِ الْمُسَمَّاةِ بِالتَّرَاوِيحِ عَلَى عَدَدٍ مُعَيَّنٍ، وَتَخْصِيصُهَا بِقِرَاءَةٍ مَخْصُوصَةٍ لَمْ يَرِدْ بِهِ سُنَّةٌ.(نيل الاوطار: ৩/৬৬)
অর্থাৎ এ সম্পর্কীয় সবগুলো হাদীস মিলিয়ে দেখলে বুঝা যায় যে, রমযানের রাত্রি জাগরণ এবং নামায পড়া প্রমাণিত। এই নামায জামাতেও পড়া যায়, একাকীও পড়া যায়। সুতরাং নামাযকে নির্দিষ্ট সংখ্যা এবং নির্দিষ্ট সূরা কেরাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার ব্যাপারে কোনো (সহীহ) হাদীস পাওয়া যায়না। (নাইলুল আওতার- ৩/৬৬)
এখানে লা-মাযহাবীদের তিনজন আদর্শ পুরুষের মন্তব্য তুলে ধরলাম। এরা সবাই দ্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, তারাবীহ সম্পর্কে রাসূল স. থেকে সুনির্দিষ্ট কোন সংখ্যাই সহীহ হাদীসে বর্ণিত নেই। অন্যদিকে উপরোল্লিখিত মুসলিম শরীফের হাদীস দ্বারা বুঝাযায় যে, রাকাত সংখ্যা অনেক বেশী ছিলো। আবার বেশ কিছু ফকীহ ও মুহাদ্দিসের মন্তব্য হচ্ছে, তারাবীহর সংখ্যা বিশ রাকাত ছিলো। কিন্তু তারাবীহর সংখ্যা আট রাকাত ছিলো’ এ মন্তব্য কোথাও কেউ করতে দেখা যায়নি। হাজার বছর পর এসে আলবানী ও তার অনুসারী লা-মাযহাবীরা তাদের আদর্শ পুরুষ ইবনে তাইমিয়া, নবাব সিদ্দিক হাসান ও ইমাম শাওকানীর স্পষ্ট ঘোষণার বিরুদ্ধে রাকাতের সংখ্যা আট বলে দাবী করে বসলেন। প্রমাণস্বরূপ বুখারীতে বর্ণিত হযরত আয়েশা রা. কর্তৃক তাহাজ্জুদের হাদীসটি পেশ করলেন। বিচারের ভার পাঠকদের কাছে ছেড়ে দিলাম। বলুন! এতে প্রতীয়মান হয়না যে, তারবীহ আট রাকাত বলার মতামতটি নব আবি®কৃত ফিতনা। হাজার বছর যাবত কেউ একথা বলেননি, বুখারীতে বর্ণিত আয়েশা রা. এর হাদীসকে কেউ তারাবীহর হাদীসও বুঝেন নি। আল্লাহ তাদের সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন॥
লা-মাযহাবীদের আট রাকাতের দলিল
বিশ রাকাত তারাবীহর সবগুলো দলিলকে উপেক্ষা করে লা-মাযহাবীরা আহলে সুন্নাতের অনুসৃত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে আট রাকাতকেই সুন্নাত এবং এর বেশী পড়াকে বিদআত আখ্যা দিয়ে ফিৎনার সৃষ্টি করছেন। তাঁরা আট রাকাতে তারাবীহ সীমাবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে নিম্নোক্ত দলিল গুলো পেশ করে থাকেন-
১ নং দলিল :
উ¤মূল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. এর বর্ণনা-
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ، كَيْفَ كَانَتْ صَلَاةُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ؟ قَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ، وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلَاثًا، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ، فَقَالَ: ্রيَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ، وَلَا يَنَامُ قَلْبِيগ্ধ (صحيح مسلم: ১/২৫৪،رقم: ১২৫، باب صلاة الليل والوتر)
অর্থাৎ আবু সালামা হযরত আয়েশা রা.কে জিজ্ঞেস করলেন, রমযানে রাসূল স. এর নামায কীরূপ হতো ? তিনি বললেন- রমযান ও অন্য সময়ে তিনি এগার রাকাতের বেশী আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে চার রাকাত আদায় করতেন। এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে তুমি জিজ্ঞাসা করোনা। অতপর চার রাকাত আদায় করতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যে বিতির পড়ার পূর্বেই ঘুমিয়ে পড়েন ? তিনি বললেন- আয়েশা! আমার চোখ ঘুমায় তবে আমার হৃদয় জাগ্রত থাকে। (সহীহ মুসলিম:২৫৪)
এ হাদীসটি তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল। অথচ এ হাদীস তাহাজ্জুদ নামাযের ব্যাপারে এসেছে। তারা এর অপব্যাখ্যা করে তারাবীহর ব্যাপারে প্রয়োগ করেছে। আর এ প্রয়োগকে বৈধতা দেয়ার জন্য তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই নামাযের দুই নাম বলে প্রচার চালিয়েছে এবং বলে, যে নামাযটি এগার মাস যাবত তাহাজ্জুদ থাকে তা-ই রমযানে এসে তারাবীহ হয়ে যায়। বাহ্ কী চমৎকার কথা ! কিন্তু এ পর্যন্ত তারা তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ যে এক নামাযের দুই নাম এবং তাহাজ্জুদ আট রাকাতের বেশী পড়া যায়না তা সহীহ তো দূরের কথা কোনো যয়ীফ হাদীস দ্বারাও প্রমাণ করতে পারেনি। বাংলাদেশে উত্তর বঙ্গের এক বিশাল সমাবেশে তারা দুই লক্ষ টাকার পুরষ্কার ঘোষণা করেছেন। আমি তাদেরকে দশ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ দিয়েছি। আজ পর্যন্ত এর জবাব মিলেনি।
দলিলটি খণ্ডন
মূলত অনেকগুলো দলিল দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, আলোচ্য হাদীসটি তারাবীহ বিষয়ক নয়; বরং তাহাজ্জুদের সাথে সম্পৃক্ত। এর মমার্থ হচ্ছে, বিভিন্ন সহীহ হাদীসে এসেছে যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি যে, রাসূল স. রমযান মাসে ইবাদত ও নামাযে বেশি নিমগ্ন থাকতেন তাই সম্ভাবনা ছিলো রমযানে তাহাজ্জুদ নামাযের রাকাত সংখ্যা অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি হবে। এ কারণেই আবু সালামা শুধু রমযানের তাহাজ্জুদের অবস্থা সম্পর্কে হযরত আয়েশা রা. থেকে জানতে চাইলেন। তাই হযরত আয়েশা রা. জানিয়ে দিলেন যে, তাহাজ্জুদের রাকাত সংখ্যা রমযান মাসেও অন্যান্য মাসের মতো অপরিবর্তিত থাকতো। প্রশ্ন শুধু রমযানের ব্যাপারে থাকলেও উপরোক্ত কারণেই জবাবে (لا في رمضان ولافي غيره) রমযান ও গাইরে রমযানের বাক্যটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং হাদীসটি যে তাহাজ্জুদ সম্পর্কে তা সুস্পষ্ট।
এর প্রমাণ স্বয়ং হাদীসটি বর্ণনার ধরণেই বিদ্যমান। যেমন-
১Ñ এ হাদীসে ওই নামাযের কথাই বলা হয়েছে, যা রমযান ও অন্যান্য মাসে পড়া হতো। সর্বস্বীকৃত কথা হচ্ছে তারাবীহ একমাত্র রমযান মাসেই পড়া হয়ে থাকে; সব মাসে নয়। বুঝা গেলো এ নামাযটি তারাবীহ নয়; বরং তাহাজ্জুদ।
২Ñ এ নামাযের বিবরণে স্পষ্ট আছে أربعا)) চার রাকাত চার রাকাত করে পড়েছেন। মাও. মুবারকপুরী আহলে হাদীসের ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তিরমিযীর ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, এর অর্থ হচ্ছে এক সালামে চার রাকাত পড়া হয়েছিলো। বিতরের তিন রাকাতও এক সালামে পড়া হয়েছে। সবারই জানা কথা, তাহাজ্জুদ চার রাকাত করে যেমন পড়া যায়, দুই রাকাত করেও পড়া যায়। কিন্তু তারাবীহর নামায এক সালামে চার রাকাত পড়ার পক্ষে স্বয়ং আলবানী সাহেবও নন। কেউ এটাকে জায়েযও মনে করেন না। তাহলে প্রতীয়মান হলো, এ হাদীস তাহাজ্জুদের ব্যাপারে বর্ণিত।
৩. এ হাদীসে যে নামাযের কথা বলা হয়েছে তাতে রাসূল স. নামায শেষে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতেন এবং পরে ঘুম থেকে উঠে বিতর পড়তেন। অথচ তারাবীহর ক্ষেত্রে নামায শেষে ঘুমের পূর্বেই বিতর পড়া হয়ে থাকে অথবা বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে গেলে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে তাহাজ্জুদ তারপর বিতর পড়ার নিয়ম ছিলো, এখনো আছে। সুতরাং যে নামাযের পর ঘুমিয়ে অত:পর উঠে শুধু বিতর পড়া হয় তা একমাত্র তাহাজ্জুদ নামায হওয়া সম্ভব; তারাবীহ হওয়ার কোনো অবকাশ থাকে না। একথা বলারও সুযোগ নেই যে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই নামায। একটু পরেই আমরা আলোচনা করবো যে, এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন নামায।
৪. এ হাদীসে যে নামাযের কথা বলা হয়েছে তা হযরত আয়েশা রা.এর ঘরে একাকী নামায ছিলো। যা হাদীসের শেষাংশে হযরত আয়েশা রা.এর প্রশ্ন ও রাসূল স. এর উত্তর থেকে স্পষ্ট। আর বলা বাহুল্য, তাহাজ্জুদই নির্জনে একাকী পড়া হয়ে থাকে পক্ষান্তরে তারাবীহ তো জামাতের সাথে পড়া হয়।
৫. এ স্পষ্ট সহীহ হাদীসে আট রাকাতের নামাযটি যদি তারাবীহ হতো, তাহলে সাহাবায়ে কিরামের পক্ষে তারাবীহ বিশ রাকাত পড়া আদৌ সম্ভব ছিলো না। কেননা, সাহাবারা ছিলেন রাসূলের সুন্নাত ও আদর্শের প্রতি সবচেয়ে বেশী আসক্ত। এক একটি সুন্নাতের জন্য যারা প্রাণ উৎসর্গ করতে সর্বদা প্রস্তুত, তাদের পক্ষে এমন অকাট্য সুস্পষ্ট আট রাকাতের হাদীস থাকতে বিশ রাকাত পড়ার মতো দুঃসাহস কল্পনাও করা যায় না।
৬. স্বয়ং হযরত আয়েশা রা. যিনি এ হাদীসের বর্ণনাকারী, তিনিও হাদীসটিকে তারাবীহ বিষয়ক মনে করতেন না। অন্যথায় তার চোখের সামনে তারই হুজরার পাশে মসজিদে নববীতে চল্লিশ বছর যাবত বিশ রাকাত তারাবীহ পড়ে স্পষ্ট রাসূলের আদর্শবহির্ভূত কাজ সাহাবারা করবেন, আর তিনি চুপ করে তা মেনে নিবেন- কল্পনাও করা যায় না। এমন ধারণা স্বয়ং হযরত আয়েশা রা.এর সম্মানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করার নামান্তর।
৭. মুহাদ্দিসগণও এই হাদীসকে তারাবীহ নয় বরং তাহাজ্জুদের ক্ষেত্রেই মনে করতেন। এ কারণে ইমাম মুসলিম র., আবু দাউদ র., তিরমিযী র., নাসায়ী র., ইমাম মালেক র., দারমী র., আবু আওয়ামা র. ও ইবনে খুযায়মা র. প্রমুখ এদের কেউই এ হাদীসটিকে তাহাজ্জুদের অধ্যায়ে উল্লেখ করেননি। শুধু ইমাম বুখারী র. ও ইমাম মুহাম্মদ র. এ হাদীসকে তারাবীহর নামায বিষয়ক মনে করতেন বরং যথা সম্ভব তারা উভয় অধ্যায়ে হাদীসটি এনেছেন তাহাজ্জুদের নামায হিসেবে। তাহাজ্জুদ এবং তারাবীহর অধ্যায় এনেছেন একথা বুঝানোর জন্য যে রাতের নামায যেনো তারাবীহর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তাহাজ্জুদও যেনো পড়া হয়।
এতে প্রমাণ হলো মুহাদ্দিসগণও এ হাদীসকে তারাবীহ সংক্রান্ত বলে মেনে নেননি।
৮. বিশ্বের কোনো ফকীহও এ হাদীস থেকে তারাবীর নামায বুঝেনি। নচেৎ কোনো না কোনো ফকীহ এমন সুস্পষ্ট হাদীস দ্বারা তারাবী আট রাকাত বলে মত ব্যক্ত করতেন। অথচ তাদের কেউ তারাবীহ আট রাকাতের মত পোষণ করেননি। ইমাম তিরমিযী র. তার হাদীস গ্রন্থে প্রত্যেক মাসআলাতে ফকীহগণের মত উল্লেখ করে থাকেন। এটা সুনানে তিরমিযীর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তিনি একইভাবে তারাবীহর অধ্যায়ে রাকাতের সংখ্যার বিষয়ে বহু মত পেশ করেছেন। বিশ রাকাত থেকে সর্বোচ্চ ৪১রাকাতের মতও পেশ করেছেন। কিন্তু কোনো ফকীহ তারাবীহর নামায আট রাকাত বলে মনে করেন- এমন কোনো মতামত তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি অন্যত্রে বলেছেন, (كذلك قال الفقهاء وهم أعلم بمعاني الحديث) “এব্যাপারে ফকীহগণ অনুরূপ বলেছেন, আর হাদীসের মর্ম সম্পর্কে তারাই সর্বাধিক অবগত ছিলেন।”
প্রমাণ হলো, হাদীস সম্পর্কে সব চেয়ে অভিজ্ঞ উলামায়ে কিরামও আলোচ্য হাদীসকে তারাবীহ সংক্রান্ত বলে মেনে নেননি।
৯. আলবানী সাহেবদের কথামতো আলোচ্য হাদীসটি তারাবীহ সম্পর্কে হলে তাদেরই মান্যবর উলামা ইবনে তায়মিয়া র. আল্লামা শাওকানী র. এবং নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান র. তারাবীহর রাকাতের সংখ্যা সম্পর্কে কেন বললেন যে,
لم يأت تعيين العدد في الروايات الصحيحة المرفوعة، ولم تردبه سنة، فقد أخطأ.
“এ ব্যাপারে কোনো সহীহ হাদীস নেই, এমন ধারণা যে করবে সে ভুল করবে।” বলুন ! এ হাদীসটি বুখারীতে এসেছে এটা কি সহীহ না ? আসলে এরাও হাদীসটিকে তারাবীহ সংক্রান্ত মনে করতেন না।
মোটকথা, এসব দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, হযরত আয়েশা রা.-এর হাদীসটি তাহাজ্জুদ সম্পর্কে , তারাবীহ সম্পর্কে নয়। যদি তারাবীহ সম্পর্কে হতো তাহলে সাহাবায়ে কিরামের পক্ষে বিশ রাকাত পড়ার উপর ঐক্যমত হওয়া কিছুতেই সম্ভব ছিলো না। অনুরূপভাবে রাসুল স. থেকে বিশ রাকাতের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা না থাকলে তাও তাদের পক্ষে সম্ভব হতো না।
তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ সম্পূর্ণ ভিন্ন নামায
তারা এমনও বলে থাকেন- তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই নামাযের দুই নাম। গাইরে রমযানে যাকে তাহাজ্জুদ বলে, রমযানে তা তারাবীহ হয়ে যায়। (قيام الليل)কিয়ামুল লাইল ও (قيام رمضان) কিয়ামে রমযান এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং আয়েশা রা.-এর হাদীস তাহাজ্জুদের সাথে সম্পৃক্ত। আর তাহাজ্জুদই তারাবীহ।
অতএব, এ হাদীসকে তারাবীহরও বলা চলে, পড়তে হবে আট রাকাত। এর বেশী পড়া হবে বিদআত। এ সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট। তা হচ্ছে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই নামায হলে তা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণ করুন? কষ্মিনকালেও সক্ষম হবেন না। আর তাহাজ্জুদ আট রাকাতের বেশী পড়লে বিদআত হবে এ কথাও হাদীস দ্বারা প্রমাণ করা কখনো সম্ভব হবে না। কারণ সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে তাহাজ্জুদের জন্য কোনো নির্ধারিত রাকাত সংখ্যা নেই। দুই দুই রাকাত চার চার রাকাত করে যতো ইচ্ছা পড়া যাবে।
আর রাসূল স. ইরশাদ করেন-
اوتروا بخمس أو بسبع أو بتسع أو باحدي عشرة أوباكثر من ذلك .
তোমরা রাতের নামায (তাহাজ্জুদবিতর সহকারে) পাঁচ রাকাত পড়, সাত রাকাত পড়, নয় রাকাত পড়, এগারো রাকাত পড় কিংবা তার চেয়ে বেশী পড় (সবই সঠিক)। (বি. দ্র. সহীহ ইবনে হিব্বান, ২৪২৯, মুস্তাদরাক ১১৭৮)
হাদীসটি মুহাদ্দিসগণের নিকট সহীহ। (দেখুন আততালযীম ২-১৪ নাইলুন আওতার ৩/৪৩)
উপরন্তু আলোচ্য হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূল স. রাতের নামায এগারো রাকাত থেকে বেশী পড়তেন না। অন্যদিকে স্বয়ং হযরত আয়েশা রা.-এর বর্ণনাতেই পাওয়া যায়, রাসূল স. তাহাজ্জুদের নামায (ফজরের সুন্নাত ছাড়া ) বিতরসহ তেরো রাকাতও পড়েছেন। (সহীহ বুখারী হাদীস নং১১৬৪)
পূর্বে আমরা হাদীসটি উল্লেখ করেছি। অন্যান্য সহীহ হাদীসে তাহাজ্জুদের নামাযের সংখ্যা বিতরসহ সতেরো রাকাত এবং তদাধিকও পাওয়া যায়। (নাইলুল আওতার, শাওকানী)
এখন লা-মাযহাবীদের প্রতি জিজ্ঞাসা হলো, একদিকে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদকে এক নামায সাব্যস্ত করবেন, অপরদিকে তারাবীহ আট রাকাতের চেয়ে বেশী পড়াকে বিদআতও বলবেন, অথচ উপরোক্ত আলোচনায় দেখলেন যে, সহীহ হাদীসেই তাহাজ্জুদ বেশী পড়ারও প্রমাণ রয়েছে। তাহলে অবস্থাটা কী দাঁড়ালো। আপনারা হাদীসকে অমান্য করেও আহলে হাদীস, স্ববিরোধী কথা বলেও বড় পণ্ডিত? আসলে حفظت شيأ وغابت عنك الاشياء অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্কর। বড়দের মানার মেজায থাকলে এমনটি হয়না। অজ্ঞ হয়েও মুজতাহিদ সাজলে এমনই হয়।
তাহাজ্জুদ ও তারাবীহর মাঝে পার্থক্য
তথাকথিত আহলে হাদীসগণ দাবি করেন যে, তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ একই নামায। তাদের এদাবি ভুল। তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ আলাদা নামায। কারণ:-
১. তাহাজ্জুদের মাঝে ডাকাডাকি জায়েয নেই,কিন্তু তারাবীহতে জায়েয আছে।
২. তারাবীহর সময় হলো ঘুমানোর পূর্বে আর তাহাজ্জুদের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে উত্তম সময় হলো ঘুম থেকে উঠার পর।
৩. মুহাদ্দিসগণ তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ কে পৃথক পৃথক অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
৪. তাহাজ্জুদের নামায প্রথমে ফরয ছিলো তারপর ফরযের বিধান রহিত হয়ে গেছে। ফলে দ্বিতীয়বার ফরয হওয়ার সম্ভাবনা ছিলোনা। অথচ রাসুল সা. কিয়ামে রমযানের জামা‘আত নিয়মিত করেননি তা ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। এর দ্বারা বুঝা গেলো,তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ এক নয়।
৫. তাহাজ্জুদের বিধান কুরআনে আছে- (ক) ومن الليل فتهجد به نافلة لك. (সূরা বনী ইসরাঈল:৭৯) (খ)ياايها المزمل قم الليل الا قليلا …الخ (সূরা মুয্যাম্মিল : ১-৪)। আর তারাবীহর বিধান আছে হাদীসে। রাসূল সা. ইরশাদ করেন- (গ) وسننت لكم قيامه (নাসায়ী:১/৩০৮;৪/১৫৮)
৬. তাহাজ্জুদের হুকুম মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, আর তারাবীহর বিধান মদীনায়।
৭. হাদীসে তারাবীহর আলোচনা ‘কিয়ামে রমাযান’ আর তাহাজ্জুদের আলোচনা ‘কিয়ামূল লাইল’ নামে এসেছে। এটাও একটা দলিল যে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ এক নয়। কারণ তাহাজ্জুদ রমযানের সাথে খাস নয়।
৮. তাহাজ্জুদের নির্দিষ্ট রাকাত রাসূল স. থেকে বর্ণিত আছে অর্থাৎ বিতরসহ সর্বোচ্চ ১৩ রকাত আর সর্বনিম্ন ৭ রাকাত। অপরদিকে তারাবীহর ব্যাপারে গাইরে মুকাল্লিদরাও বলে থাকেন যে, এব্যাপারে রাসূল স. থেকে নির্দিষ্ট কোনো রাকাত প্রমাণিত নেই। (আহসানুল ফাতাওয়া:৩/৫৩১-৩২)
দ্বিতীয় দলিল:
حدثنا عبد الأعلى حدثنا يعقوب عن عيسى بن جارية حدثنا جابر بن عبد الله قال : جاء أبي بن كعب إلى رسول الله صلى الله عليه و سلم فقال : يا رسول الله إن كان مني الليلة شيء ـ يعني في رمضان ـ قال : وما ذاك يا أبي ؟ قال : نسوة في داري قلن : إنا لا نقرأ القرآن فنصلي بصلاتك قال : فصليت بهن ثمان ركعات ثم أوترت قال…. (قيام الليل: رقم: ১৮০১)
অর্থাৎ উবাই বিন কা‘ব রা. রমযানে রাসূল স.এর কাছে এসে বললেন, “গত রাতে আমাকে ঘরের নারীরা বললো, আমরা তো কুরআন পড়তে পারিনা । তাই আমরা তোমার পেছনে নামায পড়বো। আমি তাদের নিয়ে আট রাকাত ও বিতর নামায পড়লাম।” রাসূল স. কিছু বললেন না। (কিয়ামূল লাইল: হা: নং ১৮০১)
আট রাকাত তারাবীহর
দ্বিতীয় হাদীসের পর্যালোচনা
এ হাদীসটি নিম্নে বর্ণিত কিতাব সমূহে এসেছে-
১. মুসনাদে আবী ইয়া’লা। ২. কিয়ামূল লাইল লিল মারওয়াযী পৃ:৯০, মুজামুল আওসাত লিত তাবারানী (৩৭৩১), যাওয়ায়েদে মুসনাদে আহমদ (৫/১১৫ হাদীস নং ২১৪১৫), মাজমাউয যাওয়ায়িদ লিল হায়ছামী ২/১৭৯। এরা সকলেই একই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
১ নং জবাব:
হাদীস বিশারদদের বিবেচনায় এ হাদীসটি এতই দুর্বল যা কোনো শরয়ী মাসআলার ক্ষেত্রে প্রমাণ স্বরূপ পেশ করার অবকাশ নেই।
এর কারণ নিম্নরূপ-
* এহাদীসের সনদে “عيسي بن جارية”ঈসা বিন জারিয়া আছেন, তিনি মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে ‘যয়ীফ’। তার সূত্রে বর্ণিত হাদীস প্রমাণযোগ্য নয়।
* তার সম্পর্কে ইমাম ইবনে মাঈন র. বলেন “ليس حديثه بذات” তার হাদীস মজবুত নয়। অন্য বর্ণনায় বলেছেন “ليس شيئ” তিনি কোন বস্তুই নন। অপর বর্ণনায় আছে “عنده مناكير” তার নিকট অনেক আপত্তিকর হাদীস আছে।
* ইমাম নাসায়ী র. বলেন “منكر الحديث” তিনি আপত্তিকর হাদীস বর্ণনাকারী। অপর বর্ণনায় আছে “متروك الحديث” তার বর্ণিত হাদীস বর্জনীয়।
* ইমাম আবু দাউদ র. বলেছেন তিনি “منكر الحديث” তার বর্ণনা অগ্রহণযোগ্য।
* ইমাম আদী র. বলেছেন- “احاديثه غير محفوظة” তার হাদীস সঠিক ভাবে সংরক্ষিত নয়।
* ইমাম উকাইল র. তাকে যয়ীফ রাবীদের দলভূত করেছেন।
* ইমাম ইবনুল জাওযী র. তাকে ‘যয়ীফ’ আখ্যা দিয়েছেন (তাহযীবুল কামাল ১৪/৫৩৩,মিযানুল ইতিদাল;১/৩১১)
মোট কথা: ঈসা ইবনে জারিয়া একজন ‘যয়ীফ’ রাবী। যার বর্ণনা দলিল বা সমর্থক দলিল কোন ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুহাদ্দিসদের নিকট তিনি অনেক সময় ভুল ও আপত্তিকর কথাকে হাদীস স্বরূপ ভুলবশত: বা ইচ্ছাকৃতভাবে বর্ণনা করেন একারণে অনেকে তাকে “منكر الحديث” বলেছেন।
২ নং জবাব –
এহাদীসের মূলভাষ্য ভাল করে পড়ে দেখুন, কোথাও তারাবীহ শব্দ উল্লেখ নেই। হাদীসের ভাষা তারাবীর জন্য “কিয়ামূল লাইল” বা “কিয়ামে রমযান” ব্যবহৃত হয়েছে, এখানে এ জাতীয় কোন শব্দ নেই।
সুতরাং এহাদীস দ্বারা আট রাকাত তারাবীহর প্রমাণ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং এ বর্ণনায় বলা হয়েছে যে এটি রমযানের এক রাতের ঘটনা। তাহাজ্জুদের নামায জামাতের সাথে হতোনা, এক রাতে তিনি ঘরের মহিলাদের অনুরোধে আট রাকাত পড়িয়ে দিয়েছেন। তাই রাসূল স. এর নিকট তা প্রকাশ করেছেন। সব আলামত দ্বারা বুঝা যায় হযরত উবাই রা. মহিলাদের নিয়ে যে আট রাকাত পড়িয়েছেন তা তাহাজ্জুদ হওয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
৩ নং জবাব-
অনুসন্ধানে দেখা যায় উপরোক্ত হাদীসটি তারাবীহ সংক্রান্ত হওয়াতো দূরের কথা রমযানের ঘটনা সম্পর্কেও পরিস্কার নয়। কারণ হাদীসটি যাওয়ায়েদ, মুসনাদে আহমদ এবং আওসাতে তাবারানীতে বর্ণিত হাদীসে রমযান শব্দ থাকলেও মূল হাদীসে রমযান শব্দ নেই; বরং রাবীর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা স্বরূপ “يعني في رمضان” এসেছে। এটা মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় (مدرج) মুদ্রাজ। যা সম্ভবত ঈসা বিন জারিয়া যিনি অনেক সময় বর্ণনায় ভুল করেন তার বা অন্য কোন রাবীর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা স্বরূপ সংযোগ হয়েছে। কিয়ামূল লাইল কিতাবে সরাসরি রমযান থাকলেও উপরোক্ত কেউ তা মূল হাদীসের অংশ মনে করে বর্ণনা করেননি। সুতরাং যদি ঘটনাটা রমযানেরই না হয় (যা পূর্বে আলোচনায় অনুমান হলো) তাহলে তারাবীহর নামায আট রাকাতের দলিল স্বরূপ পেশ করা ব্যর্থ অপচেষ্টা বৈ কী।
৪. নং জবাব-
যদি ধরে নেয়া হয় যে, উক্ত হাদীসটি সহীহ। তাহলে বিরাট প্রশ্ন জাগে যে, উবাই রা. তারাবীহ আট রাকাত পড়ে রাসূল স. থেকে স্বীকৃতি নিলেন অথচ তিনি হযরত উমর রা. এর যুগে বিনা কথায় জামাতের সাথে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতে গেলেন কেন ? তিনি তো তখন এ হাদীস দ্বারা হযরত উমর রা.সহ সকল সাহাবীর সামনে আট রাকাত তারাবীহর পক্ষেই প্রমাণ পেশ করার কথা ছিল। হাদীসের ভাণ্ডার খুলে দেখুন, এমন কোনো ঘটনা কি কেউ দেখাতে পারবে ? তাছাড়া হাদীসটির বর্ণনা হযরত জাবের রা.ও করেছেন। তিনি হযরত উমর রা. যুগে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তেন কেন ? তিনিও তো এহাদীস দিয়ে আট রাকাতের স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে পারতেন; কিন্তু তিনি তা করলেন না কেন ?
আসল কথা : এহাদীসের রাবী ‘ঈসা বিন জারিয়া’ তিনি স্বরণশক্তি দুর্বলতার কারণেই বিকৃত বিবরণ বর্ণনা করে হযরত উবাই বিন কা‘ব এর দিকে সম্বোধন করে দিয়েছেন।
আলোচ্য হাদীসটি ‘কিয়ামূল লাইল’ কিতাবের সনদে আরেকজন রাবী আছেন (محمد بن حميد) মুহাম্মদ বিন হুমায়দ রাযী র.।
* ইমাম বুখারী র. তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, فيه نظر তার ব্যাপারে আপত্তি আছে।
* হাফেজ ইবনে হাজার র. বলেছেন- তিনি حافظ ضعيف দুর্বল হাফেজে হাদীস।
* ইমাম যাহাবী র. তার কাশেফ গ্রন্থে বলেছেন- اولي تركه তাকে বর্জন করাই শ্রেয়। সম্ভবত এ দুর্বল রাবীর কারণেই কিয়ামূল লাইল গ্রন্থে হাদীসটি মূল ভাষ্যে رمضان রমযান শব্দটিও যোগ হয়েছে। নচেৎ অন্যান্য বর্ণনায় রমযান শব্দটি হাদীসে নেই। থাকলেও ব্যাখ্যা স্বরূপ এসেছে।
এসব কারণে এধরণের একটি মুনকার এবং অতি দুর্বল হাদীস দ্বারা উপরোক্ত অকাট্য বহু দলিল দ্বারা প্রমাণিত বিশ রাকাত তারাবীহর বিরোধীতা করা এক মাত্র শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ লোকদের পক্ষেই সম্ভব।
আট রাকাত তারাবী হওয়ার
তৃতীয় দলিল
হযরত জাবের রা.এর বর্ণনা-
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ لَيْلَةً ثَمَانِ رَكَعَاتٍ وَالْوِتْرَ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْقَابِلَةِ اجْتَمَعْنَا فِي الْمَسْجِدِ وَرَجَوْنَا أَنْ يَخْرُجَ إِلَيْنَا فَلَمْ نَزَلْ فِيهِ حَتَّى أَصْبَحْنَا قَالَ: ্রإِنِّي كَرِهْتُ وَخَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيْكُمُ الْوِتْرُগ্ধ (مختصر قيام الليل: ص৯০)
রাসূল স. আমাদেরকে নিয়ে রমযানে আট রাকাত ও বিতর পড়েছেন। পরে রাতে আমরা মসজিদে সমবেত হলাম এবং আশা করলাম তিনি (স.) বের হয়ে আমাদের নিকট আসবেন; কিন্তু সকাল পর্যন্ত আমরা মসজিদে (অপেক্ষমান) থাকলাম (তিনি আর বের হলেন না)। (কিয়ামূল লাইল পৃ:৯০)
হাদীসটির জবাব-
এ হাদীসটিও পূর্বের হাদীসের ন্যায় নিতান্ত ‘যয়ীফ’ অপ্রমাণযোগ্য। কারণ:
১. এ হাদীসের সনদেও ওই পূর্বোক্ত সমালোচিত রাবী ‘ঈসা ইবনে জারিয়া’ আছেন। যার ব্যাপারে পূর্বের হাদীসে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি ‘মুনকারুল হাদীস’ ‘মাতরুক’ তার অধিক বর্ণনাই ‘যয়ীফ’।
২. হাদীসটি সহীহ বলে মেনে নেয়া হলেও এ সম্ভাবনা প্রবল যে, রাসূল স. আট রাকাত সকলকে নিয়ে পড়েছেন। মানুষের ভিড় লক্ষ করে ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘরে প্রবেশ করেন এবং অবশিষ্ট নামায ঘরেই একাকী আদায় করেন। এর স্বপক্ষে দলিল মুসলিম শরীফের সহীহ হাদীস।
মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে- একরাতে রাসূল স. সকলকে নিয়ে নামায পড়েছিলেন। মানুষের আগমনের অবস্থা দেখে জামাত ছেড়ে ঘরে চলে যান। অত:পর রাবী বলেন- ثم صلي صلاة لم يصلها عندنا. অর্থাৎ রাসূল স. এরপর হুজরায় গিয়ে একাকী নামায পড়েছেন। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং : ১১০৪)
সুতরাং এ রাতে সকলকে নিয়ে আট রাকাত পড়া এবং অবশিষ্ট নামায হুজরাতে গিয়ে একাকী আদায় করা প্রমাণ করেনা যে, তারাবীহ শুধু আট রাকাত।
৩. ঈসা বিন জারিয়া সূত্রে বর্ণিত হযরত জাবের রা. এর হাদীসটি রাসূল স. যে কয়েক রাতে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়িয়েছেন তারই বিবরণ। আর একাধিক সহীহ হাদীসে বিভিন্ন সাহাবী থেকে ওই রাতগুলোর তারাবীহর বিবরণ সংকলন হয়েছে। কোন একটি রেওয়ায়েতে নামাযের সংখ্যার উল্লেখ নেই। আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, ইমাম ইবনে তাইমিয়াসহ অনেকে একারণেই বলেছেন, যারা মনে করবে রাসূল স. থেকে নির্দিষ্ট কোন তারাবীহর সংখ্যা বর্ণিত হয়েছে তারা ভুল করবে।
সুতরাং কোন সহীহ হাদীসে রাকাত সংখ্যার উল্লেখ নেই। অথচ জাবের রা. এর এ হাদীসে আট রাকাতের কথা উল্লেখ আছে। আর হাদীসটি ঈসা বিন জারিয়ার কারণে মুনকার ও অধিক দুর্বল। এমন দুর্বল হাদীস সহীহ একাধিক হাদীসের বিপরীত হওয়ায় অগ্রহণযোগ্য ও প্রমাণযোগ্য নয়।
* এমর্মে যেসব সহীহ হাদীস একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নে দেয়া হলো-
ক. হযরত আয়েশা রা.এর হাদীস (দ্র: বুখারী:৯২৪ ও মুসলিম:৭৬১) খ. হযরত আনাস রা.এর হাদীস (মুসলিম:১১০৪) গ. হযরত যায়েদ বিন সাবিত রা.এর হাদীস (দ্র: বুখারী: ৭৩১ও মুসলিম:৭৮১) ঘ. হযরত আবু যর রা. এর হাদীস (দ্র: আবু দাউদ ১৩৭৫ ও তিরমিযী:৮০৬) ঙ. নুমান বিন বাশীর রা.এর হাদীস (দ্র: নাসায়ী:১৬০৬)।
চতুর্থ দলিল
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّهُ قَالَ أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً
অর্থ: সায়েব বিন ইয়াযীদ র. বলেন, উমর রা. উবাই ও তামিম দারী রা.কে লোকদেরকে নিয়ে এগার রাকাত নামায পড়তে আদেশ দিলেন । (মুওয়াত্তা মালেক: ৯৮ হা: নং ৩৭৯)
জবাব-১
এই হাদীসটি একটি ভুল বিবরণ। একজন রাবী হযরত উমর রা. এর যুগের তারাবীহর বিবরণ দিতে গিয়ে ভুলক্রমে বিশ রাকাতের স্থলে এগার রাকাত উল্লেখ করেছেন। অথচ হযরত উমরের যুগে যে তারাবীহ বিশ রাকাত হতো এতে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। পূর্বে আমরা বহু সহীহ হাদীস, ইজমা ও ব্যাপক কর্মধারার মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছি। ইমাম ইবনে আব্দিল বার র.সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ বলেছেন, এটা বর্ণনাকারীর ভুল। ইবনে আব্দিল বারের মন্তব্য নিম্নরূপ-
قال ابن عبد البر: روي مالك في هذا الحديث احد وعشرون وهو صحيح ولا اعلم احدا قال فيه احدي عشرة الي مالكا ويحتمل ان يكون ذلك اولا ثم خفف عنه طول القيام ونقلهم الي احدي وعشرين الا ان الاغلب عندي ان قوله احدي عشرة وهم. (اعلاء السنن: ৭/৪৮)
অর্থাৎ- ইমাম মালেক র. এই হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে কখনো ১১ রাকাত কখনো ২১ রাকাতের কথা বলেছেন এবং ২১ রাকাতের কথাটিই সহীহ ও সঠিক। কারণ, এগার রাকাতের কথা ইমাম মালেক র. ছাড়া আমার জানামতে অন্য কেউ বলেন নি। তবে এসম্ভাবনা আছে যে, হযরত উমর রা. এর যুগে প্রথমে এগার রাকাত ছিলো, পরে দীর্ঘ কেরাত সংক্ষেপ করে রাকাত বৃদ্ধি করে একুশ রাকাত করা হয়েছে। তবে আমার প্রবল ধারণা এগার রাকাতের কথাটি বর্ণনাগত ভুল।
সুতরাং এ হাদীসের মতনে اضطرابরয়েছে। এর অন্য সনদে তের ও একুশ রাকাত বর্ণিত আছে। তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। (ইলাউস সুনান: ৭/৪৮)
জবাব-২
ইতোপূর্বে হযরত উমর রা.এর নির্দেশ সম্পর্কে অনেক সহীহ হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে বিশ রাকাতের কথা আছে। তাই এটি আমলযোগ্য নয়।
জবাব-৩
ইমাম মালেক র. নিজেও এর উপর আমল করেননি।
জবাব-৪
মুয়াত্তা মালেকেই বিশ রাকাতের রেওয়ায়েত আছে। (পৃ: ৪০)
জবাব-৫
রাবী সায়েব বিন ইয়াযিদ থেকেই বিশ রাকাতের বর্ণনা রয়েছে। (বায়হাকী: ১/২৬৭ও ২/৪৯৬)
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, লা-মাযহাবীদের পেশ করা দলিলগুলো অগ্রহণযোগ্য। তাই বিশ রাকাত তারাবীহই আদায় করতে হবে।
সর্বশেষ কথা
লা-মাযহাবীদের দলিলের সংখ্যা উপরোক্ত চারটি। তন্মধ্যে একটি হাদীস সহীহ যা মূলত তাহাজ্জুদের বর্ণনা সম্বলিত। আর এটাকে তারা তারাবীহর ক্ষেত্রে প্রমাণ করা ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। আর দু‘টি মুনকার ও অতি দুর্বল হাদীস, যা প্রমাণযোগ্যই নয়। মূল বিষয়েও অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে। আর সর্বশেষ হাদীসটি একজন রাবীর ভুল বিবরণ। এধরণের ভিত্তিহীন দুর্বল হাদীস এবং একটি সহীহ হাদীসের অপব্যাখ্যা দ্বারা অকাট্য বহু সহীহ হাদীস এবং সাহাবাদের ইজমা, সুন্নাতে খুলাফায়ে রাশেদাসহ তাওয়াতুরে আমলীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিশ রাকাতের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে তাদের এ কর্মকাণ্ড গোটা মুসলিম মিল্লাতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শামিল।
ক্স মাহে রমযানে আল্লাহ তা‘আলার অসীম রহমত ও বরকত বান্দার জন্য অবধারিত। এমাসে এক রাকাত সুন্নাতের গুরুত্ব ফরযের সমতুল্য। এক রাকাত ফরযের সাওয়াব কমপক্ষে সত্তর গুন হয়ে থাকে। অত:পর প্রত্যেকের ইখলাস ও খুশু-খুযু অনুযায়ী তার সাওয়াব সাত’শ গুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একারণে হাদীসে এসেছে, রমযান এলে রাসূল স.এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেতো। তিনি অধিক পরিমাণে নামায আদায় করতেন। (বায়হাকী) রমযানের শেষ দশকে নিজেও রাত জাগতেন, আপন পরিবারকেও জাগাতেন। অধিক পরিমাণে ইবাদত বন্দেগী করতেন। (বুখারী,মুসলিম) কোন মুসলমানের পক্ষে এ অমূল্য সময়ে দলগত বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়ে এ সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া মোটেই সমীচীন হবেনা।
ক্স পবিত্র মক্কা মদীনায় হারামাইন শরীফের হাজার বছরের ইতিহাসে কখনো কি বিশ রাকাতের কম তারাবীহ পড়া হয়েছিল? কোন সাহাবী, খলীফায়ে রাশেদ কি কখনো বিশ রাকাতের কম পড়েছিলেন ? তারা কি কেউ হযরত আয়েশা রা.কর্তৃক বর্ণিত তাহাজ্জুদের হাদীসটিকে তারাবীহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধারণা করেছিলেন ?
তাহলে ভিত্তিহীন কিংবা অপ্রাসঙ্গিক কয়েকটি বর্ণনা দ্বারা যারা মনগড়াভাবে উম্মতের অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিক কর্মধারার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, আট রাকাতের নামে এ পবিত্র মাসের সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করার জন্য মসজিদে মসজিদে ফিৎনা সৃষ্টি করছে, তাদের পাতানো ষড়যন্ত্রের জালে পড়া কি মুসলমানের জন্য সঠিক হবে ?
তারাবীহতে কুরআন খতম করার হুকুম
তারাবীহর নামাযে একবার কুরআন খতম করা সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা। তাই মানুষের অলসতার কারণে কুরআন খতম করা থেকে বিরত থাকা যাবে না মর্মেই অধিকাংশ ফুকাহার মত। (দুররে মুখতার ও শামী : ২/৪৯৭)
অনেক ফকীহর মতে (আমাদের যুগে) মুসল্লিদের অবস্থা বিবেচনা করে কেরাত পড়া উত্তম। তাই ইমাম ওই পরিমাণ কেরাত পড়বে, যাতে মুসল্লিরা বিরক্ত না হয়, এবং তাদের জন্য কষ্টকর না হয়। কারণ দীর্ঘ কেরাত থেকে জামাআতের লোকসংখ্যা বাড়ানো উত্তম। (বাদায়ে: ১/৬৪৬)
আল্লামা তাকী উসমানী দা.বা. লিখেছেন, এটা একদম অপারগ অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমাদের যুগে এমন অপারগতা নেই, যার ফলে এই সুন্নাত বর্জন করতে হবে। বরং বর্তমানে হাফেজের সংখ্যাও অনেক আর সব মসজিদেই কুরআন খতম করা হয়। মুসল্লীরাও আগ্রহ-উদ্দীপনার সাথে খতমে তারাবীহতে অংশগ্রহণ করে কুরআন শুনে থাকে। (ফাতাওয়ায়ে উসমানী: ১/৪৬৭)
অনেকে বলেন, ২৭তম রাতে খতম করা মুস্তাহাব । কারণ এতে শবে কদর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। (শামী: ২/৪৯৭) এমনিভাবে অন্য বেজোড় রাতেও খতম করা যাবে। আবু হানীফা র. থেকে বর্ণিত- প্রতি রাকাতে দশ আয়াত করে পড়বে। এতে কুরআনও খতম হবে যা সুন্নাত, আবার লোকদের জন্য কষ্টকরও হবে না। (শামী: ২/৪৯৭) খতম শেষ হওয়ার পর বাকি রাতগুলোতেও তারাবীহ পড়তে হবে। এতে যে কোনো কেরাত পড়া যাবে। (ফাতহুল কদীর : ১/৬৪৬, বাদায়ে: ১/৬৪৬)
তারাবীহর নামাযের সময়
অধিকাংশ ফকীহর মতে তারাবীহর সময় হলো ইশার পরে বিতরের আগে ফজর পর্যন্ত। এটা সাহাবাদের আমল দ্বারা প্রমাণিত। ইশা ও বিতরের পরে যদি তারাবীহ পড়া হয় তাহলে সহীহ মতানুসারে তারাবীহ হয়ে যাবে। যদি মাগরিবের পরে ইশার আগে তারাবীহ আদায় করা হয় তাহলে অধিকাংশ ফকীহর মতে তা যথেষ্ট হবে না। অবশ্য কিছু হানাফী আলেমের মতে তা যথেষ্ট হবে। হানাফীদের মতে তারাবীহ রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বা অর্ধেক পর্যন্ত বিলম্ব করা মুস্তাহাব। (শামী: ২/৪৯৩-৯৪ যাকারিয়া, মওসুআতুল ফিকহিয়্যা: ২৭/১৪৭-৪৮)
তারাবীহর কাযা
যদি কারো তারাবীহ ছুটে যায় তাহলে সহীহ মতানুসারে তা কাযা করতে হবে না। তবে কেউ যদি কাযা আদায় করে, তাহলে তা নফল হবে তারাবীহ হবে না। অনেকের মতে, কেউ যদি সময়ের মধ্যে তারাবীহ পড়তে না পারে তাহলে সে একাকী তা কাযা করবে, আরেক তারাবীহর সময় হওয়ার আগে। কেউ কেউ বলেন, রমযান মাস অতিবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কাযা করতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার: ২/৪৯৫, মওসুআ: ২৭/১৪৯)
তারবীহা (চার রাকাত পরপর বিশ্রাম)
তারবীহা তথা চার রাকাত পরপর বিশ্রাম করা মুস্তাহাব। অনেকে এটাকে সুন্নাতও বলেছেন। চার রাকাত পড়তে যতটুকু সময় লাগে ততক্ষণ বিশ্রাম করা উত্তম। চুপ থাকা, তেলাওয়াত করা, তাসবীহ পাঠ বা একাকী নামাযও পড়া যাবে। উচ্চস্বরে কিছু পড়া যাবে না। সম্মিলিতভাবে দুআ করা যাবে না। এ সময়ের জন্য কোনো দুআকে নির্দিষ্ট করা যাবে না। কোনো দুআর উপর বারংবার পড়তে বলা বা পীড়াপীড়ি করাও উচিত নয়। সবাই নিজের ইচ্ছামতো আমল বা দুআ করবে। (দুররে মুখতার ও শামী : ২/৪৯৬-৯৭, বাদায়ে: ১/৬৪৮, মওসুআ: ২৭/১৪৪)
নফল নামাযের জামাআত
তারাবীহ, ইস্তিসকা ও কুসুফের নামাযের জন্য জামাআত বৈধ। অন্যান্য নফল নামাযের জামাআত যদি تداعي ডাকাডাকির সাথে হয় তাহলে তা মাকরুহে তাহরীমী। চাই এনামায রমযানে পড়া হোক বা অন্য সময়ে হোক। এটাই ফুকাহাদের অভিমত। বাদায়েতে আছে-
اذا صلوا التراويح ثم ارادواأن يصلوها ثانيا يصلون فرادي لا بجماعة لان الثانية تطوع مطلق، والتطوع المطلق بجماعة مكروه.
অর্থাৎ তারাবীহর নামায পড়ার পর আবার পড়তে চাইলে একাকী পড়তে হবে। জামাআতের সাথে নয়। কারণ দ্বিতীয়টি নফল আর নফল নামায জামাআতের সাথে পড়া মাকরুহ। (খ.১ পৃ.২৪০) বাহরুর রায়েকে আছে-
ولوصلوا التراويح ثم ارادوا أن يصلوها ثانيا يصلون فرادي.
তারাবীহর নামায কেউ দ্বিতীয়বার পড়তে চাইলে সে যেন একাকী পড়ে।
‘কিয়ামে রমযান’-এর মিসদাক
অনেকের মতে, হাদীসে উল্লিখিত কিয়ামে রমযান দ্বারা তারাবীহ উদ্দেশ্য নয়; বরং যে কোনো নফল নামাযই কিয়ামে রমযান। সুতরাং রমযানে নফল নামাযের জামাআত করা যাবে। এই মতটি সঠিক নয়। ফুকাহা ও মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় কিয়ামে রমযান দ্বারা তারাবীহই উদ্দেশ্য।
খতম তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় গ্রহণ করা
বর্তমান যুগে তারাবীহতে কুরআন খতম করে বিনিময় নেওয়ার গর্হিত প্রথা চালু হয়েছে। হাফেজ সাহেবরা কুরআনকে উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে। নিজেদের এলাকা ছেড়ে যেখানে টাকা বেশি পাওয়া যায় সেখানে চলে যায়। যা অত্যন্ত দু:খজনক।
যারা কুরআনকে উপার্জনের মাধ্যম বানায় তাদের ব্যাপারে কুরআন-হাদীসে কঠোর নিন্দা ও কঠিন হুঁশিয়ারি এসেছে। এক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো- আল্লাহর আনুগত্য বা ইবাদতমূলক কোনো কাজের পারিশ্রমিক গ্রহণ করা যাবে না। তবে দীনী স্বার্থে পরবর্তী ফকীহগণ যে গুলোর উপর দীন টিকে থাকা নির্ভর করে এমন কয়েকটি বিষয়কে এর ব্যতিক্রম সাব্যস্ত করেছেন। যেমন-তা‘লীম তথা দীনী শিক্ষা প্রদান, ইমামতি,আযান দেওয়া প্রভৃতি। কারণ পারিশ্রমিক ছাড়া কারো পক্ষে বেশিদিন এসব কাজে লেগে থাকা সম্ভব নয়। ফলে সব সময় এসব কাজের জন্য লোক পাওয়া যাবে না। এতে দীনের অনেক বড় ক্ষতি হবে। তাই প্রয়োজনের ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক গ্রহণকে বৈধ বলা হয়েছে। (দুররে মুখতার:৯/৮৬)
কিন্তু যেখানে এমন শরয়ী প্রয়োজন নেই সেখানে পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ হবে না। যেমন কুরআন তেলাওয়াত করে এবং ঈসালে সওয়াব করে টাকা নেওয়াকে ফুকাহারা নাজায়েয বলেছেন। (শামী:৯/৭৭-৭৮)
তেমনি তারাবীহতে কুরআন খতম করা দীনী কোনো প্রয়োজন নয়। এটি সুন্নত মাত্র, তাই কোথাও যদি হাফেয পাওয়া না যায়, সেখানে সূরা তারাবীহ পড়ে নিলেই যথেষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং শুধু কুরআন খতমের জন্য কুরআন বিক্রি করার অনুমতি ও বৈধতা কীভাবে হতে পারে ?
أجرة علي الطاعة (ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ)-এ মাসআলার উপর ভিত্তি করে বর্তমান সময়ের মুফতীগণ খতম তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় গ্রহণ ও বিনিময় প্রদানকে নাজায়েয বলেছেন। চাই এটা চুক্তিভিত্তিক হোক বা প্রচলন হিসাবে হোক। উভয় অবস্থায় হারাম। তাই কোথাও ফী-সাবিলিল্লাহ পড়ানোর মতো হাফেজ পাওয়া না গেলে সূরা তারাবীহ পড়ে নিবে।
কোনো হাফেজ যদি স্বেচ্ছায় ফী-সাবিলিল্লাহ পড়ায় আর তার টাকা নেওয়ার ইচ্ছা না থাকে, তারপরও কোনো মুসল্লি হাদিয়াস্বরূপ তাকে কিছু দেয় তাহলে তা গ্রহণ করার অবকাশ আছে। তবে শর্ত হলো- সেখানে এধরণের কিছু দেওয়ার প্রথা না থাকতে হবে।
খতম তারাবীহর বিনিময় নাজায়েয হওয়ার দলিল
১. কুরআন:- ولاتشتروا بآياتي ثمنا قليلا.
‘তোমরা আমার আয়াতকে (পার্থিব) সামান্য বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি করো না। (সূরা বাকারা:৪১)
২. হাদীস:- اقرءوا القرآن ولا تأكلوابه
‘তোমরা কুরআন পড়ো; কিন্তু এর মাধ্যমে উপার্জন করো না’। (নাসবুর রায়া:৪/৩২৬)
ফিকহের বহু কিতাবে এ বিষয়টি উদ্বৃত হয়েছে। কয়েকটি সূত্র উল্লেখ করছি।
৩. রদ্দুল মুহতার:৯/৭৬-৭৭ যাকারিয়া।
৪. আলমগীরী:৪/৪৪৮-যাকারিয়া।
৫. আল ফিকহ আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ : ৩/১৮
৬. তাবয়ীনুল হাকায়েক: ৬/১১৭
৭. হাশিয়ায়ে তাহতবী: ৪/৩০
৮. ফাতহুল কাদীর: ৯/৯৮-৯৯
৯. ফাতওয়া উসমানী : ১/৫০৪-৫-৬
১০. ইমদাদুল ফাতাওয়া:১/৪৭৪
১১. ইমদাদুল আহকাম : ১/৬৫৪-৬৬৪
১২. ফাতাওয়া রহীমিয়্যা:৬/২৪৫
১৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:১১/৪০৪
১৪. কিফায়াতুল মুফতী:২/৪১-৩/৪০৯
১৫. আহসানুল ফাতাওয়অ: ৩/৫১৪
১৬. নেযামুল ফাতাওয়া : ৬/৮৩-৮৫
১৭. ফাতাওয়া রশীদিয়া: ৩৯১।
যাতায়াত ভাড়া ও খাওয়ার খরচ
কোনো হাফেজ সাহেব যদি আসা-যাওয়া করে পড়ায় তাহলে তার যাতায়াত খরচ দেওয়া যাবে। এমনিভাবে খাওয়া-দাওয়ার জন্যও কিছু দেয়া যাবে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই খরচটা যুক্তিসঙ্গত ও প্রয়োজনমাফিক হতে হবে। অন্যথায় (অতিরিক্ত দিলে) এটাও নাজায়েয হয়ে যাবে।
একটি হীলা বা কৌশল: নাজায়েয বিনিময় গ্রহণ থেকে বাঁচতে অনেক জায়গায় একটি হীলা অবলম্বন করা হয়। তা হলো, হাফেজ সাহেবকে নায়েবে ইমাম বানিয়ে তাকে ইমামতির বেতন দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে হাফেজ সাহেব ২/৩ ওয়াক্ত নামায পড়ান। এমন হীলা অবলম্বন বৈধ। তবে শর্ত হলো, শুরুতেই তার ইমামতির বেতন নির্ধারণ করতে হবে, আর তা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। অন্যথায় এটাও খতমের বিনিময় হয়ে যাবে। (রহীমিয়া: ৬/২৩৫, মাহমুদিয়া: ২৫/২০৯, নেযামূল ফাতাওয়া: ৬/৮২-৮৩, কিফায়াতুল মুফতী: ৩/৪১০-দারুল এশা‘আত,করাচী)

শেষ কথা- রমযান মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল তারাবীহর নামায। ছাওয়াব লাভ ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ হয় তারাবীহর নামায আদায়ের মাধ্যমে। তাই সবার উচিত যথাযথভাবে তারাবীহ আদায় করে এই সুযোগ কাজে লাগানো। তারাবীহ হতে হবে রাসূল স. ও সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণে এবং ফকীহদের নির্দেশিত পদ্ধতিতে। বিশেষ করে পুরো উম্মতের ঐক্যমতপূর্ণ আমল বিশ রাকাত তারাবীহকে আট রাকাত বলে অপপ্রচার করে নিজের ও অন্যদের আমল নষ্ট করা সম্পূর্ণ অনুচিত। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে সীরাতে মুস্তাকীম তথা সরল-সঠিক পথের উপর থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন ॥

লেখক: আলহাজ্জ্ব মুফতী এস, এম, সাকীউল কাউসার (কুমিল্লা)২০ রাক’আত তারাবীহ’র ফয়সালা 

প্রকাশ থাকে যে প্রতি রমজান মাসে এ’শার নামজের পর বিতির নামাজের পূর্বে ৪ রাকাত করে মোট ২০ রাকাত তারাবীহ’র নামাজ পড়া প্রত্যেক মুসলমান নর+নারী’র উপর সূন্নতে মুয়াক্কাদাহ। অতএব রমজান মাস ছাড়া তারাবীহ’র নামাজ নাই। তারাবীহ’র নামাজ পুরূষের জন্য জামাত সহকারে মসজিদে পড়া উত্তম। নামাজে পূর্ণ এক খতম কোরআন পড়া সূন্নাত। বেশী পড়া ভালো। ক্বদর রাত্রিতে এক খতম করা মুস্তাহাব। (সমূহ ফিকহা’র কিতাব)
কোরআন খতম করলে জামাতের লোকের কষ্ট হলে বা জামাতের লোক কমে গেলে ছোট ক্বেরাতে পড়া ভালো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২০ রাকাআত তারাবীহ জামাত সহকারে পুরো রামাদান মাসে পরেন নি, কারন হিসেবে বলেছেন পুরো রামাদান মাসে জামাতে আমি তারাবীহ পড়লে তা ওয়াজিব হয়ে যাবে, এতে আমার উম্মতের কষ্ট হবে। সুবহানাল্লাহ! খোলাফায়ে রাশেদীন তথা হযরত ওমর (রাঃ) এর যুগে ২০ রাকাআত তারাবীহ জামাতে পড়া নির্ধারিত হয় এবং তা ইজমায়ে উম্মত হিসেবে স্বীকৃত। যেহেতু হাদীছ শরীফে রয়েছে-‘আ’লাইকুম বিস সূন্নাতি ওয়া সূন্নাতিল খোলাফায়ি রাশেদীনাল মাহদীয়ান’ অর্থাৎ তুমরা আমার সূন্নাত ও আমার খোলাফায়ি রাশেদীনের সূন্নাত কে আঁকড়িয়ে ধর।

তারাবীহ’র মর্মার্থ

তারাবীহ ২০ রাকাআত, ৮ রাকাআত নয়

তারাবীহ تراويح শব্দটি ترويح তারবীহা এর বহু বচন, যার অর্থ হলো শরীরকে আরাম দেয়া। থেমে থেমে যে নামাজ তাকে তারাবীহ বলে। তারাবীহ’তে ৪ রাকাত পর পর থেমে তাসবীহ-দোয়া পড়া হয়। তারাবীহ’র নামাজে ৪ রাকাআত পর পর কিছু সময় বসে আরাম করার হয়। আর বসাটার নাম তারবীহা। এ জন্য এ নামাজ কে তারাবীহ’র নামাজ বা আরামের সমষ্ঠি বলা হয়। আরবীতে বহু বচন হলো নীচে তিন উপরের কোন সীমা নাই। যদি ৮ রাকাত তারাবীহ হয়, তাহলে তো এর মধ্যে মাত্র একবার তারবীহা পাওয়া যাচ্ছে এবং এর নাম তারাবীহ (বহু বচন) হতো না। তিন তারাবীহ’র জন্য কম পক্ষে ১৬ রাকাত তারাবীহ হওয়া দরকার অর্থাৎ প্রতি ৪ রাকআত পর এক তারবীহা। বিতিরের আগে কোন তারবীহা বা বিশ্রাম নেই। অতএব তারাবীহ এর নামটিই প্রমাণ করে তারাবীহ ৮ রাকাআত নয়।

কোরআন শরীফ-ই প্রমাণ তারাবীহ ৮ রাকাআত নয়

পবিত্র কোরআন শরীফে সূরা, আয়াত ও রুকু রয়েছে। কোরআন শরীফের যে সব বিষয় বস্তুর নাম রয়েছে, সে গুলোকে সূরা বলে, আর যে সব বাক্যের ভিন্ন ভিন্ন নাম নেই, সে গুলোকে আয়াত বলা হয়। কিন্তু রূকু কে রূকু কেন বলা হয় তা জানা দরকার। কেননা সূরার অর্থ হলো কোন বিষয়কে পরিবেষ্টন করা, আর আয়াত অর্থ হলো চিহ্ন, যেহেতু সূরা একটি বিষয় বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন সূরা বাক্বারা, সূরা বলদ ইত্যাদি। আর আয়াত আল্লাহ’র কুদরতের চিহ্ন হিসেবে বিবেচ্য, তাই এ নাম করণ যথার্থ হয়েছে। কিন্তু কোরআনের রূকুকে রূকু কেন বলা হয় তা বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার। রূকু অর্থ নত হওয়া। তাজবীদের কিতাব সমূহ দ্বারা জানা যায় যে, হযরত ওমর ও উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা তারাবীহ’র নামাজ যে পরিমান কোরআন পাঠ করে রূকু তে যেতেন, সে অংশের নাম ‘রূকু’ রাখা হয়েছে। তারাবীহ’র নামাজ ২০ রাকাআত এবং রামাদানের ২৭ তারিখে কোরআনের খতম হিসেব ধরলে, কোরআন পাকে মোট ৫৫৭ টি রূকু হওয়ার কথা। কিন্তু যেহেতু খতমের দিন কোন কোন রাকাআতে ছোট ছোট দু’তিন সূরা এক সাথে পড়ে ফেলা হতো, সে জন্য কোরআন শরীফে ৫৪০ টি রূকু রয়েছে। যদি ৮ রাকাআত তারাবীহ’র নামাজ হতো, তাইলে রূকুর সংখ্যা হতো ১১২ টি। সুতরাং কোরআনের রূকুর সংখ্যাই প্রমাণ করে তারাবীহ’র নামাজ ২০ রাকাত। কোন আহলে হাদীছ বা সালাফী-নজদী ৮ রাকাআত তারাবীহ’র সমর্থনে কোরআন শরীফের রূকুর কোন ব্যাখ্যা কিয়ামত পর্যন্ত দিতে পারবেনা। চ্যালেঞ্জ রইলো???

হাদীছের আলোকে

খোলাফায়ি রাশেদীনের ২য় খলীফা হযরত ওমর (রাঃ) এর যুগে বিশ রাকাআত তারাবীহ জামাত সহ আদায়ের ব্যবস্থা করেন। এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম একমত ছিলেন।
১) ‘মুয়াত্তা ইমাম মালেক’ কিতাবে হযরত সায়েব ইবনে ইয়াযিদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন-
قال سنا نقوم فى عهد عمر بعشرين ركعةً ( رواه البيهقى فى الفرقة باسناد صحيح) অর্থাৎ হযরত ওমর (রঃ) এর যুগে লোকেরা ২০ রাকাআত তারাবীহ’র নামাজ আরম্ভ করে, সহহী সনদে বায়হাকী শরীফে তা বর্ণিত হয়েছে।
২) হযরত ইবনে মনি হযরত আবি ইবনে কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন- فصلِىٍ بهم عشرين ركعة অর্থাৎ তাঁরা (সাহাবাগণ) ২০ রাকাআত তারাবীহ’র নামাজ পড়তেন।
৩) বায়হাকী শরীফে বর্ণিত আছে- عن ابى الحسنات انً علىِ ابن ابى طالب امر رجلآ يصلىٍ بالناس خمس ترويخات عشرين ركعةً অর্থাৎ আবিল হাসনাত হতে বর্ণিত আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ) বলেন, মানুষের জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও ২০ রাকাআত তারাবীহ।
৪) ইবনে আবি শিবা, তিবরানী, কবীর, বায়হাকী, আবদ ইবনে হামিদ ও বগবী বর্ণনা করেছেন- عن ابى عباس انً النبىً صلى الله عليه وسلم كان يصلى فى رمضان عشرين ركعة سوى الوتر অর্থাৎ হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে বিতির ছাড়া ২০ রাকাআত তারাবীহ’র নামাজ আদায় করেছেন।
এ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে স্বয়ং হুজূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২০ রাকাআত তারাবীহ’র নামাজ পড়তেন।

ওলামায়ে উম্মতের অভিমত

(১) তিরমীজি শরীফের ‘সওমের’ আলোচনায়- ما جاء فى قيام شهر رمضان নামক অধ্যায়ে বর্ণীত আছে-
و اكثر اهل العلم على ماروىَ عن علىٍ و عمر و غيرهما من اصحاب النبى صلى الله عليه وسلم عشرين ركعة و هو قول سفيان رالثورى وابن المبارك و الشافعى وقال الشافعى هكذا ادركت ببلد مكة يصلون عشرين ركعة –
অর্থাৎ আহলে ইলমের আমল এটার উপর, যা হযরত আলী,ওমর ও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণীত আছে অর্থাৎ ২০ রাকাআত। এতাই সুফীয়ান ছাওরী, ইবনে মুবারক,ইমাম শাফেঈ (রাঃ) এর অভিমত। ইমাম শাফেঈ (রাঃ) স্বীয় শহর পবিত্র মক্কায় এই অনুশীলন দেখতে পান, অর্থাৎ মুসলমানেরা ২০ রাকাআত তারাবীহ পড়তেন।

ওলামায়ে উম্মতের অভিমত

(২) روى محمد ابن نصر من طريق عطاء قال ادركتهم يصلون عشرين ركعة ؤثلث ركعات الوتر وفى الباب اثار كثيرة اخرجها ابن ابى شيبة وغيره وقال ابن قدامة وهذا كالاجماع – এতে বোঝা গেল বিশ রাকাআতের উপর মুসলমানদের ঐক্যমত হয়েছে।
(৩) উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী ৫ম খন্ডের ৩০৭ পৃষ্ঠায় উইইএখ আছে, وروى الحارث ابن عبيد الرحمن ابن ابى ذياد عن السائب هلبن يزيد قال كان القيام على عهد عمر بثلثٍ و عشرين ركعة قال ابن عبد الله هذا محمول على ان الثلث للوتر- এর থেকে জানা গেলো যে, সাহাবায়ে কিরামের যুগে ২০ রাকাআত তারাবীহ ও ৩ রাকাআত বিতির পড়া হতো।
(৪) উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী’র ৫ম খন্ডের ৩৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, قال ابن عبد البار وهو قول جمهور العلماء وهو الصحيح اعن أبى ابن كعب من غير خلاف من الصحبة- অর্থাৎ হযরত ইবনে আব্দুল বির বলেছেন যে, ২০ রাকাআত তারাবীহের নামাজ হচ্ছে সাধারন ওলামায়ে কীরামের অভিমত। কফা বাসী, ইমাম শাফেঈ ও অধিকাংশ ফকহীগণ এর সমর্থক এবং হযরত আবি ইবনে কা’ব থেকে বর্ণিত আছে যে এ ব্যাপারে কোন সাহাবীর দ্বিমত নেই।

লামাযহাবী,আহলে হাদীছ- সালাফীরা ৮ রাকাত তারাবী’র নামাজ জামাতে পড়ে ২০ রাকাআতের বিরুধীতা করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনই পুরও রামাদান মাসে জামাতের সাথে তারাবীহ পরেননি, কারণ উম্মতের উপর তা ওয়াজিব হয়ে জেতে পারে, আমরা হযরত উমর (রাঃ) ও ইজমায়ে সাহাবা বা উম্মতের উপর আমল করে ২০ রাকাআত তারাবীহ’র নামাজ জামাতে পড়ি। কিন্তু আহলে খবিশ লা মাযহাবীরা কোন হাদীছের উপর ভিত্তি করে পুরও রমাদান মাসে ৮ রাকাআত তারাবীহ জামাতে পড়ে?
যে হাদীছের উপর ভিত্তি করে তারা ৮ রাকাআত তারাবীহ দাবী করে এটা ছিল ‘তাহাজ্জুদের’ নামাজ। তারাবীহ’র নামাজ মূলতঃ সূন্নাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তা জামাতে পড়া ও ২০ রাকাআত পড়া। এ তিন্তি সূন্নাত উমর ফারুক (রাঃ) এর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় ২০ রাকাআত পড়েন নি এবং সাহাবায়ে কিরামকে জামাত সহকারে পড়ার নিরদেশও দেন নি। তারাবীহ যদি ৮ রাকাআত পড়া হয়, তাহলে সূন্নাতে ফারুকী ও সাহাবাদের ইজমা ২০ রাকাআত বাদ পরে যায়। আর যদি ২০ রাকাআত পড়া হয়, তা হলে সবার উপর আমল হয়ে যায়। কেননা ২০ এর মধ্যে ৮ আছে কিন্তু ৮ এর মধে ২০ নাই। হাদীছ আগেই পেশ করেছি, ‘আমার ও আমার খুলাফায়ে রাশেদীনের সূন্নাতের উপর আমল করো’। সালাফীরাও সব সময় জামাত সহকারে তারাবীহ’র নামাজ পড়ে থাকে। অথচ এ দু’টি বিষয় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণ নেই, এ গুলো হচ্ছে সূন্নাতে ফারুকী, তাই একটি বাদ দিচ্ছে কেনো ? ২০ রাকাআতি পড়।

বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আবু সালমা হযরত আয়েশা (রাঃ) এর কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাদানের রাতে কত রাকাআত নামাজ পড়তেন? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, (হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রামাদান ও রামাদান ছাড়া অন্যান্য মাসে ৮ রাকাআতের বেশী নামাজ পড়তেন না। এটাই আহঅলে খবিশদের দলীল। এবার উত্তর শুনুন, উপরোক্ত হাদীছে তারাবীহ’র নামাজ নয়, তাহাজ্জুদের নামাজের কথা বলা হয়েছে। কেননা হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)বলেছেন যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাদানে ও গায়রে রামাদানে ৮ রাকাআতের অতিরিক্ত পড়তেন না। এতে বোঝা গেলো এটা সেই নামাজ, যা সব সময় পড়া হয়। তাই এটা তারাবীহ হতে পারেনা, কারণ তারাবীহ কেবল রামাদান মাসেই পড়া হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 


Bangladesh All Bank Routing Number

Bangladesh All Bank Routing Number

 

 

 

SL Bank Code Bank Name Branch Name District Routing Number
1 010 AGRANI BANK LTD. BADHAL BAZAR(004) BAGERHAT 010010048
2 010 AGRANI BANK LTD. BAGERHAT(007) BAGERHAT 010010077
3 010 AGRANI BANK LTD. CHULKATI BAZAR(028) BAGERHAT 010010280
4 010 AGRANI BANK LTD. DEYPARA BAZAR(037) BAGERHAT 010010372
5 010 AGRANI BANK LTD. GOALMATH(061) BAGERHAT 010010619
6 010 AGRANI BANK LTD. HERMA BAZAR(067) BAGERHAT 010010677
7 010 AGRANI BANK LTD. JATRAPUR BAZAR(070) BAGERHAT 010010701
8 010 AGRANI BANK LTD. MAIN ROAD(085) BAGERHAT 010010851
9 010 AGRANI BANK LTD. MONGLA PORT(097) BAGERHAT 010010972
10 010 AGRANI BANK LTD. MORELGANJ(103) BAGERHAT 010011034
11 010 AGRANI BANK LTD. MUNIGANJ(106) BAGERHAT 010011063
12 010 AGRANI BANK LTD. POLERHAT BAZAR(112) BAGERHAT 010011126
13 010 AGRANI BANK LTD. SANNASHY BAZAR(127) BAGERHAT 010011276
14 010 AGRANI BANK LTD. AZIZ NAGAR(007) BANDARBAN 010030073
15 010 AGRANI BANK LTD. BANDARBAN BAZAR(016) BANDARBAN 010030165
16 010 AGRANI BANK LTD. AMTALI(004) BARGUNA 010040047
17 010 AGRANI BANK LTD. BARGUNA(013) BARGUNA 010040139
18 010 AGRANI BANK LTD. GAZIPURHAT(037) BARGUNA 010040371
19 010 AGRANI BANK LTD. KAKCHIRA(049) BARGUNA 010040492
20 010 AGRANI BANK LTD. KAUNIA(052) BARGUNA 010040526
21 010 AGRANI BANK LTD. NALIBANDAR(064) BARGUNA 010040647
22 010 AGRANI BANK LTD. TALTALI BAZAR(073) BARGUNA 010040739
23 010 AGRANI BANK LTD. BANARI PARA(025) BARISHAL 010060256
24 010 AGRANI BANK LTD. BATAJORE(037) BARISHAL 010060377
25 010 AGRANI BANK LTD. BOTTALA(052) BARISHAL 010060522
26 010 AGRANI BANK LTD. BUKHAI NAGAR(055) BARISHAL 010060551
27 010 AGRANI BANK LTD. CHAWK BAZAR(070) BARISHAL 010060706
28 010 AGRANI BANK LTD. GOURNADI(082) BARISHAL 010060827
29 010 AGRANI BANK LTD. PURAN BAZAR(169) BARISHAL 010061697
30 010 AGRANI BANK LTD. SADAR ROAD(181) BARISHAL 010061813
31 010 AGRANI BANK LTD. ULANIA(223) BARISHAL 010062238
32 010 AGRANI BANK LTD. BHOLA(010) BHOLA 010090105
33 010 AGRANI BANK LTD. BORHANUDDIN(019) BHOLA 010090192
34 010 AGRANI BANK LTD. CHAR FASSION BAZAR(025) BHOLA 010090255
35 010 AGRANI BANK LTD. CHAR SHASHI BHUSON(028) BHOLA 010090284
36 010 AGRANI BANK LTD. DAULATKHAN(037) BHOLA 010090376
37 010 AGRANI BANK LTD. KALINATH RAER BAZAR(055) BHOLA 010090550
38 010 AGRANI BANK LTD. KHAIRHAT(061) BHOLA 010090613
39 010 AGRANI BANK LTD. LALMOHAN(070) BHOLA 010090705
40 010 AGRANI BANK LTD. WAPDA(103) BHOLA 010091038
41 010 AGRANI BANK LTD. BADURTALA(016) BOGRA 010100161
42 010 AGRANI BANK LTD. BAGBARI(019) BOGRA 010100190
43 010 AGRANI BANK LTD. BHATRA(028) BOGRA 010100282
44 010 AGRANI BANK LTD. BOGRA CANTONMENT(043) BOGRA 010100437
45 010 AGRANI BANK LTD. CHAMRUL(064) BOGRA 010100640
46 010 AGRANI BANK LTD. CHELOPARA(076) BOGRA 010100761
47 010 AGRANI BANK LTD. DEMAJANI(082) BOGRA 010100824
48 010 AGRANI BANK LTD. DHUNAT(088) BOGRA 010100882
49 010 AGRANI BANK LTD. GHORADHAPAHAT(109) BOGRA 010101094
50 010 AGRANI BANK LTD. GOKUL(121) BOGRA 010101210
51 010 AGRANI BANK LTD. KHANDER(160) BOGRA 010101607
52 010 AGRANI BANK LTD. MADLA(175) BOGRA 010101757
53 010 AGRANI BANK LTD. MAJHIRA(184) BOGRA 010101849
54 010 AGRANI BANK LTD. MIRJAPUR(190) BOGRA 010101902
55 010 AGRANI BANK LTD. NAMAJGHAR(196) BOGRA 010101960
56 010 AGRANI BANK LTD. NANDIGRAM(202) BOGRA 010102022
57 010 AGRANI BANK LTD. NISHINDARA(211) BOGRA 010102114
58 010 AGRANI BANK LTD. PORADAHHAT(220) BOGRA 010102206
59 010 AGRANI BANK LTD. RAJABAZAR(226) BOGRA 010102264
60 010 AGRANI BANK LTD. SAPTAPADI MARKET(244) BOGRA 010102448
61 010 AGRANI BANK LTD. SHERPUR(274) BOGRA 010102743
62 010 AGRANI BANK LTD. SHONKA(283) BOGRA 010102835
63 010 AGRANI BANK LTD. SIBBATI(286) BOGRA 010102864
64 010 AGRANI BANK LTD. SONATALA(295) BOGRA 010102956
65 010 AGRANI BANK LTD. SULTANGANJ(304) BOGRA 010103047
66 010 AGRANI BANK LTD. TALORA(307) BOGRA 010103076
67 010 AGRANI BANK LTD. TALUCH HAT(310) BOGRA 010103100
68 010 AGRANI BANK LTD. TARONIHAT(313) BOGRA 010103139
69 010 AGRANI BANK LTD. THANA ROAD(316) BOGRA 010103168
70 010 AGRANI BANK LTD. ZIANAGAR(322) BOGRA 010103221
71 010 AGRANI BANK LTD. AKHAURA(004) BRAHMANBARIA 010120046
72 010 AGRANI BANK LTD. ASHUGANJ(010) BRAHMANBARIA 010120109
73 010 AGRANI BANK LTD. BANCHARAMPUR(025) BRAHMANBARIA 010120259
74 010 AGRANI BANK LTD. BANGURA BAZAR(028) BRAHMANBARIA 010120288
75 010 AGRANI BANK LTD. BITGHAR(040) BRAHMANBARIA 010120404
76 010 AGRANI BANK LTD. BRAHMANBARIA(043) BRAHMANBARIA 010120433
77 010 AGRANI BANK LTD. CHANDURA BAZAR(058) BRAHMANBARIA 010120583
78 010 AGRANI BANK LTD. JAGAT BAZAR(091) BRAHMANBARIA 010120912
79 010 AGRANI BANK LTD. KASBA(103) BRAHMANBARIA 010121032
80 010 AGRANI BANK LTD. LALPUR BAZAR(115) BRAHMANBARIA 010121153
81 010 AGRANI BANK LTD. NABINAGAR(136) BRAHMANBARIA 010121366
82 010 AGRANI BANK LTD. SALIMGONJ(157) BRAHMANBARIA 010121579
83 010 AGRANI BANK LTD. SHAHPUR(172) BRAHMANBARIA 010121724
84 010 AGRANI BANK LTD. T.A. ROAD(184) BRAHMANBARIA 010121845
85 010 AGRANI BANK LTD. BABUR HAT(013) CHANDPUR 010130131
86 010 AGRANI BANK LTD. BELTALI BAZAR(022) CHANDPUR 010130223
87 010 AGRANI BANK LTD. CHANDRA BAZAR(046) CHANDPUR 010130465
88 010 AGRANI BANK LTD. CHHENGARCHAR BAZAR(055) CHANDPUR 010130557
89 010 AGRANI BANK LTD. HAJIGANJ(088) CHANDPUR 010130881
90 010 AGRANI BANK LTD. KHAJURIA BAZAR(103) CHANDPUR 010131035
91 010 AGRANI BANK LTD. MATLAB BAZAR(121) CHANDPUR 010131219
92 010 AGRANI BANK LTD. MEHER(127) CHANDPUR 010131277
93 010 AGRANI BANK LTD. MUNSHIRHAT(133) CHANDPUR 010131330
94 010 AGRANI BANK LTD. NANDALALPUR(139) CHANDPUR 010131398
95 010 AGRANI BANK LTD. NARAYANPUR(145) CHANDPUR 010131451
96 010 AGRANI BANK LTD. NATUN BAZAR(148) CHANDPUR 010131480
97 010 AGRANI BANK LTD. RAMCHANDRAPUR BAZAR(172) CHANDPUR 010131727
98 010 AGRANI BANK LTD. RUPSHA BAZAR(178) CHANDPUR 010131785
99 010 AGRANI BANK LTD. SREERAMDI(205) CHANDPUR 010132050
100 010 AGRANI BANK LTD. STATION ROAD(208) CHANDPUR 010132089
101 010 AGRANI BANK LTD. AGRABAD CORPORATE(016) CHITTAGONG 010150166
102 010 AGRANI BANK LTD. AIR BASE(019) CHITTAGONG 010150195
103 010 AGRANI BANK LTD. AMANAT KHAN SARAK(028) CHITTAGONG 010150287
104 010 AGRANI BANK LTD. AMIRABAD(040) CHITTAGONG 010150403
105 010 AGRANI BANK LTD. AMIRHAT(043) CHITTAGONG 010150432
106 010 AGRANI BANK LTD. ARTYLARY CENTRE(055) CHITTAGONG 010150553
107 010 AGRANI BANK LTD. ASAD GANJ(058) CHITTAGONG 010150582
108 010 AGRANI BANK LTD. ASKERDIGHI(067) CHITTAGONG 010150674
109 010 AGRANI BANK LTD. AZADI BAZAR(073) CHITTAGONG 010150737
110 010 AGRANI BANK LTD. BAHADDAR HAT(079) CHITTAGONG 010150795
111 010 AGRANI BANK LTD. BANDAR(091) CHITTAGONG 010150911
112 010 AGRANI BANK LTD. BARAIYER HAT(109) CHITTAGONG 010151099
113 010 AGRANI BANK LTD. BARODAROGA HAT(112) CHITTAGONG 010151123
114 010 AGRANI BANK LTD. BAY SHOPPING CENTRE(118) CHITTAGONG 010151181
115 010 AGRANI BANK LTD. BOALKHALI(130) CHITTAGONG 010151307
116 010 AGRANI BANK LTD. CADET COLLEGE(166) CHITTAGONG 010151660
117 010 AGRANI BANK LTD. CHAKTAI(175) CHITTAGONG 010151752
118 010 AGRANI BANK LTD. CHATTESWARI ROAD(190) CHITTAGONG 010151907
119 010 AGRANI BANK LTD. CHITTAGONG PRESS CLUB(205) CHITTAGONG 010152056
120 010 AGRANI BANK LTD. CHITTAGONG UNIVERSITY(208) CHITTAGONG 010152085
121 010 AGRANI BANK LTD. COLONEL HAT(229) CHITTAGONG 010152298
122 010 AGRANI BANK LTD. COMMERCIAL AREA(232) CHITTAGONG 010152322
123 010 AGRANI BANK LTD. DEWAN HAT(244) CHITTAGONG 010152443
124 010 AGRANI BANK LTD. DURGAPUR(262) CHITTAGONG 010152627
125 010 AGRANI BANK LTD. FERINGHEE BAZAR(280) CHITTAGONG 010152801
126 010 AGRANI BANK LTD. FOTAYABAD(286) CHITTAGONG 010152869
127 010 AGRANI BANK LTD. FOUZDERHAT(289) CHITTAGONG 010152898
128 010 AGRANI BANK LTD. GOHIRA(301) CHITTAGONG 010153013
129 010 AGRANI BANK LTD. GUNAGARI(307) CHITTAGONG 010153071
130 010 AGRANI BANK LTD. HALISHAHAR(316) CHITTAGONG 010153163
131 010 AGRANI BANK LTD. HATHAZARI(322) CHITTAGONG 010153226
132 010 AGRANI BANK LTD. HAZIRHAT(325) CHITTAGONG 010153255
133 010 AGRANI BANK LTD. INDUSTRIAL AREA(331) CHITTAGONG 010153318
134 010 AGRANI BANK LTD. ISHAKHALI(337) CHITTAGONG 010153376
135 010 AGRANI BANK LTD. ISHANAGAR(343) CHITTAGONG 010153439
136 010 AGRANI BANK LTD. JALALABAD(352) CHITTAGONG 010153521
137 010 AGRANI BANK LTD. JUBILEE ROAD(364) CHITTAGONG 010153642
138 010 AGRANI BANK LTD. KAPASHGOLA(403) CHITTAGONG 010154038
139 010 AGRANI BANK LTD. KERANIHAT(418) CHITTAGONG 010154188
140 010 AGRANI BANK LTD. KHATUNGANJ(427) CHITTAGONG 010154270
141 010 AGRANI BANK LTD. KHULSHI(436) CHITTAGONG 010154362
142 010 AGRANI BANK LTD. LALDIGHI EAST(454) CHITTAGONG 010154546
143 010 AGRANI BANK LTD. LALKHAN BAZAR(457) CHITTAGONG 010154575
144 010 AGRANI BANK LTD. MADAM BIBIR HAT(469) CHITTAGONG 010154696
145 010 AGRANI BANK LTD. MEDICAL COLLEGE(493) CHITTAGONG 010154933
146 010 AGRANI BANK LTD. MINNAT ALI HAT(502) CHITTAGONG 010155024
147 010 AGRANI BANK LTD. MIRZAKHIL(508) CHITTAGONG 010155082
148 010 AGRANI BANK LTD. MODUNA GHAT(517) CHITTAGONG 010155174
149 010 AGRANI BANK LTD. NAZIR HAT(559) CHITTAGONG 010155590
150 010 AGRANI BANK LTD. NEW MARKET(565) CHITTAGONG 010155653
151 010 AGRANI BANK LTD. PAHARTALI(592) CHITTAGONG 010155929
152 010 AGRANI BANK LTD. PATIYA(616) CHITTAGONG 010156160
153 010 AGRANI BANK LTD. QUAISH BURISH CHAR(634) CHITTAGONG 010156344
154 010 AGRANI BANK LTD. RAOZAN(649) CHITTAGONG 010156494
155 010 AGRANI BANK LTD. REAZUDDIN BAZAR(652) CHITTAGONG 010156528
156 010 AGRANI BANK LTD. SADARGHAT(673) CHITTAGONG 010156731
157 010 AGRANI BANK LTD. SAMITIRHAT(688) CHITTAGONG 010156881
158 010 AGRANI BANK LTD. SANTINIKETAN(694) CHITTAGONG 010156944
159 010 AGRANI BANK LTD. SARWATOLI(703) CHITTAGONG 010157035
160 010 AGRANI BANK LTD. SATTAR HAT(709) CHITTAGONG 010157093
161 010 AGRANI BANK LTD. SITAKUNDA(739) CHITTAGONG 010157398
162 010 AGRANI BANK LTD. SK. MUJIB ROAD(742) CHITTAGONG 010157422
163 010 AGRANI BANK LTD. STEEL MILLS(754) CHITTAGONG 010157543
164 010 AGRANI BANK LTD. STRAND ROAD(757) CHITTAGONG 010157572
165 010 AGRANI BANK LTD. ALAMDANGA(004) CHUADANGA 010180044
166 010 AGRANI BANK LTD. ANDUL BARIA(010) CHUADANGA 010180107
167 010 AGRANI BANK LTD. ASMANKHALI(013) CHUADANGA 010180136
168 010 AGRANI BANK LTD. CHUADANGA(019) CHUADANGA 010180194
169 010 AGRANI BANK LTD. DARSHANA(031) CHUADANGA 010180310
170 010 AGRANI BANK LTD. HARDI(043) CHUADANGA 010180431
171 010 AGRANI BANK LTD. JIBAN NAGAR(058) CHUADANGA 010180581
172 010 AGRANI BANK LTD. KEDERGANJ(070) CHUADANGA 010180707
173 010 AGRANI BANK LTD. RADHAKANTAPUR BAZAR(079) CHUADANGA 010180794
174 010 AGRANI BANK LTD. RAMDIA BAZAR(082) CHUADANGA 010180828
175 010 AGRANI BANK LTD. AMRATALI BAZAR(016) COMILLA 010190168
176 010 AGRANI BANK LTD. B.S.C.I.C(025) COMILLA 010190250
177 010 AGRANI BANK LTD. BALUTUPA(037) COMILLA 010190371
178 010 AGRANI BANK LTD. BATA KANDI BAZAR(052) COMILLA 010190526
179 010 AGRANI BANK LTD. BATAICHARI BAZAR(055) COMILLA 010190555
180 010 AGRANI BANK LTD. BOKSHAGONJ(073) COMILLA 010190739
181 010 AGRANI BANK LTD. CHANDINA(088) COMILLA 010190889
182 010 AGRANI BANK LTD. DAUDKANDI(151) COMILLA 010191512
183 010 AGRANI BANK LTD. DEBIDWAR(160) COMILLA 010191604
184 010 AGRANI BANK LTD. HASANPUR(220) COMILLA 010192203
185 010 AGRANI BANK LTD. HOMNA(223) COMILLA 010192232
186 010 AGRANI BANK LTD. HOUSING ESTATE(226) COMILLA 010192261
187 010 AGRANI BANK LTD. JAHAPUR(235) COMILLA 010192353
188 010 AGRANI BANK LTD. JHALAM BAZAR(238) COMILLA 010192382
189 010 AGRANI BANK LTD. KASHINAGAR(259) COMILLA 010192595
190 010 AGRANI BANK LTD. KHILA BAZAR(262) COMILLA 010192629
191 010 AGRANI BANK LTD. LAKSAM(271) COMILLA 010192711
192 010 AGRANI BANK LTD. MADHABPUR(277) COMILLA 010192779
193 010 AGRANI BANK LTD. MONOHARPUR(307) COMILLA 010193073
194 010 AGRANI BANK LTD. MONSHIRHAT(310) COMILLA 010193107
195 010 AGRANI BANK LTD. NANGALKOT(325) COMILLA 010193257
196 010 AGRANI BANK LTD. NASRATPUR(328) COMILLA 010193286
197 010 AGRANI BANK LTD. NATHERPETUA(331) COMILLA 010193310
198 010 AGRANI BANK LTD. NIMSHAR(334) COMILLA 010193349
199 010 AGRANI BANK LTD. PADUAR BAZAR(340) COMILLA 010193402
200 010 AGRANI BANK LTD. RAJGANJ(358) COMILLA 010193581
201 010 AGRANI BANK LTD. RUPBABU BAZAR(376) COMILLA 010193765
202 010 AGRANI BANK LTD. SHANKHACHAIL(382) COMILLA 010193828
203 010 AGRANI BANK LTD. TOMSON BRIDGE(409) COMILLA 010194098
204 010 AGRANI BANK LTD. COX’S BAZAR(025) COXS BAZAR 010220254
205 010 AGRANI BANK LTD. KHUTAKHALI(064) COXS BAZAR 010220641
206 010 AGRANI BANK LTD. MARICCHA(070) COXS BAZAR 010220704
207 010 AGRANI BANK LTD. TEKNAF(091) COXS BAZAR 010220917
208 010 AGRANI BANK LTD. B.A.F.(031) DHAKA-NORTH 010260319
209 010 AGRANI BANK LTD. BADDA(034) DHAKA-NORTH 010260348
210 010 AGRANI BANK LTD. BANANI(043) DHAKA-NORTH 010260430
211 010 AGRANI BANK LTD. BANK TOWN(049) DHAKA-NORTH 010260498
212 010 AGRANI BANK LTD. DHAMRAI(115) DHAKA-NORTH 010261150
213 010 AGRANI BANK LTD. DHANMONDI(118) DHAKA-NORTH 010261189
214 010 AGRANI BANK LTD. ELEPHANT ROAD(133) DHAKA-NORTH 010261334
215 010 AGRANI BANK LTD. FARMGATE(145) DHAKA-NORTH 010261455
216 010 AGRANI BANK LTD. GABTALI(154) DHAKA-NORTH 010261547
217 010 AGRANI BANK LTD. GREEN ROAD(169) DHAKA-NORTH 010261697
218 010 AGRANI BANK LTD. GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 010261721
219 010 AGRANI BANK LTD. ICDDRB(211) DHAKA-NORTH 010262117
220 010 AGRANI BANK LTD. JAHANGIRNAGAR UNIVERSITY(226) DHAKA-NORTH 010262267
221 010 AGRANI BANK LTD. KURMITOLA(265) DHAKA-NORTH 010262654
222 010 AGRANI BANK LTD. MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 010262988
223 010 AGRANI BANK LTD. MOHAKHALI(319) DHAKA-NORTH 010263190
224 010 AGRANI BANK LTD. MOHAMMADPUR(328) DHAKA-NORTH 010263282
225 010 AGRANI BANK LTD. NEW MARKET(352) DHAKA-NORTH 010263529
226 010 AGRANI BANK LTD. PALLABI(358) DHAKA-NORTH 010263587
227 010 AGRANI BANK LTD. PANTHA PATH(361) DHAKA-NORTH 010263611
228 010 AGRANI BANK LTD. PATHALIA(364) DHAKA-NORTH 010263640
229 010 AGRANI BANK LTD. RAYER BAZAR(394) DHAKA-NORTH 010263945
230 010 AGRANI BANK LTD. SATMASJID ROAD(403) DHAKA-NORTH 010264036
231 010 AGRANI BANK LTD. SAVAR(409) DHAKA-NORTH 010264094
232 010 AGRANI BANK LTD. SENPARA(421) DHAKA-NORTH 010264210
233 010 AGRANI BANK LTD. SHEWRA PARA(427) DHAKA-NORTH 010264278
234 010 AGRANI BANK LTD. SHYAMALI(430) DHAKA-NORTH 010264302
235 010 AGRANI BANK LTD. SIMULIA(433) DHAKA-NORTH 010264331
236 010 AGRANI BANK LTD. SONARGAON ROAD(436) DHAKA-NORTH 010264360
237 010 AGRANI BANK LTD. TEJGAON INDUSTRIAL AREA(451) DHAKA-NORTH 010264515
238 010 AGRANI BANK LTD. UTTARA MODEL TOWN(469) DHAKA-NORTH 010264694
239 010 AGRANI BANK LTD. WASA(472) DHAKA-NORTH 010264728
240 010 AGRANI BANK LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 010270004
241 010 AGRANI BANK LTD. AGAMASHILANE(010) DHAKA-SOUTH 010270109
242 010 AGRANI BANK LTD. AMINCOURT(025) DHAKA-SOUTH 010270259
243 010 AGRANI BANK LTD. ANTA BARAH(028) DHAKA-SOUTH 010270288
244 010 AGRANI BANK LTD. B.B. AVENUE(043) DHAKA-SOUTH 010270433
245 010 AGRANI BANK LTD. BABU BAZAR(055) DHAKA-SOUTH 010270554
246 010 AGRANI BANK LTD. BANGLA ACADAMY(079) DHAKA-SOUTH 010270796
247 010 AGRANI BANK LTD. BASHABOO(097) DHAKA-SOUTH 010270970
248 010 AGRANI BANK LTD. BECHARAMDEWRI(103) DHAKA-SOUTH 010271032
249 010 AGRANI BANK LTD. BEGUM BAZAR(106) DHAKA-SOUTH 010271061
250 010 AGRANI BANK LTD. CENTRAL LAW COLLEGE(121) DHAKA-SOUTH 010271216
251 010 AGRANI BANK LTD. CHAWK BAZAR(127) DHAKA-SOUTH 010271274
252 010 AGRANI BANK LTD. CHOWDHURY BAZAR(133) DHAKA-SOUTH 010271337
253 010 AGRANI BANK LTD. DHAKA SHERATON HOTEL(163) DHAKA-SOUTH 010271632
254 010 AGRANI BANK LTD. DHAKA UNIVERSITY(172) DHAKA-SOUTH 010271724
255 010 AGRANI BANK LTD. DHOLAIRPAR(187) DHAKA-SOUTH 010271874
256 010 AGRANI BANK LTD. FARASHGANJ(223) DHAKA-SOUTH 010272231
257 010 AGRANI BANK LTD. FARIDABAD(226) DHAKA-SOUTH 010272260
258 010 AGRANI BANK LTD. FOREIGN EXCHANGE(232) DHAKA-SOUTH 010272323
259 010 AGRANI BANK LTD. HATKHOLA(259) DHAKA-SOUTH 010272594
260 010 AGRANI BANK LTD. HEAD OFFICE(268) DHAKA-SOUTH 010272686
261 010 AGRANI BANK LTD. IMAMGANJ(280) DHAKA-SOUTH 010272802
262 010 AGRANI BANK LTD. ISLAMPUR(298) DHAKA-SOUTH 010272981
263 010 AGRANI BANK LTD. JAGANNATH UNIVERSITY(310) DHAKA-SOUTH 010273106
264 010 AGRANI BANK LTD. JATIYA JADUGHAR(316) DHAKA-SOUTH 010273164
265 010 AGRANI BANK LTD. JATIYA PRESS CLUB(319) DHAKA-SOUTH 010273193
266 010 AGRANI BANK LTD. JATRABARI(322) DHAKA-SOUTH 010273227
267 010 AGRANI BANK LTD. JOYPARA(328) DHAKA-SOUTH 010273285
268 010 AGRANI BANK LTD. KADAMTALI(334) DHAKA-SOUTH 010273348
269 010 AGRANI BANK LTD. KAMALAPUR(349) DHAKA-SOUTH 010273498
270 010 AGRANI BANK LTD. MALIBAGH(394) DHAKA-SOUTH 010273948
271 010 AGRANI BANK LTD. MATUAIL(400) DHAKA-SOUTH 010274000
272 010 AGRANI BANK LTD. MITFORD HOSPITAL(409) DHAKA-SOUTH 010274097
273 010 AGRANI BANK LTD. MOUCHAK MARKET(439) DHAKA-SOUTH 010274392
274 010 AGRANI BANK LTD. MOULVI BAZAR(442) DHAKA-SOUTH 010274426
275 010 AGRANI BANK LTD. NARINDA(463) DHAKA-SOUTH 010274639
276 010 AGRANI BANK LTD. NARISHA BAZAR(466) DHAKA-SOUTH 010274668
277 010 AGRANI BANK LTD. NAWABGANJ(469) DHAKA-SOUTH 010274697
278 010 AGRANI BANK LTD. NAWABGANJ(469) DHAKA-SOUTH 010274697
279 010 AGRANI BANK LTD. NAWABPUR(472) DHAKA-SOUTH 010274721
280 010 AGRANI BANK LTD. NEW ESKATON(502) DHAKA-SOUTH 010275025
281 010 AGRANI BANK LTD. NORTH SOUTH ROAD(511) DHAKA-SOUTH 010275117
282 010 AGRANI BANK LTD. POSTA(529) DHAKA-SOUTH 010275296
283 010 AGRANI BANK LTD. PRINCIPAL(535) DHAKA-SOUTH 010275359
284 010 AGRANI BANK LTD. PURANA PALTAN(538) DHAKA-SOUTH 010275388
285 010 AGRANI BANK LTD. PYARIDAS ROAD(544) DHAKA-SOUTH 010275441
286 010 AGRANI BANK LTD. RAISHAHEB BAZAR(550) DHAKA-SOUTH 010275504
287 010 AGRANI BANK LTD. RAJUK BHABAN(562) DHAKA-SOUTH 010275625
288 010 AGRANI BANK LTD. RAMNA(568) DHAKA-SOUTH 010275683
289 010 AGRANI BANK LTD. RAMPURA(574) DHAKA-SOUTH 010275746
290 010 AGRANI BANK LTD. S.S. COLLEGE(589) DHAKA-SOUTH 010275896
291 010 AGRANI BANK LTD. SADARGHAT(592) DHAKA-SOUTH 010275920
292 010 AGRANI BANK LTD. SANTINAGAR(601) DHAKA-SOUTH 010276011
293 010 AGRANI BANK LTD. THATARI BAZAR(667) DHAKA-SOUTH 010276679
294 010 AGRANI BANK LTD. WAPDA(694) DHAKA-SOUTH 010276945
295 010 AGRANI BANK LTD. ZINZIRA(709) DHAKA-SOUTH 010277094
296 010 AGRANI BANK LTD. AMTALI(007) DINAJPUR 010280078
297 010 AGRANI BANK LTD. BHUSHIR BANDAR(028) DINAJPUR 010280281
298 010 AGRANI BANK LTD. BIRAMPUR(034) DINAJPUR 010280344
299 010 AGRANI BANK LTD. HAKIMPUR(091) DINAJPUR 010280915
300 010 AGRANI BANK LTD. KAMOLPUR(115) DINAJPUR 010281156
301 010 AGRANI BANK LTD. MADILA HAT(136) DINAJPUR 010281369
302 010 AGRANI BANK LTD. MALDAH PATTY(142) DINAJPUR 010281422
303 010 AGRANI BANK LTD. MUNSHIPARA(157) DINAJPUR 010281572
304 010 AGRANI BANK LTD. NAWABGANJ(163) DINAJPUR 010281635
305 010 AGRANI BANK LTD. PARBATIPUR(181) DINAJPUR 010281819
306 010 AGRANI BANK LTD. PHUL HAT(184) DINAJPUR 010281848
307 010 AGRANI BANK LTD. PHULBARI(187) DINAJPUR 010281877
308 010 AGRANI BANK LTD. PURATAN BAZAR(196) DINAJPUR 010281969
309 010 AGRANI BANK LTD. SETABGANJ(217) DINAJPUR 010282171
310 010 AGRANI BANK LTD. STATION ROAD(232) DINAJPUR 010282326
311 010 AGRANI BANK LTD. TAJPURHAT(241) DINAJPUR 010282418
312 010 AGRANI BANK LTD. BADARPUR(016) FARIDPUR 010290163
313 010 AGRANI BANK LTD. BHANGA(028) FARIDPUR 010290284
314 010 AGRANI BANK LTD. BOALMARI(034) FARIDPUR 010290347
315 010 AGRANI BANK LTD. BUS STAND(037) FARIDPUR 010290376
316 010 AGRANI BANK LTD. CHAR BHADRASAN(043) FARIDPUR 010290439
317 010 AGRANI BANK LTD. FARIDPUR(052) FARIDPUR 010290521
318 010 AGRANI BANK LTD. GHARUA(058) FARIDPUR 010290589
319 010 AGRANI BANK LTD. MALIGRAM(112) FARIDPUR 010291120
320 010 AGRANI BANK LTD. NAGARKANDA(118) FARIDPUR 010291188
321 010 AGRANI BANK LTD. SADARPUR(127) FARIDPUR 010291270
322 010 AGRANI BANK LTD. SARIATULLAH BAZAR(133) FARIDPUR 010291333
323 010 AGRANI BANK LTD. ZILLA PARISAD(151) FARIDPUR 010291517
324 010 AGRANI BANK LTD. BAIRAGIRHAT(013) FENI 010300132
325 010 AGRANI BANK LTD. CHHAGALNAIYA(031) FENI 010300316
326 010 AGRANI BANK LTD. FENI(052) FENI 010300529
327 010 AGRANI BANK LTD. KAMALAPATTY(079) FENI 010300790
328 010 AGRANI BANK LTD. PARSHURAM(127) FENI 010301278
329 010 AGRANI BANK LTD. SONAGAZI(148) FENI 010301481
330 010 AGRANI BANK LTD. TULATOLY BAZAR(151) FENI 010301515
331 010 AGRANI BANK LTD. BONARPARA(022) GAIBANDHA 010320220
332 010 AGRANI BANK LTD. DHOLBHANGA(037) GAIBANDHA 010320370
333 010 AGRANI BANK LTD. FULCHARIGHAT(049) GAIBANDHA 010320491
334 010 AGRANI BANK LTD. GAIBANDHA(052) GAIBANDHA 010320525
335 010 AGRANI BANK LTD. KAMARPARA(070) GAIBANDHA 010320709
336 010 AGRANI BANK LTD. NALDANGA(103) GAIBANDHA 010321032
337 010 AGRANI BANK LTD. PANCHPIR BAZAR(112) GAIBANDHA 010321124
338 010 AGRANI BANK LTD. RASULPUR(121) GAIBANDHA 010321216
339 010 AGRANI BANK LTD. SADULLAPUR(124) GAIBANDHA 010321245
340 010 AGRANI BANK LTD. SAGHATTA(127) GAIBANDHA 010321274
341 010 AGRANI BANK LTD. SUNDARGANJ(130) GAIBANDHA 010321308
342 010 AGRANI BANK LTD. BOARD BAZAR(022) GAZIPUR 010330223
343 010 AGRANI BANK LTD. BORMI BAZAR(028) GAZIPUR 010330281
344 010 AGRANI BANK LTD. D.U.E.T.(043) GAZIPUR 010330436
345 010 AGRANI BANK LTD. GAGOTIA CHALAR BAZAR(049) GAZIPUR 010330494
346 010 AGRANI BANK LTD. GAZIPUR(052) GAZIPUR 010330528
347 010 AGRANI BANK LTD. GOSINGA(064) GAZIPUR 010330649
348 010 AGRANI BANK LTD. KAORAID(085) GAZIPUR 010330852
349 010 AGRANI BANK LTD. KAPASIA(088) GAZIPUR 010330881
350 010 AGRANI BANK LTD. KASHIMPUR(091) GAZIPUR 010330915
351 010 AGRANI BANK LTD. MOUNA BAZAR(112) GAZIPUR 010331127
352 010 AGRANI BANK LTD. NAGARI(115) GAZIPUR 010331156
353 010 AGRANI BANK LTD. RAJABARI(130) GAZIPUR 010331301
354 010 AGRANI BANK LTD. SREEPUR(148) GAZIPUR 010331480
355 010 AGRANI BANK LTD. TOKNAYAN(157) GAZIPUR 010331572
356 010 AGRANI BANK LTD. TONGI(163) GAZIPUR 010331635
357 010 AGRANI BANK LTD. GOPALGANJ(037) GOPALGANJ 010350379
358 010 AGRANI BANK LTD. JALIRPUR(046) GOPALGANJ 010350461
359 010 AGRANI BANK LTD. JHUTIGRAM(049) GOPALGANJ 010350490
360 010 AGRANI BANK LTD. KASHIANI(058) GOPALGANJ 010350582
361 010 AGRANI BANK LTD. KOTALIPARA(067) GOPALGANJ 010350674
362 010 AGRANI BANK LTD. MUKSUDPUR(073) GOPALGANJ 010350737
363 010 AGRANI BANK LTD. POURA SUPER MARKET(085) GOPALGANJ 010350858
364 010 AGRANI BANK LTD. TUNGI PARA(109) GOPALGANJ 010351099
365 010 AGRANI BANK LTD. GOPAYA(052) HABIGANJ 010360527
366 010 AGRANI BANK LTD. HABIGANJ(061) HABIGANJ 010360619
367 010 AGRANI BANK LTD. KAILASHGANJ(070) HABIGANJ 010360701
368 010 AGRANI BANK LTD. NABIGANJ(109) HABIGANJ 010361092
369 010 AGRANI BANK LTD. PURAN BAZAR(133) HABIGANJ 010361339
370 010 AGRANI BANK LTD. AKKELPUR(004) JOYPURHAT 010380044
371 010 AGRANI BANK LTD. AWLAI(010) JOYPURHAT 010380107
372 010 AGRANI BANK LTD. CHAWK BARKAT(022) JOYPURHAT 010380228
373 010 AGRANI BANK LTD. JOYPURHAT(040) JOYPURHAT 010380402
374 010 AGRANI BANK LTD. KALAI(046) JOYPURHAT 010380460
375 010 AGRANI BANK LTD. KUSHUMBA(052) JOYPURHAT 010380523
376 010 AGRANI BANK LTD. MATRAI(058) JOYPURHAT 010380581
377 010 AGRANI BANK LTD. PANCHBIBI(067) JOYPURHAT 010380673
378 010 AGRANI BANK LTD. BUS STAND(040) JAMALPUR 010390405
379 010 AGRANI BANK LTD. HAZIPUR BAZAR(070) JAMALPUR 010390700
380 010 AGRANI BANK LTD. ISLAMPUR BAZAR(079) JAMALPUR 010390797
381 010 AGRANI BANK LTD. JAGANNATHGONJ GHAT(082) JAMALPUR 010390821
382 010 AGRANI BANK LTD. JAMALPUR(085) JAMALPUR 010390850
383 010 AGRANI BANK LTD. JAMTOLI BAZAR(094) JAMALPUR 010390942
384 010 AGRANI BANK LTD. JAMUNA SARKARKHANA(100) JAMALPUR 010391004
385 010 AGRANI BANK LTD. LAHIRIKANDA(112) JAMALPUR 010391125
386 010 AGRANI BANK LTD. PINGNA(139) JAMALPUR 010391396
387 010 AGRANI BANK LTD. PIYARPUR(142) JAMALPUR 010391420
388 010 AGRANI BANK LTD. SARISHABARI(148) JAMALPUR 010391488
389 010 AGRANI BANK LTD. SHABAZPUR(154) JAMALPUR 010391541
390 010 AGRANI BANK LTD. STATION ROAD(166) JAMALPUR 010391662
391 010 AGRANI BANK LTD. BAGHERPARA(013) JESSORE 010410130
392 010 AGRANI BANK LTD. BAZAR(H.M.M.ROAD)(025) JESSORE 010410251
393 010 AGRANI BANK LTD. BENAPOLE BAZAR(031) JESSORE 010410314
394 010 AGRANI BANK LTD. BHANGURA BAZAR(034) JESSORE 010410343
395 010 AGRANI BANK LTD. BUS STAND(040) JESSORE 010410406
396 010 AGRANI BANK LTD. DARATANA ROAD(061) JESSORE 010410619
397 010 AGRANI BANK LTD. GANGANANDAPUR(067) JESSORE 010410677
398 010 AGRANI BANK LTD. GODKHALI BAZAR(073) JESSORE 010410730
399 010 AGRANI BANK LTD. HASIMPUR(085) JESSORE 010410851
400 010 AGRANI BANK LTD. JESSORE(094) JESSORE 010410943
401 010 AGRANI BANK LTD. JESSORE AIR BASE(097) JESSORE 010410972
402 010 AGRANI BANK LTD. JHIKARGACHA(109) JESSORE 010411092
403 010 AGRANI BANK LTD. JHUMJHUMPUR(112) JESSORE 010411126
404 010 AGRANI BANK LTD. KESHABPUR(121) JESSORE 010411218
405 010 AGRANI BANK LTD. PROTAPPUR(175) JESSORE 010411755
406 010 AGRANI BANK LTD. PULERHAT(178) JESSORE 010411784
407 010 AGRANI BANK LTD. RAIL BAZAR(187) JESSORE 010411876
408 010 AGRANI BANK LTD. RAJARHAT(196) JESSORE 010411968
409 010 AGRANI BANK LTD. SHAIKH HATI(217) JESSORE 010412170
410 010 AGRANI BANK LTD. AMUA BAZAR(007) JHALOKATHI 010420070
411 010 AGRANI BANK LTD. DAPDAPIA FERRYGHAT(022) JHALOKATHI 010420225
412 010 AGRANI BANK LTD. JHALOKATI(031) JHALOKATHI 010420317
413 010 AGRANI BANK LTD. NALCHITY(049) JHALOKATHI 010420496
414 010 AGRANI BANK LTD. SHEKERHAT(061) JHALOKATHI 010420612
415 010 AGRANI BANK LTD. BAZAR GOPALPUR(010) JHENAIDAH 010440100
416 010 AGRANI BANK LTD. CHAPRAIL(031) JHENAIDAH 010440313
417 010 AGRANI BANK LTD. HAMDAH BUS STAND(046) JHENAIDAH 010440463
418 010 AGRANI BANK LTD. HOLIDHANI BAZAR(061) JHENAIDAH 010440618
419 010 AGRANI BANK LTD. JHENAIDAH(064) JHENAIDAH 010440647
420 010 AGRANI BANK LTD. KABIRPUR BAZAR(073) JHENAIDAH 010440739
421 010 AGRANI BANK LTD. KALIGANJ(079) JHENAIDAH 010440797
422 010 AGRANI BANK LTD. KANYADAH(085) JHENAIDAH 010440850
423 010 AGRANI BANK LTD. SHADHUHATI(121) JHENAIDAH 010441217
424 010 AGRANI BANK LTD. KHAGRACHARI(007) KHAGRACHARI 010460072
425 010 AGRANI BANK LTD. RAMGARH(031) KHAGRACHARI 010460319
426 010 AGRANI BANK LTD. BAIKALI(007) KHULNA 010470075
427 010 AGRANI BANK LTD. BAJUA BAZAR(010) KHULNA 010470109
428 010 AGRANI BANK LTD. BANARGATI BAZAR(013) KHULNA 010470138
429 010 AGRANI BANK LTD. BANKA BAZAR(019) KHULNA 010470196
430 010 AGRANI BANK LTD. BATBUNIA BAZAR(028) KHULNA 010470288
431 010 AGRANI BANK LTD. CHUK NAGAR(055) KHULNA 010470554
432 010 AGRANI BANK LTD. CLAY ROAD(058) KHULNA 010470583
433 010 AGRANI BANK LTD. DADA MATCH(067) KHULNA 010470675
434 010 AGRANI BANK LTD. DAULATPUR(070) KHULNA 010470709
435 010 AGRANI BANK LTD. FARAZIPARA(082) KHULNA 010470820
436 010 AGRANI BANK LTD. GOALPARA(091) KHULNA 010470912
437 010 AGRANI BANK LTD. JAIGIR MOHAL(106) KHULNA 010471061
438 010 AGRANI BANK LTD. JESSORE ROAD(112) KHULNA 010471124
439 010 AGRANI BANK LTD. K.D.A. NEW MARKET(121) KHULNA 010471216
440 010 AGRANI BANK LTD. KAPILMUNI(127) KHULNA 010471274
441 010 AGRANI BANK LTD. KAZDIA(136) KHULNA 010471366
442 010 AGRANI BANK LTD. KHALISHPUR(145) KHULNA 010471458
443 010 AGRANI BANK LTD. KHAN JAHAN ALI ROAD(148) KHULNA 010471487
444 010 AGRANI BANK LTD. KHULNA MEDICAL COLLEGE AND HOSPITAL(163) KHULNA 010471632
445 010 AGRANI BANK LTD. KHULNA UNIVERSITY(169) KHULNA 010471690
446 010 AGRANI BANK LTD. MOHESWARPASHA(190) KHULNA 010471908
447 010 AGRANI BANK LTD. NAVAL BASE(B.N.S.TITUMIR)(196) KHULNA 010471966
448 010 AGRANI BANK LTD. PHULBARI GATE(211) KHULNA 010472110
449 010 AGRANI BANK LTD. PHULTALA(214) KHULNA 010472149
450 010 AGRANI BANK LTD. RUPSHASTAND ROAD(235) KHULNA 010472352
451 010 AGRANI BANK LTD. S.I. ROAD CORPORATE(238) KHULNA 010472381
452 010 AGRANI BANK LTD. S.RAHMAN ROAD(241) KHULNA 010472415
453 010 AGRANI BANK LTD. SHAIKHPURA(250) KHULNA 010472507
454 010 AGRANI BANK LTD. TEROKHADA(265) KHULNA 010472657
455 010 AGRANI BANK LTD. BAJITPUR(010) KISHOREGANJ 010480102
456 010 AGRANI BANK LTD. BHAIRAB BAZAR(022) KISHOREGANJ 010480223
457 010 AGRANI BANK LTD. CHARPUMDI(025) KISHOREGANJ 010480252
458 010 AGRANI BANK LTD. HOSSAINPUR(040) KISHOREGANJ 010480407
459 010 AGRANI BANK LTD. KARIMGANJ(055) KISHOREGANJ 010480557
460 010 AGRANI BANK LTD. KATIADI BAZAR(061) KISHOREGANJ 010480610
461 010 AGRANI BANK LTD. KISHOREGANJ(067) KISHOREGANJ 010480678
462 010 AGRANI BANK LTD. KULIAR CHAR(073) KISHOREGANJ 010480731
463 010 AGRANI BANK LTD. MATHKHOLA(088) KISHOREGANJ 010480881
464 010 AGRANI BANK LTD. MIRZAPUR(091) KISHOREGANJ 010480915
465 010 AGRANI BANK LTD. NIKLI(100) KISHOREGANJ 010481006
466 010 AGRANI BANK LTD. PAKUNDIA(106) KISHOREGANJ 010481064
467 010 AGRANI BANK LTD. BHITORBOND HAT(007) KURIGRAM 010490071
468 010 AGRANI BANK LTD. BHURUNGAMARI(010) KURIGRAM 010490105
469 010 AGRANI BANK LTD. CHILMARI(013) KURIGRAM 010490134
470 010 AGRANI BANK LTD. KURIGRAM(040) KURIGRAM 010490400
471 010 AGRANI BANK LTD. NAGESWARI(046) KURIGRAM 010490468
472 010 AGRANI BANK LTD. NAZIMKHAN(049) KURIGRAM 010490497
473 010 AGRANI BANK LTD. RAJARHAT(058) KURIGRAM 010490589
474 010 AGRANI BANK LTD. ULIPUR(070) KURIGRAM 010490705
475 010 AGRANI BANK LTD. ALLAHAR DARGAH(007) KUSHTIA 010500079
476 010 AGRANI BANK LTD. BARA BAZAR(019) KUSHTIA 010500190
477 010 AGRANI BANK LTD. BARAGANGDIA(022) KUSHTIA 010500224
478 010 AGRANI BANK LTD. BHERAMARA(028) KUSHTIA 010500282
479 010 AGRANI BANK LTD. DAULATPUR(046) KUSHTIA 010500466
480 010 AGRANI BANK LTD. GOLAP NAGAR(055) KUSHTIA 010500558
481 010 AGRANI BANK LTD. ISLAMIC UNIVERSITY(067) KUSHTIA 010500679
482 010 AGRANI BANK LTD. KHALISHA KUNDI(079) KUSHTIA 010500790
483 010 AGRANI BANK LTD. KUMARKHALI(088) KUSHTIA 010500882
484 010 AGRANI BANK LTD. MATHURAPUR(103) KUSHTIA 010501036
485 010 AGRANI BANK LTD. MIRPUR(106) KUSHTIA 010501065
486 010 AGRANI BANK LTD. MOZAMPUR(115) KUSHTIA 010501157
487 010 AGRANI BANK LTD. NEW MARKET(124) KUSHTIA 010501249
488 010 AGRANI BANK LTD. PANTI(127) KUSHTIA 010501278
489 010 AGRANI BANK LTD. PATIKABARI(133) KUSHTIA 010501331
490 010 AGRANI BANK LTD. PRAGPUR(139) KUSHTIA 010501399
491 010 AGRANI BANK LTD. S.C. BANERJEE ROAD(148) KUSHTIA 010501481
492 010 AGRANI BANK LTD. SILAIDAH(154) KUSHTIA 010501544
493 010 AGRANI BANK LTD. STATION ROAD(157) KUSHTIA 010501573
494 010 AGRANI BANK LTD. THANAPARA(166) KUSHTIA 010501665
495 010 AGRANI BANK LTD. UJANGRAM(169) KUSHTIA 010501694
496 010 AGRANI BANK LTD. BHABANIGANJ(007) LAKSHMIPUR 010510072
497 010 AGRANI BANK LTD. DALAL BAZAR(040) LAKSHMIPUR 010510401
498 010 AGRANI BANK LTD. DASHER HAT(046) LAKSHMIPUR 010510469
499 010 AGRANI BANK LTD. LAKSHMIPUR(073) LAKSHMIPUR 010510735
500 010 AGRANI BANK LTD. MANDARI BAZAR(082) LAKSHMIPUR 010510827
501 010 AGRANI BANK LTD. PANPARA BAZAR(091) LAKSHMIPUR 010510919
502 010 AGRANI BANK LTD. RAIPUR(097) LAKSHMIPUR 010510977
503 010 AGRANI BANK LTD. RAMGANJ(103) LAKSHMIPUR 010511039
504 010 AGRANI BANK LTD. RAMGATI(106) LAKSHMIPUR 010511068
505 010 AGRANI BANK LTD. LALMONIRHAT(046) LALMONIRHAT 010520462
506 010 AGRANI BANK LTD. BARHAMGANJ(007) MADARIPUR 010540071
507 010 AGRANI BANK LTD. KALKINI(028) MADARIPUR 010540284
508 010 AGRANI BANK LTD. MADARIPUR(040) MADARIPUR 010540400
509 010 AGRANI BANK LTD. NEW MARKET(058) MADARIPUR 010540589
510 010 AGRANI BANK LTD. TAKERHAT(076) MADARIPUR 010540763
511 010 AGRANI BANK LTD. BEROIL PALITA(016) MAGURA 010550166
512 010 AGRANI BANK LTD. HAJIPUR(037) MAGURA 010550379
513 010 AGRANI BANK LTD. ICHHAKHADA(040) MAGURA 010550403
514 010 AGRANI BANK LTD. MAGURA(055) MAGURA 010550553
515 010 AGRANI BANK LTD. VAINAR MOAR(100) MAGURA 010551002
516 010 AGRANI BANK LTD. ARICHAGHAT(004) MANIKGANJ 010560048
517 010 AGRANI BANK LTD. BOYRA(016) MANIKGANJ 010560169
518 010 AGRANI BANK LTD. CHARIGRAM(022) MANIKGANJ 010560222
519 010 AGRANI BANK LTD. DHALLAH(031) MANIKGANJ 010560314
520 010 AGRANI BANK LTD. JANNA(049) MANIKGANJ 010560493
521 010 AGRANI BANK LTD. JHITKA BAZAR(055) MANIKGANJ 010560556
522 010 AGRANI BANK LTD. KRISHNAPUR(058) MANIKGANJ 010560585
523 010 AGRANI BANK LTD. MANIKGANJ(061) MANIKGANJ 010560619
524 010 AGRANI BANK LTD. MANIKNAGAR(067) MANIKGANJ 010560677
525 010 AGRANI BANK LTD. SINGAIR(082) MANIKGANJ 010560822
526 010 AGRANI BANK LTD. WIRELESS GATE(088) MANIKGANJ 010560880
527 010 AGRANI BANK LTD. BAMONPARA(007) MEHERPUR 010570070
528 010 AGRANI BANK LTD. BAOT(013) MEHERPUR 010570133
529 010 AGRANI BANK LTD. MEHERPUR(037) MEHERPUR 010570375
530 010 AGRANI BANK LTD. MUJIB NAGAR(046) MEHERPUR 010570467
531 010 AGRANI BANK LTD. BHUKSHIMOIL(022) MOULVI BAZAR 010580228
532 010 AGRANI BANK LTD. FULTALA BAZAR(055) MOULVI BAZAR 010580552
533 010 AGRANI BANK LTD. GIAS NAGAR(058) MOULVI BAZAR 010580581
534 010 AGRANI BANK LTD. KARMADAH(082) MOULVI BAZAR 010580828
535 010 AGRANI BANK LTD. KATARKONA(085) MOULVI BAZAR 010580857
536 010 AGRANI BANK LTD. KULAURA(094) MOULVI BAZAR 010580949
537 010 AGRANI BANK LTD. MADHABPUR BAZAR(100) MOULVI BAZAR 010581001
538 010 AGRANI BANK LTD. MOSTAFAPUR(115) MOULVI BAZAR 010581151
539 010 AGRANI BANK LTD. MOULAVI BAZAR(118) MOULVI BAZAR 010581180
540 010 AGRANI BANK LTD. MUNSHI BAZAR(124) MOULVI BAZAR 010581243
541 010 AGRANI BANK LTD. RABIR BAZAR(136) MOULVI BAZAR 010581364
542 010 AGRANI BANK LTD. SINDUR KHAN BAZAR(169) MOULVI BAZAR 010581698
543 010 AGRANI BANK LTD. SREE MANGAL(172) MOULVI BAZAR 010581722
544 010 AGRANI BANK LTD. BALIGAON BAZAR(013) MUNSHIGANJ 010590139
545 010 AGRANI BANK LTD. DIGHIRPAR(043) MUNSHIGANJ 010590434
546 010 AGRANI BANK LTD. HASAIL BAZAR(055) MUNSHIGANJ 010590555
547 010 AGRANI BANK LTD. HASHARA BAZAR(061) MUNSHIGANJ 010590618
548 010 AGRANI BANK LTD. HOSSAINDI BAZAR(064) MUNSHIGANJ 010590647
549 010 AGRANI BANK LTD. KALMA(070) MUNSHIGANJ 010590700
550 010 AGRANI BANK LTD. KOLAPARA BAZAR(082) MUNSHIGANJ 010590821
551 010 AGRANI BANK LTD. MIRKADIM(097) MUNSHIGANJ 010590971
552 010 AGRANI BANK LTD. MUKTARPUR(100) MUNSHIGANJ 010591004
553 010 AGRANI BANK LTD. MUNSHIGANJ(103) MUNSHIGANJ 010591033
554 010 AGRANI BANK LTD. MUNSHIRHAT(106) MUNSHIGANJ 010591062
555 010 AGRANI BANK LTD. RAMGOPALPUR(115) MUNSHIGANJ 010591154
556 010 AGRANI BANK LTD. SIMPARA(136) MUNSHIGANJ 010591367
557 010 AGRANI BANK LTD. SREENAGAR(142) MUNSHIGANJ 010591420
558 010 AGRANI BANK LTD. ATHAROBARI(013) MYMENSINGH 010610130
559 010 AGRANI BANK LTD. BHAITKANDI(028) MYMENSINGH 010610280
560 010 AGRANI BANK LTD. BHALUKA(031) MYMENSINGH 010610314
561 010 AGRANI BANK LTD. C.K. GHOSH ROAD(040) MYMENSINGH 010610406
562 010 AGRANI BANK LTD. CHHOTO BAZAR(058) MYMENSINGH 010610585
563 010 AGRANI BANK LTD. DHARA BAZAR(082) MYMENSINGH 010610822
564 010 AGRANI BANK LTD. FULPUR(097) MYMENSINGH 010610972
565 010 AGRANI BANK LTD. GAFFARGAON(100) MYMENSINGH 010611005
566 010 AGRANI BANK LTD. GIRLS CADET COLLEGE(103) MYMENSINGH 010611034
567 010 AGRANI BANK LTD. KALIGANJ BAZAR(124) MYMENSINGH 010611247
568 010 AGRANI BANK LTD. KASHIGANJ(130) MYMENSINGH 010611300
569 010 AGRANI BANK LTD. MECHUA BAZAR(160) MYMENSINGH 010611605
570 010 AGRANI BANK LTD. MEDICAL COLLAGE(163) MYMENSINGH 010611634
571 010 AGRANI BANK LTD. MUKTAGACHA(169) MYMENSINGH 010611692
572 010 AGRANI BANK LTD. MYMENSINGH(175) MYMENSINGH 010611755
573 010 AGRANI BANK LTD. AHSANGANJ(010) NAOGAON 010640100
574 010 AGRANI BANK LTD. AI-HAI(013) NAOGAON 010640139
575 010 AGRANI BANK LTD. BOALIA(040) NAOGAON 010640405
576 010 AGRANI BANK LTD. BUS STAND(043) NAOGAON 010640434
577 010 AGRANI BANK LTD. KASHAB(079) NAOGAON 010640797
578 010 AGRANI BANK LTD. MAINAMHAT(097) NAOGAON 010640971
579 010 AGRANI BANK LTD. MATAZEE HAT(106) NAOGAON 010641062
580 010 AGRANI BANK LTD. NAOGAON(118) NAOGAON 010641183
581 010 AGRANI BANK LTD. NITHPUR(133) NAOGAON 010641338
582 010 AGRANI BANK LTD. PATNITALA(145) NAOGAON 010641459
583 010 AGRANI BANK LTD. PORSHA(151) NAOGAON 010641512
584 010 AGRANI BANK LTD. SAPAHAR(175) NAOGAON 010641754
585 010 AGRANI BANK LTD. ARENDA(004) NARAIL 010650040
586 010 AGRANI BANK LTD. AURIA(007) NARAIL 010650079
587 010 AGRANI BANK LTD. GAZIRHAT(019) NARAIL 010650190
588 010 AGRANI BANK LTD. JOGANIA(028) NARAIL 010650282
589 010 AGRANI BANK LTD. KALABARIA(031) NARAIL 010650316
590 010 AGRANI BANK LTD. KALIA(034) NARAIL 010650345
591 010 AGRANI BANK LTD. LOHAGARA(046) NARAIL 010650466
592 010 AGRANI BANK LTD. NARAIL(064) NARAIL 010650640
593 010 AGRANI BANK LTD. RATADANGA(070) NARAIL 010650703
594 010 AGRANI BANK LTD. ARAIHAZAR(004) NARAYANGANJ 010670046
595 010 AGRANI BANK LTD. B.B. ROAD(007) NARAYANGANJ 010670075
596 010 AGRANI BANK LTD. B.K. ROAD(013) NARAYANGANJ 010670138
597 010 AGRANI BANK LTD. COURT ROAD(025) NARAYANGANJ 010670259
598 010 AGRANI BANK LTD. DEMRA(031) NARAYANGANJ 010670312
599 010 AGRANI BANK LTD. KALIR BAZAR(073) NARAYANGANJ 010670738
600 010 AGRANI BANK LTD. KANCHAN(079) NARAYANGANJ 010670796
601 010 AGRANI BANK LTD. MIRJUMLA ROAD(103) NARAYANGANJ 010671032
602 010 AGRANI BANK LTD. SHASTAPUR(154) NARAYANGANJ 010671540
603 010 AGRANI BANK LTD. SIDDIRGONJ POWER STATION(163) NARAYANGANJ 010671632
604 010 AGRANI BANK LTD. SONARGAON(169) NARAYANGANJ 010671690
605 010 AGRANI BANK LTD. TAN BAZAR(175) NARAYANGANJ 010671753
606 010 AGRANI BANK LTD. AMIRGANJ(004) NARSHINGDI 010680049
607 010 AGRANI BANK LTD. BABURHAT(010) NARSHINGDI 010680102
608 010 AGRANI BANK LTD. CHALAKCHAR(031) NARSHINGDI 010680315
609 010 AGRANI BANK LTD. MONOHARDI(073) NARSHINGDI 010680731
610 010 AGRANI BANK LTD. MUSAPUR BAZAR(079) NARSHINGDI 010680799
611 010 AGRANI BANK LTD. NARSHINGDI(085) NARSHINGDI 010680852
612 010 AGRANI BANK LTD. PALASH BAZAR(094) NARSHINGDI 010680944
613 010 AGRANI BANK LTD. RADHAGANJ(106) NARSHINGDI 010681064
614 010 AGRANI BANK LTD. STATION ROAD(136) NARSHINGDI 010681369
615 010 AGRANI BANK LTD. BAGATIPARA(013) NATORE 010690134
616 010 AGRANI BANK LTD. GOPALPUR(049) NATORE 010690497
617 010 AGRANI BANK LTD. HALSHA(058) NATORE 010690589
618 010 AGRANI BANK LTD. LAXMIKOL(094) NATORE 010690947
619 010 AGRANI BANK LTD. N.B. SUGAR MILLS(103) NATORE 010691038
620 010 AGRANI BANK LTD. NATORE(109) NATORE 010691096
621 010 AGRANI BANK LTD. NATORE SUGAR MILLS(115) NATORE 010691159
622 010 AGRANI BANK LTD. NAZIRPUR(121) NATORE 010691212
623 010 AGRANI BANK LTD. QUADIRABAD CANTT(136) NATORE 010691362
624 010 AGRANI BANK LTD. RAJAPUR HAT(142) NATORE 010691425
625 010 AGRANI BANK LTD. SINGRA(148) NATORE 010691483
626 010 AGRANI BANK LTD. AMNURA(004) NAWABGANJ 010700040
627 010 AGRANI BANK LTD. BAROGHORIA(013) NAWABGANJ 010700132
628 010 AGRANI BANK LTD. BINODPUR(019) NAWABGANJ 010700190
629 010 AGRANI BANK LTD. CHAPAI NAWABGANJ(025) NAWABGANJ 010700253
630 010 AGRANI BANK LTD. CHOWDALA(034) NAWABGANJ 010700345
631 010 AGRANI BANK LTD. GOBRATALA(040) NAWABGANJ 010700408
632 010 AGRANI BANK LTD. KHAMAR(055) NAWABGANJ 010700558
633 010 AGRANI BANK LTD. MOBARAKPUR(061) NAWABGANJ 010700611
634 010 AGRANI BANK LTD. MONAKASHA(070) NAWABGANJ 010700703
635 010 AGRANI BANK LTD. RAJARAMPUR(082) NAWABGANJ 010700824
636 010 AGRANI BANK LTD. ROHANPUR(088) NAWABGANJ 010700882
637 010 AGRANI BANK LTD. SADARGHAT(091) NAWABGANJ 010700916
638 010 AGRANI BANK LTD. SHIBGANJ(094) NAWABGANJ 010700945
639 010 AGRANI BANK LTD. BARAHATTA(007) NETROKONA 010720075
640 010 AGRANI BANK LTD. BIRISHIRI(010) NETROKONA 010720109
641 010 AGRANI BANK LTD. DURGAPUR(019) NETROKONA 010720196
642 010 AGRANI BANK LTD. FAKIRER BAZAR(022) NETROKONA 010720220
643 010 AGRANI BANK LTD. JHAN ZAIL(034) NETROKONA 010720341
644 010 AGRANI BANK LTD. KENDUA(046) NETROKONA 010720462
645 010 AGRANI BANK LTD. MAHANGANJ(067) NETROKONA 010720675
646 010 AGRANI BANK LTD. NETROKONA(073) NETROKONA 010720738
647 010 AGRANI BANK LTD. PURBADHALA(079) NETROKONA 010720796
648 010 AGRANI BANK LTD. RUPGANJ BAZAR(085) NETROKONA 010720859
649 010 AGRANI BANK LTD. TIOSHRI BAZAR(106) NETROKONA 010721061
650 010 AGRANI BANK LTD. KACHUKATA(049) NILPHAMARI 010730494
651 010 AGRANI BANK LTD. NILPHAMARI(073) NILPHAMARI 010730731
652 010 AGRANI BANK LTD. SAYEDPUR(079) NILPHAMARI 010730799
653 010 AGRANI BANK LTD. SAYEDPUR CANTONMENT(082) NILPHAMARI 010730823
654 010 AGRANI BANK LTD. BADALKOT(013) NOAKHALI 010750137
655 010 AGRANI BANK LTD. BADAMTALI(016) NOAKHALI 010750166
656 010 AGRANI BANK LTD. BASHURHAT(025) NOAKHALI 010750258
657 010 AGRANI BANK LTD. BAZRA BAZAR(031) NOAKHALI 010750311
658 010 AGRANI BANK LTD. BROJERGAON(037) NOAKHALI 010750379
659 010 AGRANI BANK LTD. CHANDRAGONJ(040) NOAKHALI 010750403
660 010 AGRANI BANK LTD. CHATKHIL(058) NOAKHALI 010750582
661 010 AGRANI BANK LTD. CHOUMOHANI(067) NOAKHALI 010750674
662 010 AGRANI BANK LTD. DASHGHORIA(076) NOAKHALI 010750766
663 010 AGRANI BANK LTD. DATTERHAT(079) NOAKHALI 010750795
664 010 AGRANI BANK LTD. DELTAGATE(085) NOAKHALI 010750858
665 010 AGRANI BANK LTD. GOPALPUR(100) NOAKHALI 010751002
666 010 AGRANI BANK LTD. HATIYA(103) NOAKHALI 010751031
667 010 AGRANI BANK LTD. JOYAG(118) NOAKHALI 010751181
668 010 AGRANI BANK LTD. KASHIPUR BAZAR(139) NOAKHALI 010751394
669 010 AGRANI BANK LTD. KHILPARA BAZAR(148) NOAKHALI 010751486
670 010 AGRANI BANK LTD. MAIJDEE COURT(157) NOAKHALI 010751578
671 010 AGRANI BANK LTD. MIRGANJ BAZAR(163) NOAKHALI 010751631
672 010 AGRANI BANK LTD. NADANA BAZAR(166) NOAKHALI 010751660
673 010 AGRANI BANK LTD. SHAHEBER HAT(217) NOAKHALI 010752177
674 010 AGRANI BANK LTD. SOAMPARA(220) NOAKHALI 010752201
675 010 AGRANI BANK LTD. SONAIMURI(223) NOAKHALI 010752230
676 010 AGRANI BANK LTD. ZILLA BOARD(244) NOAKHALI 010752443
677 010 AGRANI BANK LTD. A. HAMID ROAD(004) PABNA 010760048
678 010 AGRANI BANK LTD. ATAIKULA(022) PABNA 010760222
679 010 AGRANI BANK LTD. ATGHORIA(025) PABNA 010760251
680 010 AGRANI BANK LTD. BANAGRAM(040) PABNA 010760406
681 010 AGRANI BANK LTD. BORAL BRIDGE(061) PABNA 010760619
682 010 AGRANI BANK LTD. COLLEGE GATE(070) PABNA 010760701
683 010 AGRANI BANK LTD. COURT ROAD(073) PABNA 010760730
684 010 AGRANI BANK LTD. DUBLIA BAZAR(094) PABNA 010760943
685 010 AGRANI BANK LTD. H.M.M. ROAD(112) PABNA 010761126
686 010 AGRANI BANK LTD. ISHWARDI(121) PABNA 010761218
687 010 AGRANI BANK LTD. MIRZAPUR HAT(154) PABNA 010761542
688 010 AGRANI BANK LTD. MULADULI(157) PABNA 010761571
689 010 AGRANI BANK LTD. NALKHOLA BAZAR(166) PABNA 010761663
690 010 AGRANI BANK LTD. NARIKELPARA(169) PABNA 010761692
691 010 AGRANI BANK LTD. NAZIRGANJ(172) PABNA 010761726
692 010 AGRANI BANK LTD. PAKSEY(190) PABNA 010761900
693 010 AGRANI BANK LTD. PUSHPAPARAHAT(193) PABNA 010761939
694 010 AGRANI BANK LTD. RAIL BAZAR(196) PABNA 010761968
695 010 AGRANI BANK LTD. RAKSHERHAT(199) PABNA 010761997
696 010 AGRANI BANK LTD. RUPPUR(202) PABNA 010762020
697 010 AGRANI BANK LTD. SHIBRAMPUR(217) PABNA 010762170
698 010 AGRANI BANK LTD. SHYAMGANJ HAT(220) PABNA 010762204
699 010 AGRANI BANK LTD. SUJANAGAR(226) PABNA 010762262
700 010 AGRANI BANK LTD. CHAKLAHAT(016) PANCHAGARH 010770162
701 010 AGRANI BANK LTD. JAGADAL HAT(034) PANCHAGARH 010770346
702 010 AGRANI BANK LTD. MIRZAPUR(052) PANCHAGARH 010770520
703 010 AGRANI BANK LTD. PANCHAGARH(055) PANCHAGARH 010770559
704 010 AGRANI BANK LTD. SHALBAHAN HAT(061) PANCHAGARH 010770612
705 010 AGRANI BANK LTD. TUNIR HAT(076) PANCHAGARH 010770762
706 010 AGRANI BANK LTD. BAUPHAL(019) PATUAKHALI 010780194
707 010 AGRANI BANK LTD. DASHMINA(034) PATUAKHALI 010780349
708 010 AGRANI BANK LTD. GALACHIPA(049) PATUAKHALI 010780499
709 010 AGRANI BANK LTD. KANAKDIA(064) PATUAKHALI 010780644
710 010 AGRANI BANK LTD. KHEPUPARA(076) PATUAKHALI 010780765
711 010 AGRANI BANK LTD. KOAKATA(079) PATUAKHALI 010780794
712 010 AGRANI BANK LTD. MIRZAGANJ(082) PATUAKHALI 010780828
713 010 AGRANI BANK LTD. NUTUN BAZAR(100) PATUAKHALI 010781001
714 010 AGRANI BANK LTD. PANGASIA(103) PATUAKHALI 010781030
715 010 AGRANI BANK LTD. PATUAKHALI(NUTAN BAZAR)(118) PATUAKHALI 010781180
716 010 AGRANI BANK LTD. PURAN BAZAR(124) PATUAKHALI 010781243
717 010 AGRANI BANK LTD. TEGACHIA(130) PATUAKHALI 010781306
718 010 AGRANI BANK LTD. BHANDARIA(013) PIROJPUR 010790139
719 010 AGRANI BANK LTD. KAWKHALI(043) PIROJPUR 010790434
720 010 AGRANI BANK LTD. MATHBARIA(052) PIROJPUR 010790526
721 010 AGRANI BANK LTD. MIRUKHALI(064) PIROJPUR 010790647
722 010 AGRANI BANK LTD. PARERHAT(073) PIROJPUR 010790739
723 010 AGRANI BANK LTD. PIROJPUR MAIN ROAD(079) PIROJPUR 010790797
724 010 AGRANI BANK LTD. PIROJPUR(ZILLA PARISHAD)(082) PIROJPUR 010790821
725 010 AGRANI BANK LTD. BAJU BAGHA(013) RAJSHAHI 010810130
726 010 AGRANI BANK LTD. BALIAGHATA(016) RAJSHAHI 010810169
727 010 AGRANI BANK LTD. BANESHAR BAZAR(019) RAJSHAHI 010810198
728 010 AGRANI BANK LTD. CHARGHAT(040) RAJSHAHI 010810406
729 010 AGRANI BANK LTD. HARIAN(076) RAJSHAHI 010810769
730 010 AGRANI BANK LTD. LAXMIPUR(118) RAJSHAHI 010811184
731 010 AGRANI BANK LTD. MADRASHA MARKET(124) RAJSHAHI 010811247
732 010 AGRANI BANK LTD. MALOPARA(127) RAJSHAHI 010811276
733 010 AGRANI BANK LTD. NAWHATA(160) RAJSHAHI 010811605
734 010 AGRANI BANK LTD. NEW MARKET(163) RAJSHAHI 010811634
735 010 AGRANI BANK LTD. PUTHIA(184) RAJSHAHI 010811847
736 010 AGRANI BANK LTD. RAIGHATI(187) RAJSHAHI 010811876
737 010 AGRANI BANK LTD. RAJSHAHI CANTONMENT(199) RAJSHAHI 010811997
738 010 AGRANI BANK LTD. RAJSHAHI UNIVERSITY(211) RAJSHAHI 010812112
739 010 AGRANI BANK LTD. SHAHEB BAZAR(226) RAJSHAHI 010812262
740 010 AGRANI BANK LTD. TALAIMARI(235) RAJSHAHI 010812354
741 010 AGRANI BANK LTD. WAPDA IRRIGATION(241) RAJSHAHI 010812417
742 010 AGRANI BANK LTD. AHLADIPUR(004) RAJBARI 010820041
743 010 AGRANI BANK LTD. KALUKHALI(037) RAJBARI 010820375
744 010 AGRANI BANK LTD. NALIA-JAMALPUR(055) RAJBARI 010820559
745 010 AGRANI BANK LTD. PANGSHA(067) RAJBARI 010820670
746 010 AGRANI BANK LTD. RAJBARI(073) RAJBARI 010820733
747 010 AGRANI BANK LTD. BANARUPA(007) RANGAMATI 010840076
748 010 AGRANI BANK LTD. CHANDRAGHONA(019) RANGAMATI 010840197
749 010 AGRANI BANK LTD. KAPTAI(028) RANGAMATI 010840289
750 010 AGRANI BANK LTD. RANGAMATI(052) RANGAMATI 010840526
751 010 AGRANI BANK LTD. ALAM NAGAR(004) RANGPUR 010850040
752 010 AGRANI BANK LTD. BADARGANJ(010) RANGPUR 010850103
753 010 AGRANI BANK LTD. CADET COLLEGE(031) RANGPUR 010850316
754 010 AGRANI BANK LTD. CENTRAL ROAD(034) RANGPUR 010850345
755 010 AGRANI BANK LTD. MEDICAL COLLEGE(103) RANGPUR 010851036
756 010 AGRANI BANK LTD. NEKMAMUDHAT(118) RANGPUR 010851186
757 010 AGRANI BANK LTD. PAWTANAHAT(130) RANGPUR 010851302
758 010 AGRANI BANK LTD. PIRGACHA(133) RANGPUR 010851331
759 010 AGRANI BANK LTD. RANGPUR(145) RANGPUR 010851452
760 010 AGRANI BANK LTD. SHAKER HAT(166) RANGPUR 010851665
761 010 AGRANI BANK LTD. SHANERHAT(172) RANGPUR 010851728
762 010 AGRANI BANK LTD. TARAGANJ(193) RANGPUR 010851931
763 010 AGRANI BANK LTD. DAMUDYA(019) SHARIATPUR 010860193
764 010 AGRANI BANK LTD. MULFATGANJ(052) SHARIATPUR 010860522
765 010 AGRANI BANK LTD. NARIA(058) SHARIATPUR 010860580
766 010 AGRANI BANK LTD. SHARIATPUR(067) SHARIATPUR 010860672
767 010 AGRANI BANK LTD. ZAJIRA(070) SHARIATPUR 010860706
768 010 AGRANI BANK LTD. BANGSHIPUR  BUS STAND(016) SATKHIRA 010870167
769 010 AGRANI BANK LTD. BHETKHALI(025) SATKHIRA 010870259
770 010 AGRANI BANK LTD. DEBHATA(037) SATKHIRA 010870370
771 010 AGRANI BANK LTD. GAZIRHAT(043) SATKHIRA 010870433
772 010 AGRANI BANK LTD. MOUTALA(085) SATKHIRA 010870859
773 010 AGRANI BANK LTD. MUNSHIGANJ BAZAR(088) SATKHIRA 010870888
774 010 AGRANI BANK LTD. PATKELGHATA(103) SATKHIRA 010871032
775 010 AGRANI BANK LTD. SATKHIRA(109) SATKHIRA 010871090
776 010 AGRANI BANK LTD. SHYAM NAGAR(121) SATKHIRA 010871216
777 010 AGRANI BANK LTD. NOOR NAGAR(203) SATKHIRA 010872031
778 010 AGRANI BANK LTD. BAHULI(016) SIRAJGANJ 010880160
779 010 AGRANI BANK LTD. BELTAIL(025) SIRAJGANJ 010880252
780 010 AGRANI BANK LTD. BRAHMAGACHA(037) SIRAJGANJ 010880373
781 010 AGRANI BANK LTD. CHANDAIKONA(043) SIRAJGANJ 010880436
782 010 AGRANI BANK LTD. DHUBIL(073) SIRAJGANJ 010880731
783 010 AGRANI BANK LTD. ENAYETPUR(082) SIRAJGANJ 010880823
784 010 AGRANI BANK LTD. GHURKA(088) SIRAJGANJ 010880881
785 010 AGRANI BANK LTD. KALI BARI ROAD(100) SIRAJGANJ 010881006
786 010 AGRANI BANK LTD. KHIDRAMATIA(121) SIRAJGANJ 010881219
787 010 AGRANI BANK LTD. NEW MARKET(145) SIRAJGANJ 010881451
788 010 AGRANI BANK LTD. NIMGACHI(151) SIRAJGANJ 010881514
789 010 AGRANI BANK LTD. PANGASHI HAT(157) SIRAJGANJ 010881572
790 010 AGRANI BANK LTD. PORJONA VATPARA(160) SIRAJGANJ 010881606
791 010 AGRANI BANK LTD. RAIGANJ(169) SIRAJGANJ 010881693
792 010 AGRANI BANK LTD. S.S. ROAD(178) SIRAJGANJ 010881785
793 010 AGRANI BANK LTD. SHAHJADPUR(190) SIRAJGANJ 010881901
794 010 AGRANI BANK LTD. SHOMESHPUR(199) SIRAJGANJ 010881998
795 010 AGRANI BANK LTD. STATION ROAD(205) SIRAJGANJ 010882050
796 010 AGRANI BANK LTD. TALGACHI BAZAR(211) SIRAJGANJ 010882113
797 010 AGRANI BANK LTD. ULLAPARA(223) SIRAJGANJ 010882234
798 010 AGRANI BANK LTD. KAKORKANDI(019) SHERPUR 010890192
799 010 AGRANI BANK LTD. NALITABARI(034) SHERPUR 010890347
800 010 AGRANI BANK LTD. NANDIR BAZAR(040) SHERPUR 010890400
801 010 AGRANI BANK LTD. NANNI BAZAR(043) SHERPUR 010890439
802 010 AGRANI BANK LTD. SHERPUR(055) SHERPUR 010890550
803 010 AGRANI BANK LTD. TINANDIR BAZAR(070) SHERPUR 010890705
804 010 AGRANI BANK LTD. AMBARI BAZAR(004) SUNAMGANJ 010900040
805 010 AGRANI BANK LTD. CHHATAK(022) SUNAMGANJ 010900224
806 010 AGRANI BANK LTD. DERAI(025) SUNAMGANJ 010900253
807 010 AGRANI BANK LTD. DOWARA BAZAR(034) SUNAMGANJ 010900345
808 010 AGRANI BANK LTD. SUNAMGANJ(112) SUNAMGANJ 010901128
809 010 AGRANI BANK LTD. AMBARKHANA(004) SYLHET 010910043
810 010 AGRANI BANK LTD. BAIRAGIR BAZAR(013) SYLHET 010910135
811 010 AGRANI BANK LTD. BALAGANJ(016) SYLHET 010910164
812 010 AGRANI BANK LTD. BANDAR BAZAR(019) SYLHET 010910193
813 010 AGRANI BANK LTD. BEANI BAZAR(031) SYLHET 010910319
814 010 AGRANI BANK LTD. BISHWANATH(043) SYLHET 010910430
815 010 AGRANI BANK LTD. BOALJURI(049) SYLHET 010910498
816 010 AGRANI BANK LTD. CHAGLI BAZAR(061) SYLHET 010910614
817 010 AGRANI BANK LTD. CHAWK BAZAR(073) SYLHET 010910735
818 010 AGRANI BANK LTD. DEWAL GRAM(124) SYLHET 010911242
819 010 AGRANI BANK LTD. DHAKA DAKHIN(130) SYLHET 010911305
820 010 AGRANI BANK LTD. FENCHUGANJ(136) SYLHET 010911363
821 010 AGRANI BANK LTD. GASBARI BAZAR(151) SYLHET 010911518
822 010 AGRANI BANK LTD. GOALA BAZAR(154) SYLHET 010911547
823 010 AGRANI BANK LTD. GODOWN BAZAR(157) SYLHET 010911576
824 010 AGRANI BANK LTD. GOLAPGANJ(160) SYLHET 010911600
825 010 AGRANI BANK LTD. HARIPUR GAS FIELD(172) SYLHET 010911721
826 010 AGRANI BANK LTD. HETIMGANJ(175) SYLHET 010911750
827 010 AGRANI BANK LTD. JALALPUR BAZAR(187) SYLHET 010911871
828 010 AGRANI BANK LTD. KAKORDI BAZAR(193) SYLHET 010911934
829 010 AGRANI BANK LTD. KALIGANJ(199) SYLHET 010911992
830 010 AGRANI BANK LTD. KAZIR BAZAR(214) SYLHET 010912146
831 010 AGRANI BANK LTD. KUCHAI(232) SYLHET 010912320
832 010 AGRANI BANK LTD. LALA BAZAR(247) SYLHET 010912470
833 010 AGRANI BANK LTD. LALDIGHIRPAR(250) SYLHET 010912504
834 010 AGRANI BANK LTD. MATHIURA(EIDGHA)(256) SYLHET 010912562
835 010 AGRANI BANK LTD. RADHANAGAR BAZAR(292) SYLHET 010912920
836 010 AGRANI BANK LTD. RAMDHA BAZAR(298) SYLHET 010912988
837 010 AGRANI BANK LTD. SALUTIKAR BAZAR(313) SYLHET 010913132
838 010 AGRANI BANK LTD. SARAKAR BAZAR(316) SYLHET 010913161
839 010 AGRANI BANK LTD. SHIBGANJ(340) SYLHET 010913408
840 010 AGRANI BANK LTD. STATION ROAD(346) SYLHET 010913466
841 010 AGRANI BANK LTD. SUBID BAZAR(349) SYLHET 010913495
842 010 AGRANI BANK LTD. UMARPUR BAZAR(400) SYLHET 010914007
843 010 AGRANI BANK LTD. ZINDA BAZAR(415) SYLHET 010914157
844 010 AGRANI BANK LTD. AISHARA(004) TANGAIL 010930049
845 010 AGRANI BANK LTD. BASAIL(037) TANGAIL 010930373
846 010 AGRANI BANK LTD. BHUANPUR(046) TANGAIL 010930465
847 010 AGRANI BANK LTD. DHUBURIA(073) TANGAIL 010930731
848 010 AGRANI BANK LTD. GHATAIL(091) TANGAIL 010930915
849 010 AGRANI BANK LTD. GOPALPUR(100) TANGAIL 010931006
850 010 AGRANI BANK LTD. HEMNAGAR(115) TANGAIL 010931156
851 010 AGRANI BANK LTD. JAMURKI(118) TANGAIL 010931185
852 010 AGRANI BANK LTD. KANCHANPUR(133) TANGAIL 010931330
853 010 AGRANI BANK LTD. KARATIA(136) TANGAIL 010931369
854 010 AGRANI BANK LTD. KAWALJANI(139) TANGAIL 010931398
855 010 AGRANI BANK LTD. MADHUPUR(148) TANGAIL 010931480
856 010 AGRANI BANK LTD. MIRZAPUR(151) TANGAIL 010931514
857 010 AGRANI BANK LTD. MIRZAPUR CADET COLLEGE(154) TANGAIL 010931543
858 010 AGRANI BANK LTD. MOHERA(163) TANGAIL 010931635
859 010 AGRANI BANK LTD. MYMENSINGH ROAD(166) TANGAIL 010931664
860 010 AGRANI BANK LTD. NAGARPUR(169) TANGAIL 010931693
861 010 AGRANI BANK LTD. NALUA BAZAR(172) TANGAIL 010931727
862 010 AGRANI BANK LTD. SALIMABAD(214) TANGAIL 010932142
863 010 AGRANI BANK LTD. SHAKHIPUR(220) TANGAIL 010932205
864 010 AGRANI BANK LTD. SURUZ BAZAR(226) TANGAIL 010932263
865 010 AGRANI BANK LTD. TANGAIL(229) TANGAIL 010932292
866 010 AGRANI BANK LTD. WARSHI(241) TANGAIL 010932418
867 010 AGRANI BANK LTD. BEGUNBARI(013) THAKURGAON 010940134
868 010 AGRANI BANK LTD. HARIPUR(046) THAKURGAON 010940468
869 010 AGRANI BANK LTD. MUNSHIR HAT(067) THAKURGAON 010940671
870 010 AGRANI BANK LTD. THAKURGAON(097) THAKURGAON 010940976
871 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MONGLA(094) BAGERHAT 015010948
872 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BARISAL(028) BARISHAL 015060280
873 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BHOLA(010) BHOLA 015090100
874 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BOGRA(037) BOGRA 015100379
875 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. AKHAURA SME(005) BRAHMANBARIA 015120054
876 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BRAHMANBARIA(043) BRAHMANBARIA 015120438
877 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. TANTAR BAZAR(187) BRAHMANBARIA 015121879
878 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. AGRABAD(013) CHITTAGONG 015150132
879 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. HATHAZARI(322) CHITTAGONG 015153221
880 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. JUBILEE ROAD(364) CHITTAGONG 015153647
881 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. KHATUNGANJ(427) CHITTAGONG 015154275
882 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. O.R. NIZAM ROAD(580) CHITTAGONG 015155803
883 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. PATHERHAT(613) CHITTAGONG 015156136
884 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. COMILLA(115) COMILLA 015191159
885 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. COMPANIGANJ(142) COMILLA 015191425
886 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. GALLAI(202) COMILLA 015192024
887 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. COX’S BAZAR(025) COXS BAZAR 015220259
888 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. ABDULLAHPUR SME(005) DHAKA-NORTH 015260051
889 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BANANI(043) DHAKA-NORTH 015260435
890 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. KHILKHET(074) DHAKA-NORTH 015260743
891 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. DHANMONDI(118) DHAKA-NORTH 015261184
892 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 015261726
893 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. HAZARIBAGH(196) DHAKA-NORTH 015261968
894 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. HEMAYET PUR(205) DHAKA-NORTH 015262059
895 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MANDA(287) DHAKA-NORTH 015262875
896 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 015262983
897 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MIRPUR SECTION-10(313) DHAKA-NORTH 015263137
898 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MOHAMMADPUR KRISHI MARKET(337) DHAKA-NORTH 015263379
899 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. NEW ELEPHANT ROAD(349) DHAKA-NORTH 015263490
900 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. PRAGATI SARANI(370) DHAKA-NORTH 015263708
901 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. UTTARA MODEL TOWN(469) DHAKA-NORTH 015264699
902 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 015270009
903 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. CORPORATE(139) DHAKA-SOUTH 015271390
904 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. DILKUSHA(190) DHAKA-SOUTH 015271903
905 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. HEAD OFFICE(268) DHAKA-SOUTH 015272681
906 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. ISLAMPUR(298) DHAKA-SOUTH 015272986
907 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. JATRABARI(322) DHAKA-SOUTH 015273222
908 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. SOUTH JATRABARI(324) DHAKA-SOUTH 015273248
909 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. KAMRANGIRCHAR(358) DHAKA-SOUTH 015273585
910 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. KERANIGANJ(364) DHAKA-SOUTH 015273648
911 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. KONAPARA(374) DHAKA-SOUTH 015273743
912 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MOTIJHEEL(424) DHAKA-SOUTH 015274247
913 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MOUCHAK MARKET(439) DHAKA-SOUTH 015274397
914 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MOULVI BAZAR(442) DHAKA-SOUTH 015274421
915 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. NANDIPARA(460) DHAKA-SOUTH 015274605
916 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. NAWABPUR(472) DHAKA-SOUTH 015274726
917 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. NORTH SOUTH ROAD(511) DHAKA-SOUTH 015275112
918 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. VIP ROAD(685) DHAKA-SOUTH 015276858
919 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. DINAJPUR(067) DINAJPUR 015280673
920 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. FENI(052) FENI 015300524
921 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. GAZIPUR(052) GAZIPUR 015330523
922 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. JOYDEBPUR(073) GAZIPUR 015330736
923 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. KAPASIA(088) GAZIPUR 015330886
924 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MADHABPUR SME(089) HABIGANJ 015360898
925 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BENAPOLE(028) JESSORE 015410285
926 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. JESSORE(094) JESSORE 015410948
927 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. JHALOKATI(031) JHALOKATHI 015420312
928 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. CHUK NAGAR(055) KHULNA 015470559
929 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. KHULNA(154) KHULNA 015471545
930 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. VAIRAB(124) KISHOREGANJ 015481243
931 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. CENTRAL ROAD(028) MOULVI BAZAR 015580281
932 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. RUPASHPUR(142) MOULVI BAZAR 015581422
933 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MYMENSINGH(175) MYMENSINGH 015611750
934 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MOHADEBPUR(109) NAOGAON 015641096
935 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BANDAR SME(017) NARAYANGANJ 015670175
936 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. NARAYANGANJ (118) NARAYANGANJ 015671187
937 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. PAGLA(130) NARAYANGANJ 015671303
938 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MADHABDI(067) NARSHINGDI 015680673
939 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. PANCHDONA SME(086) NARSHINGDI 015680860
940 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. SAYEDPUR(079) NILPHAMARI 015730794
941 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BASHURHAT SME(026) NOAKHALI 015750266
942 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. CHOUMOHANI(067) NOAKHALI 015750679
943 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. MATHBARIA(052) PIROJPUR 015790521
944 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. RAJSHAHI(193) RAJSHAHI 015811934
945 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BADARGANJ SME(017) RANGPUR 015850179
946 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. SATKHIRA(109) SATKHIRA 015871095
947 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. AMBARKHANA(004) SYLHET 015910048
948 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. BEANI BAZAR(031) SYLHET 015910314
949 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. LALDIGHIRPAR(250) SYLHET 015912509
950 015 AL-ARAFAH ISLAMI BANK LTD. ZINDA BAZAR(415) SYLHET 015914152
951 020 AB BANK LTD. BARISAL(028) BARISHAL 020060288
952 020 AB BANK LTD. BOGRA(037) BOGRA 020100377
953 020 AB BANK LTD. BRAHMANBARIA(043) BRAHMANBARIA 020120436
954 020 AB BANK LTD. CHANDPUR(031) CHANDPUR 020130318
955 020 AB BANK LTD. AGRABAD(013) CHITTAGONG 020150130
956 020 AB BANK LTD. ANDERKILLA(049) CHITTAGONG 020150493
957 020 AB BANK LTD. BAHADDAR HAT(079) CHITTAGONG 020150798
958 020 AB BANK LTD. BOALKHALI(130) CHITTAGONG 020151300
959 020 AB BANK LTD. C.D.A. AVENUE(148) CHITTAGONG 020151489
960 020 AB BANK LTD. C.E.P.Z.(157) CHITTAGONG 020151571
961 020 AB BANK LTD. CHAWK BAZAR(193) CHITTAGONG 020151939
962 020 AB BANK LTD. HATHAZARI(322) CHITTAGONG 020153229
963 020 AB BANK LTD. JUBILEE ROAD(364) CHITTAGONG 020153645
964 020 AB BANK LTD. KHATUNGANJ(427) CHITTAGONG 020154273
965 020 AB BANK LTD. KHULSHI(436) CHITTAGONG 020154365
966 020 AB BANK LTD. LOHA GARA(466) CHITTAGONG 020154660
967 020 AB BANK LTD. NAZU MEA HAT(562) CHITTAGONG 020155627
968 020 AB BANK LTD. PAHARTALI(592) CHITTAGONG 020155922
969 020 AB BANK LTD. PATHERHAT(613) CHITTAGONG 020156134
970 020 AB BANK LTD. PORT CONNECTING ROAD(625) CHITTAGONG 020156255
971 020 AB BANK LTD. SITAKUNDA(739) CHITTAGONG 020157391
972 020 AB BANK LTD. STATION ROAD(751) CHITTAGONG 020157517
973 020 AB BANK LTD. COMILLA(115) COMILLA 020191157
974 020 AB BANK LTD. CHAKARIA(016) COXS BAZAR 020220165
975 020 AB BANK LTD. COX’S BAZAR(025) COXS BAZAR 020220257
976 020 AB BANK LTD. TEKNAF(091) COXS BAZAR 020220910
977 020 AB BANK LTD. DHANMONDI(118) DHAKA-NORTH 020261182
978 020 AB BANK LTD. GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 020261724
979 020 AB BANK LTD. KARWAN BAZAR(253) DHAKA-NORTH 020262536
980 020 AB BANK LTD. MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 020262981
981 020 AB BANK LTD. MOHAKHALI(319) DHAKA-NORTH 020263193
982 020 AB BANK LTD. NEW ELEPHANT ROAD(349) DHAKA-NORTH 020263498
983 020 AB BANK LTD. PRAGATI SARANI(370) DHAKA-NORTH 020263706
984 020 AB BANK LTD. ROKEYA SHARANI(400) DHAKA-NORTH 020264000
985 020 AB BANK LTD. SAVAR(409) DHAKA-NORTH 020264097
986 020 AB BANK LTD. SHYAMALI(430) DHAKA-NORTH 020264305
987 020 AB BANK LTD. UTTARA(463) DHAKA-NORTH 020264639
988 020 AB BANK LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 020270007
989 020 AB BANK LTD. BANDURA(064) DHAKA-SOUTH 020270649
990 020 AB BANK LTD. IMAMGANJ(280) DHAKA-SOUTH 020272805
991 020 AB BANK LTD. ISLAMI BANKING(KAKRAIL)(292) DHAKA-SOUTH 020272926
992 020 AB BANK LTD. ISLAMPUR(298) DHAKA-SOUTH 020272984
993 020 AB BANK LTD. JOYPARA(328) DHAKA-SOUTH 020273288
994 020 AB BANK LTD. KAKRAIL(337) DHAKA-SOUTH 020273370
995 020 AB BANK LTD. MALIBAGH(394) DHAKA-SOUTH 020273941
996 020 AB BANK LTD. MOTIJHEEL(424) DHAKA-SOUTH 020274245
997 020 AB BANK LTD. NAWABPUR(472) DHAKA-SOUTH 020274724
998 020 AB BANK LTD. NORTH SOUTH ROAD(511) DHAKA-SOUTH 020275110
999 020 AB BANK LTD. PRINCIPAL(535) DHAKA-SOUTH 020275352
1000 020 AB BANK LTD. ZINZIRA(709) DHAKA-SOUTH 020277097
1001 020 AB BANK LTD. DINAJPUR(067) DINAJPUR 020280671
1002 020 AB BANK LTD. FENI(052) FENI 020300522
1003 020 AB BANK LTD. BOARD BAZAR(022) GAZIPUR 020330226
1004 020 AB BANK LTD. CHANDRA(040) GAZIPUR 020330400
1005 020 AB BANK LTD. MADHABPUR(088) HABIGANJ 020360883
1006 020 AB BANK LTD. BENAPOLE(028) JESSORE 020410283
1007 020 AB BANK LTD. JESSORE(094) JESSORE 020410946
1008 020 AB BANK LTD. JHIKARGACHA(109) JESSORE 020411095
1009 020 AB BANK LTD. KHULNA(154) KHULNA 020471543
1010 020 AB BANK LTD. BHAIRAB BAZAR(022) KISHOREGANJ 020480226
1011 020 AB BANK LTD. KUSHTIA(094) KUSHTIA 020500948
1012 020 AB BANK LTD. MOULAVI BAZAR(118) MOULVI BAZAR 020581183
1013 020 AB BANK LTD. SREE MANGAL(172) MOULVI BAZAR 020581725
1014 020 AB BANK LTD. MYMENSINGH BUSINESS CENTER(178) MYMENSINGH 020611787
1015 020 AB BANK LTD. NAOGAON(118) NAOGAON 020641186
1016 020 AB BANK LTD. NARAYANGANJ(118) NARAYANGANJ 020671185
1017 020 AB BANK LTD. PAGLA(130) NARAYANGANJ 020671301
1018 020 AB BANK LTD. MADHABDI(067) NARSHINGDI 020680671
1019 020 AB BANK LTD. CHAPAI NAWABGANJ(025) NAWABGANJ 020700256
1020 020 AB BANK LTD. SAYEDPUR(079) NILPHAMARI 020730792
1021 020 AB BANK LTD. CHOUMOHANI(067) NOAKHALI 020750677
1022 020 AB BANK LTD. RAJSHAHI(193) RAJSHAHI 020811932
1023 020 AB BANK LTD. RANGPUR(145) RANGPUR 020851455
1024 020 AB BANK LTD. SATKHIRA(109) SATKHIRA 020871093
1025 020 AB BANK LTD. SERAJGANJ(187) SIRAJGANJ 020881870
1026 020 AB BANK LTD. CHHATAK(022) SUNAMGANJ 020900227
1027 020 AB BANK LTD. BOROIKANDI(052) SYLHET 020910525
1028 020 AB BANK LTD. DARGAH GATE(109) SYLHET 020911090
1029 020 AB BANK LTD. GARDEN TOWER (148) SYLHET 020911487
1030 020 AB BANK LTD. MODHUBAN SUPER MARKET(265) SYLHET 020912657
1031 020 AB BANK LTD. TAJPUR(382) SYLHET 020913827
1032 020 AB BANK LTD. TANGAIL(229) TANGAIL 020932295
1033 025 BANGLADESH BANK BARISAL CLEARING HOUSE(000) BARISHAL 025060009
1034 025 BANGLADESH BANK BARISAL DAB(111) BARISHAL 025061116
1035 025 BANGLADESH BANK BARISAL PAD(222) BARISHAL 025062223
1036 025 BANGLADESH BANK BARISAL BUREAU(888) BARISHAL 025068885
1037 025 BANGLADESH BANK BOGRA CLEARING HOUSE(000) BOGRA 025100006
1038 025 BANGLADESH BANK BOGRA DAB(111) BOGRA 025101113
1039 025 BANGLADESH BANK BOGRA PAD(222) BOGRA 025102220
1040 025 BANGLADESH BANK BOGRA BUREAU(888) BOGRA 025108882
1041 025 BANGLADESH BANK CHITTAGONG CLEARING HOUSE(000) CHITTAGONG 025150001
1042 025 BANGLADESH BANK CHITTAGONG DAB(111) CHITTAGONG 025151118
1043 025 BANGLADESH BANK CHITTAGONG PAD(222) CHITTAGONG 025152225
1044 025 BANGLADESH BANK CHITTAGONG BUREAU(888) CHITTAGONG 025158887
1045 025 BANGLADESH BANK DHAKA CLEARING HOUSE(000) DHAKA-SOUTH 025270002
1046 025 BANGLADESH BANK TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 025270002
1047 025 BANGLADESH BANK MOTIJHEEL DAB(111) DHAKA-SOUTH 025271119
1048 025 BANGLADESH BANK MOTIJHEEL PAD(222) DHAKA-SOUTH 025272226
1049 025 BANGLADESH BANK HEAD OFFICE(268) DHAKA-SOUTH 025272684
1050 025 BANGLADESH BANK SADARGHAT(592) DHAKA-SOUTH 025275928
1051 025 BANGLADESH BANK MOTIJHEEL BUREAU(888) DHAKA-SOUTH 025278888
1052 025 BANGLADESH BANK MIRPUR BUREAU(999) DHAKA-SOUTH 025279995
1053 025 BANGLADESH BANK KHULNA CLEARING HOUSE(000) KHULNA 025470002
1054 025 BANGLADESH BANK KHULNA DAB(111) KHULNA 025471119
1055 025 BANGLADESH BANK KHULNA PAD(222) KHULNA 025472226
1056 025 BANGLADESH BANK KHULNA BUREAU(888) KHULNA 025478888
1057 025 BANGLADESH BANK RAJSHAHI CLEARING HOUSE(000) RAJSHAHI 025810004
1058 025 BANGLADESH BANK RAJSHAHI DAB(111) RAJSHAHI 025811111
1059 025 BANGLADESH BANK RAJSHAHI PAD(222) RAJSHAHI 025812228
1060 025 BANGLADESH BANK RAJSHAHI BUREAU(999) RAJSHAHI 025819997
1061 025 BANGLADESH BANK RANGPUR CLEARING HOUSE(000) RANGPUR 025850006
1062 025 BANGLADESH BANK RANGPUR DAB(111) RANGPUR 025851113
1063 025 BANGLADESH BANK RANGPUR PAD(222) RANGPUR 025852220
1064 025 BANGLADESH BANK RANGPUR BUREAU(888) RANGPUR 025858882
1065 025 BANGLADESH BANK SYLHET CLEARING HOUSE(000) SYLHET 025910009
1066 025 BANGLADESH BANK SYLHET DAB(111) SYLHET 025911116
1067 025 BANGLADESH BANK SYLHET PAD(222) SYLHET 025912223
1068 025 BANGLADESH BANK SYLHET BUREAU(888) SYLHET 025918885
1069 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. BOGRA(037) BOGRA 030100370
1070 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. AGRABAD(013) CHITTAGONG 030150133
1071 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. CHAKTAI(175) CHITTAGONG 030151758
1072 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. DEWAN HAT(244) CHITTAGONG 030152449
1073 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. JUBILEE ROAD(364) CHITTAGONG 030153648
1074 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. KHATUNGANJ(427) CHITTAGONG 030154276
1075 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. COMILLA ZILA SCHOOL ROAD(136) COMILLA 030191363
1076 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. DHAMRAI(115) DHAKA-NORTH 030261156
1077 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. GREEN ROAD(169) DHAKA-NORTH 030261693
1078 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 030261727
1079 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. JHIGATOLA(232) DHAKA-NORTH 030262326
1080 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 030262984
1081 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 030270000
1082 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. BANGLA BAZAR(082) DHAKA-SOUTH 030270826
1083 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. BANGSHAL(088) DHAKA-SOUTH 030270884
1084 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. DHOLAIKHAL(184) DHAKA-SOUTH 030271841
1085 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. DILKUSHA(190) DHAKA-SOUTH 030271904
1086 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. KHILGAON(367) DHAKA-SOUTH 030273678
1087 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. MOUCHAK(436) DHAKA-SOUTH 030274369
1088 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. MOULVI BAZAR(442) DHAKA-SOUTH 030274422
1089 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. PRINCIPAL(535) DHAKA-SOUTH 030275355
1090 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. DAULATPUR(070) KHULNA 030470705
1091 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. KHULNA(154) KHULNA 030471546
1092 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. NAOGAON(118) NAOGAON 030641189
1093 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. TAN BAZAR(175) NARAYANGANJ 030671759
1094 030 BANGLADESH COMMERCE BANK LTD. SYLHET(355) SYLHET 030913554
1095 035 BANGLADESH KRISHI BANK BADHAL BAZAR(004) BAGERHAT 035010049
1096 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAGERHAT(007) BAGERHAT 035010078
1097 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAKSREE BAZAR(019) BAGERHAT 035010199
1098 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHITALMARI BAZAR(025) BAGERHAT 035010252
1099 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAIBANCHAHATI(031) BAGERHAT 035010315
1100 035 BANGLADESH KRISHI BANK DARGAH(034) BAGERHAT 035010344
1101 035 BANGLADESH KRISHI BANK FAKIRHAT(046) BAGERHAT 035010465
1102 035 BANGLADESH KRISHI BANK FALTITA BAZAR(049) BAGERHAT 035010494
1103 035 BANGLADESH KRISHI BANK FULHATA BAZAR(052) BAGERHAT 035010528
1104 035 BANGLADESH KRISHI BANK GAZALIA BAZAR(055) BAGERHAT 035010557
1105 035 BANGLADESH KRISHI BANK KACHUA(073) BAGERHAT 035010731
1106 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALATALA BAZAR(079) BAGERHAT 035010799
1107 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOLLAHAT(091) BAGERHAT 035010915
1108 035 BANGLADESH KRISHI BANK MONGLA PORT(097) BAGERHAT 035010973
1109 035 BANGLADESH KRISHI BANK MORELGANJ(103) BAGERHAT 035011035
1110 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAMPAL(121) BAGERHAT 035011219
1111 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAYENDA BAZAR(124) BAGERHAT 035011248
1112 035 BANGLADESH KRISHI BANK SONNASHI BAZAR(133) BAGERHAT 035011330
1113 035 BANGLADESH KRISHI BANK TALESHWAR(136) BAGERHAT 035011369
1114 035 BANGLADESH KRISHI BANK TOWN NAWAPARA(139) BAGERHAT 035011398
1115 035 BANGLADESH KRISHI BANK ALIKADAM(004) BANDARBAN 035030045
1116 035 BANGLADESH KRISHI BANK AZIZ NAGAR(007) BANDARBAN 035030074
1117 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAISHARI(010) BANDARBAN 035030108
1118 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANDARBAN(013) BANDARBAN 035030137
1119 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAMA(019) BANDARBAN 035030195
1120 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAIKHANGCHARI(022) BANDARBAN 035030229
1121 035 BANGLADESH KRISHI BANK ROWANGCHARI(025) BANDARBAN 035030258
1122 035 BANGLADESH KRISHI BANK RUMA(028) BANDARBAN 035030287
1123 035 BANGLADESH KRISHI BANK THANCHI(031) BANDARBAN 035030311
1124 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMTALI(004) BARGUNA 035040048
1125 035 BANGLADESH KRISHI BANK AYLA BAZAR(007) BARGUNA 035040077
1126 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAMNA(010) BARGUNA 035040101
1127 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARGUNA(013) BARGUNA 035040130
1128 035 BANGLADESH KRISHI BANK BETAGI(022) BARGUNA 035040222
1129 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDKHALI(025) BARGUNA 035040251
1130 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHARDUANI BAZAR(028) BARGUNA 035040280
1131 035 BANGLADESH KRISHI BANK DEWATALA(031) BARGUNA 035040314
1132 035 BANGLADESH KRISHI BANK FULJHURY BAZAR(034) BARGUNA 035040343
1133 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOURICHANNA(040) BARGUNA 035040406
1134 035 BANGLADESH KRISHI BANK HOSNABAD(043) BARGUNA 035040435
1135 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUKUA(055) BARGUNA 035040556
1136 035 BANGLADESH KRISHI BANK LEMUA(058) BARGUNA 035040585
1137 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOKAMIA(061) BARGUNA 035040619
1138 035 BANGLADESH KRISHI BANK PATHARGHATA(067) BARGUNA 035040677
1139 035 BANGLADESH KRISHI BANK TALTALI(070) BARGUNA 035040701
1140 035 BANGLADESH KRISHI BANK AGOILJHARA(007) BARISHAL 035060073
1141 035 BANGLADESH KRISHI BANK BABUGANJ(016) BARISHAL 035060165
1142 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAISHARI(019) BARISHAL 035060194
1143 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAKERGANJ(022) BARISHAL 035060228
1144 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANARI PARA(025) BARISHAL 035060257
1145 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARISAL(028) BARISHAL 035060286
1146 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHASHANCHAR(043) BARISHAL 035060431
1147 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOURNADI(082) BARISHAL 035060828
1148 035 BANGLADESH KRISHI BANK HABIBPUR BAZAR(091) BARISHAL 035060910
1149 035 BANGLADESH KRISHI BANK HIZLA(097) BARISHAL 035060978
1150 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAZIRHAT(112) BARISHAL 035061122
1151 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHASHERHAT(118) BARISHAL 035061180
1152 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAHILARA(127) BARISHAL 035061272
1153 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOHESHPUR BAZAR(139) BARISHAL 035061393
1154 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOULVIR HAT(142) BARISHAL 035061427
1155 035 BANGLADESH KRISHI BANK MULADI(145) BARISHAL 035061456
1156 035 BANGLADESH KRISHI BANK PATAR HAT(163) BARISHAL 035061630
1157 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAIPASHA(175) BARISHAL 035061751
1158 035 BANGLADESH KRISHI BANK RATANPUR(178) BARISHAL 035061780
1159 035 BANGLADESH KRISHI BANK SENERHAT(190) BARISHAL 035061906
1160 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHOLAK(205) BARISHAL 035062055
1161 035 BANGLADESH KRISHI BANK SUKHINILGANJ(211) BARISHAL 035062118
1162 035 BANGLADESH KRISHI BANK TALTALI(214) BARISHAL 035062147
1163 035 BANGLADESH KRISHI BANK ULANIA BAZAR(226) BARISHAL 035062268
1164 035 BANGLADESH KRISHI BANK WAZIRPUR(229) BARISHAL 035062297
1165 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHOLA(010) BHOLA 035090106
1166 035 BANGLADESH KRISHI BANK BORHANGANJ BAZAR(016) BHOLA 035090164
1167 035 BANGLADESH KRISHI BANK BORHANUDDIN(019) BHOLA 035090193
1168 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAR FASHION(022) BHOLA 035090227
1169 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAKHIN AICHABAZAR(031) BHOLA 035090319
1170 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAULATKHAN(037) BHOLA 035090377
1171 035 BANGLADESH KRISHI BANK DULARHAT(040) BHOLA 035090401
1172 035 BANGLADESH KRISHI BANK ILISHAHAT(046) BHOLA 035090469
1173 035 BANGLADESH KRISHI BANK JANATA BAZAR(049) BHOLA 035090498
1174 035 BANGLADESH KRISHI BANK KERAMATGANJ BAZAR(058) BHOLA 035090580
1175 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUNJERHAT(064) BHOLA 035090643
1176 035 BANGLADESH KRISHI BANK LALMOHAN(070) BHOLA 035090706
1177 035 BANGLADESH KRISHI BANK LETRA BAZAR(073) BHOLA 035090735
1178 035 BANGLADESH KRISHI BANK MANGAL SIKDER(079) BHOLA 035090793
1179 035 BANGLADESH KRISHI BANK MANPURA(082) BHOLA 035090827
1180 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAICHAND(097) BHOLA 035090977
1181 035 BANGLADESH KRISHI BANK TAZUMUDDIN(100) BHOLA 035091000
1182 035 BANGLADESH KRISHI BANK AKHAURA(004) BRAHMANBARIA 035120047
1183 035 BANGLADESH KRISHI BANK ASHUGANJ(010) BRAHMANBARIA 035120100
1184 035 BANGLADESH KRISHI BANK ASTAGRAM(013) BRAHMANBARIA 035120139
1185 035 BANGLADESH KRISHI BANK AWLIABAZAR(016) BRAHMANBARIA 035120168
1186 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAISHMOUZA BAZAR(022) BRAHMANBARIA 035120221
1187 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANCHARAMPUR(025) BRAHMANBARIA 035120250
1188 035 BANGLADESH KRISHI BANK BRAHMANBARIA(043) BRAHMANBARIA 035120434
1189 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAIARKURI BAZAR(049) BRAHMANBARIA 035120492
1190 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDURA(055) BRAHMANBARIA 035120555
1191 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHARGACH BAZAR(061) BRAHMANBARIA 035120618
1192 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHATALPAR(064) BRAHMANBARIA 035120647
1193 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOSHAIPUR(085) BRAHMANBARIA 035120850
1194 035 BANGLADESH KRISHI BANK JIBANGANJ BAZAR(094) BRAHMANBARIA 035120942
1195 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAITALA(097) BRAHMANBARIA 035120971
1196 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIKATCHA(100) BRAHMANBARIA 035121004
1197 035 BANGLADESH KRISHI BANK KASBA(103) BRAHMANBARIA 035121033
1198 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUTI BAZAR(109) BRAHMANBARIA 035121091
1199 035 BANGLADESH KRISHI BANK LALPUR BAZAR(115) BRAHMANBARIA 035121154
1200 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAURFATEPUR(118) BRAHMANBARIA 035121183
1201 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAJLISHPUR(121) BRAHMANBARIA 035121217
1202 035 BANGLADESH KRISHI BANK MIRPUR BAZAR(130) BRAHMANBARIA 035121309
1203 035 BANGLADESH KRISHI BANK NABINAGAR(136) BRAHMANBARIA 035121367
1204 035 BANGLADESH KRISHI BANK NASIR NAGAR(139) BRAHMANBARIA 035121396
1205 035 BANGLADESH KRISHI BANK NURPUR BAZAR(148) BRAHMANBARIA 035121488
1206 035 BANGLADESH KRISHI BANK SARAIL(160) BRAHMANBARIA 035121604
1207 035 BANGLADESH KRISHI BANK SATBORGA BAZAR(169) BRAHMANBARIA 035121691
1208 035 BANGLADESH KRISHI BANK AYNATALI BAZAR(010) CHANDPUR 035130103
1209 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAGRA BAZAR(016) CHANDPUR 035130161
1210 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAKILA BAZAR(019) CHANDPUR 035130190
1211 035 BANGLADESH KRISHI BANK BISCIC SHILPANAGAR(028) CHANDPUR 035130282
1212 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDPUR(031) CHANDPUR 035130316
1213 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDRA BAZAR(046) CHANDPUR 035130466
1214 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANGARCHAR(049) CHANDPUR 035130495
1215 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHARBHAIRABI BAZAR(052) CHANDPUR 035130529
1216 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOTOSUNDAR BAZAR(061) CHANDPUR 035130611
1217 035 BANGLADESH KRISHI BANK FARIDGANJ(067) CHANDPUR 035130679
1218 035 BANGLADESH KRISHI BANK GAJRABAZAR(070) CHANDPUR 035130703
1219 035 BANGLADESH KRISHI BANK GULBAHAR(082) CHANDPUR 035130824
1220 035 BANGLADESH KRISHI BANK HAIMCHAR(085) CHANDPUR 035130853
1221 035 BANGLADESH KRISHI BANK HAJIGANJ(088) CHANDPUR 035130882
1222 035 BANGLADESH KRISHI BANK KACHUA(091) CHANDPUR 035130916
1223 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAKAIRTALA BAZAR(094) CHANDPUR 035130945
1224 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIR BAZAR(100) CHANDPUR 035131007
1225 035 BANGLADESH KRISHI BANK MASTER BAZAR(115) CHANDPUR 035131157
1226 035 BANGLADESH KRISHI BANK MATLAB(118) CHANDPUR 035131186
1227 035 BANGLADESH KRISHI BANK MUNSHIRHAT(133) CHANDPUR 035131331
1228 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAWRI BAZAR(151) CHANDPUR 035131515
1229 035 BANGLADESH KRISHI BANK PIROJPUR BAZAR(163) CHANDPUR 035131636
1230 035 BANGLADESH KRISHI BANK PURAN BAZAR(166) CHANDPUR 035131665
1231 035 BANGLADESH KRISHI BANK SACHAR BAZAR(181) CHANDPUR 035131810
1232 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAHEB BAZAR(196) CHANDPUR 035131960
1233 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAHRASTI(199) CHANDPUR 035131999
1234 035 BANGLADESH KRISHI BANK ABURHAT(007) CHITTAGONG 035150075
1235 035 BANGLADESH KRISHI BANK ABUTORAB BAZAR(010) CHITTAGONG 035150109
1236 035 BANGLADESH KRISHI BANK AGRABAD(013) CHITTAGONG 035150138
1237 035 BANGLADESH KRISHI BANK ALAMSHAH PARA MADRASHA(022) CHITTAGONG 035150220
1238 035 BANGLADESH KRISHI BANK ANOWARA(052) CHITTAGONG 035150525
1239 035 BANGLADESH KRISHI BANK AZADI BAZAR(073) CHITTAGONG 035150738
1240 035 BANGLADESH KRISHI BANK BADAMTALI(076) CHITTAGONG 035150767
1241 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAMANSUNDER DAROGA HAT(088) CHITTAGONG 035150888
1242 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANSHKHALI(097) CHITTAGONG 035150970
1243 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARAIYA DHALA(106) CHITTAGONG 035151061
1244 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARAIYER HAT(109) CHITTAGONG 035151090
1245 035 BANGLADESH KRISHI BANK BOALKHALI(130) CHITTAGONG 035151308
1246 035 BANGLADESH KRISHI BANK BOMANGHAT(133) CHITTAGONG 035151337
1247 035 BANGLADESH KRISHI BANK BUDPURA HAT(142) CHITTAGONG 035151429
1248 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHALPATTI(178) CHITTAGONG 035151782
1249 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDANAISH(181) CHITTAGONG 035151816
1250 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHATARI(187) CHITTAGONG 035151874
1251 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHITTAGONG(196) CHITTAGONG 035151966
1252 035 BANGLADESH KRISHI BANK COLLEGE BAZAR(223) CHITTAGONG 035152231
1253 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHOPARHAT(253) CHITTAGONG 035152536
1254 035 BANGLADESH KRISHI BANK DOHAZARI(256) CHITTAGONG 035152565
1255 035 BANGLADESH KRISHI BANK FATIKCHARI(274) CHITTAGONG 035152749
1256 035 BANGLADESH KRISHI BANK FAZILKHAR HAT(277) CHITTAGONG 035152778
1257 035 BANGLADESH KRISHI BANK GASUA(292) CHITTAGONG 035152923
1258 035 BANGLADESH KRISHI BANK HATHAZARI(322) CHITTAGONG 035153227
1259 035 BANGLADESH KRISHI BANK HEAKO(328) CHITTAGONG 035153285
1260 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIPUR(385) CHITTAGONG 035153856
1261 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAMAL BAZAR(397) CHITTAGONG 035153977
1262 035 BANGLADESH KRISHI BANK KATIRHAT(412) CHITTAGONG 035154121
1263 035 BANGLADESH KRISHI BANK KERANIHAT(418) CHITTAGONG 035154189
1264 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHATUNGANJ(427) CHITTAGONG 035154271
1265 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHODARHAT(433) CHITTAGONG 035154334
1266 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUMIRA(445) CHITTAGONG 035154455
1267 035 BANGLADESH KRISHI BANK LOHA GARA(466) CHITTAGONG 035154668
1268 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADAN HAT(472) CHITTAGONG 035154721
1269 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAIZ BHANDER SHARIF(478) CHITTAGONG 035154789
1270 035 BANGLADESH KRISHI BANK MIRSARAI(505) CHITTAGONG 035155054
1271 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAPORA BAZAR(547) CHITTAGONG 035155470
1272 035 BANGLADESH KRISHI BANK NARAYANHAT(550) CHITTAGONG 035155504
1273 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAZIR HAT(559) CHITTAGONG 035155591
1274 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAZU MEA HAT(562) CHITTAGONG 035155625
1275 035 BANGLADESH KRISHI BANK PAHARTALI CHOUMOHONI(595) CHITTAGONG 035155959
1276 035 BANGLADESH KRISHI BANK PANCHURIA DIGHIRPAR(607) CHITTAGONG 035156079
1277 035 BANGLADESH KRISHI BANK PATHERHAT(613) CHITTAGONG 035156132
1278 035 BANGLADESH KRISHI BANK PATIYA(616) CHITTAGONG 035156161
1279 035 BANGLADESH KRISHI BANK POMRA(619) CHITTAGONG 035156190
1280 035 BANGLADESH KRISHI BANK RANGUNIA(640) CHITTAGONG 035156408
1281 035 BANGLADESH KRISHI BANK RANGUNIA COLLEGE(643) CHITTAGONG 035156437
1282 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAOZAN(649) CHITTAGONG 035156495
1283 035 BANGLADESH KRISHI BANK SANDWIP(691) CHITTAGONG 035156916
1284 035 BANGLADESH KRISHI BANK SATKANIA(706) CHITTAGONG 035157065
1285 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHOLA SAHAR(733) CHITTAGONG 035157331
1286 035 BANGLADESH KRISHI BANK SITAKUNDA(739) CHITTAGONG 035157399
1287 035 BANGLADESH KRISHI BANK TEA BOARD(760) CHITTAGONG 035157607
1288 035 BANGLADESH KRISHI BANK WAHEDPUR(772) CHITTAGONG 035157728
1289 035 BANGLADESH KRISHI BANK ALAMDANGA(004) CHUADANGA 035180045
1290 035 BANGLADESH KRISHI BANK BADARGANJ BAZAR(016) CHUADANGA 035180166
1291 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHUADANGA(019) CHUADANGA 035180195
1292 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAMURHUDA(028) CHUADANGA 035180287
1293 035 BANGLADESH KRISHI BANK GHOLDARI BAZAR(037) CHUADANGA 035180379
1294 035 BANGLADESH KRISHI BANK HIZALGARI(052) CHUADANGA 035180524
1295 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAMJAMI BAZAR(055) CHUADANGA 035180553
1296 035 BANGLADESH KRISHI BANK JIBAN NAGAR(058) CHUADANGA 035180582
1297 035 BANGLADESH KRISHI BANK JOGANNATHPUR(061) CHUADANGA 035180616
1298 035 BANGLADESH KRISHI BANK JURANPUR(064) CHUADANGA 035180645
1299 035 BANGLADESH KRISHI BANK UTHALI(088) CHUADANGA 035180887
1300 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMRATALI(013) COMILLA 035190130
1301 035 BANGLADESH KRISHI BANK ASMANIA BAZAR(019) COMILLA 035190198
1302 035 BANGLADESH KRISHI BANK BADARPUR BAZAR(028) COMILLA 035190280
1303 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANGADDA BAZAR(040) COMILLA 035190406
1304 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARASHALGHAR(043) COMILLA 035190435
1305 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARURA(049) COMILLA 035190493
1306 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAUKSHAR BAZAR(058) COMILLA 035190585
1307 035 BANGLADESH KRISHI BANK BIZRA BAZAR(070) COMILLA 035190701
1308 035 BANGLADESH KRISHI BANK BRAHMAN PARA(076) COMILLA 035190769
1309 035 BANGLADESH KRISHI BANK BURICHANG(082) COMILLA 035190822
1310 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDINA(088) COMILLA 035190880
1311 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDLA(094) COMILLA 035190943
1312 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHHALIA KANDI(103) COMILLA 035191034
1313 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOUDDAGRAM(106) COMILLA 035191063
1314 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOWDHURY BAZAR(112) COMILLA 035191126
1315 035 BANGLADESH KRISHI BANK COMILLA(115) COMILLA 035191155
1316 035 BANGLADESH KRISHI BANK DARORA BAZAR(148) COMILLA 035191489
1317 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAUDKANDI(151) COMILLA 035191513
1318 035 BANGLADESH KRISHI BANK DEBIDWAR(160) COMILLA 035191605
1319 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHALUA(166) COMILLA 035191663
1320 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHAMTI MADRASA(169) COMILLA 035191692
1321 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHANUSHARA(172) COMILLA 035191726
1322 035 BANGLADESH KRISHI BANK DOLLAI NABABPUR DAKHIN BAZAR(184) COMILLA 035191847
1323 035 BANGLADESH KRISHI BANK GAIRBHANGA BAZAR(196) COMILLA 035191968
1324 035 BANGLADESH KRISHI BANK GALIARA(199) COMILLA 035191997
1325 035 BANGLADESH KRISHI BANK HOMNA(223) COMILLA 035192233
1326 035 BANGLADESH KRISHI BANK HYDRABAD(229) COMILLA 035192291
1327 035 BANGLADESH KRISHI BANK JURANPUR(241) COMILLA 035192417
1328 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALAKACHUA BAZAR(244) COMILLA 035192446
1329 035 BANGLADESH KRISHI BANK KANKAPAITH BAZAR(256) COMILLA 035192567
1330 035 BANGLADESH KRISHI BANK KASHINAGAR(259) COMILLA 035192596
1331 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAKHANPUR BAZAR(268) COMILLA 035192688
1332 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAKSAM(271) COMILLA 035192712
1333 035 BANGLADESH KRISHI BANK MACHIMPUR(274) COMILLA 035192741
1334 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAWLANA SAHEB BAZAR(289) COMILLA 035192891
1335 035 BANGLADESH KRISHI BANK MEGNA(295) COMILLA 035192954
1336 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOHICHAIL(301) COMILLA 035193016
1337 035 BANGLADESH KRISHI BANK MONOHARGANJ(304) COMILLA 035193045
1338 035 BANGLADESH KRISHI BANK MURAD NAGAR(316) COMILLA 035193166
1339 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAIYER BAZAR(319) COMILLA 035193195
1340 035 BANGLADESH KRISHI BANK NANGALKOT(325) COMILLA 035193258
1341 035 BANGLADESH KRISHI BANK POLICELINE(352) COMILLA 035193524
1342 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHIDLAI(391) COMILLA 035193911
1343 035 BANGLADESH KRISHI BANK SONAIMURI BAZAR(394) COMILLA 035193940
1344 035 BANGLADESH KRISHI BANK UZIRPUR(412) COMILLA 035194123
1345 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANGLA BAZAR(007) COXS BAZAR 035220071
1346 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARA MAHESH KHALI(010) COXS BAZAR 035220105
1347 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHIRINGA(019) COXS BAZAR 035220192
1348 035 BANGLADESH KRISHI BANK COX’S BAZAR(025) COXS BAZAR 035220255
1349 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHURONG BAZAR(034) COXS BAZAR 035220347
1350 035 BANGLADESH KRISHI BANK DULHAZRA(037) COXS BAZAR 035220376
1351 035 BANGLADESH KRISHI BANK EIDGAON(040) COXS BAZAR 035220400
1352 035 BANGLADESH KRISHI BANK GORAKGHATA(043) COXS BAZAR 035220439
1353 035 BANGLADESH KRISHI BANK GORZANIA BAZAR(046) COXS BAZAR 035220468
1354 035 BANGLADESH KRISHI BANK HANILA(049) COXS BAZAR 035220497
1355 035 BANGLADESH KRISHI BANK HARBUNG(052) COXS BAZAR 035220521
1356 035 BANGLADESH KRISHI BANK HOANAK(055) COXS BAZAR 035220550
1357 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALARMARCHARA(061) COXS BAZAR 035220613
1358 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUTUBDIA(067) COXS BAZAR 035220671
1359 035 BANGLADESH KRISHI BANK MATAR BARI(073) COXS BAZAR 035220734
1360 035 BANGLADESH KRISHI BANK PEKUYA(082) COXS BAZAR 035220826
1361 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAMU(085) COXS BAZAR 035220855
1362 035 BANGLADESH KRISHI BANK TEKNAF(091) COXS BAZAR 035220918
1363 035 BANGLADESH KRISHI BANK UKHIYA(094) COXS BAZAR 035220947
1364 035 BANGLADESH KRISHI BANK ASHULIA BAZAR(025) DHAKA-NORTH 035260257
1365 035 BANGLADESH KRISHI BANK BADDA(034) DHAKA-NORTH 035260349
1366 035 BANGLADESH KRISHI BANK BALIA(040) DHAKA-NORTH 035260402
1367 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANANI(043) DHAKA-NORTH 035260431
1368 035 BANGLADESH KRISHI BANK BELESHWAR(070) DHAKA-NORTH 035260707
1369 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHAMRAI(115) DHAKA-NORTH 035261151
1370 035 BANGLADESH KRISHI BANK KARWAN BAZAR(253) DHAKA-NORTH 035262534
1371 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHAMARBARI(259) DHAKA-NORTH 035262592
1372 035 BANGLADESH KRISHI BANK MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 035262989
1373 035 BANGLADESH KRISHI BANK SAVAR(409) DHAKA-NORTH 035264095
1374 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHYAMALI(430) DHAKA-NORTH 035264303
1375 035 BANGLADESH KRISHI BANK TAJMOHAL ROAD(445) DHAKA-NORTH 035264453
1376 035 BANGLADESH KRISHI BANK TRAINING INSTITUTE(454) DHAKA-NORTH 035264545
1377 035 BANGLADESH KRISHI BANK UTTARA(463) DHAKA-NORTH 035264637
1378 035 BANGLADESH KRISHI BANK TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 035270005
1379 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANDURAHAT(067) DHAKA-SOUTH 035270676
1380 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAWK BAZAR(127) DHAKA-SOUTH 035271275
1381 035 BANGLADESH KRISHI BANK DEMRA BAZAR(148) DHAKA-SOUTH 035271488
1382 035 BANGLADESH KRISHI BANK DOHAR(205) DHAKA-SOUTH 035272058
1383 035 BANGLADESH KRISHI BANK FARASHGANJ(223) DHAKA-SOUTH 035272232
1384 035 BANGLADESH KRISHI BANK HAZRATPUR(265) DHAKA-SOUTH 035272658
1385 035 BANGLADESH KRISHI BANK JURAIN(331) DHAKA-SOUTH 035273310
1386 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAMRANGIRCHAR(358) DHAKA-SOUTH 035273581
1387 035 BANGLADESH KRISHI BANK KERANIGANJ(364) DHAKA-SOUTH 035273644
1388 035 BANGLADESH KRISHI BANK KOMARGANJ HAT(370) DHAKA-SOUTH 035273707
1389 035 BANGLADESH KRISHI BANK LOCAL PRINCIPAL OFFICE(391) DHAKA-SOUTH 035273910
1390 035 BANGLADESH KRISHI BANK NANDIPARA(460) DHAKA-SOUTH 035274601
1391 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAWABGANJ(469) DHAKA-SOUTH 035274698
1392 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHANIR AKHRA(631) DHAKA-SOUTH 035276317
1393 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHOLLA BAZAR(649) DHAKA-SOUTH 035276496
1394 035 BANGLADESH KRISHI BANK ALFADANGA(004) FARIDPUR 035290043
1395 035 BANGLADESH KRISHI BANK BABUR CHAR(013) FARIDPUR 035290135
1396 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAGAT(019) FARIDPUR 035290193
1397 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAITUL AMAN(022) FARIDPUR 035290227
1398 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAKHUNDA BAZAR(025) FARIDPUR 035290256
1399 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHANGA(028) FARIDPUR 035290285
1400 035 BANGLADESH KRISHI BANK BILGOBINDAPUR(031) FARIDPUR 035290319
1401 035 BANGLADESH KRISHI BANK BOALMARI(034) FARIDPUR 035290348
1402 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAND HAT(040) FARIDPUR 035290401
1403 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAR BHADRASAN(043) FARIDPUR 035290430
1404 035 BANGLADESH KRISHI BANK FARIDPUR(052) FARIDPUR 035290522
1405 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOPALPUR BAZAR(064) FARIDPUR 035290643
1406 035 BANGLADESH KRISHI BANK HATKRISHNAPUR(073) FARIDPUR 035290735
1407 035 BANGLADESH KRISHI BANK HAZIGANJ BAZAR(076) FARIDPUR 035290764
1408 035 BANGLADESH KRISHI BANK ISHAN GOPALPUR(079) FARIDPUR 035290793
1409 035 BANGLADESH KRISHI BANK KADIRDI BAZAR(082) FARIDPUR 035290827
1410 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAOLIBERA(094) FARIDPUR 035290948
1411 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHALILPUR BAZAR(100) FARIDPUR 035291000
1412 035 BANGLADESH KRISHI BANK LASKARDIA BAZAR(103) FARIDPUR 035291039
1413 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADHUKHALI(109) FARIDPUR 035291097
1414 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAGARKANDA(118) FARIDPUR 035291189
1415 035 BANGLADESH KRISHI BANK PUKHURIA(121) FARIDPUR 035291213
1416 035 BANGLADESH KRISHI BANK SADARPUR(127) FARIDPUR 035291271
1417 035 BANGLADESH KRISHI BANK SALTA BAZAR(130) FARIDPUR 035291305
1418 035 BANGLADESH KRISHI BANK TALMA(142) FARIDPUR 035291426
1419 035 BANGLADESH KRISHI BANK AFTAB BIBIR HAT(004) FENI 035300041
1420 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMZADHAT(010) FENI 035300104
1421 035 BANGLADESH KRISHI BANK BOX MAHMUD BAZAR(028) FENI 035300283
1422 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHHAGALNAIYA(031) FENI 035300317
1423 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAGANBHUIYAN(037) FENI 035300375
1424 035 BANGLADESH KRISHI BANK ETIMKHANA BAZAR(046) FENI 035300467
1425 035 BANGLADESH KRISHI BANK FENI(052) FENI 035300520
1426 035 BANGLADESH KRISHI BANK FULGAZI(061) FENI 035300612
1427 035 BANGLADESH KRISHI BANK G.M.HAT(064) FENI 035300641
1428 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAYLASKER(076) FENI 035300762
1429 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUHUMA SANTIR BAZAR(091) FENI 035300917
1430 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUTHIRHAT(094) FENI 035300946
1431 035 BANGLADESH KRISHI BANK PARSHURAM(127) FENI 035301279
1432 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHUVAPUR(145) FENI 035301453
1433 035 BANGLADESH KRISHI BANK SONAGAZI(148) FENI 035301482
1434 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMRAID BAZAR(004) GAZIPUR 035330040
1435 035 BANGLADESH KRISHI BANK AOWRAKHALI BAZAR(007) GAZIPUR 035330079
1436 035 BANGLADESH KRISHI BANK FHULBARIA BAZAR(046) GAZIPUR 035330466
1437 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAINA BAZAR(067) GAZIPUR 035330679
1438 035 BANGLADESH KRISHI BANK JOYDEBPUR(073) GAZIPUR 035330732
1439 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIAKOIR(079) GAZIPUR 035330790
1440 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIGANJ(082) GAZIPUR 035330824
1441 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAPASIA(088) GAZIPUR 035330882
1442 035 BANGLADESH KRISHI BANK KONABARI(094) GAZIPUR 035330945
1443 035 BANGLADESH KRISHI BANK MIRZAPUR(106) GAZIPUR 035331065
1444 035 BANGLADESH KRISHI BANK RANIGANJ BAZAR(136) GAZIPUR 035331360
1445 035 BANGLADESH KRISHI BANK SAWRAID BAZAR(139) GAZIPUR 035331399
1446 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAFIPUR(142) GAZIPUR 035331423
1447 035 BANGLADESH KRISHI BANK SREEPUR(148) GAZIPUR 035331481
1448 035 BANGLADESH KRISHI BANK TOKNAYAN BAZAR(160) GAZIPUR 035331607
1449 035 BANGLADESH KRISHI BANK TONGI(163) GAZIPUR 035331636
1450 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANAGRAM(004) GOPALGANJ 035350046
1451 035 BANGLADESH KRISHI BANK BASHBARIA(010) GOPALGANJ 035350109
1452 035 BANGLADESH KRISHI BANK BATIKAMARI(013) GOPALGANJ 035350138
1453 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHERARHAT(019) GOPALGANJ 035350196
1454 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOWDHURIR HAT(025) GOPALGANJ 035350259
1455 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOALGRAM MADRASHA(031) GOPALGANJ 035350312
1456 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOHALA(034) GOPALGANJ 035350341
1457 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOPALGANJ(037) GOPALGANJ 035350370
1458 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOPINATHPUR(043) GOPALGANJ 035350433
1459 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAJULIA(055) GOPALGANJ 035350554
1460 035 BANGLADESH KRISHI BANK KASHIANI(058) GOPALGANJ 035350583
1461 035 BANGLADESH KRISHI BANK KATHI BAZAR(061) GOPALGANJ 035350617
1462 035 BANGLADESH KRISHI BANK KORPARA BAZAR(064) GOPALGANJ 035350646
1463 035 BANGLADESH KRISHI BANK KOTALIPARA(067) GOPALGANJ 035350675
1464 035 BANGLADESH KRISHI BANK MUKSUDPUR(073) GOPALGANJ 035350738
1465 035 BANGLADESH KRISHI BANK NILPHA BAZAR(076) GOPALGANJ 035350767
1466 035 BANGLADESH KRISHI BANK RADHAGANJ(088) GOPALGANJ 035350888
1467 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAJPAT(094) GOPALGANJ 035350941
1468 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAMDIA(097) GOPALGANJ 035350970
1469 035 BANGLADESH KRISHI BANK RATAIL BAZAR(103) GOPALGANJ 035351032
1470 035 BANGLADESH KRISHI BANK TUNGI PARA(109) GOPALGANJ 035351090
1471 035 BANGLADESH KRISHI BANK UZANI BAZAR(112) GOPALGANJ 035351124
1472 035 BANGLADESH KRISHI BANK AJMIRIGANJ(004) HABIGANJ 035360049
1473 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMUROAD BAZAR(007) HABIGANJ 035360078
1474 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAHUBAL(013) HABIGANJ 035360131
1475 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANIACHANG(016) HABIGANJ 035360160
1476 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOWMUHANI BAZAR(031) HABIGANJ 035360315
1477 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHUNARUGHAT(034) HABIGANJ 035360344
1478 035 BANGLADESH KRISHI BANK DUBAI HAJIGANJ BAZAR(040) HABIGANJ 035360407
1479 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOPLAR BAZAR(055) HABIGANJ 035360557
1480 035 BANGLADESH KRISHI BANK HABIGANJ(061) HABIGANJ 035360610
1481 035 BANGLADESH KRISHI BANK IMAMBARI(067) HABIGANJ 035360678
1482 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAKAILCHEO(073) HABIGANJ 035360731
1483 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALAUK(076) HABIGANJ 035360760
1484 035 BANGLADESH KRISHI BANK KASHIMNAGAR(079) HABIGANJ 035360799
1485 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAZIGANJ BAZAR(082) HABIGANJ 035360823
1486 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAKHAI(085) HABIGANJ 035360852
1487 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADHABPUR(088) HABIGANJ 035360881
1488 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADNA(091) HABIGANJ 035360915
1489 035 BANGLADESH KRISHI BANK MIRPUR(097) HABIGANJ 035360973
1490 035 BANGLADESH KRISHI BANK MORA KARI(106) HABIGANJ 035361064
1491 035 BANGLADESH KRISHI BANK NABIGANJ(109) HABIGANJ 035361093
1492 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAGURA(112) HABIGANJ 035361127
1493 035 BANGLADESH KRISHI BANK NALMUKH BAZAR(115) HABIGANJ 035361156
1494 035 BANGLADESH KRISHI BANK NANDANPUR BAZAR(118) HABIGANJ 035361185
1495 035 BANGLADESH KRISHI BANK PAHARPUR BAZAR(124) HABIGANJ 035361248
1496 035 BANGLADESH KRISHI BANK PANIUMDA(127) HABIGANJ 035361277
1497 035 BANGLADESH KRISHI BANK POIL(130) HABIGANJ 035361301
1498 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAKIR MAHMUD(136) HABIGANJ 035361369
1499 035 BANGLADESH KRISHI BANK SUJATPUR BAZAR(142) HABIGANJ 035361422
1500 035 BANGLADESH KRISHI BANK SUNDARPUR BAZAR(145) HABIGANJ 035361451
1501 035 BANGLADESH KRISHI BANK TALIAPARA(154) HABIGANJ 035361543
1502 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAHADURABAD(004) JAMALPUR 035390048
1503 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAKSHIGANJ(010) JAMALPUR 035390101
1504 035 BANGLADESH KRISHI BANK BALIJURI(022) JAMALPUR 035390222
1505 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARUAMARI(025) JAMALPUR 035390251
1506 035 BANGLADESH KRISHI BANK BATIKAMARI(028) JAMALPUR 035390280
1507 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAUSHI BANGALEE(031) JAMALPUR 035390314
1508 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHABKI BAZAR(034) JAMALPUR 035390343
1509 035 BANGLADESH KRISHI BANK DEWANGANJ(046) JAMALPUR 035390464
1510 035 BANGLADESH KRISHI BANK GUTHAIL BAZAR(067) JAMALPUR 035390677
1511 035 BANGLADESH KRISHI BANK HAZIPUR BAZAR(070) JAMALPUR 035390701
1512 035 BANGLADESH KRISHI BANK ISLAMPUR(076) JAMALPUR 035390769
1513 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAMALPUR(085) JAMALPUR 035390851
1514 035 BANGLADESH KRISHI BANK MALAMGONJ BAZAR(118) JAMALPUR 035391184
1515 035 BANGLADESH KRISHI BANK MELANDAH(127) JAMALPUR 035391276
1516 035 BANGLADESH KRISHI BANK NANDINA(130) JAMALPUR 035391300
1517 035 BANGLADESH KRISHI BANK NARUNDI BAZAR(133) JAMALPUR 035391339
1518 035 BANGLADESH KRISHI BANK NATUN BAZAR(136) JAMALPUR 035391368
1519 035 BANGLADESH KRISHI BANK SARISHABARI(148) JAMALPUR 035391489
1520 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHYAMGANJ KALIBARI(157) JAMALPUR 035391571
1521 035 BANGLADESH KRISHI BANK SONTIABAZAR(160) JAMALPUR 035391605
1522 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAGHERPARA(013) JESSORE 035410131
1523 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOWGACHA(055) JESSORE 035410557
1524 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOPALPUR BAZAR(076) JESSORE 035410760
1525 035 BANGLADESH KRISHI BANK HASANPUR(082) JESSORE 035410823
1526 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAGADISHPUR(091) JESSORE 035410915
1527 035 BANGLADESH KRISHI BANK JESSORE(094) JESSORE 035410944
1528 035 BANGLADESH KRISHI BANK JHIKARGACHA(109) JESSORE 035411093
1529 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAYEMKOLA BAZAR(118) JESSORE 035411185
1530 035 BANGLADESH KRISHI BANK KESHABPUR(121) JESSORE 035411219
1531 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHEDAPARA BAZAR(127) JESSORE 035411277
1532 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUADA BAZAR(130) JESSORE 035411301
1533 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAKHANPUR BAZAR(136) JESSORE 035411369
1534 035 BANGLADESH KRISHI BANK MASHIA HATI(148) JESSORE 035411480
1535 035 BANGLADESH KRISHI BANK MONIRAMPUR(151) JESSORE 035411514
1536 035 BANGLADESH KRISHI BANK NARAYANPUR(154) JESSORE 035411543
1537 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAVARAN(160) JESSORE 035411606
1538 035 BANGLADESH KRISHI BANK NOAPARA(163) JESSORE 035411635
1539 035 BANGLADESH KRISHI BANK RUPDIA(202) JESSORE 035412021
1540 035 BANGLADESH KRISHI BANK SARSHA(214) JESSORE 035412142
1541 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHINGHAJHULI BAZAR(220) JESSORE 035412205
1542 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMUA(004) JHALOKATHI 035420042
1543 035 BANGLADESH KRISHI BANK BADURTALA BAZAR(010) JHALOKATHI 035420105
1544 035 BANGLADESH KRISHI BANK BASONDA(013) JHALOKATHI 035420134
1545 035 BANGLADESH KRISHI BANK BENOYKATI(016) JHALOKATHI 035420163
1546 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHITKI BAZAR(019) JHALOKATHI 035420192
1547 035 BANGLADESH KRISHI BANK GALUA BAZAR(025) JHALOKATHI 035420255
1548 035 BANGLADESH KRISHI BANK JHALOKATI(031) JHALOKATHI 035420318
1549 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAIKHALI(034) JHALOKATHI 035420347
1550 035 BANGLADESH KRISHI BANK KATHALIA(037) JHALOKATHI 035420376
1551 035 BANGLADESH KRISHI BANK NABAGRAM(043) JHALOKATHI 035420439
1552 035 BANGLADESH KRISHI BANK NALCHITY(049) JHALOKATHI 035420497
1553 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAJAPUR(055) JHALOKATHI 035420550
1554 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAMCHANDRAPUR(058) JHALOKATHI 035420589
1555 035 BANGLADESH KRISHI BANK TALTALA BAZAR(067) JHALOKATHI 035420671
1556 035 BANGLADESH KRISHI BANK BALIADANGA(004) JHENAIDAH 035440048
1557 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHAIRABA BAZAR(013) JHENAIDAH 035440130
1558 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHALKI BAZAR(016) JHENAIDAH 035440169
1559 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHATI BAZAR(019) JHENAIDAH 035440198
1560 035 BANGLADESH KRISHI BANK HALIDHANI(043) JHENAIDAH 035440435
1561 035 BANGLADESH KRISHI BANK HARINAKUNDA(049) JHENAIDAH 035440493
1562 035 BANGLADESH KRISHI BANK JHENAIDAH(064) JHENAIDAH 035440648
1563 035 BANGLADESH KRISHI BANK KACHUA BAZAR(076) JHENAIDAH 035440769
1564 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIGANJ(079) JHENAIDAH 035440798
1565 035 BANGLADESH KRISHI BANK KASTOSAGRA BAZAR(088) JHENAIDAH 035440880
1566 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHULUMBARIA(094) JHENAIDAH 035440943
1567 035 BANGLADESH KRISHI BANK KOTCHANDPUR(100) JHENAIDAH 035441005
1568 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOHESHPUR(109) JHENAIDAH 035441092
1569 035 BANGLADESH KRISHI BANK SAILKUPA(118) JHENAIDAH 035441184
1570 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHINGI BAZAR(127) JHENAIDAH 035441276
1571 035 BANGLADESH KRISHI BANK DIGHINALA(004) KHAGRACHARI 035460044
1572 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHAGRACHARI(007) KHAGRACHARI 035460073
1573 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAXMICHARI(013) KHAGRACHARI 035460136
1574 035 BANGLADESH KRISHI BANK MANIKCHARI(019) KHAGRACHARI 035460194
1575 035 BANGLADESH KRISHI BANK MATIRANGA(022) KHAGRACHARI 035460228
1576 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOHALCHARI(025) KHAGRACHARI 035460257
1577 035 BANGLADESH KRISHI BANK PANCHARI(028) KHAGRACHARI 035460286
1578 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAMGARH(031) KHAGRACHARI 035460310
1579 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARAKPUR BAZAR(025) KHULNA 035470250
1580 035 BANGLADESH KRISHI BANK BATIAGHATA(031) KHULNA 035470313
1581 035 BANGLADESH KRISHI BANK BIRAT BAZAR(034) KHULNA 035470342
1582 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDKHALI(052) KHULNA 035470526
1583 035 BANGLADESH KRISHI BANK DACOPE(064) KHULNA 035470647
1584 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAULATPUR(070) KHULNA 035470700
1585 035 BANGLADESH KRISHI BANK DUMURIA(079) KHULNA 035470797
1586 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAIGIR MOHAL(106) KHULNA 035471062
1587 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAMIRA BAZAR(109) KHULNA 035471091
1588 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAZDIA(136) KHULNA 035471367
1589 035 BANGLADESH KRISHI BANK KDA BUS TERMINAL(142) KHULNA 035471420
1590 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHULNA(154) KHULNA 035471541
1591 035 BANGLADESH KRISHI BANK KOYRA(178) KHULNA 035471783
1592 035 BANGLADESH KRISHI BANK LABONCHORA(181) KHULNA 035471817
1593 035 BANGLADESH KRISHI BANK NALIAN BAZAR(193) KHULNA 035471938
1594 035 BANGLADESH KRISHI BANK NEW MARKET(199) KHULNA 035471996
1595 035 BANGLADESH KRISHI BANK PAIKGACHA(208) KHULNA 035472087
1596 035 BANGLADESH KRISHI BANK PHULTALA(214) KHULNA 035472140
1597 035 BANGLADESH KRISHI BANK RUPSHAGHAT(232) KHULNA 035472324
1598 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAHPUR(244) KHULNA 035472445
1599 035 BANGLADESH KRISHI BANK TEROKHADA(265) KHULNA 035472658
1600 035 BANGLADESH KRISHI BANK ADAMPUR(004) KISHOREGANJ 035480040
1601 035 BANGLADESH KRISHI BANK AUSTAGRAM(007) KISHOREGANJ 035480079
1602 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAJITPUR(010) KISHOREGANJ 035480103
1603 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHAIRAB BAZAR(022) KISHOREGANJ 035480224
1604 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOSHAIR BAZAR(034) KISHOREGANJ 035480345
1605 035 BANGLADESH KRISHI BANK HILOCHIA(037) KISHOREGANJ 035480374
1606 035 BANGLADESH KRISHI BANK HOSSAINPUR(040) KISHOREGANJ 035480408
1607 035 BANGLADESH KRISHI BANK ITNA(043) KISHOREGANJ 035480437
1608 035 BANGLADESH KRISHI BANK JOYSIDDI(046) KISHOREGANJ 035480466
1609 035 BANGLADESH KRISHI BANK KARIMGANJ(055) KISHOREGANJ 035480558
1610 035 BANGLADESH KRISHI BANK KATIADI(058) KISHOREGANJ 035480587
1611 035 BANGLADESH KRISHI BANK KISHOREGANJ(067) KISHOREGANJ 035480679
1612 035 BANGLADESH KRISHI BANK KULIAR CHAR(073) KISHOREGANJ 035480732
1613 035 BANGLADESH KRISHI BANK LATIFABAD(076) KISHOREGANJ 035480761
1614 035 BANGLADESH KRISHI BANK MARICHKHALI(085) KISHOREGANJ 035480853
1615 035 BANGLADESH KRISHI BANK MITAMAIN(094) KISHOREGANJ 035480945
1616 035 BANGLADESH KRISHI BANK NEAMATPUR(097) KISHOREGANJ 035480974
1617 035 BANGLADESH KRISHI BANK NIKLI(100) KISHOREGANJ 035481007
1618 035 BANGLADESH KRISHI BANK PAKUNDIA(106) KISHOREGANJ 035481065
1619 035 BANGLADESH KRISHI BANK SARARCHAR(109) KISHOREGANJ 035481094
1620 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHIMULKANDI BAZAR(112) KISHOREGANJ 035481128
1621 035 BANGLADESH KRISHI BANK TARAIL(115) KISHOREGANJ 035481157
1622 035 BANGLADESH KRISHI BANK AILCHARA(004) KUSHTIA 035500041
1623 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMLA(010) KUSHTIA 035500104
1624 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAHAL BARIA(016) KUSHTIA 035500162
1625 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARA BAZAR(019) KUSHTIA 035500191
1626 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARAKHADA(025) KUSHTIA 035500254
1627 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHERAMARA(028) KUSHTIA 035500283
1628 035 BANGLADESH KRISHI BANK DANGMARKA(040) KUSHTIA 035500409
1629 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAULATPUR(046) KUSHTIA 035500467
1630 035 BANGLADESH KRISHI BANK JENAIDAH(070) KUSHTIA 035500704
1631 035 BANGLADESH KRISHI BANK JHAUDIA(073) KUSHTIA 035500733
1632 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHOKSA(082) KUSHTIA 035500825
1633 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUCHIAMURA BAZAR(085) KUSHTIA 035500854
1634 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUMARKHALI(088) KUSHTIA 035500883
1635 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUSHTIA(094) KUSHTIA 035500946
1636 035 BANGLADESH KRISHI BANK MIRPUR(106) KUSHTIA 035501066
1637 035 BANGLADESH KRISHI BANK MODHUPUR BAZAR(109) KUSHTIA 035501095
1638 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAR ALEXANDER(022) LAKSHMIPUR 035510228
1639 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAR FALKON(025) LAKSHMIPUR 035510257
1640 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAR GAZI(028) LAKSHMIPUR 035510286
1641 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOWDHURY BAZAR(037) LAKSHMIPUR 035510378
1642 035 BANGLADESH KRISHI BANK HAZIRPARA(058) LAKSHMIPUR 035510581
1643 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAKSIN BAZAR(061) LAKSHMIPUR 035510615
1644 035 BANGLADESH KRISHI BANK K.P. HAT(064) LAKSHMIPUR 035510644
1645 035 BANGLADESH KRISHI BANK KARONA NAGAR(070) LAKSHMIPUR 035510707
1646 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAKSHMIPUR(073) LAKSHMIPUR 035510736
1647 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAJIRGAON BAZAR(079) LAKSHMIPUR 035510794
1648 035 BANGLADESH KRISHI BANK MITALI BAZAR(088) LAKSHMIPUR 035510886
1649 035 BANGLADESH KRISHI BANK PANPARA BAZAR(091) LAKSHMIPUR 035510910
1650 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAIPUR(097) LAKSHMIPUR 035510978
1651 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAKHALIA BAZAR(100) LAKSHMIPUR 035511001
1652 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAMGANJ(103) LAKSHMIPUR 035511030
1653 035 BANGLADESH KRISHI BANK TORABGANJ BAZAR(118) LAKSHMIPUR 035511180
1654 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAJITPUR(004) MADARIPUR 035540043
1655 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDERCHAR(010) MADARIPUR 035540106
1656 035 BANGLADESH KRISHI BANK GHATOKCHAR BAZAR(019) MADARIPUR 035540193
1657 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOPALPUR BAZAR(022) MADARIPUR 035540227
1658 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIR BAZAR(025) MADARIPUR 035540256
1659 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALKINI(028) MADARIPUR 035540285
1660 035 BANGLADESH KRISHI BANK KASHER HAT(031) MADARIPUR 035540319
1661 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADARIPUR(040) MADARIPUR 035540401
1662 035 BANGLADESH KRISHI BANK MATHER BAZAR(049) MADARIPUR 035540498
1663 035 BANGLADESH KRISHI BANK PANCHOR BAZAR(061) MADARIPUR 035540614
1664 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAJOIR(064) MADARIPUR 035540643
1665 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAHEBRAMPUR(067) MADARIPUR 035540672
1666 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHIBCHAR(070) MADARIPUR 035540706
1667 035 BANGLADESH KRISHI BANK UTRAIL HAT(082) MADARIPUR 035540827
1668 035 BANGLADESH KRISHI BANK ALAMKHALI BAZAR(004) MAGURA 035550046
1669 035 BANGLADESH KRISHI BANK ALUKDIA(007) MAGURA 035550075
1670 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMURIA BAZAR(010) MAGURA 035550109
1671 035 BANGLADESH KRISHI BANK ARPARA(013) MAGURA 035550138
1672 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHABONHAT BAZAR(019) MAGURA 035550196
1673 035 BANGLADESH KRISHI BANK BINODPUR(022) MAGURA 035550220
1674 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAXIN MIRZAPUR(031) MAGURA 035550312
1675 035 BANGLADESH KRISHI BANK JOGDAL(043) MAGURA 035550433
1676 035 BANGLADESH KRISHI BANK LANGALBANDH(052) MAGURA 035550525
1677 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAGURA(055) MAGURA 035550554
1678 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOHAMMADPUR(061) MAGURA 035550617
1679 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAGRA BAZAR(064) MAGURA 035550646
1680 035 BANGLADESH KRISHI BANK RADHA NAGAR BAZAR(076) MAGURA 035550767
1681 035 BANGLADESH KRISHI BANK SACHILAPUR BAZAR(082) MAGURA 035550820
1682 035 BANGLADESH KRISHI BANK SATRUJITPUR(085) MAGURA 035550859
1683 035 BANGLADESH KRISHI BANK SREEPUR(097) MAGURA 035550970
1684 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANIAJURI(013) MANIKGANJ 035560131
1685 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHARIGRAM(022) MANIKGANJ 035560223
1686 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAULATPUR(028) MANIKGANJ 035560281
1687 035 BANGLADESH KRISHI BANK GHIOR(037) MANIKGANJ 035560373
1688 035 BANGLADESH KRISHI BANK HARGAJ(040) MANIKGANJ 035560407
1689 035 BANGLADESH KRISHI BANK HARIRAMPUR(043) MANIKGANJ 035560436
1690 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAGIR(046) MANIKGANJ 035560465
1691 035 BANGLADESH KRISHI BANK JHITKA(052) MANIKGANJ 035560528
1692 035 BANGLADESH KRISHI BANK MANIKGANJ(061) MANIKGANJ 035560610
1693 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOHADEBPUR(070) MANIKGANJ 035560702
1694 035 BANGLADESH KRISHI BANK SATURIA(076) MANIKGANJ 035560760
1695 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHIBALAYA(079) MANIKGANJ 035560799
1696 035 BANGLADESH KRISHI BANK SINGAIR(082) MANIKGANJ 035560823
1697 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARADI(016) MEHERPUR 035570163
1698 035 BANGLADESH KRISHI BANK DARIAPUR(019) MEHERPUR 035570192
1699 035 BANGLADESH KRISHI BANK GANGNI(022) MEHERPUR 035570226
1700 035 BANGLADESH KRISHI BANK KATHULI(034) MEHERPUR 035570347
1701 035 BANGLADESH KRISHI BANK MEHERPUR(037) MEHERPUR 035570376
1702 035 BANGLADESH KRISHI BANK MUJIB NAGAR(046) MEHERPUR 035570468
1703 035 BANGLADESH KRISHI BANK UZALPUR(052) MEHERPUR 035570521
1704 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARALEKHA(010) MOULVI BAZAR 035580108
1705 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARAMCHAL(013) MOULVI BAZAR 035580137
1706 035 BANGLADESH KRISHI BANK DIGHIRPAR BAZAR(046) MOULVI BAZAR 035580461
1707 035 BANGLADESH KRISHI BANK JURI(067) MOULVI BAZAR 035580674
1708 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAGABALA(073) MOULVI BAZAR 035580737
1709 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAMALGANJ(076) MOULVI BAZAR 035580766
1710 035 BANGLADESH KRISHI BANK KULAURA(094) MOULVI BAZAR 035580940
1711 035 BANGLADESH KRISHI BANK MANU(103) MOULVI BAZAR 035581031
1712 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOKAM BAZAR(109) MOULVI BAZAR 035581099
1713 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOULAVI BAZAR(118) MOULVI BAZAR 035581181
1714 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAJNAGAR(139) MOULVI BAZAR 035581394
1715 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAHID NAGAR BAZAR(157) MOULVI BAZAR 035581578
1716 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHERPUR BAZAR(166) MOULVI BAZAR 035581660
1717 035 BANGLADESH KRISHI BANK SREE MANGAL(172) MOULVI BAZAR 035581723
1718 035 BANGLADESH KRISHI BANK VATERA(181) MOULVI BAZAR 035581815
1719 035 BANGLADESH KRISHI BANK ALADI BAZAR(007) MUNSHIGANJ 035590077
1720 035 BANGLADESH KRISHI BANK BETKA(025) MUNSHIGANJ 035590251
1721 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHABER CHAR(028) MUNSHIGANJ 035590280
1722 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHARKEWAR(034) MUNSHIGANJ 035590343
1723 035 BANGLADESH KRISHI BANK GAZARIA(046) MUNSHIGANJ 035590464
1724 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOLTALI BAZAR(049) MUNSHIGANJ 035590493
1725 035 BANGLADESH KRISHI BANK HASHARA(058) MUNSHIGANJ 035590585
1726 035 BANGLADESH KRISHI BANK ISAPURA(067) MUNSHIGANJ 035590677
1727 035 BANGLADESH KRISHI BANK LOUHAJONG(085) MUNSHIGANJ 035590851
1728 035 BANGLADESH KRISHI BANK MEDINIMANDAL(094) MUNSHIGANJ 035590943
1729 035 BANGLADESH KRISHI BANK MUNSHIGANJ(103) MUNSHIGANJ 035591034
1730 035 BANGLADESH KRISHI BANK RARIKHAL(118) MUNSHIGANJ 035591184
1731 035 BANGLADESH KRISHI BANK SERAJDIKHAN(127) MUNSHIGANJ 035591276
1732 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHOLAGHAR(133) MUNSHIGANJ 035591339
1733 035 BANGLADESH KRISHI BANK SREENAGAR(142) MUNSHIGANJ 035591421
1734 035 BANGLADESH KRISHI BANK TONGI BARI(154) MUNSHIGANJ 035591542
1735 035 BANGLADESH KRISHI BANK AGRIVARSITY(004) MYMENSINGH 035610049
1736 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMBIKAGANJ BAZAR(007) MYMENSINGH 035610078
1737 035 BANGLADESH KRISHI BANK AUSTADHAR BAZAR(016) MYMENSINGH 035610160
1738 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAKTA BAZAR(019) MYMENSINGH 035610199
1739 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHALUKA(031) MYMENSINGH 035610315
1740 035 BANGLADESH KRISHI BANK BIRUNIA BAZAR(037) MYMENSINGH 035610373
1741 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAIRBARIA BAZAR(046) MYMENSINGH 035610465
1742 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHECHUA BAZAR(055) MYMENSINGH 035610557
1743 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAWHAKHOLA BAZAR(067) MYMENSINGH 035610678
1744 035 BANGLADESH KRISHI BANK DEOKHOLA(070) MYMENSINGH 035610702
1745 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHALIA(076) MYMENSINGH 035610760
1746 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHANIKHOLA(079) MYMENSINGH 035610799
1747 035 BANGLADESH KRISHI BANK DOBAWRA(088) MYMENSINGH 035610881
1748 035 BANGLADESH KRISHI BANK FULBARIA(094) MYMENSINGH 035610944
1749 035 BANGLADESH KRISHI BANK FULPUR(097) MYMENSINGH 035610973
1750 035 BANGLADESH KRISHI BANK GAFFARGAON(100) MYMENSINGH 035611006
1751 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOURIPUR(106) MYMENSINGH 035611064
1752 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOYESHPUR BAZAR(112) MYMENSINGH 035611127
1753 035 BANGLADESH KRISHI BANK HALUAGHAT(115) MYMENSINGH 035611156
1754 035 BANGLADESH KRISHI BANK ISWAR GANJ(118) MYMENSINGH 035611185
1755 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAIL ROAD(121) MYMENSINGH 035611219
1756 035 BANGLADESH KRISHI BANK KANDIPARA(127) MYMENSINGH 035611277
1757 035 BANGLADESH KRISHI BANK KASHIGANJ(130) MYMENSINGH 035611301
1758 035 BANGLADESH KRISHI BANK KASHIGANJ BAZAR(133) MYMENSINGH 035611330
1759 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADHUPUR BAZAR(145) MYMENSINGH 035611451
1760 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAIZBAG BAZAR(148) MYMENSINGH 035611480
1761 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAZIYALI(157) MYMENSINGH 035611572
1762 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOAZZEMPUR(166) MYMENSINGH 035611664
1763 035 BANGLADESH KRISHI BANK MUKTAGACHA(169) MYMENSINGH 035611693
1764 035 BANGLADESH KRISHI BANK MYMENSINGH(175) MYMENSINGH 035611756
1765 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAGLA BAZAR(187) MYMENSINGH 035611877
1766 035 BANGLADESH KRISHI BANK NANDAIL(190) MYMENSINGH 035611901
1767 035 BANGLADESH KRISHI BANK SEED STORE(208) MYMENSINGH 035612089
1768 035 BANGLADESH KRISHI BANK SOHAGIBAZAR(217) MYMENSINGH 035612171
1769 035 BANGLADESH KRISHI BANK TARAKANDA(226) MYMENSINGH 035612263
1770 035 BANGLADESH KRISHI BANK TRISHAL(235) MYMENSINGH 035612355
1771 035 BANGLADESH KRISHI BANK HABOKHALI(025) NARAIL 035650254
1772 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIA(034) NARAIL 035650346
1773 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAHORIA BAZAR(040) NARAIL 035650409
1774 035 BANGLADESH KRISHI BANK LOHAGARA(046) NARAIL 035650467
1775 035 BANGLADESH KRISHI BANK NARAGATI BAZAR(061) NARAIL 035650612
1776 035 BANGLADESH KRISHI BANK NARAIL(064) NARAIL 035650641
1777 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHEIK HATI BAZAR(076) NARAIL 035650762
1778 035 BANGLADESH KRISHI BANK ARAIHAZAR(004) NARAYANGANJ 035670047
1779 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANDAR(016) NARAYANGANJ 035670168
1780 035 BANGLADESH KRISHI BANK FATULLA(052) NARAYANGANJ 035670526
1781 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOLAKANDAIL(058) NARAYANGANJ 035670584
1782 035 BANGLADESH KRISHI BANK HOSSAINPUR(064) NARAYANGANJ 035670647
1783 035 BANGLADESH KRISHI BANK ISAPURA BAZAR(067) NARAYANGANJ 035670676
1784 035 BANGLADESH KRISHI BANK JHANGALIA BAZAR(070) NARAYANGANJ 035670700
1785 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADANPUR(097) NARAYANGANJ 035670971
1786 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOHAJAMPUR(109) NARAYANGANJ 035671091
1787 035 BANGLADESH KRISHI BANK NARAYANGANJ(118) NARAYANGANJ 035671183
1788 035 BANGLADESH KRISHI BANK RUPGANJ(145) NARAYANGANJ 035671459
1789 035 BANGLADESH KRISHI BANK SATGAON(151) NARAYANGANJ 035671512
1790 035 BANGLADESH KRISHI BANK SIDDIRGANJ(160) NARAYANGANJ 035671604
1791 035 BANGLADESH KRISHI BANK SONARGAON(169) NARAYANGANJ 035671691
1792 035 BANGLADESH KRISHI BANK BABURHAT(010) NARSHINGDI 035680103
1793 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANNAR BAZAR(016) NARSHINGDI 035680161
1794 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARAICHA BAZAR(019) NARSHINGDI 035680190
1795 035 BANGLADESH KRISHI BANK BELABO(025) NARSHINGDI 035680253
1796 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHARSUBUDDI BAZAR(037) NARSHINGDI 035680374
1797 035 BANGLADESH KRISHI BANK GHORASAL(049) NARSHINGDI 035680495
1798 035 BANGLADESH KRISHI BANK HATIRDIA(055) NARSHINGDI 035680558
1799 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAKHPUR BAZAR(064) NARSHINGDI 035680640
1800 035 BANGLADESH KRISHI BANK MONOHARDI(073) NARSHINGDI 035680732
1801 035 BANGLADESH KRISHI BANK MORJAL BAZAR(076) NARSHINGDI 035680761
1802 035 BANGLADESH KRISHI BANK NARSHINGDI(085) NARSHINGDI 035680853
1803 035 BANGLADESH KRISHI BANK PALASH(091) NARSHINGDI 035680916
1804 035 BANGLADESH KRISHI BANK PORADIA BAZAR(100) NARSHINGDI 035681007
1805 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAIPURA(109) NARSHINGDI 035681094
1806 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHEKER BAZAR(124) NARSHINGDI 035681249
1807 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHIBPUR(130) NARSHINGDI 035681302
1808 035 BANGLADESH KRISHI BANK ATPARA(004) NETROKONA 035720047
1809 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARAHATTA(007) NETROKONA 035720076
1810 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHALLHISHA BAZAR(013) NETROKONA 035720139
1811 035 BANGLADESH KRISHI BANK DUOZ(016) NETROKONA 035720168
1812 035 BANGLADESH KRISHI BANK DURGAPUR(019) NETROKONA 035720197
1813 035 BANGLADESH KRISHI BANK HIRANPUR BAZAR(025) NETROKONA 035720250
1814 035 BANGLADESH KRISHI BANK JATRABARI BAZAR(031) NETROKONA 035720313
1815 035 BANGLADESH KRISHI BANK KADAMSRI(040) NETROKONA 035720405
1816 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALMAKANDA(043) NETROKONA 035720434
1817 035 BANGLADESH KRISHI BANK KENDUA(046) NETROKONA 035720463
1818 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHALIAJURI(049) NETROKONA 035720492
1819 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHALISHAUR(052) NETROKONA 035720526
1820 035 BANGLADESH KRISHI BANK KURPAR(055) NETROKONA 035720555
1821 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADAN(061) NETROKONA 035720618
1822 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAHANGANJ(067) NETROKONA 035720676
1823 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAZIRPUR(070) NETROKONA 035720700
1824 035 BANGLADESH KRISHI BANK NETROKONA(073) NETROKONA 035720739
1825 035 BANGLADESH KRISHI BANK PURBADHALA(079) NETROKONA 035720797
1826 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAHITPUR BAZAR(091) NETROKONA 035720913
1827 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHYAMGANJ(094) NETROKONA 035720942
1828 035 BANGLADESH KRISHI BANK TATIRKONA(097) NETROKONA 035720971
1829 035 BANGLADESH KRISHI BANK BASHURHAT(025) NOAKHALI 035750259
1830 035 BANGLADESH KRISHI BANK BATTOLY BAZAR(028) NOAKHALI 035750288
1831 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAR FHAKIRA(046) NOAKHALI 035750462
1832 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHARISHWER(052) NOAKHALI 035750525
1833 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHATKHIL(058) NOAKHALI 035750583
1834 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOUMOHANI(067) NOAKHALI 035750675
1835 035 BANGLADESH KRISHI BANK DEOTI BAZAR(088) NOAKHALI 035750888
1836 035 BANGLADESH KRISHI BANK HAZARIHAT(109) NOAKHALI 035751090
1837 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAHAJMARA(112) NOAKHALI 035751124
1838 035 BANGLADESH KRISHI BANK KADIRPUR(124) NOAKHALI 035751245
1839 035 BANGLADESH KRISHI BANK KOTOBER HAT(151) NOAKHALI 035751511
1840 035 BANGLADESH KRISHI BANK MAIJDEE COURT(157) NOAKHALI 035751579
1841 035 BANGLADESH KRISHI BANK MIARHAT(160) NOAKHALI 035751603
1842 035 BANGLADESH KRISHI BANK NEAZPUR(169) NOAKHALI 035751690
1843 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAM NARAYANPUR(193) NOAKHALI 035751937
1844 035 BANGLADESH KRISHI BANK SAMIRHAT(202) NOAKHALI 035752028
1845 035 BANGLADESH KRISHI BANK SENBAG(208) NOAKHALI 035752086
1846 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAHEBALIR BAZAR(214) NOAKHALI 035752149
1847 035 BANGLADESH KRISHI BANK SONAPUR(226) NOAKHALI 035752260
1848 035 BANGLADESH KRISHI BANK AULIAPUR(004) PATUAKHALI 035780045
1849 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAHERCHAR BANDAR(013) PATUAKHALI 035780137
1850 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAUPHAL(019) PATUAKHALI 035780195
1851 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDPURA BANDAR(022) PATUAKHALI 035780229
1852 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHAR KAJAL(025) PATUAKHALI 035780258
1853 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHIKNIKANDI BAZAR(028) PATUAKHALI 035780287
1854 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOTOBIGHAI(031) PATUAKHALI 035780311
1855 035 BANGLADESH KRISHI BANK DASHMINA(034) PATUAKHALI 035780340
1856 035 BANGLADESH KRISHI BANK DUMKI(043) PATUAKHALI 035780432
1857 035 BANGLADESH KRISHI BANK GABUA BAZAR(046) PATUAKHALI 035780461
1858 035 BANGLADESH KRISHI BANK GALACHIPA(049) PATUAKHALI 035780490
1859 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALAPARA(052) PATUAKHALI 035780524
1860 035 BANGLADESH KRISHI BANK KARKHANA(067) PATUAKHALI 035780674
1861 035 BANGLADESH KRISHI BANK KESHABPUR(070) PATUAKHALI 035780708
1862 035 BANGLADESH KRISHI BANK KOAKATA(079) PATUAKHALI 035780795
1863 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOHIPUR(085) PATUAKHALI 035780858
1864 035 BANGLADESH KRISHI BANK MURADIA(091) PATUAKHALI 035780911
1865 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAGARERHAT(094) PATUAKHALI 035780940
1866 035 BANGLADESH KRISHI BANK PANPATTY(106) PATUAKHALI 035781060
1867 035 BANGLADESH KRISHI BANK PATUAKHALI(109) PATUAKHALI 035781099
1868 035 BANGLADESH KRISHI BANK PUKUR JANA BAZAR(121) PATUAKHALI 035781215
1869 035 BANGLADESH KRISHI BANK SUBIDKHALI(127) PATUAKHALI 035781273
1870 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAITAKATA(004) PIROJPUR 035790048
1871 035 BANGLADESH KRISHI BANK BALDIA(007) PIROJPUR 035790077
1872 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARA MASUYA(010) PIROJPUR 035790101
1873 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHANDARIA(013) PIROJPUR 035790130
1874 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHANDIPUR(016) PIROJPUR 035790169
1875 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHILTOLA BAZAR(019) PIROJPUR 035790198
1876 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHANISAFA(022) PIROJPUR 035790222
1877 035 BANGLADESH KRISHI BANK DURGAPUR(025) PIROJPUR 035790251
1878 035 BANGLADESH KRISHI BANK EKRI BAZAR(028) PIROJPUR 035790280
1879 035 BANGLADESH KRISHI BANK GULISHAKHALI(031) PIROJPUR 035790314
1880 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALAKHALI(040) PIROJPUR 035790406
1881 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAWKHALI(043) PIROJPUR 035790435
1882 035 BANGLADESH KRISHI BANK KOWRIKHARA(046) PIROJPUR 035790464
1883 035 BANGLADESH KRISHI BANK KURIANA(049) PIROJPUR 035790493
1884 035 BANGLADESH KRISHI BANK MATHBARIA(052) PIROJPUR 035790527
1885 035 BANGLADESH KRISHI BANK MATIBHANGA(055) PIROJPUR 035790556
1886 035 BANGLADESH KRISHI BANK MULGRAMHAT(067) PIROJPUR 035790677
1887 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAZIRPUR(070) PIROJPUR 035790701
1888 035 BANGLADESH KRISHI BANK PIROJPUR(076) PIROJPUR 035790769
1889 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHANKAR PASHA(088) PIROJPUR 035790880
1890 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAPLEZA BAZAR(091) PIROJPUR 035790914
1891 035 BANGLADESH KRISHI BANK SWARUPKATI(097) PIROJPUR 035790972
1892 035 BANGLADESH KRISHI BANK TELIKHALI(100) PIROJPUR 035791005
1893 035 BANGLADESH KRISHI BANK ZIA NAGAR(106) PIROJPUR 035791063
1894 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAGDULI HAT(007) RAJBARI 035820071
1895 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAHADURPUR BAZAR(010) RAJBARI 035820105
1896 035 BANGLADESH KRISHI BANK BALIAKANDI(016) RAJBARI 035820163
1897 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOALANDA(028) RAJBARI 035820284
1898 035 BANGLADESH KRISHI BANK HABASHPUR BAZAR(034) RAJBARI 035820347
1899 035 BANGLADESH KRISHI BANK MRIGIBAZAR(049) RAJBARI 035820497
1900 035 BANGLADESH KRISHI BANK MULGHAR(052) RAJBARI 035820521
1901 035 BANGLADESH KRISHI BANK PANCHURIA BAZAR(061) RAJBARI 035820613
1902 035 BANGLADESH KRISHI BANK PANGSHA(067) RAJBARI 035820671
1903 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAJBARI(073) RAJBARI 035820734
1904 035 BANGLADESH KRISHI BANK RATANDIA(082) RAJBARI 035820826
1905 035 BANGLADESH KRISHI BANK SONAPUR BAZAR(085) RAJBARI 035820855
1906 035 BANGLADESH KRISHI BANK SREEPUR(088) RAJBARI 035820884
1907 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAGHAICHARI(004) RANGAMATI 035840048
1908 035 BANGLADESH KRISHI BANK BARKAL(013) RANGAMATI 035840130
1909 035 BANGLADESH KRISHI BANK BELAICHARI(016) RANGAMATI 035840169
1910 035 BANGLADESH KRISHI BANK JURACHARI(025) RANGAMATI 035840251
1911 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAPTAI(028) RANGAMATI 035840280
1912 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAWKHALI(034) RANGAMATI 035840343
1913 035 BANGLADESH KRISHI BANK LANGADU(037) RANGAMATI 035840372
1914 035 BANGLADESH KRISHI BANK NANIAR CHAR(040) RANGAMATI 035840406
1915 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAIKHALI BAZAR(046) RANGAMATI 035840464
1916 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAJOSTHALI(049) RANGAMATI 035840493
1917 035 BANGLADESH KRISHI BANK RANGAMATI(052) RANGAMATI 035840527
1918 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHEDERGANJ(010) SHARIATPUR 035860107
1919 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHIKANDI(016) SHARIATPUR 035860165
1920 035 BANGLADESH KRISHI BANK DAMUDYA(019) SHARIATPUR 035860194
1921 035 BANGLADESH KRISHI BANK DOGRI BAZAR(022) SHARIATPUR 035860228
1922 035 BANGLADESH KRISHI BANK GHARIER(025) SHARIATPUR 035860257
1923 035 BANGLADESH KRISHI BANK GHARISHAR HAT(031) SHARIATPUR 035860310
1924 035 BANGLADESH KRISHI BANK HATURIA BAZAR(037) SHARIATPUR 035860378
1925 035 BANGLADESH KRISHI BANK KARTIKPUR BAZAR(040) SHARIATPUR 035860402
1926 035 BANGLADESH KRISHI BANK KODALPUR BAZAR(043) SHARIATPUR 035860431
1927 035 BANGLADESH KRISHI BANK KONESWAR BAZAR(046) SHARIATPUR 035860460
1928 035 BANGLADESH KRISHI BANK LAWKHOLA(049) SHARIATPUR 035860499
1929 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAGER PARA BAZAR(055) SHARIATPUR 035860552
1930 035 BANGLADESH KRISHI BANK NARIA(058) SHARIATPUR 035860581
1931 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAKHIPUR BAZAR(064) SHARIATPUR 035860644
1932 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHARIATPUR(067) SHARIATPUR 035860673
1933 035 BANGLADESH KRISHI BANK ZAJIRA(070) SHARIATPUR 035860707
1934 035 BANGLADESH KRISHI BANK ASASUNI(007) SATKHIRA 035870076
1935 035 BANGLADESH KRISHI BANK BALIADANGA BAZAR(013) SATKHIRA 035870139
1936 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHOMRA STHAL BANDAR(028) SATKHIRA 035870289
1937 035 BANGLADESH KRISHI BANK DEBHATA(037) SATKHIRA 035870371
1938 035 BANGLADESH KRISHI BANK DULIHAR BAZAR(040) SATKHIRA 035870405
1939 035 BANGLADESH KRISHI BANK GHONA(046) SATKHIRA 035870463
1940 035 BANGLADESH KRISHI BANK GUNAKARKATI(052) SATKHIRA 035870526
1941 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALAROA(058) SATKHIRA 035870584
1942 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIGANJ(061) SATKHIRA 035870618
1943 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHORDO BAZAR(070) SATKHIRA 035870700
1944 035 BANGLADESH KRISHI BANK KRISNA NAGAR(073) SATKHIRA 035870739
1945 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAWIE BAZAR(106) SATKHIRA 035871062
1946 035 BANGLADESH KRISHI BANK SATKHIRA(109) SATKHIRA 035871091
1947 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAKHIPUR(118) SATKHIRA 035871183
1948 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHYAM NAGAR(121) SATKHIRA 035871217
1949 035 BANGLADESH KRISHI BANK SONABARIA BAZAR(124) SATKHIRA 035871246
1950 035 BANGLADESH KRISHI BANK TALA(130) SATKHIRA 035871309
1951 035 BANGLADESH KRISHI BANK BAJITKHILA BAZAR(004) SHERPUR 035890043
1952 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHAYADANGA(007) SHERPUR 035890072
1953 035 BANGLADESH KRISHI BANK GAZIR KHAMAR(013) SHERPUR 035890135
1954 035 BANGLADESH KRISHI BANK JHENAIGATI(016) SHERPUR 035890164
1955 035 BANGLADESH KRISHI BANK KURUA BAZAR(025) SHERPUR 035890256
1956 035 BANGLADESH KRISHI BANK KUSHUMHATI(028) SHERPUR 035890285
1957 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAKLA(031) SHERPUR 035890319
1958 035 BANGLADESH KRISHI BANK NALITABARI(034) SHERPUR 035890348
1959 035 BANGLADESH KRISHI BANK NALZORA BAZAR(037) SHERPUR 035890377
1960 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAYABIL BAZAR(049) SHERPUR 035890498
1961 035 BANGLADESH KRISHI BANK PATHAKALA BAZAR(052) SHERPUR 035890522
1962 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHERPUR(055) SHERPUR 035890551
1963 035 BANGLADESH KRISHI BANK SREEBORDI(064) SHERPUR 035890643
1964 035 BANGLADESH KRISHI BANK BADAGHAT(007) SUNAMGANJ 035900070
1965 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANGLA BAZAR(010) SUNAMGANJ 035900104
1966 035 BANGLADESH KRISHI BANK BISHWAMVARPUR(019) SUNAMGANJ 035900191
1967 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHHATAK(022) SUNAMGANJ 035900225
1968 035 BANGLADESH KRISHI BANK DERAI(025) SUNAMGANJ 035900254
1969 035 BANGLADESH KRISHI BANK DHARAMPASSA(028) SUNAMGANJ 035900283
1970 035 BANGLADESH KRISHI BANK DOWARA BAZAR(034) SUNAMGANJ 035900346
1971 035 BANGLADESH KRISHI BANK DUNGRIA(037) SUNAMGANJ 035900375
1972 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOBINDAGANJ(043) SUNAMGANJ 035900438
1973 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOLAKPUR BAZAR(046) SUNAMGANJ 035900467
1974 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAGANNATHPUR(049) SUNAMGANJ 035900496
1975 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAOWA BAZAR(055) SUNAMGANJ 035900559
1976 035 BANGLADESH KRISHI BANK JOYNAGAR BAZAR(058) SUNAMGANJ 035900588
1977 035 BANGLADESH KRISHI BANK KOLKOLIA(064) SUNAMGANJ 035900641
1978 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADHYA NAGAR(067) SUNAMGANJ 035900670
1979 035 BANGLADESH KRISHI BANK MINA BAZAR(070) SUNAMGANJ 035900704
1980 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOINPUR BAZAR(076) SUNAMGANJ 035900762
1981 035 BANGLADESH KRISHI BANK PATHARIA BAZAR(088) SUNAMGANJ 035900883
1982 035 BANGLADESH KRISHI BANK RAJANIGANJ BAZAR(091) SUNAMGANJ 035900917
1983 035 BANGLADESH KRISHI BANK RANIGANJ BAZAR(094) SUNAMGANJ 035900946
1984 035 BANGLADESH KRISHI BANK SACHNA BAZAR(100) SUNAMGANJ 035901008
1985 035 BANGLADESH KRISHI BANK SALLA(103) SUNAMGANJ 035901037
1986 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHYAMAR CHAR(106) SUNAMGANJ 035901066
1987 035 BANGLADESH KRISHI BANK SUNAMGANJ(112) SUNAMGANJ 035901129
1988 035 BANGLADESH KRISHI BANK TAHIRPUR(121) SUNAMGANJ 035901211
1989 035 BANGLADESH KRISHI BANK AMBARKHANA(004) SYLHET 035910044
1990 035 BANGLADESH KRISHI BANK BALAGANJ(016) SYLHET 035910165
1991 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANDAR BAZAR(019) SYLHET 035910194
1992 035 BANGLADESH KRISHI BANK BEANI BAZAR(031) SYLHET 035910310
1993 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHABANIGANJ BAZAR(034) SYLHET 035910349
1994 035 BANGLADESH KRISHI BANK BISHWANATH(043) SYLHET 035910431
1995 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHARKHAI(070) SYLHET 035910707
1996 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHOTULBAZAR(076) SYLHET 035910765
1997 035 BANGLADESH KRISHI BANK COMPANIGANJ(091) SYLHET 035910910
1998 035 BANGLADESH KRISHI BANK DARPANAGAR(112) SYLHET 035911122
1999 035 BANGLADESH KRISHI BANK DEWAN BAZAR(127) SYLHET 035911272
2000 035 BANGLADESH KRISHI BANK DUBAG BAZAR(133) SYLHET 035911335
2001 035 BANGLADESH KRISHI BANK FENCHUGANJ(136) SYLHET 035911364
2002 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOLAPGANJ(160) SYLHET 035911601
2003 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOWAINGHAT(166) SYLHET 035911669
2004 035 BANGLADESH KRISHI BANK JAINTAPUR(181) SYLHET 035911814
2005 035 BANGLADESH KRISHI BANK KANAIGHAT(208) SYLHET 035912084
2006 035 BANGLADESH KRISHI BANK KHAJANCHIGAON(226) SYLHET 035912268
2007 035 BANGLADESH KRISHI BANK MOGLA BAZAR(268) SYLHET 035912684
2008 035 BANGLADESH KRISHI BANK RATANGANJ BAZAR(301) SYLHET 035913012
2009 035 BANGLADESH KRISHI BANK SALUTIKAR(310) SYLHET 035913104
2010 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHIBER BAZAR(337) SYLHET 035913375
2011 035 BANGLADESH KRISHI BANK SYLHET(355) SYLHET 035913559
2012 035 BANGLADESH KRISHI BANK ZAKIGANJ(412) SYLHET 035914129
2013 035 BANGLADESH KRISHI BANK ALOKDIA(013) TANGAIL 035930132
2014 035 BANGLADESH KRISHI BANK ATHAILSIMUL(019) TANGAIL 035930190
2015 035 BANGLADESH KRISHI BANK AWLIABAD(028) TANGAIL 035930282
2016 035 BANGLADESH KRISHI BANK BALLA BAZAR(031) TANGAIL 035930316
2017 035 BANGLADESH KRISHI BANK BANGRA(034) TANGAIL 035930345
2018 035 BANGLADESH KRISHI BANK BASAIL(037) TANGAIL 035930374
2019 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHABKHANDA BAZAR(040) TANGAIL 035930408
2020 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHADRA BAZAR(043) TANGAIL 035930437
2021 035 BANGLADESH KRISHI BANK BHUANPUR(046) TANGAIL 035930466
2022 035 BANGLADESH KRISHI BANK CHARPARA BAZAR(052) TANGAIL 035930529
2023 035 BANGLADESH KRISHI BANK DELDUAR(058) TANGAIL 035930587
2024 035 BANGLADESH KRISHI BANK ELENGA(082) TANGAIL 035930824
2025 035 BANGLADESH KRISHI BANK GHATAIL(091) TANGAIL 035930916
2026 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOPALPUR(100) TANGAIL 035931007
2027 035 BANGLADESH KRISHI BANK GOYHATTA BAZAR(106) TANGAIL 035931065
2028 035 BANGLADESH KRISHI BANK HATUBHANGA(112) TANGAIL 035931128
2029 035 BANGLADESH KRISHI BANK JHAWAIL(121) TANGAIL 035931210
2030 035 BANGLADESH KRISHI BANK KACHUABAZAR(124) TANGAIL 035931249
2031 035 BANGLADESH KRISHI BANK KAKRAID(127) TANGAIL 035931278
2032 035 BANGLADESH KRISHI BANK KALIHATI(130) TANGAIL 035931302
2033 035 BANGLADESH KRISHI BANK KARATIA(136) TANGAIL 035931360
2034 035 BANGLADESH KRISHI BANK MADHUPUR(148) TANGAIL 035931481
2035 035 BANGLADESH KRISHI BANK MIRZAPUR(151) TANGAIL 035931515
2036 035 BANGLADESH KRISHI BANK NAGARPUR(169) TANGAIL 035931694
2037 035 BANGLADESH KRISHI BANK NALUA BAZAR(172) TANGAIL 035931728
2038 035 BANGLADESH KRISHI BANK PORABARI(199) TANGAIL 035931999
2039 035 BANGLADESH KRISHI BANK SAHABATPUR BAZAR(208) TANGAIL 035932080
2040 035 BANGLADESH KRISHI BANK SAJANPUR(211) TANGAIL 035932114
2041 035 BANGLADESH KRISHI BANK SHAKHIPUR(220) TANGAIL 035932206
2042 035 BANGLADESH KRISHI BANK SIMLA BAZAR(223) TANGAIL 035932235
2043 035 BANGLADESH KRISHI BANK TANGAIL(229) TANGAIL 035932293
2044 040 BANGLADESH SAMABAYA BANK LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 040270003
2045 040 BANGLADESH SAMABAYA BANK LTD. DHAKA(151) DHAKA-SOUTH 040271510
2046 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. BARISAL(028) BARISHAL 047060287
2047 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. BOGRA(037) BOGRA 047100376
2048 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. CHITTAGONG(196) CHITTAGONG 047151967
2049 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. COMILLA(115) COMILLA 047191156
2050 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. KARWAN BAZAR(256) DHAKA-NORTH 047262564
2051 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 047270006
2052 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. PRINCIPAL(157) DHAKA-SOUTH 047271571
2053 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. MOTIJHEEL(424) DHAKA-SOUTH 047274244
2054 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. DINAJPUR(067) DINAJPUR 047280670
2055 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. FARIDPUR(052) FARIDPUR 047290523
2056 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. JHENAIDAH(064) JHENAIDAH 047440649
2057 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. KHULNA(154) KHULNA 047471542
2058 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. MYMENSINGH(175) MYMENSINGH 047611757
2059 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. NOAKHALI(172) NOAKHALI 047751725
2060 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. PABNA(178) PABNA 047761786
2061 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. RAJSHAHI(193) RAJSHAHI 047811931
2062 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. RANGPUR(145) RANGPUR 047851454
2063 047 BANGLADESH DEVELOPMENT BANK LTD. SYLHET(355) SYLHET 047913550
2064 050 #N/A HEAD OFFICE(202) DHAKA-NORTH 050262027
2065 050 #N/A KARWAN BAZAR CORPORATE(256) DHAKA-NORTH 050262564
2066 050 #N/A TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 050270006
2067 050 #N/A MOTIJHEEL(424) DHAKA-SOUTH 050274244
2068 055 BASIC BANK LTD. BARISAL(028) BARISHAL 055060282
2069 055 BASIC BANK LTD. BOGRA(037) BOGRA 055100371
2070 055 BASIC BANK LTD. SERAJGANJ(289) BOGRA 055102890
2071 055 BASIC BANK LTD. AGRABAD(013) CHITTAGONG 055150134
2072 055 BASIC BANK LTD. ASAD GANJ(058) CHITTAGONG 055150589
2073 055 BASIC BANK LTD. C.E.P.Z.(157) CHITTAGONG 055151575
2074 055 BASIC BANK LTD. DEWAN HAT(244) CHITTAGONG 055152440
2075 055 BASIC BANK LTD. JUBILEE ROAD(364) CHITTAGONG 055153649
2076 055 BASIC BANK LTD. KHATUNGANJ(427) CHITTAGONG 055154277
2077 055 BASIC BANK LTD. SHOLA SAHAR(733) CHITTAGONG 055157337
2078 055 BASIC BANK LTD. COMILLA(115) COMILLA 055191151
2079 055 BASIC BANK LTD. DHANMONDI(118) DHAKA-NORTH 055261186
2080 055 BASIC BANK LTD. GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 055261728
2081 055 BASIC BANK LTD. KARWAN BAZAR(253) DHAKA-NORTH 055262530
2082 055 BASIC BANK LTD. MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 055262985
2083 055 BASIC BANK LTD. SAVAR(409) DHAKA-NORTH 055264091
2084 055 BASIC BANK LTD. UTTARA(463) DHAKA-NORTH 055264633
2085 055 BASIC BANK LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 055270001
2086 055 BASIC BANK LTD. BABU BAZAR(055) DHAKA-SOUTH 055270551
2087 055 BASIC BANK LTD. BANGSHAL(088) DHAKA-SOUTH 055270885
2088 055 BASIC BANK LTD. DHAKA(MAIN)(178) DHAKA-SOUTH 055271789
2089 055 BASIC BANK LTD. DILKUSHA(190) DHAKA-SOUTH 055271905
2090 055 BASIC BANK LTD. HEAD OFFICE(268) DHAKA-SOUTH 055272683
2091 055 BASIC BANK LTD. MOULVI BAZAR(442) DHAKA-SOUTH 055274423
2092 055 BASIC BANK LTD. SHANTINAGAR(634) DHAKA-SOUTH 055276342
2093 055 BASIC BANK LTD. GAZIPUR CHOWRASTA(055) GAZIPUR 055330554
2094 055 BASIC BANK LTD. TUNGI PARA(109) GOPALGANJ 055351096
2095 055 BASIC BANK LTD. JESSORE(094) JESSORE 055410940
2096 055 BASIC BANK LTD. KHULNA(154) KHULNA 055471547
2097 055 BASIC BANK LTD. CHOUMUHANA(037) MOULVI BAZAR 055580375
2098 055 BASIC BANK LTD. TANBAZAR(178) NARAYANGANJ 055671789
2099 055 BASIC BANK LTD. NARSHINGDI(085) NARSHINGDI 055680859
2100 055 BASIC BANK LTD. SAYEDPUR(079) NILPHAMARI 055730796
2101 055 BASIC BANK LTD. RAJSHAHI(193) RAJSHAHI 055811936
2102 055 BASIC BANK LTD. RANGPUR(145) RANGPUR 055851459
2103 055 BASIC BANK LTD. ZINDA BAZAR(415) SYLHET 055914154
2104 060 BRAC BANK LTD. BAGERHAT SME(008) BAGERHAT 060010085
2105 060 BRAC BANK LTD. BARISAL(028) BARISHAL 060060280
2106 060 BRAC BANK LTD. BHOLA(010) BHOLA 060090100
2107 060 BRAC BANK LTD. BOGRA(037) BOGRA 060100379
2108 060 BRAC BANK LTD. BRAHMANBARIA(043) BRAHMANBARIA 060120438
2109 060 BRAC BANK LTD. CHANDPUR(031) CHANDPUR 060130310
2110 060 BRAC BANK LTD. HAJIGANJ(088) CHANDPUR 060130886
2111 060 BRAC BANK LTD. AGRABAD(013) CHITTAGONG 060150132
2112 060 BRAC BANK LTD. ASAD GANJ(058) CHITTAGONG 060150587
2113 060 BRAC BANK LTD. BAHADDAR HAT SME(080) CHITTAGONG 060150808
2114 060 BRAC BANK LTD. BANDARTILA(094) CHITTAGONG 060150945
2115 060 BRAC BANK LTD. C.D.A. AVENUE(148) CHITTAGONG 060151481
2116 060 BRAC BANK LTD. HALISHAHAR(316) CHITTAGONG 060153168
2117 060 BRAC BANK LTD. HATHAZARI SME(323) CHITTAGONG 060153234
2118 060 BRAC BANK LTD. KADAMTOLI SME(374) CHITTAGONG 060153742
2119 060 BRAC BANK LTD. KAZIR DEWRI(415) CHITTAGONG 060154154
2120 060 BRAC BANK LTD. MOMIN ROAD(526) CHITTAGONG 060155261
2121 060 BRAC BANK LTD. MURADPUR(532) CHITTAGONG 060155324
2122 060 BRAC BANK LTD. NEW MARKET(565) CHITTAGONG 060155658
2123 060 BRAC BANK LTD. CHITTAGONG NEW MARKET(567) CHITTAGONG 060155674
2124 060 BRAC BANK LTD. PAHARTALI SME(593) CHITTAGONG 060155937
2125 060 BRAC BANK LTD. PATIYA(616) CHITTAGONG 060156165
2126 060 BRAC BANK LTD. RAOZAN SME(650) CHITTAGONG 060156507
2127 060 BRAC BANK LTD. SITAKUNDA(739) CHITTAGONG 060157393
2128 060 BRAC BANK LTD. CHUADANGA(019) CHUADANGA 060180199
2129 060 BRAC BANK LTD. COMILLA(115) COMILLA 060191159
2130 060 BRAC BANK LTD. COMILLA SME(116) COMILLA 060191162
2131 060 BRAC BANK LTD. GOURIPUR SME(212) COMILLA 060192129
2132 060 BRAC BANK LTD. CHAKARIA(016) COXS BAZAR 060220167
2133 060 BRAC BANK LTD. COX’S BAZAR(025) COXS BAZAR 060220259
2134 060 BRAC BANK LTD. ASHKONA(020) DHAKA-NORTH 060260206
2135 060 BRAC BANK LTD. BADDA SME(035) DHAKA-NORTH 060260356
2136 060 BRAC BANK LTD. BANANI(043) DHAKA-NORTH 060260435
2137 060 BRAC BANK LTD. BASHUNDHARA(055) DHAKA-NORTH 060260556
2138 060 BRAC BANK LTD. BEGUM ROKEYA SAWRANI(067) DHAKA-NORTH 060260677
2139 060 BRAC BANK LTD. DAKSHIN KHAN(091) DHAKA-NORTH 060260914
2140 060 BRAC BANK LTD. ASAD GATE(118) DHAKA-NORTH 060261184
2141 060 BRAC BANK LTD. DHANMONDI(120) DHAKA-NORTH 060261205
2142 060 BRAC BANK LTD. ELEPHANT ROAD(133) DHAKA-NORTH 060261339
2143 060 BRAC BANK LTD. ELEPHANT ROAD SME(135) DHAKA-NORTH 060261355
2144 060 BRAC BANK LTD. ESKATON(139) DHAKA-NORTH 060261397
2145 060 BRAC BANK LTD. GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 060261726
2146 060 BRAC BANK LTD. GULSHAN NORTH(187) DHAKA-NORTH 060261876
2147 060 BRAC BANK LTD. HAZARIBAGH SME(197) DHAKA-NORTH 060261971
2148 060 BRAC BANK LTD. MIRPUR SME(199) DHAKA-NORTH 060261997
2149 060 BRAC BANK LTD. KARWAN BAZAR SME(254) DHAKA-NORTH 060262541
2150 060 BRAC BANK LTD. MANDA(287) DHAKA-NORTH 060262875
2151 060 BRAC BANK LTD. MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 060262983
2152 060 BRAC BANK LTD. MOHAMMADPUR SME(329) DHAKA-NORTH 060263290
2153 060 BRAC BANK LTD. NATUN BAZAR(342) DHAKA-NORTH 060263429
2154 060 BRAC BANK LTD. PANTHA PATH SME(362) DHAKA-NORTH 060263629
2155 060 BRAC BANK LTD. SAVAR(409) DHAKA-NORTH 060264099
2156 060 BRAC BANK LTD. SHYAMALI(430) DHAKA-NORTH 060264307
2157 060 BRAC BANK LTD. UTTARA(463) DHAKA-NORTH 060264631
2158 060 BRAC BANK LTD. UTTARA SME(464) DHAKA-NORTH 060264644
2159 060 BRAC BANK LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 060270009
2160 060 BRAC BANK LTD. BASHABOO SME(098) DHAKA-SOUTH 060270988
2161 060 BRAC BANK LTD. BIJOY NAGAR SME(110) DHAKA-SOUTH 060271103
2162 060 BRAC BANK LTD. DANIA(142) DHAKA-SOUTH 060271424
2163 060 BRAC BANK LTD. DEMRA SME(149) DHAKA-SOUTH 060271495
2164 060 BRAC BANK LTD. DHOLAIKHAL SME(184) DHAKA-SOUTH 060271840
2165 060 BRAC BANK LTD. DOHAR(205) DHAKA-SOUTH 060272052
2166 060 BRAC BANK LTD. GANAKBARI(241) DHAKA-SOUTH 060272410
2167 060 BRAC BANK LTD. GRAPHICS BUILDING(253) DHAKA-SOUTH 060272531
2168 060 BRAC BANK LTD. GULISTAN SME(254) DHAKA-SOUTH 060272544
2169 060 BRAC BANK LTD. HEAD OFFICE(268) DHAKA-SOUTH 060272681
2170 060 BRAC BANK LTD. IMAMGANJ(280) DHAKA-SOUTH 060272807
2171 060 BRAC BANK LTD. JATRABARI SME(323) DHAKA-SOUTH 060273235
2172 060 BRAC BANK LTD. KERANIGANJ(364) DHAKA-SOUTH 060273648
2173 060 BRAC BANK LTD. MOGHBAZAR(418) DHAKA-SOUTH 060274184
2174 060 BRAC BANK LTD. MOTIJHEEL(424) DHAKA-SOUTH 060274247
2175 060 BRAC BANK LTD. MOTIJHEEL SME(428) DHAKA-SOUTH 060274289
2176 060 BRAC BANK LTD. NAWABGANJ(469) DHAKA-SOUTH 060274692
2177 060 BRAC BANK LTD. NAWABPUR(472) DHAKA-SOUTH 060274726
2178 060 BRAC BANK LTD. RAMPURA(574) DHAKA-SOUTH 060275741
2179 060 BRAC BANK LTD. SATMASJID ROAD(607) DHAKA-SOUTH 060276074
2180 060 BRAC BANK LTD. SHAMBAZAR(628) DHAKA-SOUTH 060276287
2181 060 BRAC BANK LTD. SHYAMPUR SME(653) DHAKA-SOUTH 060276537
2182 060 BRAC BANK LTD. ZINZIRA(709) DHAKA-SOUTH 060277099
2183 060 BRAC BANK LTD. DINAJPUR(067) DINAJPUR 060280673
2184 060 BRAC BANK LTD. BHANGA(028) FARIDPUR 060290289
2185 060 BRAC BANK LTD. FARIDPUR(052) FARIDPUR 060290526
2186 060 BRAC BANK LTD. FENI(052) FENI 060300524
2187 060 BRAC BANK LTD. SONAGAZI(148) FENI 060301486
2188 060 BRAC BANK LTD. GOBINDAGANJ(058) GAIBANDHA 060320588
2189 060 BRAC BANK LTD. BOARD BAZAR(022) GAZIPUR 060330228
2190 060 BRAC BANK LTD. GAZIPUR(052) GAZIPUR 060330523
2191 060 BRAC BANK LTD. JOYDEBPUR(073) GAZIPUR 060330736
2192 060 BRAC BANK LTD. KONABARI SME(095) GAZIPUR 060330952
2193 060 BRAC BANK LTD. TONGI(163) GAZIPUR 060331630
2194 060 BRAC BANK LTD. GOPALGANJ(037) GOPALGANJ 060350374
2195 060 BRAC BANK LTD. HABIGANJ(061) HABIGANJ 060360614
2196 060 BRAC BANK LTD. NABIGANJ(109) HABIGANJ 060361097
2197 060 BRAC BANK LTD. JOYPURHAT(040) JOYPURHAT 060380407
2198 060 BRAC BANK LTD. JAMALPUR(085) JAMALPUR 060390855
2199 060 BRAC BANK LTD. BENAPOLE SME(029) JESSORE 060410298
2200 060 BRAC BANK LTD. JESSORE(094) JESSORE 060410948
2201 060 BRAC BANK LTD. NOAPARA(163) JESSORE 060411639
2202 060 BRAC BANK LTD. JHALOKATHI SME(032) JHALOKATHI 060420325
2203 060 BRAC BANK LTD. JHENAIDAH(064) JHENAIDAH 060440642
2204 060 BRAC BANK LTD. BORO BAZAR(037) KHULNA 060470375
2205 060 BRAC BANK LTD. KHULNA(154) KHULNA 060471545
2206 060 BRAC BANK LTD. BHAIRAB(019) KISHOREGANJ 060480194
2207 060 BRAC BANK LTD. KISHOREGANJ(067) KISHOREGANJ 060480673
2208 060 BRAC BANK LTD. KUSHTIA(094) KUSHTIA 060500940
2209 060 BRAC BANK LTD. LAKSHMIPUR(073) LAKSHMIPUR 060510730
2210 060 BRAC BANK LTD. RAIPUR(097) LAKSHMIPUR 060510972
2211 060 BRAC BANK LTD. MADARIPUR(040) MADARIPUR 060540405
2212 060 BRAC BANK LTD. MAGURA SME(056) MAGURA 060550561
2213 060 BRAC BANK LTD. MANIKGONJ(061) MANIKGANJ 060560614
2214 060 BRAC BANK LTD. MAIJDEE COURT(157) MEHERPUR 060571579
2215 060 BRAC BANK LTD. MOULAVI BAZAR(118) MOULVI BAZAR 060581185
2216 060 BRAC BANK LTD. MUNSHIGANJ(103) MUNSHIGANJ 060591038
2217 060 BRAC BANK LTD. MUKTAGACHA(169) MYMENSINGH 060611697
2218 060 BRAC BANK LTD. MYMENSINGH(175) MYMENSINGH 060611750
2219 060 BRAC BANK LTD. NAOGAON SME(119) NAOGAON 060641191
2220 060 BRAC BANK LTD. ARAIHAZAR SME(005) NARAYANGANJ 060670054
2221 060 BRAC BANK LTD. BHULTA SME(023) NARAYANGANJ 060670238
2222 060 BRAC BANK LTD. NARAYANGANJ(118) NARAYANGANJ 060671187
2223 060 BRAC BANK LTD. SONARGAON(169) NARAYANGANJ 060671695
2224 060 BRAC BANK LTD. NITAIGANJ SME(545) NARAYANGANJ 060675459
2225 060 BRAC BANK LTD. GHORASAL(049) NARSHINGDI 060680499
2226 060 BRAC BANK LTD. MADHABDI(067) NARSHINGDI 060680673
2227 060 BRAC BANK LTD. MONOHARDI(073) NARSHINGDI 060680736
2228 060 BRAC BANK LTD. NARSHINGDI(085) NARSHINGDI 060680857
2229 060 BRAC BANK LTD. NATORE(109) NATORE 060691091
2230 060 BRAC BANK LTD. CHAPAI NAWABGANJ SME(026) NAWABGANJ 060700261
2231 060 BRAC BANK LTD. NETROKONA SME(074) NETROKONA 060720746
2232 060 BRAC BANK LTD. SAYEDPUR(079) NILPHAMARI 060730794
2233 060 BRAC BANK LTD. CHOUMOHANI(067) NOAKHALI 060750679
2234 060 BRAC BANK LTD. ISHWARDI(121) PABNA 060761213
2235 060 BRAC BANK LTD. PABNA(178) PABNA 060761789
2236 060 BRAC BANK LTD. PANCHAGARH SME(056) PANCHAGARH 060770567
2237 060 BRAC BANK LTD. PATUAKHALI(109) PATUAKHALI 060781093
2238 060 BRAC BANK LTD. PIROJPUR SME(077) PIROJPUR 060790776
2239 060 BRAC BANK LTD. SWARUPKATI SME(098) PIROJPUR 060790989
2240 060 BRAC BANK LTD. RAJSHAHI(193) RAJSHAHI 060811934
2241 060 BRAC BANK LTD. RAJBARI(073) RAJBARI 060820738
2242 060 BRAC BANK LTD. RANGPUR(145) RANGPUR 060851457
2243 060 BRAC BANK LTD. SATKHIRA(109) SATKHIRA 060871095
2244 060 BRAC BANK LTD. BELKUCHI(022) SIRAJGANJ 060880228
2245 060 BRAC BANK LTD. SERAJGANJ SME(188) SIRAJGANJ 060881885
2246 060 BRAC BANK LTD. SHAHJADPUR(190) SIRAJGANJ 060881906
2247 060 BRAC BANK LTD. SHERPUR(055) SHERPUR 060890555
2248 060 BRAC BANK LTD. BEANI BAZAR(031) SYLHET 060910314
2249 060 BRAC BANK LTD. BISHWANATH(043) SYLHET 060910435
2250 060 BRAC BANK LTD. SYLHET SOUTH SURMA SME(350) SYLHET 060913508
2251 060 BRAC BANK LTD. SYLHET(355) SYLHET 060913553
2252 060 BRAC BANK LTD. SYLHET BONDOR SME(356) SYLHET 060913566
2253 060 BRAC BANK LTD. SYLHET UPASHAHAR(373) SYLHET 060913737
2254 060 BRAC BANK LTD. ZINDA BAZAR(415) SYLHET 060914152
2255 060 BRAC BANK LTD. GHATAIL SME(229) TANGAIL 060932297
2256 060 BRAC BANK LTD. TANGAIL(230) TANGAIL 060932305
2257 060 BRAC BANK LTD. THAKURGAON SME(099) THAKURGAON 060940997
2258 065 BANK AL-FALAH LTD AGRABAD(013) CHITTAGONG 065150137
2259 065 BANK AL-FALAH LTD DHANMONDI(118) DHAKA-NORTH 065261189
2260 065 BANK AL-FALAH LTD GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 065261721
2261 065 BANK AL-FALAH LTD TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 065270004
2262 065 BANK AL-FALAH LTD DHAKA(MAIN)(178) DHAKA-SOUTH 065271782
2263 065 BANK AL-FALAH LTD SYLHET(355) SYLHET 065913558
2264 070 BANK ASIA LTD. BOGRA(037) BOGRA 070100372
2265 070 BANK ASIA LTD. AGRABAD(013) CHITTAGONG 070150135
2266 070 BANK ASIA LTD. ANDERKILLA(046) CHITTAGONG 070150469
2267 070 BANK ASIA LTD. BAHADDAR HAT(079) CHITTAGONG 070150793
2268 070 BANK ASIA LTD. BHATIARY(121) CHITTAGONG 070151213
2269 070 BANK ASIA LTD. C.D.A. AVENUE(148) CHITTAGONG 070151484
2270 070 BANK ASIA LTD. C.E.P.Z.(157) CHITTAGONG 070151576
2271 070 BANK ASIA LTD. CHAKTAI SME(176) CHITTAGONG 070151763
2272 070 BANK ASIA LTD. KAMAL BAZAR(397) CHITTAGONG 070153974
2273 070 BANK ASIA LTD. KHATUNGANJ(427) CHITTAGONG 070154278
2274 070 BANK ASIA LTD. LOHA GARA(466) CHITTAGONG 070154665
2275 070 BANK ASIA LTD. MCB SK. MUJIB ROAD(490) CHITTAGONG 070154902
2276 070 BANK ASIA LTD. OXYGEN MOUR SME(588) CHITTAGONG 070155880
2277 070 BANK ASIA LTD. STATION ROAD(751) CHITTAGONG 070157512
2278 070 BANK ASIA LTD. POTHER HAAT(814) CHITTAGONG 070158140
2279 070 BANK ASIA LTD. COX’S BAZAR(025) COXS BAZAR 070220252
2280 070 BANK ASIA LTD. ASHULIA(022) DHAKA-NORTH 070260225
2281 070 BANK ASIA LTD. ASHULIA SME(023) DHAKA-NORTH 070260238
2282 070 BANK ASIA LTD. BASHUNDHARA(055) DHAKA-NORTH 070260559
2283 070 BANK ASIA LTD. CORPORATE(085) DHAKA-NORTH 070260854
2284 070 BANK ASIA LTD. DHANMONDI(118) DHAKA-NORTH 070261187
2285 070 BANK ASIA LTD. GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 070261729
2286 070 BANK ASIA LTD. MCB DILKUSHA(292) DHAKA-NORTH 070262928
2287 070 BANK ASIA LTD. MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 070262986
2288 070 BANK ASIA LTD. MOHAKHALI(319) DHAKA-NORTH 070263198
2289 070 BANK ASIA LTD. NORTH SOUTH ROAD(355) DHAKA-NORTH 070263556
2290 070 BANK ASIA LTD. PRAGATI SARANI(370) DHAKA-NORTH 070263701
2291 070 BANK ASIA LTD. RUPNAGAR SME(401) DHAKA-NORTH 070264018
2292 070 BANK ASIA LTD. SAVAR(409) DHAKA-NORTH 070264092
2293 070 BANK ASIA LTD. SHYAMALI(430) DHAKA-NORTH 070264300
2294 070 BANK ASIA LTD. UTTARA(463) DHAKA-NORTH 070264634
2295 070 BANK ASIA LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 070270002
2296 070 BANK ASIA LTD. BASHABOO SME(098) DHAKA-SOUTH 070270981
2297 070 BANK ASIA LTD. DANIA(142) DHAKA-SOUTH 070271427
2298 070 BANK ASIA LTD. HEAD OFFICE(268) DHAKA-SOUTH 070272684
2299 070 BANK ASIA LTD. JATRABARI SME(323) DHAKA-SOUTH 070273238
2300 070 BANK ASIA LTD. JURAIN SME(332) DHAKA-SOUTH 070273320
2301 070 BANK ASIA LTD. MCB BANANI(403) DHAKA-SOUTH 070274037
2302 070 BANK ASIA LTD. MITFORD(406) DHAKA-SOUTH 070274066
2303 070 BANK ASIA LTD. MOGHBAZAR(418) DHAKA-SOUTH 070274187
2304 070 BANK ASIA LTD. PALTAN(520) DHAKA-SOUTH 070275207
2305 070 BANK ASIA LTD. PRINCIPAL(535) DHAKA-SOUTH 070275357
2306 070 BANK ASIA LTD. RUHITPUR(583) DHAKA-SOUTH 070275836
2307 070 BANK ASIA LTD. SCOTIA(613) DHAKA-SOUTH 070276130
2308 070 BANK ASIA LTD. SHANTINAGAR(634) DHAKA-SOUTH 070276343
2309 070 BANK ASIA LTD. FARIDPUR(052) FARIDPUR 070290529
2310 070 BANK ASIA LTD. KONABARI(094) GAZIPUR 070330942
2311 070 BANK ASIA LTD. TONGI(163) GAZIPUR 070331633
2312 070 BANK ASIA LTD. JESSORE(094) JESSORE 070410941
2313 070 BANK ASIA LTD. KHULNA(154) KHULNA 070471548
2314 070 BANK ASIA LTD. PURATON BORO BAZAR SME(216) KHULNA 070472163
2315 070 BANK ASIA LTD. BHAIRAB(019) KISHOREGANJ 070480197
2316 070 BANK ASIA LTD. TARAIL(115) KISHOREGANJ 070481154
2317 070 BANK ASIA LTD. RAMGANJ SME(103) LAKSHMIPUR 070511037
2318 070 BANK ASIA LTD. MOULAVI BAZAR(118) MOULVI BAZAR 070581188
2319 070 BANK ASIA LTD. MALKHANAGAR(088) MUNSHIGANJ 070590887
2320 070 BANK ASIA LTD. SERAJDIKHAN SME(128) MUNSHIGANJ 070591286
2321 070 BANK ASIA LTD. NARAYANGANJ(118) NARAYANGANJ 070671180
2322 070 BANK ASIA LTD. CHATKHIL(058) NOAKHALI 070750580
2323 070 BANK ASIA LTD. ISHWARDI(121) PABNA 070761216
2324 070 BANK ASIA LTD. RAJSHAHI(193) RAJSHAHI 070811937
2325 070 BANK ASIA LTD. JAGANNATHPUR(049) SUNAMGANJ 070900493
2326 070 BANK ASIA LTD. BEANI BAZAR(031) SYLHET 070910317
2327 070 BANK ASIA LTD. REKABIBAZAR SME(303) SYLHET 070913035
2328 070 BANK ASIA LTD. SYLHET UPASHAHAR(373) SYLHET 070913730
2329 070 BANK ASIA LTD. SYLHET(MAIN)(379) SYLHET 070913798
2330 075 CITI BANK N A CHITTAGONG(196) CHITTAGONG 075151968
2331 075 CITI BANK N A DHANMONDI(118) DHAKA-NORTH 075261182
2332 075 CITI BANK N A GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 075261724
2333 075 CITI BANK N A TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 075270007
2334 075 CITI BANK N A MOTIJHEEL(424) DHAKA-SOUTH 075274245
2335 080 COMMERCIAL BANK OF CYLON CHITTAGONG(196) CHITTAGONG 080151966
2336 080 COMMERCIAL BANK OF CYLON DHANMONDI(118) DHAKA-NORTH 080261180
2337 080 COMMERCIAL BANK OF CYLON MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 080262989
2338 080 COMMERCIAL BANK OF CYLON UTTARA(463) DHAKA-NORTH 080264637
2339 080 COMMERCIAL BANK OF CYLON TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 080270005
2340 080 COMMERCIAL BANK OF CYLON DHAKA(151) DHAKA-SOUTH 080271512
2341 080 COMMERCIAL BANK OF CYLON NARAYANGANJ(118) NARAYANGANJ 080671183
2342 080 COMMERCIAL BANK OF CYLON SYLHET SADAR(367) SYLHET 080913670
2343 085 DHAKA BANK LTD. BARISAL(028) BARISHAL 085060281
2344 085 DHAKA BANK LTD. BOGRA(037) BOGRA 085100370
2345 085 DHAKA BANK LTD. AGRABAD(013) CHITTAGONG 085150133
2346 085 DHAKA BANK LTD. C.D.A. AVENUE(148) CHITTAGONG 085151482
2347 085 DHAKA BANK LTD. FATIKCHARI(274) CHITTAGONG 085152744
2348 085 DHAKA BANK LTD. HALISHAHAR(316) CHITTAGONG 085153169
2349 085 DHAKA BANK LTD. HATHAZARI(322) CHITTAGONG 085153222
2350 085 DHAKA BANK LTD. ISLAMI BANKING(346) CHITTAGONG 085153464
2351 085 DHAKA BANK LTD. JUBILEE ROAD(364) CHITTAGONG 085153648
2352 085 DHAKA BANK LTD. KHATUNGANJ(427) CHITTAGONG 085154276
2353 085 DHAKA BANK LTD. NEW MARKET(565) CHITTAGONG 085155659
2354 085 DHAKA BANK LTD. PATIYA(616) CHITTAGONG 085156166
2355 085 DHAKA BANK LTD. COMILLA(115) COMILLA 085191150
2356 085 DHAKA BANK LTD. CHAKARIA(016) COXS BAZAR 085220168
2357 085 DHAKA BANK LTD. COX’S BAZAR(025) COXS BAZAR 085220250
2358 085 DHAKA BANK LTD. AMIN BAZAR(013) DHAKA-NORTH 085260131
2359 085 DHAKA BANK LTD. BANANI(043) DHAKA-NORTH 085260436
2360 085 DHAKA BANK LTD. BARIDHARA(052) DHAKA-NORTH 085260528
2361 085 DHAKA BANK LTD. DHAKA EPZ(109) DHAKA-NORTH 085261093
2362 085 DHAKA BANK LTD. DHANMONDI(118) DHAKA-NORTH 085261185
2363 085 DHAKA BANK LTD. DHANMONDI MODEL(119) DHAKA-NORTH 085261198
2364 085 DHAKA BANK LTD. FANTASY KINGDOM(142) DHAKA-NORTH 085261422
2365 085 DHAKA BANK LTD. GULSHAN(172) DHAKA-NORTH 085261727
2366 085 DHAKA BANK LTD. KARWAN BAZAR(253) DHAKA-NORTH 085262539
2367 085 DHAKA BANK LTD. MIRPUR(298) DHAKA-NORTH 085262984
2368 085 DHAKA BANK LTD. MOHAKHALI(319) DHAKA-NORTH 085263196
2369 085 DHAKA BANK LTD. SAVAR BAZAR(412) DHAKA-NORTH 085264124
2370 085 DHAKA BANK LTD. UTTARA(463) DHAKA-NORTH 085264632
2371 085 DHAKA BANK LTD. TRUNCATION POINT(000) DHAKA-SOUTH 085270000
2372 085 DHAKA BANK LTD. BANGSHAL(088) DHAKA-SOUTH 085270884
2373 085 DHAKA BANK LTD. FOREIGN EXCHANGE(232) DHAKA-SOUTH 085272329
2374 085 DHAKA BANK LTD. HEAD OFFICE(268) DHAKA-SOUTH 085272682
2375 085 DHAKA BANK LTD. IMAMGANJ(280) DHAKA-SOUTH 085272808
2376 085 DHAKA BANK LTD. ISLAMI BANKING(MOTIJHEEL)(295) DHAKA-SOUTH 085272958
2377 085 DHAKA BANK LTD. ISLAMPUR(298) DHAKA-SOUTH 085272987
2378 085 DHAKA BANK LTD. JOYPARA(328) DHAKA-SOUTH 085273281
2379 085 DHAKA BANK LTD. KERANIGANJ(364) DHAKA-SOUTH 085273649
2380 085 DHAKA BANK LTD. KHILGAON(367) DHAKA-SOUTH 085273678
2381 085 DHAKA BANK LTD. LOCAL OFFICE(388) DHAKA-SOUTH 085273881
2382 085 DHAKA BANK LTD. MOGHBAZAR(418) DHAKA-SOUTH 085274185
2383 085 DHAKA BANK LTD. FENI(052) FENI 085300525
2384 085 DHAKA BANK LTD. BOARD BAZAR(022) GAZIPUR 085330229
2385 085 DHAKA BANK LTD. KONABARI(094) GAZIPUR 085330940
2386 085 DHAKA BANK LTD. HABIGANJ(061) HABIGANJ 085360615
2387 085 DHAKA BANK LTD. JESSORE(094) JESSORE 085410949
2388 085 DHAKA BANK LTD. K.D.A. AVENUE(117) KHULNA 085471175
2389 085 DHAKA BANK LTD. BHAIRAB BAZAR(022) KISHOREGANJ 085480229
2390 085 DHAKA BANK LTD. MOULAVI BAZAR(118) MOULVI BAZAR 085581186
2391 085 DHAKA BANK LTD. B.B. ROAD(007) NARAYANGANJ 085670071
2392 085 DHAKA BANK LTD. BHULTA(022) NARAYANGANJ 085670226
2393 085 DHAKA BANK LTD. NARAYANGANJ(118) NARAYANGANJ 085671188
2394 085 DHAKA BANK LTD. PAGLA BAZAR(133) NARAYANGANJ 085671333
2395 085 DHAKA BANK LTD. MADHABDI(067) NARSHINGDI 085680674
2396 085 DHAKA BANK LTD. SAYEDPUR(079) NILPHAMARI 085730795
2397 085 DHAKA BANK LTD. SONAIMURI(223) NOAKHALI 085752236
2398 085 DHAKA BANK LTD. RAJSHAHI(193) RAJSHAHI 085811935
2399 085 DHAKA BANK LTD. RANGPUR(145) RAN